আকবর দ্যা গ্রেট (প্রকৃত ইতিহাস) : [পঞ্চদশ পর্ব]
(শেয়ার অবশ্যই করবেন)

আকবর ও তার নবরত্নঃ
পূর্বের পর…
(৫) মানসিংহ:- ১৫৫০ সালের ২১ শে ডিসেম্বর আম্বের প্রদেশের এই রাজপুত রাজা জন্মগ্রহণ করেন। ‘মির্জা রাজা’ নামে পরিচিত মানসিংহ মুঘল সেনাবাহিনীর পাঁচ হাজারী মনসবদার ছিলেন। ১৬০৫ সালে তিনি সাত হাজারী মনসবদার হন। ‘মানসিংহে’র মত বিশ্বাসঘাতক ভারতবর্ষে আর দ্বিতীয়টি জন্ম নেয়নি। ১৮ই জুন ১৫৭৬ সালে মহারাণা প্রতাপের সঙ্গে হলদিঘাটের যুদ্ধে ‘মানসিংহ মুঘল সেনাকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। কিন্তু রানা প্রতাপকে হত্যা করতে সে ব্যর্থ হয় এবং আকবর মানসিংহকেই এর জন্যে দায়ী করে। মানসিংহ ১০ হাজার মুঘল অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে রানা প্রতাপের ৩ হাজার অশ্বারোহী বাহিনীকে হারিয়ে দিলেও রানা প্রতাপকে হত্যা করতে পারেনি, কারণ রানা প্রতাপকে রক্ষা করছিল ‘রানা পাঞ্জা’ নামে এক ‘ভীল’ উপজাতি যোদ্ধা তার ৩০০ ‘ভীল’ সেনা নিয়ে। ১৫৮৫ সালে নৃশংসভাবে আফগান ‘ইউসুফজাই’ উপজাতি বিদ্রোহে দমন, ১৫৯০ তে উড়িষ্যা অভিযানে, ১৫৯৪ তে বাংলা বিহার অভিযানে চরম নৃশংসতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মানসিংহ। সে তার বোনকে জাহাঙ্গীরকে আজীবন ভোগ করতে দেয়। এবং এমনকি পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর মানসিংহের উপর চাপ সৃষ্টি করে তার দৌহিত্রীকে (নাতনী) মোঘল হারেমে রাখার জন্য। রাজী না হলে, জাহাঙ্গীরের নির্দেশে গুপ্তঘাতকরা মানসিংহকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করে এবং ভগবান দাস (মানসিংহের পিতা) আত্মহত্যা করে।
(৬) আবদুল রহিম খান:- আকবরের অভিভাবক বৈরাম খানের পুত্র ‘আবদুল রহিম খান-এ-খানা’ ছিলের মুঘল রাজসভার একজন উর্দু কবি। তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা করতেন এবং আকবরকে গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান বিচার করে সমস্ত কাজ করতে সাহায্য করতেন। আকবর বৈরাম খানকে খুন করার পর আবদুলের সৎ মা ‘সালিমা সুলতানা বেগম’কে মুঘল হারেমের যৌনদাসী বানিয়েছিলেন। তবুও আবদুল নপুংসকের মত মুঘল দরবারে পদ, স্বাচ্ছন্দ্য, সম্মানের লোভে পড়ে ছিলেন। বলা হয় তিনি ছিলেন কৃষ্ণের ভক্ত, এর সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায় নি। কিছু দোহা লেখা ছাড়াও ১৫৯০ সালে বাবরের জীবনী ‘বাবরনামা’ কে তিনি তুর্কি ভাষা থেকে পার্সিয়ান ভাষায় অনুবাদ করেন। দিল্লির মথুরা রোডে হুমায়ূনের সমাধির পাশেই এই আবদুলের সমাধিও আছে।
(৭) ফকির আজিয়াউদ্দিন:- তিনি ছিলেন আকবরের দরবারের এক সূফী ফকির এবং ইসলামী ধর্ম বিশেষজ্ঞ। আকবরের আমলে ভারতে ইসলাম ধর্ম এবং গোঁড়া হিন্দু এলাকাগুলিতে সূফী মতবাদ প্রচারের প্রধান কারিগর ছিলেন এই আজিয়াউদ্দিন। অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে ইসলামিক জেহাদ চালিয়ে গিয়েছেন তিনি, ফলে সকলের কাছেই ফকির হিসেবে সমাদর পেতেন। আকবরের আমলে হাজার হাজার মন্দির ধ্বংস থেকে শুরু করে, হিন্দু নারীদের দিয়ে মুঘল হারেমখানা পূর্ণ করে সোয়াব (পুণ্য) আদায়ের জন্যে তিনি সবসময় আকবরকে প্ররোচিত করতেন। একজন সূফী ফকির হবার পরও তার নারী লালসা ছিল সর্বজনবিদিত। ইসলামী ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও মুঘল হারেমে তার ছিল অবাধ যাতায়াত। আজকের ISIS জঙ্গিদের মত প্রতিটি যুদ্ধের পর পরাজিত হিন্দু ভারতবাসীদের নৃশংসভাবে হত্যা করার বুদ্ধি তিনিই আকবরের মাথায় ঢুকিয়ে দিতেন কাফের মেরে জেহাদ করে বেহেস্ত প্রাপ্ত করবার জন্যে। আকবরের প্রবর্তিত ধর্ম দীন-ই-ইলাহী প্রবর্তনেও এই ফকিরের অবদান ছিল প্রধান।

(চলবে)

( – Writankar Das – )