Home Bangla Blog শারদীয়া মূর্তিভাঙ্গা উৎসব এবং ড্যাডাদের দুর্গাপূজো।

শারদীয়া মূর্তিভাঙ্গা উৎসব এবং ড্যাডাদের দুর্গাপূজো।

191

শারদীয়া মূর্তিভাঙ্গা উৎসব এবং ড্যাডাদের দুর্গাপূজো
———————————————————

বিভক্ত দুই বাংলার আপামর হিন্দু বাঙালি সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে কখন দূর্গা পূজো আসবে । এ তাদের প্রাণের শারদীয়া উৎসব, সকলে মিলে মিশে ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে এক মহা আনন্দ উৎসব । নতুন জামা, ঢাকের বাদ্যি, মণ্ডপ পরিক্রমা, অঞ্জলি, ভোগ আরও কত কি ! পাঠক, মানুন আর নাইবা মানুন শারদীয়া দুর্গোৎসবে এপারের হিন্দু বাঙালি ডাঁহা লুসার । ভাবছেন কেন বললাম ? সিম্পেল ! এপারের হিন্দু বাঙালির কেবল দূর্গা পূজা, শারদোৎসবের একটাই চ্যাপ্টার ব্যাস , কিন্তু ওপারের সংখ্যালঘু হিন্দু বাঙালি অর্থাৎ ওপার বাংলার সংখ্যাগুরু মুসলমান বাঙালির ‘ড্যাডা’ দের শারদীয়া দুর্গোৎসবে দুটো চ্যাপ্টার- দূর্গা পুজো আর শারদীয়া মূর্তি ভাঙা উৎসব । বোঝা গেল পাঠক ?  এখনো বোঝেন নি ? ঠিক আছে, তাহলে বুঝিয়ে বলি শুনুন :

➤ ওপার বাংলার সংখ্যাগুরু মুসলমান বাঙালি যারা, পাশের দেশে রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হলে কেঁদে বুক ভাসায়, প্রয়োজনে যুদ্ধে যাওয়ার আহবান জানায়, সেই ওপার বাংলার মানবিক সংখ্যাগুরু মুসলমান বাঙালি তাদের জীবন যাপনের বিধানে যদি ওপারের সংখ্যালঘু হিন্দু বাঙালির কারণে পান থেকে চুন খসে, অকপটে সংখ্যালঘু হিন্দু বাঙালিকে চলতি ভাষায় ‘ড্যাডা’ গালি দিয়ে বলে : ‘ওই ড্যাডা, হিন্দুদের দেশ এইটা না, তগো দেশ ভারত। ভালো চাইলে সব ছাইড়া ভারতে যা গিয়া ।
হিন্দুগুলারে বেশী কইরা টাইট দিতে হইব যাতে বাকি ৭% তাড়াতাড়ি বাংলাদেশ ছাড়ে !’

➤ পাঠক, সবেতে ওপার বাংলার সংখ্যাগুরু মুসলমান বাঙালির দোষ দেখলে
হপে ? ওপার বাংলার মানবিক সংখ্যাগুরু মুসলমান বাঙালির মতে : ‘বাংলাদশের মানুষ গরু খাওয়া বা বহনের জন্য নির্মমভাবে পিটিয়ে মারার মত গোরাক্ষস এখনও হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার ব্যপারে খুব পারদর্শি তাই তারা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে না । ভারতে গরু হত্যা মানে মা কে অবমাননা তাই তারা অবমাননাকারীকে মাঝে মাঝে লাঠি পিটা করে হত্যা করে কিন্তু বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননাকারীরা ঘন ঘন চাপাতির কোপে খুন হয় । ভারতে যেটা রেয়ার সেটা আমাদের দেশে ঘন ঘন । গরুর মাংস খাওয়া ইসলামের ফরজ কর্ম যারা মনে করেন তারা তো ভারতে লাঠি পিটা খাবেন, গরু হত্যা করলে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগে তাই মৌলবাদী হিন্দুরা লাঠি পিটা করে এবং কেউ কেউ মারা যায় তারা আমাদের মত চাপাতি দিয়ে কোপায় না যদি আমাদের ধর্মকে কেউ আঘাত করে । আমাদের ধর্মকে আঘাত করলে আমরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করি- সেটা জায়েজ, কিন্তু আমাদের ধর্মের মানুষ যদি অন্য ধর্মকে আঘাত করে তাহোলে আমাদেরকে লাঠি পিটা করা – নাজায়েজ ! বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির দেশ। মূর্তি পুজা মুসলমনদের চক্ষুশূল, শিরক তাও আমরা সম্প্রীতি রক্ষার্থে এতে সহায়তা করি । সেই কারনে শত শত মন্দিরে আক্রমণ করে আমরা শত শত মুর্তি ধংস করি ! মুসলমানদের অগুনতি বাঁদরামি, উৎপাত হাসি মুখে ওদেশে সহ্য করা হয় । গোরক্ষকদের মত অসহিষ্ণু, বর্বর হলে পাছার ছাল অনেক আগেই ছাড়িয়ে নিত। আমরা অত বর্বর নহি তাই কি সুন্দর চাপাতি দিয়ে জবাই করি !’

➤ গুগলে বাংলায় বাংলাদেশে দুর্গা পূজা অথবা প্রতিমা ইত্যাদি দিয়ে সার্চ দিলেই বেরিয়ে আসে সব অপ্রত্যাশিত সংবাদ। শারদীয়া দূর্গা পূজোর আনন্দের চেয়ে মূর্তি-প্রতিমা ভাঙ্গার সংবাদে ভরপুর গুগল সার্চ ইঞ্জিন, যেন রীতিমত এক প্রতিযোগিতা ! নামীদামী সংবাদপত্রগুলো খুব সযত্নে বিষয়টা  এড়িয়ে যায় কারণ সংখ্যাগুরু মুসলমান বাঙালির ওপার বাংলায় মূর্তি ভাঙ্গা একটা মামুলি বিষয়। । পাঠক, সংখ্যাগুরু মুসলমান বাঙালির ওপার বাংলার শারদীয়া মূর্তিভাঙ্গা উৎসবের কিছু উদাহরণ :
⇾শেরপুরে ৪০ বছরের পুরনো মন্দিরের আসন্ন দুর্গাপূজার ৩ টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
⇾হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা রামকৃষ্ণ সেবা আশ্রমের দুর্গাপূজার দু’টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
⇾সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় আসন্ন দুর্গা পূজার জন্য তৈরি ১৫টি প্রতিমা ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

নাহ পাঠক, উপরোক্ত ঘটনাগুলো কালেক্টেড কিছু বছরের অনেক ঘটনা থেকে । আজ শান্ত নয়, একই ঘটনা চলেছে । পড়ে নেবেন বিভিন্ন নিউজ সোর্স ।

লেখাটা বড় হচ্ছে । এবারে শেষ করবো পাঠক । যুদ্ধাপরাধীরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ‘ড্যাডা’ দের ওপর অত্যাচার করেছিল, তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল এবং জোর করে কোথাও কোথাও ধর্মান্তরিত করেছিল। এটা এখন ওপার বাংলার সংখ্যাগুরু মুসলমান বাঙালির বাংলাদেশের ইতিহাস । ড্যাডারা এগুলো সয়েও বেশ কিছু পরিমান ওপর বাংলাতেই রয়ে গেছিল, আজও নানা সামাজিক অবমাননাকে অগ্রাহ্য করে ৭ % ড্যাডা রয়ে গেছে । স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার নোংরা রাজনীতির দায়  বাংলাদেশ অর্থাৎ সংখ্যাগুরু মুসলমান বাঙালির ওপার বাংলার কোনো রাজনৈতিক দলই অস্বীকার করতে পারবেনা ।

ওপার বাংলার সংখ্যালঘু বাঙালি হিন্দু ‘ড্যাডা’, আপনারা শারদোৎসবে লাকি মাইরি, আপনাদের উৎসবের দুইটা চ্যাপ্টার- দূর্গা পুজো আর শারদীয়া মূর্তি ভাঙা
উৎসব !

%d bloggers like this: