কলকাতায় একটি দুর্গাপূজায় দেখলাম মন্ডপ হয়েছে বাঁশের কেল্লার আদলে। সামনে তিতুমীরের মূর্তি। নিচে লেখা – ‘ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বীর যোদ্ধা ও বাংলার গর্ব সৈয়দ মীর নিসার আলি তিতুমীর।’ভারতের ইসলামীকৃত ইতিহাস তিতুমীরের পরিচয় একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে আমাদের সামনে যতই তুলে ধরুক, সত্য কখনও চিরতরে লুকিয়ে রাখ যায় না। আসুন দেখি তিতুমীরের স্বাধীনতা সংগ্রামের আসল রূপ।


————————————————-

#তিতুমীরের_ডায়রিঃ ….
সেপ্টেম্বর মাস, 1831 সাল। বারাসত জেলার বাদুড়িয়ার অন্তর্গত নারকেলবেড়িয়া গ্রাম। পঞ্চাশ বিঘা নিস্কর জমির মালিক মৈজুদ্দিন বিশ্বাসের জমিতে অজস্র বাঁশ দিয়ে বুরুজ তৈরী হল।
23/10/1831: এক বিরাট ওয়াজে জিহাদ ঘোষণা হল। প্রাথমিক লক্ষ্য বৃটিশ শাসন ও হিন্দু জমিদারদের উচ্ছেদ, কারন শরিয়ৎ বিপন্ন। 
23/10/1831 থেকে 06/11/1831 পর্যন্ত মৌলভীরা কেল্লাতেই আটকে থেকে পরিকল্পনা চুড়ান্ত করল।
28/10/1831: বসিরহাটের দারোগা বারাসতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জানালেন জমিদার কৃষ্ণদেবের ওখানে তিতুমীরের অনুগামীরা গোহত্যা করতে চলেছে।
06/11/1831 : পুঁড়োর বাজারে 500 জেহাদী তিতুমীরের প্রধান সেনাপতি গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে মহেশ চন্দ্র ঘোষের একটা গরু ছিনিয়ে নিয়ে মন্দিরের সামনে কেটে বিগ্রহে গোরক্ত মাখায়। গরুটিকে চার টুকরো করে পুঁড়োর বাজারের চার কোণে টাঙ্গিয়ে দিল।
07/11/1831 : ইচ্ছামতীর অপর পারে পৌঁছাল জেহাদীরা। দুটি ষাঁড় মেরে ভোজ হল। তারপর তাদের আক্রমণে লাউঘাট্টি বাজারে নিহত হলেন জমিদার তনয় দেবনাথ রায়। ফকির মিস্কিন শাহ এই জয়কে আল্লাহর জয় বলে ঘোষণা করলেন। তিতু ঘোষণা করলেন তিনি দার-উল-ইসলামের ইমাম, তাঁকেই খাজনা দিতে হবে। জোর করে তোলা আদায় শুরু হল।
14/11/1831 : শেরপুর গ্রামে ইয়ার মহম্মদের বাড়ী আক্রমণ করল তিতু বাহিনী। ইয়ার মহম্মদের বিধবা কন্যা মুক্তবকে জোর করে বিয়ে করল তিতুর অনুগামী মহীবুল্লা। কনিষ্ঠা কন্যা কুমারী খুরমাকে অপহরণ ও বিয়ে করল কালু মিঞা।
16/11/1831 : ইন্ডিয়া গেজেট লিখল , রামচন্দ্রপুর গ্রামে হিন্দুদের মুখে জোর করে গোমাংস গুঁজে দেওয়া হচ্ছে।
তিতুমীরের উত্থানে হিন্দুশূন্য হতে থাকল অঞ্চল।
আলেকজান্ডার সাহেব তিতুর বিরুদ্ধে যাত্রা করলেন। বসিরহাট থানার দারোগা রামরাম চক্রবর্তীকে অপহরণ করল গোলাম মাসুম। বাঁশের কেল্লার মধ্যে হত্যা করা হল তাকে ইসলাম গ্রহণে অনিচ্ছুক হওয়ায়।
প্রথম দফার যুদ্ধে আলেকজান্ডার পরাজিত হয়ে পালালেন।
19/11/1831 : আলেকজান্ডার, সাদারল্যান্ড ও ম্যাকডোনাল্ডের নেতৃত্বে বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করল ইংরেজ সৈন্য। এক ইংরেজ সৈন্য মেক্কানকে হত্যা করে তার দেহ বল্লমে গেঁথে সামনে রেখে গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে প্রতিরোধ করল তিতু বাহিনী।
যুদ্ধ ….. যুদ্ধ ….. যুদ্ধ ……
তিতু সমেত জনা পঞ্চাশ জেহাদী নিহত, আহত জা ত্রিশ, 250 জন প্রায় ইংরেজদের হাতে বন্দী। ইংরেজ পক্ষে হতাহত 17।
জেহাদীদের বিচারের পর গোলাম মাসুমের মৃত্যুদন্ড হল, একুশ জনের যাবজ্জীবন কারাবাস, নয় জনের সাত বছরের, নয় জনের ছয় বছরের, ষোল জনের পাঁচ বছরের, চৌত্রিশ জনের তিন বছরের, বাইশ জনের দুই বছরের কারাদন্ড। বাকীদের নির্দোষ বলে ছেড়ে দেওয়া হল। ফটিক নামক এক হিন্দুকেও কেল্লা থেকে ধরা হয়েছিল, মানসিক ভারসাম্যহীন বলে সে মুক্তি পেল।
গোলাম মাসুমকে জনসমক্ষে বাঁশের কেল্লার সামনে ফাঁসি দেওয়া হল।
এই ভাবে বাংলার বুকে শরিয়ৎ চালু করার চক্রান্ত নির্মূল করা হল।
সেকুলার ঐতিহাসিকদের বদান্যতায় এই জেহাদী জঙ্গী তিতুমীর আজ শহীদের মর্যাদা পায়!!!
আপনারা যদি “বাঁশের কেল্লা” সার্চ করেন, দেখবেন জঙ্গী মানসিকতার ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ পাবেন। তারাই প্রকৃত তিতুমীরকে চেনে এবং জানে; ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়।
তিতুমীর স্বাধীনতা সংগ্রামী? না কি জেহাদী?
হাতে গরম প্রমান দিচ্ছি। ফেসবুকে “বাঁশের কেল্লা” লিখে সার্চ করুন। জামাতি জঙ্গী ভাবধারা প্রচারের পেজ দেখবেন শুধুই। আমি আপনি ভুল জানি, আমাদের ভুল শেখান হয়েছে। তিতুমীর স্বাধীনতা সংগ্রামী হলে “বাঁশের কেল্লা” জাতীয়তাবাদী পেজ হত। স্বদেশ প্রেমের প্রচার হত সেখানে। কিন্তু আপনি না জানলেও জামাতিরা তিতুমীরকে বিলক্ষন চেনে, তাই বাঁশের কেল্লাকে সামনে রেখে জেহাদ চালায়। তারাই প্রকৃত তিতুমীরকে চেনে এবং জানে; ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়।
(রেফারেন্স: নবরূপে তিতুমীর, রুদ্রপ্রতাপ চট্টোপাধ্যায়)
সৌজন্যেঃ শ্রী সুপ্রিয় ব্যানার্জী ….