ধৈর্য ধরে পড়ুন। নিন্মলিখিত গল্পটি আপনাকে পথ দেখাবে কিভাবে বাংলাদেশে একজন পিনাকী ভট্টাচার্য হওয়া যায়?
——————————–
ইসরায়েলে বসবাসরত ইহুদিদের মধ্যে ‘রাশান ইহুদির’ সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তখন বলশেভিক লাল-শাসন তুঙ্গে। মস্কো থেকে তেলআভিব যাচ্ছে এক ইহুদি। উদ্দেশ্য সেখানে একটা ঠাঁইয়ের ব্যবস্থা করে রাখা। বিপদকালে কাজে লাগবে। বাচ্চা-কাচ্চাদের আগেই পাঠিয়ে দিয়েছে। লোকটা পেশায় স্বর্ণকার। পৈতৃকসূত্রে অনেক স্বর্ণের মালিক সে। তার ইচ্ছা, স্বর্ণগুলো ইসরাঈলে স্থানান্তর করবে। কিন্তু ইমিগ্রেশনই বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল! শেষে বুদ্ধি করে সব স্বর্ণ জড়ো করে, সারাজীবনের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একটা মূর্তি গড়ল। লেনিনের। প্রথম চেকিংয়েই ধরা পড়লো যে, সে বে-আইনি মূর্তি বহন করছে। শুল্ক কর্মকর্তা দু’চোখ কপালে তুলে প্রশ্ন করলো:
-এটা কী?
-উঁহু! আপনার প্রশ্নটাই ভুল! আপনার প্রশ্ন করা উচিত ছিল, ‘ইনি কে হন’? ইনি মহামান্য লেনিন! তার মাধ্যমেই সর্বহারা বিশ্ব মুক্তির স্বপ্ন দেখেছে। বুর্জোয়াদের সাম্রাজ্য ভেঙে ‘প্রলেতারিয়েতের’ ক্ষমতার অধিষ্ঠান হয়েছে। রুশ জাতিকে বিশ্বের সেরা জাতি হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমি সব সময় এই মহান মানুষের মূর্তিটা সাথে রাখি। বিপদাপদে তার কাছে প্রার্থনা করি। আমি জানি, মহামান্য লেনিন এহেন আচরণ পছন্দ করবেন না, কিন্তু আমি তার প্রতি এভাবে শ্রদ্ধা না দেখিয়ে থাকতে পারি না। যখনই আমি মূর্তিটা দেখি, মহান মানুষটার আদর্শ চেতনা আমার শিরা-উপশিরায় বিদ্যুতের মতো নাচানাচি করতে থাকে! আমি চাই তেলআবিবেও লেনিনের একটা সমর্থক গোষ্টী গড়ে উঠুক! তাদেরকে মূর্তিটা দেখিয়ে বোঝানো সহজ হবে!
-ওহহো! কী ভক্তি! কী শ্রদ্ধা! কী আত্মনিবেদন! কমরেড তুমি সানন্দে ‘মূর্তিটা’ নিয়ে যাও!

বিমান তেলআবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ল্যান্ড করলো। বন্দরের শুল্ক কর্মকর্তারা ভেঙে পড়লো মূর্তিটা দেখার জন্যে! ভারিক্কি চালে প্রশ্ন করলো:
-এটা কী হে!
-এহহে! আপনার প্রশ্নটাই শুদ্ধ হয়নি! প্রশ্ন করা উচিত ছিল ‘এই ব্যাটা কে’? উত্তরটা বলছি: এই ব্যাটা হলো ‘নরাধম-নরপিশাচ-কালপ্রিট ‘লেনিন’। পাগলাগারদ থেকে ছুটে আসা রক্তলোভী এক ভ্যাম্পায়ার! আমাদের মহান ইহুদি জাতিকে কাজে লাগিয়ে, সে লাল অক্টোবর বিপ্লব করলো, তারপর আমাদেরকে ভুলে গেলো! তারপর ধর্মকর্ম নিষিদ্ধ করলো। কী ধৃষ্টতা! কী অকৃতজ্ঞতা!
আমি চাই আমাদের মহান ‘প্রমিজড ল্যান্ড ইসরাঈল’-এ যেন পাপিষ্ঠটার প্রভাব না আসে!। সেজন্য এই মূর্তিটা দেখিয়ে দেখিয়ে প্রচারকার্য চালাতে চাই! মহান ইহুদি জাতিকে তার ব্যপারে সতর্ক করতে চাই! আমার যখনই ‘ইসরাঈলের’ প্রতি ভালোবাসায় ঘাটতি সৃষ্টি হয়, আমি ‘এই নরকের কীট’ মূর্তিটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকি! আমার ভেতরে অভূতপূর্ব এক শক্তি খলবল করে ওঠে! আমি তখন ডেভিডের সাথে জালিমশাসক ‘শলের’ বিরুদ্ধে লড়তে যাওয়ার সাহস পাই! আমি তখন মোশে দায়ানের সাথে ‘সিনাইতে’ আরব বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা খুঁজে পাই!

পুরো বিমানবন্দরের লোকজন চিত্রার্পিতের ন্যায় সম্মোহিত হয়ে ‘রাশান ইহুদির’ বক্তব্য শুনছিল! কেউ কেউ আবেগে ‘কেঁদেও’ ফেলেছিল! শুল্ক কর্মকর্তা কী করবে বুঝে উঠতে না পেরে ‘ঘটাং’ করে একটা পেল্লায় সেলুট ঠুকে, ততোধিক জোরে আওয়াজ করে ‘সীল’ মেরে দিল! শশব্যস্ত হয়ে সবাই সসম্মানে লোকটাকে গাড়ির কাছে পৌঁছে দিল!

তার আগমন উপলক্ষ্যে তেলআবিবের আত্মীয়রা এক পারিবারিক নৈশভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো। মূর্তিটা সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা আছে। ঘরের কোনে একটা শোকেসে! ছোট ছেলেটা নতুন এই চকচকে মূর্তি দেখে অবাক হয়ে গেলো!
-বাবা! ইনি কে?
-আব্বু! তোমার প্রশ্নটাই ভুল! তোমার প্রশ্ন করা উচিত ছিল ‘এটা কী’? এটা একটা আবক্ষ মূর্তি। দশ কিলো স্বর্ণ দিয়ে তৈরী। পূর্বপুরুষরা বোকা রাশানদের অলঙ্কার থেকে কেটে কেটে জমিয়েছিল! বিশ্বের সেরা দুই দুইটা বিমানবন্দরে কোনও ট্যাক্স-শুল্ক ছাড়াই মূর্তিটা এই ঘরে এসেছে!

মোরাল: পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে বক্তব্য দিতে জানতে হয়! মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের উপযোগী করে গল্প বানাতে জানলে, কোথাও ঠেকতে হয় না। ৯৬ হাজারের বেশি ফেসবুক ফলোয়ারের একজন বাংলাদেশি নও মুসলিম পিনাকী ভট্টাচার্য হতে হলে, আগে জনগনের ইসলামি  আবেগের জায়গাগুলো জানতে হবে! হিন্দু বিদ্দ্বেষ তথা ভারত বিদ্দ্বেষের জায়গা গুলি জানতে হবে তারপর সেটাকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার জন্যে কীবোর্ডের জোর থাকতে হবে! তাহলেই পিনাকী ভট্টাচার্য কেন তার চেয়ে আরো বড় কিছু হওয়াও বিচিত্র কিছু নয়!