আকবর দ্যা গ্রেট (প্রকৃত ইতিহাস) : [চতুর্দশ পর্ব] (শেয়ার অবশ্যই করবেন)

Spread the love

আকবর দ্যা গ্রেট (প্রকৃত ইতিহাস) : [চতুর্দশ পর্ব]
(শেয়ার অবশ্যই করবেন)

আকবর ও তার নবরত্নঃ
পূর্বের পর…
(২) আবুল ফজল:- ‘আকবরনামা’র রচয়িতা ‘আবুল ফজল’ ছিল নরপশু আকবরের শ্রেষ্টতম খাঁটি চাটুকার। আকবরের আনুকল্য পাবার জন্যেই সে আকবরকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দিয়ে যতসব আজগুবি কাহিনী রচনা করে। শেষ পর্যন্ত আকবরের পুত্র জাহাঙ্গীরই তাকে হত্যা করে। “আইন-ই-আকবরি” তে আকবরের নোংরা হিন্দুবিরোধী কর, নীতি ও ব্যাবস্থাগুলির প্রশংসা করে তিনি উজির পদে আসীন হন। এপ্রিল ১৫৪৩ সালে আবুল ফজলের বাবা ‘শেখ মুবারক নাগরী’ আগ্রায় ভারতের প্রথম জেহাদি মাদ্রাসা স্থাপন করেন। সেই মাদ্রাসাতেই ‘খাওয়াজা ওবাইদুল্লাহ আহরার’ এর কাছে জেহাদি ইসলামের দর্শন শিক্ষা লাভ করে আবুল ফজল। ১৫৭৫ সালে আকবরের রাজসভায় স্থান পেয়ে, ১৫৮০-৯০ আকবরের দাক্ষিণাত্য অভিযানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে থেকে তিনি জেহাদে অনুপ্রাণিত করেছিলেন সেনাবাহিনীকে। [Blochmann, H. (tr.) (1927, reprint 1993). The Ain-I Akbari by Abu’l-Fazl Allami, Vol. I, Calcutta: The Asiatic Society, pp.548–50]
(৩) ফাইজি:- ইনি ছিলেন ‘আবুল ফজলে’র বড় ভাই এবং একজন সাধারণ মানের কবি। ১৫৫৮ সালে তাকে আকবর ‘মালিক-ই-সূরা’ উপাধি দেয়। ফাইজি আকবরের অগণিত পুত্রদের আরবি এবং কোরান পড়াত। কিভাবে চাটুকারি করে তার মালিককে খুশী রাখা যায় এই বিদ্যেটা ফাইজি বেশ ভালভাবেই রপ্ত করেছিল। অনেক ইতিহাসবিদ দাবী করেন তার সময় সে ছিল শ্রেষ্ট কবি। আমি এই বিষয়ে একটা কথাই বলব আকবরের বিদ্যের বহর আর রুচিবোধ যে স্তরে ছিল তাতে নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে তার রাজদরবারে কবিদের স্তরও সেই রকমই সাংঘাতিক রকমের নিম্নমানেরই হবে। ৩০ বছর বয়সে হিন্দু কাহিনী “নল ও দময়ন্তী”র আরবিতে অনুবাদ করে হিন্দু ধর্মকে যতরকমভাবে নোংরা বানানো যায় তার চেষ্টা করেছে ফাইজি। [Reynolds, Francis J., ed. (1921). “Feisi, Abul-Feis ibn Mubarák”. Collier’s New Encyclopedia. New York: P.F. Collier & Son Company.]
(৪) বীরবল:- ১৫২৮ সালে উত্তপ্রদেশের কাল্পি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভারতের ইতিহাসের অন্যতম হিন্দু সমাজের বিশ্বাসঘাতক “মহেশ দাস”। বাবা গঙ্গা দাস ব্রাহ্মণ হবার পরেও ছেলেকে পার্সি ভাষা শিক্ষার জন্যে সূফী দরগায় পাঠিয়ে দেন। সেখানেই তাকিয়াবাজি জেহাদে দীক্ষিত হয় মহেশ। ১৫৫৬ সালে মুঘল দরবারে “বীর ভাঁড়/বীর বল” নাম নিয়ে জায়গা হয় তার। ১৫৭২ সালে বীরবল প্রথম জেহাদি রূপে ‘হুসেন কুলি খান’ এর সেনাবাহিনীর মনসবদার রূপে আকবরের ভাই ‘হাকিম মির্জা’কে শায়েস্তা করতে যুদ্ধে অংশ নেয়। এরপর গুজরাট অভিযানেও ২ হাজারি মনসবদার হিসেবে বীরবল নৃশংসতার সমস্ত সীমা পার করে। ১৫৮৬ সালে সিন্ধু নদীর তীরের ‘ইউসুফজাই’ উপজাতির লোকেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করলে সেনাপতি ‘জাইন খান’কে সাহায্য করতে বীরবলকে পাঠানো হয়। পথে পাকিস্তানের ‘সোয়াট উপত্যকায়’ অপেক্ষারত বিদ্রোহী আফগানদের আক্রমণে বীরবলের পরাজয় হয়েছিল খুবই লজ্জাজনকভাবে, ৮০০০ মুঘল সৈন্য মারা যায় এবং নিহত বীরবলের দেহ খুঁজেই পাওয়া যায় নি। বীরবল-আকবরের কৌতুকগুলো হচ্ছে জেহাদি বীরবলের নামে মিথ্যা অলীক গল্প মাত্র। আমরা দক্ষিণ ভারতে তেনালিরামন নামেও একই রকম কাল্পনিক গল্প শুনতে পাই। মুসলিম লেখক সলমন রুশদি তার The Enchantress of Florence বইতে বীরবলকে সাদাসিধে ভাঁড় রূপে দেখালেও, প্রকৃতপক্ষে বীরবল ছিল এক রক্তলোভী জেহাদি নরপিশাচ। [Richards, John F. (1995). The Mughal Empire. Cambridge University Press. pp. 49–52. ISBN 978-0-521-56603-2. Retrieved 29 June 2013.]

(চলবে)

( – Writankar Das – )