সন্ত্রাস….  সন্ত্রাস….  সন্ত্রাস…!!

সমগ্র পৃথিবী জুড়ে এখন এই ‘সন্ত্রাস’ শব্দটি বর্তমানে এক মুর্তিমান আতঙ্কের সমার্থক।…  কখন যে এর খপ্পরে পড়ে কার কি সর্বনাশ হয়, তাই নিয়ে দিনের মধ্যে একবার হলেও সবাইকে চিন্তামগ্ন করে তোলে।

… আর সত্যি কথা বলতে কি আম জনতাকে এখন… সন্ত্রাসের কোন ধর্ম নেই বললেই সবাই হাঁসে!!

সে যাই হোক…. এই বঙ্গের বুকে সন্ত্রাসের প্রসঙ্গে কিন্তু মানুষ এক অদ্ভুত আত্মপ্রসাদে সন্তুষ্ট থাকে।
কি সেটা…?
– না,…  জিজ্ঞেস করলেই উত্তর মিলবে,…  “এখানেই তো ওরা সবাই থাকে,…  সুতরাং এখানে ওরা কোন ডিস্টার্ব করবে না”।… এই কথা বলেই নিশ্চিন্ত হয়ে এক চরম আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন বেশির ভাগ মানুষ।

…. আর সত্যিই তো, ঘটনা হল… আমেরিকান সেন্টারে মাত্র একবার জঙ্গি হানা ছাড়া এই রাজ্যে এখনো অবধি কোন হামলাও হয় নি।

– কিন্তু খাগড়াগড় কান্ড?

…. ওরে বাবা,…  ওখানে যেটা ঘটেছে, সেটা তো জঙ্গিদের ভুলের মাসুল! তাদের ভুলে বিষ্ফোরন না ঘটলে কিছুই টের পাওয়া যেত কি?
এছাড়াও আরো টুকটাক যে ঘটনাগুলো সামনে আসে,…  সেগুলোকে আর যাই হোক ‘জঙ্গি নাশকতা’..  কখনোই বলা চলে না। সারা ভারতের বিভিন্ন অংশে বিবিধ টেরোরিষ্ট এট্যাক হলেও আমাদের পশ্চিমবঙ্গ কিন্তু বরাবর ছাড় পেয়ে এসেছে।

কিন্তু…. এই বাংলায় কি জেহাদি সন্ত্রাস কোন অংশে কম?

উত্তর…  না।
বরং সারা ভারতের মধ্যে এই রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি ‘সন্ত্রাস’ চলে। শ্রদ্ধেয় লেখক শ্রী রবীন্দ্র নাথ দত্ত মহাশয় যার নাম দিয়েছেন… “নিঃশব্দ সন্ত্রাস”।
…  হ্যাঁ বন্ধুরা এই নামেই উক্ত বিষয়ের উপরেই তার একটি বিখ্যাত বইএর নামকরণও করেছেন…।।
– যা, প্রত্যেকের সংগ্রহে একখন্ড করে থাকা উচিৎ…।।
– এবং যে বিষয়টি বরাবর লোকচক্ষুর অন্তরালে উপেক্ষিত…।

… আসলে ইসলামিক সন্ত্রাস তিন প্রকার…
১) জঙ্গি সন্ত্রাস…
২) সশব্দ সন্ত্রাস…
৩) নিঃশব্দ সন্ত্রাস…।

প্রথম প্রকার সন্ত্রাস অর্থাৎ জঙ্গি সন্ত্রাসে রাষ্ট্রকে দায়ী করা গেলেও। পরের দুই ধরনের সন্ত্রাসে দেশের আমজনতাও কোন না কোন ভাবে দায়ী থাকে।

…. তা সত্ত্বেও এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে, জঙ্গি সন্ত্রাস…  যা, কখনোই মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে না। তবে খবরের কাগজে তা ফলাও করে ছাপা হয়। … দেশের মানুষ জানতে পারে। এবং বলাই বাহুল্য এই ধরনের সন্ত্রাসের থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিপদের আশঙ্কা অনেকটাই কম, বা হলেও তাতে সাধারন হিন্দুর খুববেশি সমস্যা হবার কথা নয়।

এর পর আসি…  সশব্দ সন্ত্রাসের প্রসঙ্গে।…  এই যে কালিয়াগঞ্জ থেকে শুরু করে উস্থি, জুরানপুর, দেগঙ্গা, সমুদ্রগড়… নলিয়াখালি… চোপড়া… এবং সর্বশেষ সংযোজন, সাম্প্রতিক বসিরহাট…। এগুলো সব তারই অংশ। খবরের কাগজ গুলি এক্ষেত্রে আবছা কিছু একটা তুলে ধরার চেষ্টা করে, – যদিও তা পড়ে কারও সত্যিটা বোঝার কোনও উপায় থাকে না। তথাপি বলা যায়, এতে  অমুসলমানেরা আতঙ্কিত হলেও লড়াই করার জায়গা থাকে।

কিন্তু…  নিঃশব্দ সন্ত্রাস…?

… এর কথা কেউ জানতেই পারে না। মূলত হিন্দু নারীধর্ষন, হত্যা…ডাকাতি, গায়ের জোরে জমি দখল…  থেকে লাভ জিহাদ। ধর্মাচারনের উপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টজনিত আঘাত, মুর্তি ভাঙ্গা, দেবালয় অপবিত্র করন, হিন্দু এলাকায় প্রকাশ্যে গো- হত্যা, অনুপ্রবেশ… দ্রুত হারে সন্তান উৎপাদন করে জমির চরিত্র বদল… নিরন্তর মানসিক চাপ… নির্লজ্জ মুসলিম তোষন.. যা ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে সমূলে হিন্দু উৎখাত করে আরেকটি নতুন পাকিস্থানের জন্ম দিতে চলেছে,… আর, যার খবর কোন সংবাদপত্রের পাতাতেও আসে না।
– এমনকি …  “কি হবে আর পুলিশের কাছে গিয়ে..? ওদের পিছনেই তো সবাই! “…  মার্কা …  ধ্যান ধারনায় সেই সব অভিযোগ প্রশাসনিক নথীভুক্তও হয় না।

….. এটিই বর্তমানে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের সামনে সবচেয়ে বড় বিপদ। – সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী সমস্যা … যা কিনা লোকচক্ষুর অন্তরালে ফল্গুধারার ন্যায় সততই প্রতিক্রিয়াশীল।