ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছিল কিনা জানতে গুগল করে দেখলাম বাংলাদেশ শোক জানালেও রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়নি। এ কথা এজন্য বললাম কারণ ওমানের সুলতানের মৃত্যুতে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে।

এই আরবরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। মুসলিম উম্মাহর বন্ধন পাকিস্তান ভেঙ্গে যাক তারা কেউ চায়নি। বাংলাদেশের গণহত্যায় এরা ছিলো নিরব সমর্থক। কিন্তু যে মহিলার আন্তর্জাতিক লৌহকঠিন অবস্থান ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বপ্নই থেকে যেত সেই ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ শুধু নিরবই থাকেনি তার স্মৃতি রক্ষায় বাংলাদেশে একটি স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি। আমি জানি এখুনি একদল আসবে ঢাকার ইন্দিরা রোডকে ইন্দিরা গান্ধীর নামে করা হয়েছে দাবী করতে। এই দাবী সঠিক নয়। কষ্ট করে গুগল করলেই জানতে পারবেন ইন্দিরা রোড অন্য কারোর নামে করা হয়েছিল।  
যাই হোক, আরবরা হচ্ছে আমাদের মুসলমান ভাই। তারা আমাদের মিসকিন বললেও মিষ্টি লাগে। আমাদের মেয়েদের যৌনদাসী বানালেও বাপ ডাকতে কষ্ট হয় না। ইন্দিরা গান্ধী ৯৫ হাজার পাকিস্তানী সৈন্যের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর শর্ত হিসেবে ইচ্ছা করলে পাকিস্তানের দখল করে রাখা কাস্মিরকে চাইলে পাকিস্তানের রাজি না হয়ে পথ থাকত না। ইন্দিরা গান্ধী সেই টোপ না ফেলে তিনি বঙ্গবন্ধুকে জীবিত মুক্তি দেয়ার বিনিময়ে ৯৫ হাজার পাকিস্তানী সৈন্য ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব করেন। বাংলাদেশের এই বন্ধুর জন্য বাংলাদেশে তো এক সাপ্তাহ রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কথা ছিলো। আসলে বাংলাদেশীরা তাদের স্বাধীনতা নিয়ে কতখানি প্রস্তুত ছিলো এই প্রশ্ন বরাবরই ছিলো। না হলে স্বাধীনতার বন্ধুদের বিষয়ে এতখানি উষ্ণ থাকতে পারত না। আমেরিকা কিংবা চীনকে দিয়ে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি প্রায় করিয়ে ফেলেছিল। 
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক ইন্দিরা গান্ধী ছাড়া এই যুদ্ধবিরতি রুখে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কি সম্ভব হত? কত জাতি এভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধ করতে গিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমা পেয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে। পাকিস্তান তখন যুদ্ধবিরতি করাতে পারলে মুক্তিযুদ্ধ তিন চার ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতো। তাজউদ্দীন গ্রুপ, শেখ মনির “মুজিব বাহিনী’, খন্দকার মুশতাকের হাতে আরেক গ্রুপ। এই যে স্বাধীনতার পর আহমদ ছফা বড় বড় কথা বলত তাকে তখন ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে কমরেড মুজাফ্ফর আহমেদর সেক্রেটারি হয়ে পেট চালাতে হত। 
মাওলানা ভাসানী আহমদ ছফা এরা সকলেই ভারতের নাগরিকত্ব নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ইনারাই বেঁচে থাকলে আমি নিশ্চিত ইন্দিরা গান্ধীর জন্য রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হলে বাংলাদেশে ভারতের প্রভুত্ব প্রকাশ হিসেবে এটাকে দেখতেন। একজন আরব্য সুলতানের জন্য জাতীয় শোক পালনে অবশ্য কোন সমস্যা নাই। সৌদি লুইচ্চা কোন বাদশাহ মারা গেলে তো কমছে কম এক সাপ্তাহ শোক পালিত হবে!