খালি পেটগুলো বেশ অমায়িক ; ভরা পেটগুলোই সাম্প্রদায়িক !

Spread the love

খালি পেটগুলো বেশ অমায়িক ;
ভরা পেটগুলোই সাম্প্রদায়িক ! 

এদুটি লাইন আমিই লিখেছিলাম। কয়েক বছর আগে।  এটিই হল তথাকথিত লেফট ন্যারেটিভ এবং স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলা সাহিত্য শাসন করে চলেছে। জন্ম দিয়েছে খাড়া বড়ি থোড়, থোড় বড়ি খাড়া অসংখ্য কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ।  একসময় আমিও এতে বিশ্বাস রাখতাম।  এখন যে রাখিনা, তা বলাই বাহুল্য। রোহিঙ্গা মুসলমান নামক পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীটি সম্পর্কে জানার পর, আরও অনেকের চৈতন্য উদয় ঘটেছে। যাদের ঘটেনি তাঁরা শুয়োরের মাংস নিয়ে এই সব “অত্যাচারিত, নিপীড়িত, ক্ষুধার্ত ” শরণার্থীদের আশ্রয় শিবিরে চলে যান — বলুন ক্ষুধার তো কোনো ধর্ম নেই — তারপর প্রাণে বেঁচে ফিরতে পারলে কথা হবে! 

প্রিয় বন্ধুদের কাছে তাই একটি প্রশ্ন রাখছি। একটু ভেবে উত্তর দেবেন। আমার বন্ধু তালিকায় প্রায় সব ধর্মের মানুষই আছেন। আমরা সবাই জানি মার্ক্সবাদী তথা বামপন্থীরা মানুষকে মূলত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেন – haves এবং havenots অর্থাৎ ধনী এবং দরিদ্র। ফরাসী ভাষায় বুর্জোয়া এবং প্রলেতারিয়েত।  শ্রেণিসংগ্রাম তত্ব্বের উপরই মার্ক্সবাদী দর্শনটি দাঁড়িয়ে আছে। লড়াই বা সংগ্রামের চালিকাশক্তি হোল খিদে।  সবার জন্য খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থান — এই শ্লোগানটিকে কেন্দ্র করেই বামপন্থীরা তাঁদের লড়াইকে সংহত করেন। এছাড়া অন্য কোনো শ্রেণিবিন্যাস তাঁরা স্বীকার করেন না। যেমন হিন্দু, মুসলমান,  শিখ ইত্যাদি নামে ভিন্ন শ্রেণি তাঁদের তত্ত্বে নেই। সেটাই স্বাভাবিক।  কারণ অর্থনীতিকে ভিত্তি করেই তাঁরা এই বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস করেছেন। ক্ষুধার্ত মানুষের কোনো ধর্ম বা জাত নেই। এই মর্মে একটু আগে আমি একটি পোষ্টও করেছি।  কিন্তু আমার প্রশ্ন হোল ঠিক কতটা খিদে পেলে একজন মুসলমান  শুয়োরের মাংস খাবেন, অথবা একজন হিন্দু (বুদ্ধিজীবী বাদ দিয়ে অবশ্যই) গোরুর মাংস খাবেন। খেলেও তাঁদের সংখ্যা শতকরা কত ভাগ?  সেই মাত্রার খিদে কি কারও পেয়েছে?  অর্থাৎ আপনার কি এমন ঘটনা চোখে পড়েছে?  হ্যাঁ আমার মাতৃভূমির কথাই বলছি।  “শির দিয়া, সার না দিয়া” এই উচ্চারণটি হিংস্র মৌলবাদী তথা আপাত নিরীহ সাতে পাঁচে না থাকা ধর্মপ্রাণ মানুষ, উভয়ের ক্ষেত্রেই কম বেশি প্রযোজ্য। যে ধর্মই হোক।
তাই এড়িয়ে যাবেন না। প্রশ্নটা কিন্তু হেলাফেলার নয়। এর উপরই একটি দর্শনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। ধরুন, আপনি গোরু এবং শুয়োর দুই-ই রান্না করে  নিয়ে শহরের পথে বেরিয়ে পড়লেন। ফুটপাথবাসী মানুষের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করে জেনে নিন সে কোন ধর্মের অনুসারী।  এবার হিন্দু হলে তাকে গোমাংস খেতে দিন, মুসলিম হলে শুয়োর। অবশ্যই জানিয়ে, গোপন করে নয়। এর ফল কি হতে পারে?  শতকরা কতজন ক্ষুধার্ত সানন্দে “ধর্ম বহির্ভূত ” খাবার খেতে পারেন?  আপনার মূল্যবান মত দিন।

—-