এক প্রাক্তন মুসলমানের জবানবন্দি……
___________________________

শৈশবে ধর্মে আমার অগাধ বিশ্বাস ছিলো। আমি স্কুল থেকে ফিরে মসজিদে যেতাম আরবি পড়ার জন্য। কিন্তু নতুন একটা ভাষা আয়ত্ত করার কোন আনন্দ অনুভব করিনি কখনোই। হুজুরদের চোখ রাঙানি, বাঁশের লাঠির বাড়ি উপেক্ষা করে মসজিদ কম্পাউন্ডের বিলম্বি গাছ, পেয়ারা গাছের লোভটা ছিলো অধিক। কায়দা-আমপারা শেষ করেছি ভালোভাবেই। কিন্তু বিশালাকৃতির কোরান পড়তে হবে, এটা ভাবলেই আমার জ্বর আসতো। আরবিতে কোন মজা পাই না। সুরা মুখস্ত করে কাজ চলে কোনমতে। সেই সাথে মসজিদে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হামদ-নাত-কেরাত প্রতিযোগিতা হতো। আমি প্রতি বছরই কৃতিত্বের সাথে এলাকার আরো ধর্মপ্রাণ মুসল্লীসন্তানদের পরাজিত করে প্রতিটি বিভাগেই শীর্ষস্থান দখল করতাম। ঘর ভরে যেত ধর্মীয় বইতে। কিন্তু আমি যে কাজটা করে তখন অপরাধবোধে ভুগতাম, তা হলো- কোরান ফাঁকি দেয়া। ৫/৭ পাতা করে প্রায়ই ডিঙিয়ে পার হয়ে যেতাম। যত তাড়াতাড়ি এর হাত থেকে মুক্তি পাবো, ততই শান্তি। কারন, যে সময়ে আমার বন্ধুরা স্কুল থেকে ফিরে মাঠে খেলতে ব্যস্ত, ওই সময়ে আমি পান চিবাতে থাকা বাঁশের লাঠি হাতে এক হুজুরের সামনে কোরান নিয়ে ঝিমাচ্ছি!
হুজুররা ‘নীতিশিক্ষা’ দিতো। এটা করলে গুনা, ওইটা দেখা গুনা, সেইটা ভাবা গুনা…পাপীদের এই শাস্তি, ওইভাবে পোড়াবে, সেইভাবে গালাবে…অন্যদিকে বেহেশতে গেলে খালি খাওয়া, যা চাইবে তাই খাওয়া যাবে…(এডাল্টারি বাদ দিয়ে ফিল্টার করে বেহেশতি গুনাগুন শোনানো হতো); তখনো ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো হুজুরদের দেখার দুর্ভাগ্য হয়নি আমার। আমি যেখানে আরবি পড়তে যেতাম, সেই মসজিদের ইমাম ছিলেন প্রকৃত অর্থে একজন ভালো মানুষ, এখনো আছেন। সেই প্রগতিশীল মানুষটির নাম শিবিরের হিট লিস্টে আছে জানি। সেই সময় পারিপার্শ্বিক অবস্থা এতটা ভয়ংকর ছিলো না এখনকার মতো। যদিও অনেক মানুষের ভেতরে অমুসলিমদের ব্যাপারে ঘৃণা ছিলো ঠিকই, কিন্তু প্রকাশ করতো কম। হিন্দু প্রতিবেশিদের সাথে ওপরে ওপরে ভালো ব্যবহার করতো সবাই। কিন্তু তাদের ঘর থেকে কোন খাবার পাঠালে অনেককেই দেখেছি না খেয়ে গোপনে ফেলে দিতে। হিন্দু প্রতিবেশিদের ঘরে কি করতো সেটা জানা নাই।

আমাদের শৈশবে আমরা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান বন্ধুদের সাথে খেলেছি, মারামারি করেছি, একজনের ব্যাথায় অন্যেরা কেঁদেছি, কেউ বাসা পরিবর্তন করলে সবাই দুঃখ পেয়েছি। আমাদের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিলো না। হিন্দু ভালো ছাত্রের নোট মুসলমানরা মিলে ফলো করতাম, সেক্ষেত্রে অভিভাবকদের কোন বাধাও ছিলো না। স্কুলে ভর্তির পর আমার সাথে ভালো বন্ধুত্ব হয় অমুসলিমদের সাথে। আলবার্ট, সুস্মিতা, পলাশ, আরো পরে রাজীব, জয়শ্রী, শাওলীরা আমার শৈশবের সাথী। আমি সাম্প্রদায়িক ক্লাসমেটদেরকে বন্ধু বলি না, তাদেরকে এখনো এড়িয়ে চলি। আলবার্টদের পরিবারে আমি ছিলাম আলবার্টের মতোই আরেক সন্তান। তার মা-বাবা কখনোই আমাকে আলাদা চোখে দেখেননি, এতোটা স্নেহ করতেন। তার দিদিরা আমাকে নিজের ছোটভাই হিসেবেই দেখেছেন, এখনো তাই ভাবেন। রাজীবের বাসায় গিয়ে হামলে পড়তাম পূজার সময়। আমাদের শৈশব ছিলো কালিমামুক্ত, ধর্মীয় আবর্জনাহীন।

বড় হওয়ার পর স্কুল পরিবর্তন করলাম, চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় একটা নামকরা কিন্তু সাম্প্রদায়িক স্কুলে এসে পড়লাম। যেখানে অমুসলিম শিক্ষক-ছাত্ররা নেই। সেখানে আমি কয়েকজন প্রকৃত শিক্ষক পেয়েছিলাম সত্য, কিন্তু ধর্মীয় আবর্জনাময় মস্তিষ্কধারী অনেক শিক্ষকও পেয়েছি। যারা ক্রমাগত বলতো- অমুক ধর্মের লোকরা এমন, তারা এটা খায়, ওটা করে, সেটা মানে…এসব বেশরিয়তী, হারাম। এদের শাস্তি হবে এমন…। চট্টগ্রামের ট্রেডিশন অনুযায়ী হিন্দুদেরকে মালাউন বলা হয় কম, বেশি বলা হয়- ডান্ডি পটাশ, ড্যাঁডাইয়া…ইত্যাদি। এসব শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি ততদিনে। হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে ধীরে ধীরে এসব প্রকাশ্য বিষয় হয়ে উঠছে। আগে গোপনে বলা হতো, এখন প্রকাশ্যেই বলা হতে লাগলো। খেলার মাঠে কেউ ক্যাচ ছাড়লে বা রান আটকাতে না পারলে শুরু হয়ে যেত তার জাত ধরে গালাগালি। কাছের অমুসলিম বন্ধুদেরকে দেখতাম মুসলিম পরিবারের হওয়ার কারনে আমাকেও সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেছে।
সানন্দা আর মিলি আমার খুব কাছের দুই হিন্দু বন্ধু। দু’জনের বাসায় আমাকে খুব পছন্দ করে আমার সহজে দ্রবীভূত হওয়া দেখে। তাদের বাসায় খাওয়া, আড্ডা দেয়া, পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি আমার দৈনন্দিন কাজ ছিলো। তাদের পরিবারে কখনোই মুসলিম হওয়ার কারনে আমি উপেক্ষিত হইনি। কিন্তু ভাবতাম, যদি তারা আমার বাসায় আসতো, তবে আমাদের পরিবারের মনোভাব কেমন হতো.?

আমি যখন ক্লাস ফাইভ/সিক্সে পড়তাম, তখন থেকেই বন্ধুদের সাথে নিয়মিত পূজা-পরবে যেতাম। কখনোই মনে হয়নি, ওটা অমুসলিমদের অনুষ্ঠান, ওখানে গেলে আমার কপালে বেহেশতের সুখ শান্তি জুটবে না। বরং শরৎ এলে ওদের মতো আমিও কান পেতে থাকতাম ঢাকের বাড়ি শোনার অপেক্ষায়। কাদের প্রতিমা কেমন হয়েছে, এসব দেখার জন্য স্কুল পালাতাম। ইন্দ্রজিৎ কে পাকড়াও করতাম সবার আগে। অন্য বন্ধুদের জন্য বরাদ্দকৃত নাড়ু-মোয়ার ভাগ দেয়ার আগে আমারটার জন্য। মাসীকে গিয়ে ধরতাম ইন্দ্রজিৎ না জানে মতো গোপনে আমাকে কিছু পাচার করে দেয়ার জন্য। এসব এখন শুধুই মধুর স্মৃতি। আরো পরে কানে আসতো পূজা নিয়ে কোথাও কোথাও ‘গন্ডগোল’ হয়েছে। তখন মিডিয়া এতটা সরব ছিলো না, টিভিতেও চ্যানেল ছিলো শুধু বিটিভি। পত্রিকায় যা আসে, ততটুকুই নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করতে হতো।

দেশে জঙ্গীদের উত্থান শুরু হয় বিএনপি আমলে। তারও আগে তারা ছিলো, কিন্তু সরব ছিলো না। বাংলা ভাই দিয়ে শুরু, তখন থেকেই নিয়মিত দেশে মূর্তি ভাঙা, মন্দিরে হামলা শুরু হয়। আগে সুশীলতার কারনে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকা নাগরিকরাও নড়ে চড়ে উঠলো। তারা ভাবতে লাগলো, আরে- ঠিকই তো, ৯৯.৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯% মুসলমালদের দেশে মালু-ডান্ডিরা কেন থাকবে? তাদের এই অধিকার দিলো কে? সরকার তাদেরকে উৎখাত করছে না কেন? ইমানদন্ডের মজবুতি রক্ষার্থে নিজেদেরকেই এগিয়ে আসতে হয় তবে! তারাও তখন নীরব সমর্থকে পরিণত হলো। টিভি চ্যানেলের কল্যাণে আমরা এসব নিয়মিত ‘উপভোগ’ করতে লাগলাম। ফেসবুক তখনো আসেনি বলে বিপ্লবীরা অপেক্ষায় থাকলো। কেউ কেউ সরব হলেন, কিন্তু তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমালদের কাছে পাত্তা পেলেন না। কয়েকজনকে বাংলা ভাই নিজ দায়িত্বে ‘শাস্তি’ দিলো, বাকিরা চুপ মেরে গেলো জীবনের মায়াকে গ্রাহ্য করে। সেই সাথে প্রশাসনও চুপ।

জঙ্গীবাদ মিডিয়ার সৃষ্টি- থিওরী মেনে চলা মিডিয়া এসবকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে ধামাচাপা দেয়া শুরু করলো। প্রথমালু বাজারে তখনো এতটা হাইপ তৈরী করার ক্ষমতা অর্জন করেনি।

বাংলা ভাই নিধনের পর মোটামুটি কিছুদিন জাতি নির্ভার দিন যাপন করছিলো। কিন্তু অমুসলিমরা ছিলো শঙ্কায়। স্বাধীনতার সময় থেকে তারা কখনোই স্বস্তিতে ছিলো না, তাদের বাক্স প্যাঁটরা গোছানোই থাকতো। এই বুঝি দেশ ছাড়তে হয়, এই বুঝি ভিটামাটি প্রায় বিনামূল্যে দিয়ে পালিয়ে যেতে হয়! বাংলা ভাই’র পর হিজবুত তাহরীর-হরকাতুল জিহাদসহ জঙ্গীদের বহু শাখা প্রশাখা বিস্তৃত হলো। সেই সাথে আমার শৈশবে দেখা প্রগতিশীল চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ধর্মগুরুদেরও দেখা পাওয়া দুষ্কর হয়ে গেলো। পরিবর্তে সর্বত্র অতিমুসলমালদের দেখা যেতে লাগলো। স্থানীয় মসজিদে তারাই উচ্চকিত। আবাসিক এলাকাগুলোতে বিভিন্ন নামে হাজারে বিজারে ক্যাডেট মাদ্রাসা, এবতেদায়ি, আদর্শ, হেফজিয়া, দারুল উলুম…বিভিন্ন নামের মাদ্রাসায় ভ’রে গেলো। ৪/৫ বছর বয়সী বাচ্চারা হিজাব পরে, টুপি-পাঞ্জাবী পরে চেঁচিয়ে বে পেশ বু, সে পেশ সু..পড়া শুরু করে দিলো। মসজিদে আগেও ওয়াজ হতো, এলাকায় ধর্মীয় মাহফিল হতো। কিন্তু পার্থক্য হলো, আগে সু কর্মের নসিহত থাকতো সেখানে, এখন শুরুই হয়- আফনেরা দাঁড়ি রাখেন না ক্যান? টিভি-গাংবাজনা হারাম, বেধর্মীদের দোকানে কিনাকাটা করবেন না, তাগো ফুজায় যাবেন না, আল্লার নবী বেধর্মীদের সাথে যুগাযুগে নিষেধ কইরছেন, তাগোরে নসিহত করেন দিনের ধর্মে আইসতে, নইলে জিহাদ কইরতে কইছেন, ইসলামি নেতাগোরে সরকার আটক করি রাইখসে…ইত্যাদি ইত্যাদি দিয়ে।।
ফেসবুক এসে লাইক-শেয়ার-কমেন্টের মাধ্যমে নেকি কামানোর সুযোগ তৈরী করে দিলো। সেই সাথে জিহাদী জনতাকে ফেসবুক জেহাদে উদ্বুদ্ধ করলো।

জিহাদী জোশে উন্মত্ত জনতা তাই নিজেরা ভাঙতে না পারলেও যারা মন্দিরে হামলা করে, মূর্তি ভাঙে, তাদেরকে মৌন সমর্থন দিয়ে যায়। মনে মনে ভাবে, এই তো আর বছর খানেক পর দেশে আর কোন বিধর্মী থাকবে না। দেশ খেজুরগাছে ভ’রে উঠবে, তার ফাঁকে ফাঁকে শুধু মিনার দেখা যাবে। আগে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাফেরা, দৈনন্দিন কর্মকান্ড অনেক সরল ছিলো। এখন পাবলিক বাসেও ধর্মের প্রচারণা চলে। কেউ হাঁচি দিলে একজন বলে উঠে- আলহামদুলিল্লা ক’ন না ক্যান? আপনি মুসলমান না? এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর দেখা যাবে পাদ দিয়ে কুলহুয়াল্লা না বললে ফাঁসিতে ঝুলতে হবে। অফিসে নামাযের বিরতি না দিলে সেটা নিয়ে ক্যাঁচাল হয় এখন। গত মঙ্গলবার গ্রামে গিয়েছিলাম, বাসে ফেরার পথে কিছু মুসলমালের জন্য যাত্রাপথে কয়েকবার নামাযের বিরতি দিতে হলো! সেটা নিয়েও ড্রাইভারের সাথে বিশাল ক্যাঁচাল! দেশটা ধীরে ধীরে ধর্মের ভারে অশীতিপর ন্যুব্জ হয়ে যাচ্ছে।
ফেসবুকে সরব একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার শারদীয় শুভেচ্ছা জানানো পোষ্টে ফেসবুকিয় মুমিন সমাজ হামলে পড়েছিলো মুশরিক-মুরতাদ উপাধি দিয়ে। মানুষের চাইতে, জাতিস্বত্ত্বার চাইতে আমাদের বড় পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আমরা কে কোন ধর্মে বিশ্বাসী! আঞ্চলিকতা-খাদ্যাভ্যাস-পোষাক পরিচ্ছদ-শারীরিক বৈশিষ্ট্য এসব মানুষের বিভাজনের প্রকরণ হতে পারে না, এটা সবাই মানে। কিন্তু ধর্ম কিভাবে বিভাজনের প্রকরণ হতে পারে- এটা আমার মাথায় আসে না। ধর্মীয় উৎসবকে ধর্মের অংশের চাইতে বরং সবার আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষ্য হিসেবে যদি আমরা ধারন করতে না পারি, তবে সেটা আমাদেরই ব্যর্থতা। আমি ধর্মে বিশ্বাসী নই, আমার কাছে ঈদ মানে ছুটির দিন। যেহেতু মুসলমানদের ঈদের আনুষ্ঠানিকতায় কোন বৈচিত্র নাই, তাই এটা আমাকে টানে না। ঈদের নামায পড়া, কোলাকুলি করা, সেমাই-ফিরনি খাওয়ার মতো বোরিং অনুষ্ঠান আমাকে টানেনি কখনোই। আকর্ষণ না থাকাটা নিশ্চয় আমার ব্যর্থতা নয়। শৈশবে অপেক্ষায় থাকতাম শবে বরাতের। কয়েকদিন আগে থেকেই পটকা-বাজি, মোমবাতি কেনার ধুম পড়ে যেতো। কিন্তু অতি মুসলমালদের কল্যাণে ওসব বেশরিয়তি কাজ আখ্যা পাওয়ার পর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। অন্যদিকে হিন্দুদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা, বৌদ্ধদের বুদ্ধ পূর্ণিমা, চীবর দান অনুষ্ঠান আমাকে অনেক আনন্দ দেয়। যীশুর জন্মদিন এদেশে বেশ নীরবেই পালিত হয়, তাই এটা আমাকে এখনো আকর্ষণ করতে পারেনি ওইভাবে। আমি অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে নিজের বিনোদন এবং উপভোগ করার বিষয় হিসেবে বেছে নিই, সেসবের সাথে আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস-অবিশ্বাসের অনেক দূরত্ব।
এক সময় বন্ধুদের মাঝে শুভেচ্ছা কার্ড দেয়ার প্রচলন ছিলো। ঈদ-পূজায় নিজেরা কার্ড বানিয়ে বন্ধুদের দিয়েছি, এখন শুভেচ্ছা জানানো নিয়ে ধর্মীয় বয়ান শুনিয়ে দেয়া হয়! মানুষ যতই ধার্মিক হতে থাকে, ততই সে মনুষ্যস্তর থেকে নিচের দিকে নেমে যেতে থাকে। যে ধর্ম মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে দেয় না, সেই ধর্মের প্রয়োজনীয়তা আমার কাছে ‘০’।।

এটা শুধু আমার মতামত নয়, বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষ এখন এটা বুঝে গেছে। ধর্মের নামে যারা ‘হুকুমত’ কায়েম করতে চেয়েছিলো, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য সবাই বুঝে গেছে। বিশ্ব সভ্যতা ধ্বংসকারী সেসব ধর্মীয় কীটরা বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের কাছে ঘৃণ্য বস্তু। তাদের পতন অনিবার্য। আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু সচেতন হলেই সেই কীটদের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-সংস্কৃতি এবং মনুষ্যত্বকে রক্ষা করতে পারি। তবে সচেতনতাটা নিজের ভেতরেই অংকুরিত করতে হবে আগে।

শারদীয় উৎসবের শুভেচ্ছা সবাইকে…আনন্দ ছুঁয়ে যাক প্রতিটি বাঙালিকে…..

লেখক: নাগরিক বায়স
১৫ অক্টোবর, ২০১৫

ebizctg.com/news/13526