দেশভাগের পরও যারা এইদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবছে- সমস্যাটা তাদেরই। এখন আশাহত হলে কিছু করার নাই…

আপনারে সেই উদার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শেখ হাসিনা দেখলে কী হবে। কয়লা যায় না ধুইলে, ইল্লত যায় না মরলে। সেইটাই আপনে প্রমাণ করছেন- কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

-ঠিক, কতখানি উদার হলে পড়ে একজন ‘অমুসলিমকে’ প্রধান বিচারপতি করা হতে পারে! একজন সাচ্চা মুসলমান, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে, মুসলমানদের জন্য আলাদা দেশ করতেই তো লড়কে লেঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান- সেই পাকিস্তানই তো শেষে বাংলাদেশ হলো। তারপর মুসলমানরা ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হলো…।

‘মালাউনকা বাচ্চা কাভি নেহি আচ্ছা’- এটাকেই ভদ্র ভাষায় বলে, ‘কয়লা যায় না ধুইলে, ইল্লত যায় না মরলে’। কিছু মানুষ আছে দেখবেন তারা নিজেদের উদারতার পরিচয় দিতে বলবে, আমি তো হিন্দুদের বাড়িতে একপাতে খাই কিংবা মুসলমানদের বাড়ি গিয়ে খাই ইত্যাদি। যারা মনে করে হিন্দুদের বাড়িতে খাওয়াটা কিংবা মুসলমানের বাড়িতে খাওয়াটা বিরাট উদার্যতার পরিচয়- তারা উদার সাম্প্রদায়িক মানুষ। এদেশে দুধরণের মানুষ হয়, সাম্প্রদায়িক, উদার সাম্প্রদায়িক।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার উদ্দেশ্যে আরো বলেছেন, নারীর সন্তানের পরিচয় একজন পিতার মাধ্যমেই। কোন মহিলা পঞ্চমন্ডবের স্ত্রী হতে পারে, সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয় (সূত্র: পরিবর্তন ডটকম)।

-হঠাৎ করে মহাভারতের প্রসঙ্গটা আসলটা অমূলক নয়। এই যে ‘উদার দৃষ্টিভঙ্গির’ কারণে একজন অমুসলমানকে প্রধান বিচারপতি বানানো- এখানেই মহাভারত চলে আসার পথ। পথটা অভিন্ন। মিলিয়ে নিন, প্রধান বিচারপতিকে যে না সে-ই দেশ থেকে বের করে দেবার হুমকি দিচ্ছেন। এসব তো সংখ্যালঘুদের দেয়া হয়, একদম ইন্ডিয়াতে পাঠাই দিমু… মহাভারতের উদাহরণটা এভাবেই এসেছে। কারোর জন্ম পরিচয় নিয়ে কটুক্তি করতে গেলে, তিনি যদি হিন্দু হোন- নিঃসন্দেহে সেখানে একটু ধর্মীয় খোটা থাকবে- তাই দ্রৌপদীর ৫ স্বামীর উদাহরণ…।

দেশভাগের পরও যারা এইদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবছে- সমস্যাটা তাদেরই। এখন আশাহত হলে কিছু করার নাই…।

http://www.poriborton.com/politics/68973