Thursday, July 29, 2021
Home Bangla Blog জঙ্গীবাদের উৎস সন্ধানে..........!!!"

জঙ্গীবাদের উৎস সন্ধানে……….!!!"

জঙ্গীবাদের উৎস সন্ধানে; ইতিহাস, কোরান ও হাদিস যা বলে।
(ভীষণ গুরুত্বপুর্ন একটি রচনা। … সব্বাইকে একটিবার পড়ে দেখতে অনুরোধ জানাই)

আজ সারা বিশ্ব জঙ্গী জ্বরে আক্রান্ত!

বিশেষ করে দক্ষিন এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।সমাজ ও রাষ্ট্রের উঁচুতলা থেকে নিচুতলা সকল স্তরেই একটাই আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। তা হল জঙ্গীবাদ। জঙ্গী ইস্যুতে মিডিয়া গুলোও আজ যতেষ্ট স্বরগরম। বিভিন্ন ওয়েবসাইট,ব্লগ,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,সব জায়গারই প্রধান আলোচনার বিষয় হলো জঙ্গীবাদ তথা জঙ্গীদের বিভিন্ন কার্যক্রম।রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব থেকে সরকারী আমলা সবাই মঞ্চ কাঁপিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছে জঙ্গী ইস্যুতে। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া গুলোতে কথিত বুদ্ধিজীবিদের টকশোগুলোতেও চলে আসছে জঙ্গী ইস্যু। মসজিদ,মন্দির,ওয়াজ মাহফীল,চা স্টলের আড্ডায়, হেন জায়গা নেই যেখানে জঙ্গী বিষয়ক আলোচনায় মুখরিত নয়।

এই বহুল আলোচিত বিষটির বিপক্ষেই কথা বলছে বেশিরভাগ মানুষ। মানে তারা জঙ্গীদের সাপোর্ট করেনা।আর কিছু লোক, যারা জঙ্গী দলভুক্ত অথবা সমমনা তারা জঙ্গীদের পক্ষে তাদের বিভিন্ন ধরনের যুক্তি,কুযুক্তি তুলে ধরে যত কথা বলে যাচ্ছে,যত লেখা লিখে যাচ্ছে।অবশ্য জঙ্গী বিরোধী প্রচারনা যেমন করে প্রকাশ্যে প্রচারিত হচ্ছে ,তেমন করে জঙ্গীদের পক্ষের প্রচারনা তেমন করে প্রকাশ্যে হচ্ছেনা ।পর্দার আড়াল থেকে তাদের কাজ তারা করে যাচ্ছে।

এই জঙ্গীবাদ শব্দটিকে একটু সম্প্রসারিত করে লিখলে একে “ইসলামী জঙ্গীবাদ” লেখা যায়।এর কারন বর্তমানে যারা জঙ্গী হিসাবে পরিচিত তারা নিজেদেরকে ইসলাম ধর্মের অন্তর্ভুক্ত বলেই পরিচয় দেয়। অনেকে একে একটু মার্জিত ভাষায় ধর্মীয় জঙ্গীবাদ বলে থাকে। এ যেন ইসলামের উপর অপবাদ চাপানোকে একটু মশৃণতা দানের আদুরে চেষ্টা।
এই জঙ্গীবাদ বা ইসলামী জঙ্গীবাদ বিষয়টি যখন আলোচনার তুঙ্গে তখন অনেক আলেম-উলামা ,লেখক,বুদ্ধিজীবি থেকে রাজনীতিবিদরা বলে বেড়াচ্ছে,ইসলাম জঙ্গীবাদ সমর্থন করেনা,নবীজিও জঙ্গীদের সমর্থন করতেন না।এটা ইসলামের মূলনীতির পরিপন্থী। জঙ্গীরা ইসলমাচ্যুত,পথভ্রষ্ট। আর এগুলো এনারা কোরান,হাদীস,সীরাত ও ইসলামের ইতিহাসের দোহাই দিয়ে মন্ডাকারে উপস্থাপন করে তাদের উপর অর্পিত পবিত্র দায়ীত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

জঙ্গী নির্মুলে বর্তমান বাংলাদেশের সরকার সহ তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের সরকার অনেক রকমের পদক্ষেপ নিয়েছে। এক কথায় এরা জঙ্গী নির্মূলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই সকল দেশ তথা সরকারগুলোর এরুপ পদক্ষেপ দেখে ছোট বেলায় পড়া ডালিম কুমারের রাক্ষস বদ করে রাজকন্যা উদ্ধারের গল্পটি মনে পরে গেল।

“ডালিম কুমার রাক্ষসের হাতে বন্দী রাজকন্যাকে উদ্ধারের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো। যেকোন প্রকারে রাজকন্যাকে উদ্ধার করতেই হবে।ঘুরতে ঘুরতে রাক্ষসকে পেয়ে গেল ডালিম কুমার। কিন্তু সমস্যা হলো যখনই রাক্ষসটির শিরচ্ছেদ করে তাকে হত্যার চেষ্টা করে ,পরক্ষনেই আবার সে বেঁচে ওঠে।এভাবে বার বার একই ঘটনা ঘটতে লাগল। এক সময় কেউ একজন ডালিম কুমারকে পরামর্শ দিল যে, রাক্ষসের প্রাণ তো রাক্ষসের দেহে নেই।এর প্রাণ একটা ভ্রমরের মধ্যে, ভ্রমরটি আবার একটি কৌটার মধ্যে, এই কৌটাটি আবার অন্য কৌটার মধ্যে এভাবে অনেক গুলো কৌটার ভেতরের কৌটায় ভ্রমরটির অবস্থান।ঐ কৌটাটি একটি অন্ধকার নির্জন পুকুরের পানির তলায় সংরক্ষিত আছে।যদি এক নিশ্বাসে পানির তলা থেকে কৌটাটি তুলে ভ্রমরটিকে বের করে মেরে ফেলা যায় তবেই রাক্ষস বদ সম্ভব এবং রাজকন্যাকে উদ্ধার করা সম্ভব ।নতুবা যত বারই রাক্ষসকে খন্ড বিখন্ড করে মেরে ফেলা হোক না কেন,প্রতিবারই বেঁচে উঠবে।কারন শুধুমাত্র প্রাণহীন রাক্ষসের দেহকে ধংশ করলেই তাকে চিরতরে ধংশ করা সম্ভব হবেনা।অবশেষে ডালিম কুমার শর্তানুসারে ভ্রমরকে খুঁজে বের তাকে মেরে ফেলার মাধ্যমে রাক্ষস বদ করে রাজকন্যাকে উদ্ধার করল”

আমাদের জঙ্গীবাদ ইস্যুটিও সে রকম। প্রথমে আমাদের সনাক্ত করতে হবে জঙ্গীবাদের প্রাণটা কোথায়।অর্থাৎ আজকের জঙ্গীদের মুল উৎস কোথায়? কোথা থেকে এর যাত্রা,কোথা থেকে এটি পুষ্টি পাচ্ছে। সে প্রাণটাকে ধংস না করে কেবল ফাঁকা হুমকি-ধামকি দিয়ে,কয়েকজন আলেম মোল্লাকে ডেকে এনে জঙ্গীবাদকে ইসলাম সমর্থন করেনা বলে ফতোয়া জারি করে,প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কিছু জঙ্গীকে মেরে ফেললেই কোন স্থায়ী সুরাহা হয়ে যাবেনা। এর জন্য প্রয়োজন মানসিক পরিবর্তন। কিন্তু মুল পুষ্টিদাতা বেঁচে থাকলে মানসিক পরিবর্তন তো সম্ভব নয়। অতীতে আমরা দেখেছি অনেক জঙ্গী গোষ্টির পতন ঘটাতে। কিন্তু লাভ কি হয়েছে? পুনরায় তারা জেগে উঠেছে নতুন আঙ্গীকে, নতুন চেতনা নিয়ে।

এবার দেখা যাক আজকের এই জঙ্গীবাদের মূল উৎপত্তি স্থল কোথায়। কোথা থেকে এর যাত্রা শুরু। কিভাবেই বা এটি বিবর্তিত হতে হতে আজকের অবস্থানে এসেছে।
মডারেট মুসলিমরা যতই বলুক না কেন ইসলামের সাথে জঙ্গীবাদের কোন সম্পর্ক নেই ।জঙ্গীবাদ অতি সম্প্রতিকালে সৃষ্ট কোন ব্যাপার নয়।এর গোড়া প্রোতিত আছে নবী মুহাম্মদের আমলে। এর প্রারম্ভিক যাত্রাও তিনিই শুরু করে গিয়েছিলেন।তারপর অনুসারী পরম্পরায় চলতে চলতে বর্তমান পর্যায়েএসে দাড়িয়েছে।

মুহাম্মদ যখন নবুয়ত প্রাপ্ত (?) হলেন,মক্কার কোরাইশদের এ বিষয়টি তিনি বুঝাতে ও বিশ্বাস করাতে চেষ্টা চালালেন।প্রথমে সামাজিক ভাবে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ব্যাক্তিদের কাছে গেলেন কিন্তু তেমন কোন সাড়া পেলেন না,পরে অপেক্ষাকৃত নিন্ম শ্রেণীর কোরাইশদের কাছে গেলে কিছু কিছু সাড়া মিলল।যাক সে কথা, প্রথম দিকে মুহাম্মদ নমনীয় ও আধ্যাত্বিকতা নির্ভর প্রচারের মাধ্যমেই যাত্রা শুরু করলেন। এর কারন তখন তার পক্ষের লোকবল যতেষ্ট কম ছিল।কোরানের প্রথম দিকের মক্কি সুরাগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় কতটা নমনিয় ছিল তার বক্তব্য,কতটা মার্জিত ছিল তার বাচন ভঙ্গী ক্রমান্বয়ে তার প্রচারের পরিধি বাড়তে থাকলে ,কোরাইশদের থেকেও প্রতিরোধ বাড়তে থাকল,কিন্তু গতিটা ছিল যতেষ্ট মন্তর।এভাবে মুহাম্মদ যখন অনুভব করল খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চললে তার ধর্ম অন্দর মহল থেকে খাস মহলে যেতেই তা মাঠে মারা যাবে। তার পর পুর্বেকার প্লান অনুসারে তার কয়েকজন শিষ্যকে নিয়ে মদীনায় পাড়ি জমালেন।মদীনার ইহুদী ,খৃষ্টানরা তাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিল।মদীনায় থাকা কালে তার পক্ষের লোকবল ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকল। ঐ সময় নাজিলকৃত(?) সুরাগুলোর দিকে তাকাল দেখা যায় মুহাম্মদের বোল পাল্টে যাচ্ছে দিন দিন।নরম থেকে ক্রমান্বয়ে গরম হতে লাগল। লোকবল বৃদ্ধির সাথে সাথে ইসলাম বিস্তৃতির পথ হিসাবে আধ্যাতিকতা ছেড়ে রাজনীতিকে বেচে নিলেন তিনি।মদিনার অনুসারীদের থেকে এ ব্যাপারে যতেষ্ট সহযোগীতাও পেলেন।এর পর থেকেই সমগ্র আরব ভূখন্ডে একটি একক ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেতে শুরু করেন,যার পরবর্তিতে বাস্তবে রুপান্তরিত করেন।
তারই ধারাবহিকতায় আল্লাহর নাম করে একে একে সহিংস আয়াতগুলো প্রচারের মাধ্যমে তার অনুসরীদের প্রথমে মক্কার কোরাইশদের বিরুদ্ধে এবং পরে সমগ্র অমুসলিমদের বিরোদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্ররোচিত করতে লাগলেন।আর এ যুদ্ধকে তিনি আখ্যায়িত করলেন জীহাদ বা পবিত্র যুদ্ধ নামে।

ইসলামের এই সাম্প্রদায়ীক প্রতিহিংসার জীহাদ শুরু হয় মুলত ৬২৩ খৃ: এর ওয়াদ্দানের যুদ্ধের মাধ্যমে।যদিও এর পুর্ণরুপ লক্ষ করা যায় ৬২৪ খৃ: এর মার্চে সংঘটিত বদরের যুদ্ধের মাধ্যমে। বদরের যুদ্ধটি হয়েছিল তখনকার আরবের প্রচলিত পবিত্র মাসে।সে সময়ের রীতি অনুসারে এই মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ,হত্যা,খুন, রক্তপাত নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু মুহাম্মদের প্রতিশোধ স্পিহা এবং ধন-সম্পদের লোভ তাকে মদীনার কাছ দিয়ে যাওয়া মক্কার কোরাইশ বানিজ্য কাফেলা আক্রমন করা থেকে বিরত রাখতে পারল না।এতে তারা বিজয়ী হয় এবং প্রচুর ধন সম্পদ লাভ করে।এ বিজয় মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের আর্থিক ভাবে প্রতিষ্টা করা সহ পরবর্তি সকল যুদ্ধের অনুপ্রেরনা যুগিয়েছে। আর নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ করাকে যায়েজ করার জন্য তিনি কোরানের ২:২১৭ ,৮:৪১, ৮:৬৯ আয়াত সমুহ প্রচার করে তার অনুসারিদের উদ্বোদ্ধ করতে শুরু করেন পরবর্তি যে কোন যুদ্ধের জন্য।

বদরের যুদ্ধের পর যে সহিংস যুদ্ধ সংঘটিত হয়।এটি ওহুদের যুদ্ধ নামে ইতিহাসে পরিচিত।এ যুদ্ধে মুহাম্মদের বাহিনী পরাজয় বরন করে। বদরের যুদ্ধের সাফল্যে মুহাম্মদ আল্লাহর পক্ষ থেকে যে যে সাহায্যের বাণীর কথা উল্লেখ করেছিলেন।ওহুদের যুদ্ধে পরাজয় বরন করার মাধ্যমে তা যখন মিথ্যে প্রমাণিত হলো,তখন মুহাম্মদের অনেক অনুসারীদের মধ্যে তার নবুয়ত নিয়ে সংসয় দেখা দিল।এ হেন পরিস্থিতি মুকাবেলা করার জন্য চতুর মুহাম্মদ নিয়ে আসলেন কোরানের ৩:১২০-২০০,৩:২২৪-২২৫ আয়াত সমুহ ।

এর পর সংঘঠিত হয় খন্দকের যুদ্ধ ।এ যুদ্ধেও মুহাম্মদের পরাজয় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু মুহাম্মদের পারসিয়ান অনুসারী সালমানের কৌশলগত দক্ষতার জন্য বেঁচে গেলেন কোন রকমে। তখনও গনীমতের মালের,যুদ্ধ বন্দি নারীদের,বেহেস্ত প্রাপ্তির লোভ দেখিয়ে এবং জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে তার অনুসারিদের প্রতিনিয়ত সহিংস যুদ্ধে প্ররোচিত করতে লাগলেন।

৬২৪ সালে ওহুদের যুদ্ধের পর বানু নাদীর গোত্রকে বিশ্বাস ঘাতকতার অপবাদে নির্বাসনে পাঠালেন নিজ বাসভুমি থেকে।এ ঘটনাকে জায়েজ করার জন্য নিয়ে আসা হল কোরানের ৫৮:৩-৪,১১ আয়াত সমুহ।

তারপর ৬২৭ সালে একই অপবাদে বানু কোরাইজা গোত্রের ৮০০ – ৯০০ পুরুষকে কচুকাটা করে কোরানের ৩৩:২৬-২৭ আয়াতের মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে দিলেন।
বানু কাইনুকা গোত্রকেও মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা নির্মম ভাবে ছিন্ন ভিন্ন করে।
মক্কা, মদীনার এমন কোন ইহুদি-খৃষ্টান গোত্র ছিলনা যাদের মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা স্বসস্ত্র আক্রমন করেনি। যারা তার ধর্ম ও তাকে মেনে নিয়েছে তারা বেঁচে গেছে ,আর যারা মানেনি তাদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে মরুভুমির বালি। অথবা তাদের দেশ থেকে বিতারনের মাধ্যমে বা অপমান জনক জিজিয়া প্রদানে স্বীকৃতি দানের মাধ্যমে করুনা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

যে ইহুদী-খৃষ্টানেরা তার চরম বিপদের ( মুসলিমদের ভাষ্যানুসারে) দিনে আশ্রয় দিয়েছে সেই ইহুদী খৃষ্টানদের প্রতি মুহাম্মদের মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায় একটি ঘটনার মাধ্যমে-
মুহাম্মদ যখন অন্তিম সয্যায় তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কাতরাচ্ছিলেন,তার পাশেই বসে আবিসিনিয়ায় নির্বাসনে থাকা কালে ওখানকার গীর্জা ও তার দেয়ালে আকাঁ কিছু ছবির প্রশংসা করছিলেন বিবি মরিয়ম ।এটা শুনে মুহাম্মদ ক্রোধুন্মাদ হয়ে চিৎকার করে বলে ওঠলেন-
“হে প্রভু,ইহুদী ও খৃষ্টানদের ধংস কর,প্রভুর ক্ষোভ তাদের উপর প্রজ্বলিত হয়ে ওঠুক,সমগ্র আরব ভুখন্ডে ইসলাম ব্যাতিত অন্য কোন ধর্ম না থাকুক”
৬২৮ সালে মুহাম্মদ মক্কা জয় করলেন।এর সাথে ইসলামের ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায়ের সুচনা ঘটল। দলে দলে কোরাইশরা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে ইসলাম গ্রহন করতে লাগল। আর যারা ইসলামের পতাকা তলে আসেনি তাদের ভাগ্যে যুটল তরবারির আঘাতে মৃত্যুদন্ড।

৬২৮ সালে খন্দকের যুদ্ধের পর কোরাইশ ও মুহাম্মদের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।যা ইতিহাসে হুদাইবিয়ার সন্ধি নামে পরিচিত।কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই মুহাম্মদের এক অনুসারি আবু বাশির একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করে সন্ধির শর্ত ভেঙে কোরাইশদের হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠল।তারা যেখানে,যেভাবে কোরাইশদের পেয়েছে হত্যা করেছে।এ বিষয়টি মুহাম্মদ জেনেও না জানার ভান করে পরোক্ষ ভাবে এই সব হত্যাকান্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে।এভাবেই জীহাদ নামক বর্বরতার মাধ্যমে মুহাম্মদের ইসলাম এগিয়ে যেতে লাগল।

ধার্মিক ইসলামের ইতিহাসবিদদের লিখিত নবী মুহাম্মদের জিবনীতে পাওয়া যায় মদীনায় বসবাসরত তার জীবনের শেষ ১০ বছরে ৭০ – ১০০টি ব্যার্থ ও সফল অভিজান পরিচালনা করেন কাফেরদের (মুহাম্মদের ভাষায়) বিরোদ্ধে।এর মধ্যে ১৭ – ১৯টি অভিজানে তিনি নিজে প্রত্যক্ষ ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।নিন্মে নবীর কয়েকটি প্রধান প্রধান অভিজানের তালিকা দেওয়া হলো-

৬৩৩ সালে—- ওমান , হাদ্রামাউত , কাজিমা, ওয়ালাজা, উলেইস ও আনবারের যুদ্ধ।
৬৩৪—-বসরা, দামাস্কাস, আজনা নিনের যুদ্ধ
৬৩৪ সালে আবু বকর মারা যাওয়ার পর খেলাফতের দায়িত্বে আসে উমর ইবনুল খাত্তাব। তার নেতৃত্বে জীহাদ গুলো হলো-
৬৩৪ সালে—নামারাক, ওসাতিয়ার যুদ্ধ।
৬৩৫ সালে—সেতু,বুওয়াইব,দামাস্কাস, যাহুলের যুদ্ধ।
৬৩৬ সালে—-ইয়ায়মুক,কাদিসিয়া, মাদাইলের যুদ্ধ।
৬৩৭ সালে—-জলুলার যুদ্ধ।
৬৩৮ সালে—-ইয়ার মুকের যুদ্ধ,জেরুজালেম ও জাজিরা বিজয়।
৬৩৯ সালে—–খুজইজিস্থান বিজয়, মিশর আক্রমন।
৬৪১ সালে—নিহাওয়ান্দ এর যুদ্ধ।
৬৪২ সালে—পারস্যের রেই এর যুদ্ধ।
৬৪৩ সালে—-আজার বাইজান বিজয়।
৬৪৪ সালে—-ফারস ও খারান বিজয় ।
৬৪৪ সালে উমর খুন হলে পরবর্তি খালিফা হিসাবে আসেন উসমান ইবন আফ্‌ফান।
তিনিও নবীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে তার পুর্বসূরিদের জীহাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। তার নেতৃত্বে নিম্নোক্ত যুদ্ধ গুলো অনুষ্ঠিত হয়-
৬৪৭ সালে—- সাইপ্রাস দ্বীপ বিজয়।
৬৪৮ সালে—বাইজেন্টাইনের বিরুদ্ধে অভিজান।
৬৫১ সালে—-বাইজেন্টাইনের বিরুদ্ধে নৌ যুদ্ধ।
৬৫৪ সালে—–উত্তর আফ্রিকা অভিজান।

ক্ষমতার দন্দ্বে ৬৫৬ সালে খালিফা উসমান খুন হলে, পরবর্তি খালিফার পদে অধিষ্ট হন নবীর প্রিয় কন্যা ফাতেমার স্বামী আলী।
তিনি নিম্নোক্ত যুদ্ধ গুলোর নেতৃত্ব দিয়ে তার উপর অর্পিত জীহাদি দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

৬৫৮—– সালে—নাহুবা ওযানের যুদ্ধ ।
৬৬১—– সালে মিশর বিজয় ।
৬৬১ সালে মসজিদ প্রাঙ্গনে বিষাক্ত ছুরির আঘাতে আলী মারা যান।
তার পর মুয়াবিয়ার নেতৃত্বে ইসলামি খেলাফত চলে যায় উমাইয়া বংশের উপর ।
জীহাদের প্রশ্নে তারাও একই পথে হাটলেন। রক্ত আর লাশের মিছিল চলে যে পথ ধরে। মুহাবিয়া নিন্মোক্ত যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

৬৬২ সালে——–নাহরাওয়ানের যুদ্ধ।
৬৬৬ সালে—–সিসিলি আক্রমন।
৬৭৬ সালে—–কনস্টান্টিনোপল অবরোধ।
৭০০ সালে—উত্তর আফ্রিকায় সামরিক অভিজান।
৭০২ সালে —–দার-উল-জামিয়ার যুদ্ধ।
৭১১ সালে—-জিব্রাল্টা আক্রমন ও স্পেন বিজয়।
৭১২ সালে—-সিন্ধু বিজয়।
৭১৩ সালে—- মুলতান বিজয়।
৭১৬ সালে—-কনস্টান্টিনোপল আক্রমন।
৭৩২ সালে—-ফ্রান্সের টুর এর আক্রমন।
৭৪০ সালে—- নোবলের যুদ্ধ।
৭৪১ সালে—-আফ্রিকার বাগদৌরার যুদ্ধ।
৭৪৪ সালে —আইন আল জুর এর যুদ্ধ।
৭৪৬ সালে—-রুপার ঠুঠার যুদ্ধ।
৭৪৮ সালে—- রেই এর যুদ্ধ।
৭৪৯ সালে —-ইস্পাহান ও নিহাওয়ান্দ এর যুদ্ধ।
৭৫০সালে—- জাব এর যুদ্ধ।
৭৭২ সালে —-উত্তর আফ্রিকার জানবি এর যুদ্ধ।
৭৭৭ সালে —-স্পেনের সারাগোসার যুদ্ধ।

এ সকল মোটা দাগের যুদ্ধে বা আক্রমনে কোটি কোটি মানুষ ইসলামের তরবারির নিচে বলি হয়। রক্তের স্রোতে ধুয়ে যায় আতুর ঘরে শিশু ইসলামের বলা আধ্যাত্বিকতা নির্ভর ও নমনীয় যত শান্তির বাণী।
আরব বিশ্ব অতিক্রম করে বিশ্বের অনেক দেশের মত জীহাদের ঢেউ এসে আচঁড়ে পরে আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে।

এ দেশে মুসলিমদের দ্বারা আক্রমন ও হত্যা যজ্ঞ শুরু হয় সিন্ধু আক্রমনের মাধ্যমে। আর এই নিষ্টুরতা চলতে থাকে টিপু সুলতানের শাসনামল পর্যন্ত।
৭১২ সালে মুহাম্মদ বিন কাসিম প্রথম সিন্দু আক্রমন করে বাগদাতের গভর্নর হাজ্জাস বিন ইউসুফ ও দামেস্কের খালিফা আল ওয়ালিদের নির্দেশনায় । সিন্ধু দখলের সময় সেখানকার ৬০০০-১৬০০০ অমুসলিমকে হত্যা করে আর প্রায় ৬০০০০ মানুষকে কৃতদাসে পরিনত করে।

১০০০-১০২৭ সাল পর্যন্ত সুলতান মাহমুদ ১৭ বার ভারত আক্রমন করেন। এ সময় তার তরবারির নিচে করুন ভাবে প্রাণ হারায় প্রায় ১৬০০০ অমুসলিম, যাদের দেহগুলোকে বন্যপশু ও শিকারি পাখিদের খাদ্যে পরিনত করা হয়। ২০১১ থানেসার আক্রমন এত ভয়াবহ ছিল যে মানুষের রক্তে নদীর পানি পুরো বিবর্ন হয়ে গিয়েছিল। অগনিত নারী পুরুষদের কৃতদাসে পরিনত করা হয়েছিল। তার লুটকৃত সম্পদের বাজার মুল্য ছিল ধাতব মুদ্রায় ৭০০০,০০০ দিরহাম এছাড়া প্রায় ৭০০,৪০০ মন সোনা ও রুপা লুট করে নিয়ে ছিলেন তিনি।

১১৯৩ সালে সুলতান মোহাম্মদ গোরীর আলীগড় আক্রমন ছিল ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম অধ্যায়। গোরীর তলোয়ারের নিচে এত অমুসলিমদের বলি হতে হয়েছিল যে ছিন্ন মস্তকের তিনটি বুরুজ আকাশ সমান উঁচু হয়ে গিয়েছিল।প্রায় এক লক্ষ অমুসলিম সেদিন নিহত হয়েছিল।আর সমগ্র আক্রান্ত এলাকার যত মন্দির ছিল সব স্বমুলে ধংস করা হয়েছিল। গোরীর সেনাপতি বুতুবউদ্দিন আইবেক বেনারসে প্রায় এক হাজার মন্দির ভেঙে তার উপর মসজিদ স্থাপন করেন। ১১৯৭ সালে জানুয়ারিতে আইবেকের গুজরাট আক্রমনের সময় ৫০,০০০ অমুসলিমকে হত্যা করে । তাদের রক্তে রাস্তা ঘাট কালো পিচের ন্যায় কালো হয়ে গিয়েছিল।

দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক বাংলা আক্রমন কালে ১৮০,০০০ অমুসলিম হত্যা করে।

পারস্যের শাসক নাদির শাহ্ ১৭৩৮ সালে ভারত আক্রমনের সময় ২০০০,০০০ অমুসলিমকে হত্যা করে, বিপুল মালামাল লুট করে ,অসংখ্য নর-নারীকে কৃতদাসে পরিনত করে।

ভারতের মুসলিম শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে মহানুভব বলে পরিচিত সম্রাট আকবরের সুদীর্ঘ্য শাসনামলে (১৫৫৬-১৬২৭) ৫০০,০০০-৬০০,০০০ অমুসলিমকে হত্যা করা হয়।
১৭৫০-১৭৯৯ সালের শাসনামলে টিপু সুলতান প্রায় ১০০,০০০ হিন্দু ও খৃষ্টান হত্যা করে এবং প্রায় ৭০,০০০ লোক কে তলোয়ারের তলায় ইসলামে ধর্মান্তিরত করে।
এভাবে মুসলিম বিশ্ব স্থাপনের লক্ষে ভারতবর্ষ সহ সমগ্র বিশ্ব জুড়ে জীহাদি মুসলিমদের তান্ডব লীলা চলে। কোটি কোটি লোক আল্লার সৈনিকদের তলোয়ারের তলায় ছিন্ন ভিন্ন হয়। অথচ আজকের দিনের মডারেট মুসলিম, ইন্টেলেকচুয়ালগন বলে থাকে শান্তির ধর্ম ইসলাম নাকি জঙ্গীবাদ সমর্থন করে না। নবী মুহাম্মদ থেকে আরম্ভ হয়ে শিষ্য,প্রশিষ্য পরস্পরায় রক্তের স্রোতের উপর দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে আধুনিক ইসলাম আজকের জায়গায় স্থান পেয়েছে।তাদের এই কর্মকান্ডগুলো কি তাহলে ইসলাম সমর্থিত ছিলনা? নবী মুহাম্মদও কি ইসলাম অনুসারে জীহাদ পরিচালনা করেনি? এর উত্তর হবে বলে কি মনে হয়?

ইসলাম প্রচারকদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কথিত লিবারেল চিন্তাধারার মুসলিম হলো সুফীরা। শোনা যায় সূফীরা তাদের মহানুভতা ও অলৌকিক কর্মকান্ড প্রদর্শন করার মাধ্যমে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের ইসলাম গ্রহন করতে প্ররোচনা যোগাতেন ।সুফীবাদী বা সমমনাদের বক্তব্য এরুপ হলেও ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে।সুফীদের উৎপত্তিস্থল ইরান তথা প্রাচীন পারস্যে।সুফীদের ভারতবর্ষে আগমনের লক্ষই ছিল এখানকার হিন্দুদের ইসলামে দীক্ষিত করা।সে কাজে তারা অনেকাংশে সফলও হয়েছে।অনেকের মতে ভারতে ইসলাম প্রচারে সূফীদের ভুমিকাই সব থেকে বেশি ।এবার আসুন দেখা যাক আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশে সুফীরা কিভাবে জীহাদ তথা জঙ্গীবাদকে প্ররোচনা দিয়ে গেছেন।

বিখ্যাত সুফী ইমাম গাজ্জালী লিখেছন-
“বছরে অন্তত একবার জিহাদে যেতে হবে।দুর্গে অবস্থানরত নারী ও শিশুদের গুলতি দিয়ে হলেও আঘাত করতে হবে অথবা এদের আগুনে পুড়িয়ে কিংবা পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করতে হবে।”

সুফী সাধক নিজাম উদ্দিনর আওলিয়া অমুসলিমদের বিধর্মী আখ্যা দিয়ে অভিশাপ দিয়ে বলেন-
“ পুনরুত্থানের দিনে বিধর্মীরা শাস্তি ও নিদারুন যন্ত্রনার মুখোমুখি হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করবে কিন্তু তখন এটি কোন কাজে আসবেনা। তারা নরকেই যাবে।”
সুরা ফাতিহা প্রসঙ্গ নিজাম উদ্দিন আওলিয়া বলেন “ ইসলামের ১০টি মৌলিক ভিত্তির মধ্যে ফাতিহায় দুটো নেই ।এগুলো হলো অমুসলিমদের সাথে যুদ্ধ ও এবং স্বর্গীয় বিধিবদ্ধ আইন পালন করা”

সুফী সাধক মইনুদ্দীন চিশতি আজমীরে পৌঁছে সেখাকার মন্দির ও মুর্তি গুলোকে আল্লাহ ও নবীর সাহায্যে ধংশ করার অঙ্গীকার করেন এবং পরবর্তিতে তা বাস্তবায়িত করেন। সেখানে বাসস্থান স্থাপনের পর তার শিষ্যরা ওখানকার বড় বড় মন্দিরের সামনে গরু জবাই করে কাবাব বানিয়ে খেতেন যা হিন্দুদের প্রতি তার গভীর ঘৃনার বহিপ্রকাশ।

ভারতের আরেক সুফী যিনি মুসলিম বীরদের দ্বারা হিন্দুদের হত্যাকে সমর্থন দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। ১৩০৩ সালে চিতোর বিজয়ের পর খিজির খান কর্তৃক ৩০,০০০ হিন্দু হত্যাকে প্রশংসা করে লেখেন-
“আল্লাহকে ধন্যবাদ তিনি বিধর্মী ছেদনকারি তলোয়ার দিয়ে মুসলিম চৌহদ্দি থেকে সকল হিন্দু নেতাদের হত্যার আদেশ দেন…।
হত্যাকান্ডটির বর্ননা করতে গিয়ে তিনি উল্লাস প্রকাশ করে লেখেন-
“ব্রাহ্মনদের ও মুর্তিপুজকদের গর্দান থেকে মস্তক নাচতে নাচতে তাদের পায়ের কাছে গড়িয়ে পরলো এবং রক্তের স্রোত বয়ে গেল।”
তিনি আরো লেখেন –
“সমগ্র দেশ আমাদের পবিত্র ধর্ম যুদ্ধাদের তরবারির দ্বারা আগুনে ভষ্মিভুত কন্টক শুণ্য জঙ্গলে পরিনত হয়েগেছে। ইসলামের বিজয় হয়েছে আর বিধর্মিদের পতন ঘটেছে।জিজিয়া কর প্রধানের মাধ্যমে মৃত্যুর হাত থেকে মুক্তির আইন মন্জুর না করা হলে হিন্দুদের নামটি শিকড় ও শাখা অস নিশ্চিন্হ হয়ে যেত”
বিখ্যাত সুফী সাধক মুবারক গজনবি তার সুলতানকে স্বরন করিয়ে দেন-
“ রাজারা,কাফির,কুফরি,শিরক ও মুর্তিপুজা উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত তাদের উপর অর্পিত ধর্ম রক্ষার দায়িত্ব পুরন হবেনা।…কিন্তু যদি কোন বিরুপ অবস্থায় এদের উচ্ছেদ সম্ভব না হয় তাহলে রাজার উচিৎ এগুলোর প্রতি ঘৃনা প্রকাশ করা, তাদের অসম্মান করা, অমর্যাদা করা”

এরুপ ভাবে ভারতীয় উপমহাদেশ আগত ও সৃষ্ট সকল সুফীরাই অমুসলিমদের ঘৃনা ও মুসলিমদের হত্যাকান্ড গুলোকে সাপোর্ট করে গিয়েছেন। আর নিজাম উদ্দিন আওলিয়া,মঈনুদ্দিন চিশতি,শাহজালাল এরা নিজেরাই স্বসস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন।
অনেক মডারেটরা বলে থাকেন এসকল যুদ্ধগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য ইসলামের সাথে সম্পর্কিত নয়।তবে তাদের কখনও এটা বলতে শুনিনি কোরান বা সহী হাদিসের ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। তাহলে এবার দেখা যাক কোরান ও হাদিসের কোন উক্তি গুলো জঙ্গীবাদ বা স্বসস্ত্র জীহাদকে প্ররোচিত করে।

-আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে।বস্তুত: ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি। ২-১৯১
-আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহ্র দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অত:পর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)- ২-১৯৩
-তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর।বস্তুত: আল্লাহ্ই জানেন, তোমরা জান না।- ২-২১৬
-আল্লাহ্র পথে লড়াই কর এবং জেনে রাখ, নি:সন্দেহে আল্লাহ্ সবকিছু জানেন, সবকিছু শুনেন।- ২-২৪৪
-অতএব যারা কাফের হয়েছে, তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি দেবো দুনিয়াতে এবং আখেরাতে-তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।- ৩-৫৬
-খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহ্র সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুত: জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।-৩-১৫১
-কাজেই আল্লাহর কাছে যারা পার্থিব জীবনকে আখেরাতের পরিবর্তে বিক্রি করে দেয় তাদের জেহাদ করাই কর্তব্য। বস্তুত: যারা আল্লাহ্র রাহে লড়াই করে এবং অত:পর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে মহাপুর্ণ্য দান করব।- ৪-৭৪
-তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহ্র পথে হিজরত করে চলে আসে। অত:পর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।- ৪-৮৯
-গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহ্র পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ্ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ্ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ্ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন- ৪-৯৫
-যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।- ৫-৩৩
-যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্খির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।-৮-১২
-হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে মুখোমুখী হবে, তখন পশ্চাদপসরণ করবে না।- ৮-১৫
-আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহ্র সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ্ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।-৮-৩৯
-সুতরাং যদি কখনো তুমি তাদেরকে যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদের এমন শাস্তি দাও, যেন তাদের উত্তরসূরিরা তাই দেখে পালিয়ে যায়; তাদেরও যেন শিক্ষা হয়।- ৮-৫৭
-আর কাফেররা যেন একা যা মনে না করে যে, তারা বেঁচে গেছে; কখনও এরা আমাকে পরিশ্রান্ত করতে পারবে না।-৮-৫৯
-আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যরে মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহ্র শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ্ তাদেরকে চেনেন। বস্তুত: যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহ্র রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না।- ৮-৬০
-অত:পর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ্ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।- ৯-৫
-যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ্ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন। -৯-১৪
-যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহ্র রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহ্র কাছে আর তারাই সফলকাম।- ৯-২০
-তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ্ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।- ৯-২৯
-ইহুদীরা বলে ওযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে ”মসীহ আল্লাহর পুত্র।” এ হচ্ছে তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মত কথা বলে। আল্লাহ্ এদের ধ্বংস করুন, এরা কোন উল্টা পথে চলে যাচ্ছে।- ৯-৩০
-হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহ্র পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।- ৯-৩৮
-যদি বের না হও, তবে আল্লাহ্ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্খলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।- ৯-৩৯
-তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।- ৯-৪১
-হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন।- তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং তাহল নিকৃষ্ট ঠিকানা।-৯-৭৩
-কিন্তু রসূল এবং সেসব লোক যারা ঈমান এনেছে, তাঁর সাথে তারা যুদ্ধ করেছে নিজেদের জান ও মালের দ্বারা| তাদেরই জন্য নির্ধারিত রয়েছে কল্যাণসমূহ এবং তারাই মুক্তির লক্ষ্যে উপনীত হয়েছে।- ৯-৮৮
– আল্লাহ্ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহ্র রাহে: অত:পর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহ্র চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।- ৯-১১১
-হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক্ আর জেনে রাখ, আল্লাহ্ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।- ৯-১২৩
-বরং আমি তাদেরকে এবং তাদের বাপ-দাদাকে ভোগসম্বার দিয়েছিলাম, এমনকি তাদের আয়ুস্কালও দীর্ঘ হয়েছিল। তারা কি দেখে না যে, আমি তাদের দেশকে চতুর্দিক থেকে হন্সাস করে আনছি। এরপরও কি তারা বিজয়ী হবে? ২১-৪৪
-অতএব আপনি কাফেরদের আনুগত্য করবেন না এবং তাদের সাথে এর সাহায্যে কঠোর সংগ্রাম করুন। ২৫-৫২
-অত:পর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দার মার, অবশেষে যখন তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অত:পর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যে পর্যন্ত না শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করবে! একথা শুনলে। আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। যারা আল্লাহ্র পথে শহীদ হয়, আল্লাহ্ কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না।- ৪৭-৪
-অতএব, তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির আহবান জানিও না, তোমরাই হবে প্রবল। আল্লাহ্ই তোমাদের সাথে আছেন। তিনি কখনও তোমাদের কর্ম হন্সাস করবেন না।- ৪৭-৩৫
-অন্ধের জন্যে, খঞ্জের জন্যে ও রুগ্নের জন্যে কোন অপরাধ নাই এবং যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের অনুগত্য করবে তাকে তিনি জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে যে, ব্যক্তি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন।- ৪৮-১৭
-মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন। তওরাতে তাদের অবস্খা এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্খা যেমন একটি চারা গাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অত:পর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে-চাষীকে আনন্দে অভিভুত করে-যাতে আল্লাহ্ তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জবালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্খাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন।- ৪৮-২৯
-আল্লাহ্ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর।- ৬১-৪
-মুমিনগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বানিজ্যের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে?- ৬১-১০
-তা এই যে, তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্খাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা বোঝ।- ৬১-১১
-তিনি তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং এমন জান্নাতে দাখিল করবেন, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং বসবাসের জান্নাতে উত্তম বাসগৃহে। এটা মহাসাফল্য।- ৬১-১২
-হে নবী! কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জেহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। সেটা কতই না নিকৃষ্ট স্খান।-৬৬-৯

উপরোক্ত আয়াতগুলো আল্লাহর নাম করে মুহাম্মদ বলে গিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন হাদিসে জীহাদ তথা জঙ্গী কার্যক্রমকে প্ররোচনা দিয়ে গেছেন-
সুলায়মান ইবন হারব (র) ………. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ উকল বা উরায়না গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের জন্য) মদীনায় এলে তারা পীড়িত হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের (সদকার) উটের কাছে যাবার এবং ওর পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে চলে গেল। তারপর তারা সুস্থ হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর রাখালকে হত্যা করে ফেলল এবং উটগুলি হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। এ খবর দিনের প্রথম ভাগেই এসে পৌঁছল। তিনি তাদের পেছনে লোক পাঠালেন। বেলা বেড়ে উঠলে তাদেরকে (গ্রেফতার করে) আনা হল। তারপর তাঁর আদেশে তাদের হাত পা কেটে দেওয়া হল। উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুঁড়ে দেওয়া হল এবং গরম পাথুরে ভূমিতে তাদের নিক্ষেপ করা হল। তারা পানি চাইছিল, কিন্তু দেওয়া হয়নি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি | প্রথম খন্ড | অধ্যায়ঃ উযূ | হাদিস নাম্বার: 233]

আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রা)… আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্নিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর রাসুলুল্লাহ (সাঃ)লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় (মক্কা) প্রবেশ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) শিরস্ত্রাণটি মাথা থেকে খোলার পর এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বললেন, ইবন খাতাল কা’বার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেনঃ তাঁকে তোমরা হত্যা কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন | সহীহ বুখারি | তৃতীয় খণ্ড | অধ্যায়ঃ হজ্ব অধ্যায় | হাদিস নাম্বার: 1727]
“আমি আল্লাহ কর্তৃক জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদেশ প্রাপ্ত, যতক্ষণ না তারা ঘোষণা করছে যে আল্লাহ ছাড়া কারো উপাসনা করার অধিকার নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর নবী । এবং সঠিকভাবে নামাজ আদায় করে এবং বাধ্যতামূলক বা দাতব্য প্রদান করে । যদি তা তারা পালন করে, তবে আমার নিকট থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ নিরাপদ হবে এবং তারপর আল্লাহ তাদের হিসেব নেবেন ।” (বুখারী শরীফ, ১/২৪)
আল্লাহ মুমিনদের নিকট তাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন, এর বিনিময়ে তাদের জন্য জান্নাত আছে । তারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে, হত্যা করে ও নিহত হয় । তাওরাত, ইঞ্জিল ও কোরানে এ সম্পর্কে তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে । নিজ প্রতিশ্রুতি পূরণে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কে আছে ?” ( বোখারী শরীফ, ৫ম খন্ড, পরিচ্ছেদ – ১৭৪২) অন্য একটি হাদিসে মুহাম্মদ বলছেন মুজাহাদিরাই শ্রেষ্ঠ মানুষ – “মানুষের মধ্যে সে মুমিন মুজাহিদই উত্তম, যে স্বীয় জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে ।” ( বোখারী শরীফ, ৫ম খন্ড, পরিচ্ছেদ – ১৭৪৩)

এমনি আরো অনেক হাদিস রয়েছে যে গুলোতে বিধর্মী কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন নবী মুহাম্মদ।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এ বিষয়টি লক্ষ করতে পারি যে আজকের জঙ্গী ও তখনকার জীহাদির মধ্যে শুধু একটাই পার্থক্য তা হলো তারা জীহাদের অস্ত্র হিসাবে তলোয়ার ,বর্শা,তীর ব্যাবহার করত আর এখনকার জঙ্গীরা ব্যবহার করে বোমা,গ্রেনেট,বন্দুক,চাপতি,ছুরি। আদর্শ ও লক্ষ এক ও অভিন্ন। আর এটাই ইসলামের মূল আদর্শ ও শিক্ষা। জীহাদ বাদ দিয়ে ইসলাম অস্তিত্বহীন,ভিত্তিহীন।
মানবতার মুক্তির লক্ষে যদি জঙ্গীবাদ দমন করতে হয় তাহলে ইসলাম নামক যে ধর্ম বা পুষ্টিদাতা রয়েছে প্রথমে একে অপসারন করতে হবে। এ ছাড়া জঙ্গী দমন করার যতই নাটক করা হোক না কেন, রক্ত গঙ্গার স্রোত থামানো কখনও থামানো সম্ভব নয়।

তথ্য সূত্র:
১। জীহাদ , এম এ খান ।
২। নবী মুহাম্মদের ২৩ বছর,আলীদস্তি।
৩। বিভিন্ন ব্লগ,ওয়েব সাইট,ফেইসবুক

– See more at: http://www.istishon.com/?q=node/21703#sthash.tUaRUhAe.RBf3rtYd.dpuf

RELATED ARTICLES

আফগানিস্তান: আমেরিকা চিরকাল আফগানদের পাহারা দিবে কেন?

আফগানিস্তান: আমেরিকা চিরকাল আফগানদের পাহারা দিবে কেন? আমেরিকা কি আফগানদের বিপদে ফেলে চলে গেছে? 8 ই মে আফগানিস্তানের একটি স্কুলের বাইরে বোমা বিস্ফোরণের পরেও...

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার।

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার। আজকের দিনে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া হিন্দু তরুন তরুনীরা তাদের নিজ ধর্ম, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বিষয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে চরম...

সতীদাহ কি হিন্দু ধর্মের প্রথা, বাল্য বিবাহ ও রাত্রীকালীন বিবাহের উৎপত্তির কারণ কি?

সতীদাহ কি হিন্দু ধর্মের প্রথা ? এবং বাল্য বিবাহ ও রাত্রীকালীন বিবাহের উৎপত্তির কারণ কি? ধর্মীয় বিষয় নিয়ে চুলকানো মুসলমানদের স্বভাব| এই চুলকাতে গিয়ে মুসলমানরা নানা...

Most Popular

আফগানিস্তান: আমেরিকা চিরকাল আফগানদের পাহারা দিবে কেন?

আফগানিস্তান: আমেরিকা চিরকাল আফগানদের পাহারা দিবে কেন? আমেরিকা কি আফগানদের বিপদে ফেলে চলে গেছে? 8 ই মে আফগানিস্তানের একটি স্কুলের বাইরে বোমা বিস্ফোরণের পরেও...

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার।

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার। আজকের দিনে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া হিন্দু তরুন তরুনীরা তাদের নিজ ধর্ম, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বিষয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে চরম...

সতীদাহ কি হিন্দু ধর্মের প্রথা, বাল্য বিবাহ ও রাত্রীকালীন বিবাহের উৎপত্তির কারণ কি?

সতীদাহ কি হিন্দু ধর্মের প্রথা ? এবং বাল্য বিবাহ ও রাত্রীকালীন বিবাহের উৎপত্তির কারণ কি? ধর্মীয় বিষয় নিয়ে চুলকানো মুসলমানদের স্বভাব| এই চুলকাতে গিয়ে মুসলমানরা নানা...

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি।-দুর্মর

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি, ভরাডুবি ঘটতে চলেছে মমতা ব্যানার্জির..... আজ থেকে দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০১৯ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের...

Recent Comments

%d bloggers like this: