Home Bangla Blog মাইক বাজিয়ে ওয়াজ মাহফিল অথবা কীর্তন নিষিদ্ধ।

মাইক বাজিয়ে ওয়াজ মাহফিল অথবা কীর্তন নিষিদ্ধ।

229

🌲🌲_________Part-1___________🌲🌲
👉👌👌🌲 সাল 2007— ছেলেটি এসেছিল কেবল টিভির মাসিক বিল নিয়ে যাবে বলে কিন্তু আমি ঘরে না থাকায় সে আমার স্ত্রীর সাথে কথা না বলে বিল না নিয়ে চলে গেছিল। আসলে সেখানের অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী ছেলেরা কখনো সমতলের মেয়ের সাথে কথা বলে না অথবা তাদের দিকে চোখ ফিরে তাকায় না। সেদিন সন্ধ্যার সময় আমরা দুইজন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম হঠাৎ দেখি পুরো শহরের যুবক যুবতী বাচ্চা বুড়ো নির্বিশেষে সবাই চিৎকার দিয়ে কোথায় ছুটছে। পরে বুঝতে পারলাম যে একটা ঘরে আগুন লেগেছিল আর ওরা সবাই আগুন নেভাতে যাচ্ছিল। আশ্চর্য হওয়ার পালা তো আরো বাকি ছিল।পরের দিন সকাল বেলা আমার ঘরের মালিক ( এই রাজ্যের প্রথম আইএএস অফিসার) এর 24–25 বছরের যুবতী 🙎মেয়ে আমার কাছে সাহায্য নিতে এসেছেন। উনি জানালেন যে ওদের রাজ্যে কেউ বিপদে পড়লে অথবা আগুনে জ্বলে পুড়ে সম্পত্তির ক্ষতি হয়ে গেলে উনারা মানে জনগণ সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী সাহায্য করে থাকেন। এরমধ্যে কেউ চাউল দিয়ে তো কেউ সবজি কেউ আঠা কেউ টাকা দিয়ে সাহায্য করে থাকেন। উনি আমাকে অনুরোধ করলেন যদি আমার সম্ভব হয় তাহলে আমিও উনাকে আমার সুবিধা মত কিছু দিয়ে সাহায্য করতে পারি। যেহেতু উনি সুন্দরী যুবতী যদিও দেখতে বেটে আর শিক্ষিত কারণ ইংরেজিতে কথা বলছিলেন তাই ভাবলাম উনার সাথে একটু গল্প করে নেই কারণ আজকেই উনার সাথে প্রথম আলাপ হচ্ছে। যদিও উনার দুই ইঞ্জিনিয়ার ভাইয়ের সাথে আমার কথাবার্তা আগে থেকেই ছিল কিন্তু উনার সাথে আজ প্রথম। আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম যে আপনি কোন কলেজে পড়েন উত্তরে উনি জানান যে উনি পড়াশোনা শেষ করে এখন চাকরি করছেন। এটা হলো আমার জন্য প্রথম ধাক্কা🤔🤔। যখন জিজ্ঞেস করলাম কোন ডিপার্টমেন্টে আর কি পোস্টে চাকরি করেন তখন উনি জানালেন যে উনি PWD ডিপার্টমেন্টের ইঞ্জিনিয়ার। এই কথা শুনে আমি ও আমার স্ত্রী একজন আরেকজনের চোখে অনেকক্ষণ বোকার মত তাকিয়ে থাকলাম কারন আমাদের ২জনের শরীর পুরো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। একজন রাজ্যের প্রথম আই এস অফিসারের মেয়ে একটা ডিপার্টমেন্টের ইঞ্জিনিয়ার আর সে এসেছে জনগণের জন্য চাঁদা তুলতে সেটা আপনাদেরকে ভাষায় বুঝিয়ে বলতে পারব না। আমার বোন বন্ধুর বোন আমার আত্মীয় আপনার আত্মীয় ভেবে দেখুন তো যদি আমাদের পাশের বাড়িতে আগুন লেগে যায়, তাহলে আমি আপনি আপনার বোন আমার বোন কেউ কি চাঁদা তুলতে বের হবে ? আই সেলুট দেম। মনে পড়ে 2005 সালে যখন আমি টাটা সুমো গাড়িতে করে সেই রাজ্যে যাচ্ছিলাম। রাস্তায় আইএলপি চেকিং গেটে গাড়ি থামানো হলে কিছু গরীব উপজাতি মহিলা বাচ্চাদেরকে নিয়ে এসে আমাদের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সবাইকে শরবত খাওয়াতে লাগল। তখন আমাদের গাড়ির ড্রাইভার ইশারা দিয়ে আমাকে বলল যে 5/10 টাকা থাকলে দিয়ে দিতে। গাড়ি ছাড়ার পর যখন ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম এটার কারণ কি তখন সে জানালো যে এই মহিলারা খুবই গরীব আর আগামী ক্রিসমাসের সময় ওদের ফুর্তি করার জন্যই ওরা মানুষ থেকে সাহায্য চাইছে কিন্তু ওরা কখনো হাত পাতবে না অথবা মুখ খুলে আপনাকে বলবে না তাই এটা একটা নিয়ম যদি আপনি নিজের মন থেকে সাহায্য করেন তাহলে ঠিক আছে না হলেও ওরা কিছু বলবেনা। প্রত্যেক শুক্রবারে দূর-দূরান্ত গ্রাম থেকে গরীব মানুষরা এসে আমার ঘরের পাশেই রাস্তা ছোট থাকার দরুন ফুটপাত দখল করে সবজি মাছ বিক্রি করতে বসে যায়। শুক্রবার রাত কাটিয়ে শনিবার সারাদিন ব্যবসা করে সন্ধ্যাবেলা চলে যায়। কি ভাবলেন এসব বিক্রি করার ফলে রাস্তাঘাট ও ফুটপাত নোংরা হয়ে গেছে ? হাঁ সেটা ঠিক।কিন্তু সেখানকার শিক্ষিত-অশিক্ষিত গরিব-ধনী ছোট ছোট ছেলে মেয়ে মিলে ঝাড়ু দিয়ে সেদিন সন্ধ্যাবেলায় রাস্তা পরিষ্কার করে নেয়।ওরা চলে যাওয়ার এক ঘণ্টা পরে গিয়ে দেখবেন সম্পূর্ণ রাস্তাঘাট পরিষ্কার হয়ে পড়ে আছে।
👉👉👉 আসলে সেই রাজ্যের কিছু কিছু অলিখিত নিয়ম আছে যেমন ধরুন_________
প্রকাশ্য রাস্তায় মিছিল বের করতে পারবেন না।
ভগবান আল্লাহ গড এর প্রার্থনা করে শোভাযাত্রা বের করতে পারবেন না।
রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনের পূর্বে এখানে-সেখানে বক্তৃতা দিতে পারবেন না তাদের জন্য একটা স্টেজ বানিয়ে দেওয়া হয় গির্জার এসোসিয়েশনের তরফ থেকে আর সেই স্টেজে (common platform) বসে সবাইকে একসঙ্গে নিজের মতামত/পরিকল্পনা জনতার কাছে জানাতে হয়।
ষোল প্রহর অষ্টপ্রহর কীর্তন এর জন্য মাইক বাজাতে পারবেন না।
রাস্তা বন্ধ করে বিয়ে বাড়ির ফুর্তির জন্য অথবা ক্রিসমাসের জন্য পটকা ফাটানো নিষিদ্ধ।
মাইক বাজিয়ে ওয়াজ মাহফিল অথবা কীর্তন নিষিদ্ধ।
বিনা কারণে, অপ্রয়োজনে বাইক অথবা গাড়ির হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ।
রাস্তায় যতই ট্রাফিক জাম থাকুক আপনি ওয়ান ওয়ে লাইন দিয়ে যেতে পারবেন না যেরকম ঘটনা আমাদের সমতলে প্রায়ই দেখা যায়। ( এই সম্পর্কে নিচে একটা ছবি দেওয়া হল 👇👇👇)
ব্যাংক অথবা এটিএম এ গিয়ে লাইন ভেঙ্গে প্রবেশ করতে পারবেন না।
একদিন আমি প্রাইভেট ট্যাক্সি নিয়ে দুপুরবেলা যাচ্ছিলাম হঠাৎ আমার ড্রাইভার দেখি গাড়ি থামিয়ে দেয়।পরে কারণটা বুঝতে পারলাম আসলে সেখানে যদি কিছু মানুষ একসাথে জড়ো হয়ে যায় রাস্তা অতিক্রম করার জন্য তাহলে সেখানে গাড়ি এসে ড্রাইভার নিজের ইচ্ছেতেই থেমে যাবে আর বাম হাত দিয়ে আপনাকে ইশারা দেবে যাতে আপনি রাস্তা অতিক্রম করে ডান দিকে চলে যান।
🤔🤔🤔🤔🤔 পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার মুহূর্ত থেকে আজ পর্যন্ত সেখানে সেই রাজ্যের অধিবাসীদের দ্বারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। হা তবে মাঝেমধ্যে ধর্ষণ হয় আর সেটাও শান্তি বাহিনীর দ্বারা যারা আসাম থেকে গিয়ে সেখানে ছোটখাটো কাজ কারবারে জড়িত থাকে। এই যেমন 1994 2004 2007 এ এইরকম ঘটনা ঘটেছিল এর ফলে ওদের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ জমে উঠে যার দরুন ওরা সমতলের অধিবাসীকে কিছু ঠ্যাঙ্গানো দেয় কিন্তু দুই তিনদিন পরে আবার সেটা বন্ধ হয়ে যায়। চুরি ডাকাতি খুন ধর্ষণ প্রায় শূন্যের কোঠায়। নব্বইয়ের দশকে একবার কিছু শান্তিবাহিনী ডাকাতের উত্ত্যক্তের কারণে রাজ্যের অধিবাসীরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। তারপর সেই রাজ্যের পুলিশ পরিকল্পনামাফিক জঙ্গলে আক্রমণ করে অনেক ডাকাতকে মেরে ফেলে তারপর থেকে আজ পর্যন্ত আর কোন ডাকাতি হয়নি। আপনি যদি ওদের কোর্টে যান তাহলে দেখবেন যে খুব সামান্য সংখ্যক উকিল বসে আছে আর তা ও ওরা ক্যারামবোর্ড, চাইনিজ চেকার নিয়ে খেলায় ব্যস্ত কারণ সেখানে মামলার সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। আর সেই রাজ্যটি হল ভারত-বর্ষের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত “”মিজোরাম””। আমার তরফ থেকে 🙏🙏🙏 মিজোরাম রাজ্যকে।

%d bloggers like this: