“কোন মানসিকতার মানুষ ছেলের নাম তৈমুর রাখে?”
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

মানুষ যখন তার সন্তানের নাম রাখে তখন ভেবে চিন্তেই রাখে। নাম রাখার মধ্য দিয়ে পিতা মাতার অন্তরস্ত ভাবনা চিন্তা, মানসিকতা প্রকাশ পায়।

কয়েকটি নাম কেউ কখনো রাখে না। বিভীষন, মীরজাফর নাম বেশী শোনা যায় না। হিটলার, মুসোলিনী ইত্যাদি রাখা বন্ধ হয়ে গেছে। পল পট নামও আর কেউ রাখবে বলে মনে হয় না (মাত্র ১০ মিলিয়ন কম্বোডিয়ানকে মেরেছিলো)। ষ্ট্যালিন নাম যারা ঘোর বামপন্থী তারা ছাড়া আর কেউ ভাবতে পারে না (২৫ মিলিয়ন রাশিয়ান মেরেছে ওই ব্যাটা)।

খান উপাধি অনেক আছে। কিন্তু চেঙ্গীজ খান নাম শুনলে এখোনো সারা পৃথিবীর মানুষ আঁতকে ওঠে। বোধ হয় সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ ঐ নাম রাখবে না। কতো মানুষ মেরেছিলো সে ??? চেঙ্গীজ যে বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করে, বিজয় অভিযান শুরু করার আগে সেই সব অঞ্চলের লোক সংখ্যা ছিলো ৩৭ মিলিয়ন। সাম্রাজ্য স্থাপন করার পর লোক সংখ্যা নেমে আসে ১৩ মিলিয়নে। ২৪ মিলিয়ন উধাও হয়ে গেলো।

হুন দস্যু মিহিরগুল, ট্যাকিলা দি হুন এখনো মানুষের মনে ত্রাসের সঞ্চার করে। ভাগ্যিস এই চেংগীজ, মিহিরগুল, ট্যাকিলা ভারতের মুল ভুমিতে আসেনি।

টার্টার বংশ ( মঙ্গোলিয়ান এবং তুর্কি জাতির সংকর) জাত তৈমুর একটি নাম, যার নামের সংগে রক্তপাত একিভুত হয়ে আছে। অনেকের অনেক নেশা থাকে। তৈমুরের নেশা ছিলো মানুষ মারা, লুট করা দাস দাসী সংগ্রহ করা। নিজে মুসলমান হয়েও অটোমান খলিফাকে বন্দী করতে বা তুরষ্কের মানুষের রক্তে মাটি রাঙ্গাতে তৈমুর দ্বিধা করেনি।

হিন্দুদের অনেক দুর্ভাগ্যের একটি হলো, তৈমুর এসেছিলো ভারতে। তৈমুর যখন লুট করতো তখন সে অসহায় মানুষের পেট চিরে দেখতো সেখানে সোনা দানা গিলে লুকিয়ে রেখেছে কিনা। সে নিজে বলেছিলো– ” আমি যা করেছি কোনো পশুও তা করবে না”– ” What I have done no animal will dare to do that”, ” When I rise from the dead the world will tremble”. তৈমুর যখন দিল্লীতে আসে এক লক্ষ হিন্দুকে মেরেছিলো ৩ দিন ৩ রাতে।

শুনেছি, মাঝে মাঝে নানা খবরে দেখতে পাই,, ঐ বর্বর ,নর পিশাচ, রক্ত পিপাসু, লুটেরা, বিকৃত মস্তিষ্ক তৈমুর নাম নাকি এখন এই ভারতেই  পয়দা হওয়া একজনের নাম হয়েছে। এই তৈমুরের মা নাকি এক সময় হিন্দু ছিলো, ঠাকুরমাও নাকি এক বাঙ্গালী একদা হিন্দু।

মানসিক বিষয় নিয়ে ঘাটা ঘাটি করেছি প্রায় ৪৩ বছর। এই মানসিকতার খেই খুজে পেলাম না।