“ভাত দে” আর মাত্র কয়েকটা মাস । আমাদের’ই ঠিক করে নিতে হবে আমাদের ভবিষ্যত। ক্ষুধার গল্প, গরিবীর গল্প  অনেক শুনেছি !

একজন ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে সত্যিই ধর্মের কোন গুরুত্ব নেই । কিন্তু ঐ ক্ষুধার্ত মানুষটাকেই যদি জেহাদীরা চাপাতি নিয়ে তাড়া করে, তখন কিন্তু ওর ক্ষুধার কথা মনেই পড়বে না। ক্ষুধা হয়ে যাবে গৌণ, প্রাণ বাঁচানোটাই হয়ে যাবে ওর কাছে মুখ্য।

ধর্মীয় সন্ত্রাসের বলি হয়ে চৌদ্দ পুরুষের ভিটে মাটি ছেড়ে আমাদের পূর্ব পুরুষরা যখন পালিয়ে আসছিল, তখন কিন্তু ওদের ক্ষুধার কথা মনে আসে নি ।

জেহাদীদের কাছ থেকে মা বোনের ইজ্জত রক্ষা, প্রাণ রক্ষাই ছিল মুখ্য। ঐ অবস্থাতেও ক্ষুধার কথা মনে না থাকলেও ধর্মটা নিশ্চয়ই মনে ছিল, নাহলে তো ধর্ম পাল্টে নিলে আর সব ছেড়ে আসতে হত না।

এখন ঠিক বুঝতে না পারলেও, আমাদের ভবিষ্যতও কি এই রকমই হতে যাচ্ছে? কিন্তু বিদেশী প্রভুর এদেশী এজেন্টরা ক্ষুধার গল্প শুনিয়ে শুনিয়ে আমাদের অবশ্যম্ভাবী ভবিষ্যতের এই দিকটাই ঢেকে রাখতে চাইছে, যাতে এদের অতি কাঙ্খিত শান্তির ধর্মের আগ্রাসনটা বিনা বাধায় হতে পারে।

তাই আগে আমাদের ভবিষ্যত আমাদের দেখতে দিন। আগে তো বাঁচতে হবে…।

আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন…,

এই মহান ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতই যদি হিন্দু প্রধান না হয়ে শান্তির ধর্ম প্রধান দেশ হয়ে যায়, এই দেশটারই চরিত্র কি হবে , আর হিন্দুদের সংখ্যা আর দশাই বা কি হবে ?

সেটা কি আমরা একই দেশ ভেঙে সৃষ্টি হওয়া এই বাংলাদেশ বা পাকিস্তানকে দেখে বুঝতে পারি না? অপেক্ষাকৃত ছোট ধর্মীয় সম্প্রদায়, যেমন বৌদ্ধ বা জৈনদের অস্তিত্ব কি তখন থাকবে ? হিন্দু প্রধান এই ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতে এখন আমার যে শান্তির ভাইরা ( সাধারণ বা বুদ্ধিজীবী) ধর্ম নিরপেক্ষতার গান গাইছেন , এদের মধ্যে ঠিক কতজন তখনও এই গান গাইবেন ?

তখনও হিন্দুরা কি ঠিক সেই অধিকারই ভোগ করবে , এখন আমার ভাইরা যে অধিকার ভোগ করছে ? তখনও কি শান্তি সম্প্রীতির জয়গান এবং সেটা রক্ষার উদাত্ত আহ্বান শোনা যাবে ?

তখনও কি আঙ্গুল উঁচিয়ে কেউ বলবে অমুকরা চলে যাও পাকিস্তানে আর তমুকরা চলে যাও নেপালে, এই দেশটা শুধুই ধর্ম নিরপেক্ষকদের ? (অবশ্য এই গবেটরা তো এটাও জানে না যে, হিন্দু প্রধান নেপাল যে কবেই ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হয়ে গেছে ।) এভাবে কি কল্পনাও করা যায় পাকিস্তান ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হবে কোনদিন ?

বরং উল্টোটা দেখেছি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নিয়েও পরে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামের হয়ে যাওয়া। ধর্ম নিরপেক্ষতার সবটা দায় কি তাহলে শুধু একটা সম্প্রদায়ের উপরই ন্যাস্ত?

যদি তা’ই হয়, যখন রাশটা এই সম্প্রদায়ের হাত থেকে ছদ্ম সেক্যুলারবাদীদের হাত ধরে ঐ সম্প্রদায়ের হাতে চলে যাবে, তখন কোথায় যাবে এই ক্ষুধা আর গরিবীর গল্প?

একবার এসে ঠাঁই পেয়েছি, কিন্তু এরপর…?

কাজেই আমার ভোট তাদের জন্য নয়, যারা গরিবী জিইয়ে রেখে গরিবী হটানোর গল্প শোনায়। আমার ভোট তাদের জন্য, যাদের হাতে সুরক্ষিত থাকবে আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আমার দাদু যে কষ্ট পেয়েছেন, আমার নাতিকে যেন সেই কষ্ট পেতে না হয়।

আরো পডুন…