জম্মু কাশ্মীর

জম্মু কাশ্মীর: কাশ্মীরে ‘সংখ্যালঘুদের’ বেছে বেছে হত্যা করছে জঙ্গিরা।

Spread the love

জম্মু  কাশ্মীর: কাশ্মীরে ‘সংখ্যালঘুদের’ বেছে বেছে হত্যা করতে জঙ্গিরা। কাশ্মীরে ‘সংখ্যালঘুদের’ জম্মু কাশ্মীরের রাজৌরি সেক্টরে ৫ জন সেনার শহীদ হওয়ার দুঃখজনক খবর প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর একজন জুনিয়র কমিশনড অফিসার (জেসিও) সহ ৫ জন সৈনিক শহীদ হয়েছেন।

সেনাবাহিনীর একটি দল যখন রাজৌরি সেক্টরের পীর পাঞ্জালে সন্ত্রাসীদের তাড়া করছিল, তখন সন্ত্রাসীরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হোয়াইট নাইট কর্পস, ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল যে শাহদারা, থানামান্দি, রাজৌরি (জেএন্ড কে) -এ চলমান অভিযানের সময় এনবি সাব জাসবিন্দর সিং, এন কে মনদীপ সিং, সেপ্টেম্বর গজন সিং তাদের জীবন হারিয়েছেন।

জম্মু কাশ্মীরের রাজৌরি সেক্টরে ৫ জন সেনার শহীদ
জম্মু কাশ্মীরের রাজৌরি সেক্টরে ৫ জন সেনার শহীদ

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পাকিস্তানের হাজিরা এবং দুঙ্গার একটি এলাকা আছে যেখান থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছিল, এই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ রেখার সংলগ্ন, যেখানে সেনাবাহিনী অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে, সন্ত্রাসীদের সন্ধানে সেনা বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু যেসব সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই হামলা চালিয়েছিল তারা সেনা ইউনিটে হামলা করেছিল এবং সন্ত্রাসীদের হামলায় একজন সেনা জেসিও সহ ৫ জন সৈন্য শহীদ হয়েছেন।

জম্মু  কাশ্মীরে ‘সংখ্যালঘু হত্যা

কাশ্মীরে ‘সংখ্যালঘুদের’ বেছে বেছে হত্যা করতে জঙ্গিরা। ভয়ে এখন আবাস ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই। ভারত এক অদ্ভূত সুন্দর দেশ! মুসলমানদের কাছে ভারত ‘হিন্দু দেশ’ হলেও সমগ্র ভারতে কিন্তু হিন্দুরা সংখ্যাগুরু নয়। কাশ্মীরে যেমন তারা সংখ্যালঘু।

১৯৯০ সালে এই কাশ্মীর থেকে হিন্দুরা শরণার্থী হয়ে ভারতের অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। হিন্দু পন্ডিত সম্প্রদায় নিজ জন্মভূমি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন কাদের ভয়ে? পরিচয়টা দেয়ার আগে আগেভাগে স্মরণ করিয়ে দেই যদি বাবরী মসজিদ ‘উগ্র হিন্দুরা’ ভেঙ্গে ফেলতে পারে, আর এরকম বাক্যে যদি আপনার আপত্তি না থাকে তাহলে কাশ্মিরের বেলায়ও সেটি বলা যায়- ‘উগ্র মুসলমানদের’ ভয়ে একরাতে এক কাপড়ে হাজার হাজার কাশ্মীরী হিন্দু দেশ ত্যাগ করেছিলো। নিশ্চয় এখানে কোন ‘মুসলিম বিদ্বেষ’ কেউ খুঁজে পাবেন না?

জম্মু  কাশ্মীর  উপত্যাকায় হিন্দু পন্ডিতরা নিরাপত্তার আশ্বাসে অনেক সাহসী মানুষ যখন ফিরছিলো তখন একের পর এক ব্যবসায়ী, শিক্ষকদের গুলি করে হত্যা করছে জঙ্গিরা।

ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি প্রদেশ এটিকে যে মেহবুবা মুফতি, ফারুক আবদুল্লাহরা লাহোর প্রস্তাবের সেই মুসলিম স্টেট্র করতে চায় সেটি আমি অন্তত অবিশ্বাস করি না। কাশ্মির থেকে পালানো এক শিক্ষক গণমাধ্যমে জানিয়েছেন সারারাত তিনি শংকায় ঘুমাতে পারেননি।

পথে যাদের দিকে তাকিয়েছেন মনে হয়েছে এদের মধ্যেই কেউ তার ক্ষতি করতে পারে। চিন্তা করা যায় কতখানি আতংক ছড়িয়েছে। ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুসলিমদের উপর উত্তর প্রদেশে গরুর মাংস ইস্যুতে লোকজনের উপর নির্যাতন হয়েছে, নিন্মবর্ণের হিন্দুদের উপর ব্রাহ্মণদের নিপীড়ন বেড়েছে, সে না হয় ‘হিন্দু ভারতে’ খুব পরিস্কার করে বুঝলাম, কিন্তু কাশ্মীর থেকে দলে দলে মানুষ প্রাণ ভয়ে এলাকা ছাড়ছে। যারা পালাচ্ছে তাদের ভয় মুসলিম জঙ্গিদের হাতে হিন্দু পরিচয়ে মরতে হবে।

বিজেপি যদি আসাম থেকে নাগরিকত্ব আইনে ফেলে বিদেশি মুসলিম খেদাতে চায় সেখানে বিদেশি  মুসলিমরা কাগজপত্র দেখিয়ে মাটি আঁকড়ে থাকতে চায়, কিন্তু কাশ্মীরে যে রাতের আঁধারে হিন্দুরা দেশ ছাড়ছে! কেউ দেশ না ছাড়তে মাটি আঁকড়ে থাকতে চায় কেউ প্রাণের ভয়ে দেশই ছাড়তে চায়।

ঘটনা দুটোর পেছনে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে সমান সমান করার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু মেহবুবা মুফতি কাশ্মীরের এই ঘটনায় কথা বলেননি। আমার অন্তত চোখে পড়েনি। উনি শাহরুখ খানের ছেলেকে মাদক মামলায় গ্রেফতার করায় বলেছেন নামের পদবী ‘খান’ ও মুসলিম বলেই এই হেনস্তা।

‘খান’ যদিও হিন্দুদেরও পদবী হয় সেটি মেহবুবা হয়ত জানেন না। আর মুসলিম পরিচয়? যদি তাই হবে তাহলে ফুটপাথে ঘুমন্ত মানুষজনের উপর গাড়ি উঠিয়ে হত্যা করে সালমান খান কি করে জেলের বাইরে এলো? এরকম হত্যাকান্ডকে হিন্দুরা কাজে লাগালো না কেন?

ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা রেওয়াজ মত কাশ্মীরের ঘটনা নিয়ে শোরগোল তুলবে স্বাভাবিক। হিন্দু জাতীয়তাবাদের শক্তি না বাড়ালে সামনে আরো বিপদ ইত্যাদি বলবে।

একই সঙ্গে সেক্যুলার লিবারালরা এই ঘটনায় চুপ থাকবে। বামদের তো পছন্দের ইস্যু এসে গেছেন কৃষকের উপর বিজেপি মন্ত্রী পুত্রের গাড়ি চাপা। অবশ্যই এই ঘটনা নিয়ে তুমুল প্রতিবাদ হওয়া উচিত।

কিন্তু বিজেপি বাদে কাশ্মীরের হিন্দু পন্ডিতদের বিষয়ে যদি আর কেউ কথা না বলে তাহলে হিন্দুরা দিনকে দিন হিন্দুত্ববাদের উপর ঝুঁকে যাবে। তারা দেখতে পাবে ‘লাহোর প্রস্তাব’ এখনো একটি পক্ষ ছাড়েনি।

নিজেদের বিপদগ্রস্ত মনে করে তারা হিন্দুত্ববাদের উপরই আস্থা রাখবে। এটি কাম্য নয়। যারা ধর্মীয় জাতীয়তাবাদকে নিজেদের রক্ষাকবচ হিসেবে নিয়েছে তারাই ধ্বংস হয়েছে। কারণ এই জাতীয়তাবাদের হাত ধরেই চলে আসে ফান্ডামেন্টালিস্টরা…

জম্মু  কাশ্মীর -সুষুপ্ত পাঠক

 

আর পড়ুন