প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ নাকি গীতা? (Confusion দূর করুন)

Spread the love

প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ নাকি গীতা? (Confusion দূর করুন)
২৯% থেকে ৮% এ নেমে আসার পরেও কোন হিন্দু যখন এই প্রশ্নের মাঝেই ঘুরপাক খায় তখন অতি সহজেই বোঝা যায় বিকৃত এবং ভুল পথে ধর্মচর্চা এবং তার প্রসার সনাতনী ঐক্যের কত ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে গীতার প্রচলন বেশী থাকায় বৈষ্ণব মতের সমার্থক রা অনেকে গীতাকেই প্রধান বলে বিশ্বাস + প্রচার করেন যা অত্যন্ত গর্হিত একটি কাজ।  কারণ মিথ্যা প্রচার নিঃসন্দেহে গর্হিত।
#
কথায় কথায় বলেন- সকল গ্রন্থের সার গীতা, তা তো গীতায় ই বলা আছে।
এই কথাটা তারা তাদের গুরুদেব কিংবা বৈষ্ণব মতের কারো থেকে ব্রেইন ওয়াশের স্বীকার হয়েই সত্য ধরে নেন।

কিন্তু গীতার ধ্যানে বলা হয়েছে-
সর্বোপনিষদ গাব…………… অর্থাৎ সকল #উপনিষদের সার স্বরূপ গীতা। #সমগ্র শাস্ত্রের #নয়।
উপনিষদ বেদের শেষ ভাগে অবস্থিত, উপনিষদ ই সমগ্র বেদ নয়। ব্রাহ্মণ, সংহিতা, আরণ্যক, উপনিষদ এই চার অংশের সমন্বয়ে বেদ। 

এটাও আমাদের অনেকের  জানা নেই যে-
শ্রীমদ্ভগবদ গীতাই একমাত্র গীতা নয়। মহাভারতের ভীষ্মপর্বের কয়েকটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে শ্রীমদ্ভগবদগীতা। এছাড়া ও শুধু মহাভারতের অন্তর্গত গীতাই কমপক্ষে ৪২ খানা। বর্তমানে আমরা যেটা পড়ি সেটা এই ৪২ খানার একটা মাত্র। শিব গীতা, গনেশ গীতা, উদ্ভব গীতা, শ্রীমদ্ভগবদ গীতা ইত্যাদি।
বেদের সব কিছু গীতার মাঝেই আছে। তাই বেদ আর গীতা এক!

যারা PHD বা ডাক্তারি পড়েন তাদের বই ও a,b,c,d অ,আ,ই,উ… দিয়ে লিখা আবার ক্লাশ ওয়ানের জ্ঞান রয়েছে যে বইতে তা ও একই প্রতীক/অক্ষর দিয়ে লিখা!! তাই ওয়ান আর পিএইসডি এই দুই স্তরের জ্ঞান সমান বা একই? আর জ্ঞান কর্ম দুইয়ের ই সমন্বয় রয়েছে বেদে যেখানে গীতায় শুধু জ্ঞানকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়।
দুইটার ববিস্তৃতি যে এক যে নয় তা তো আগেই বলা হল। আরো ভালো ভাবে বুঝতে হলে একটা বিষয় খেয়াল করুন- আপনি বিয়ে করবেন বা জমি মাপজোক করবেন। কিভাবে করবেন? গীতায় তা পাবেন?  🙂 নাকি বেদে পাবেন? তাহলে জীবনের কমপ্লিট সলিউশন আছে কোথায়?

আরো একটি ভুল-
খেয়াল করে দেখুন –
বৈষ্ণব ধর্ম নাকি  বৈষ্ণব মত? সনাতন ধর্মের পঞ্চমতের একটি মত বা পথ মাত্র বৈষ্ণব মত। মূল ধর্ম তো সনাতন। 

গৌড়ীয় /…. বৈষ্ণবীজম দিয়ে বেদ প্রধান নাকি গীতা প্রধান তা বুঝতে পারা তাহলে সম্ভব?
বৈষ্ণব মত তা ও আবার বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। বৈষ্ণব মতের বিভাজন সম্পর্কে কোন বৈষ্ণব গুরুদেবের কাছ থেকে জেনে নিন।

জানি বেদ আদি ধর্মগ্রন্থ , তবে এটা যে প্রধান ধর্মগ্রন্থ তা কোথাও লিখা আছে? পরে এসেও তো কোন গ্রন্থ প্রধান ধর্মগ্রন্থ হতে পারে, তার কি উত্তর?

হ্যা, পরে এসেও প্রধান হতে পারে। আবার প্রধান আর ১ম এক  নয়।
বেদ যে প্রধান ধর্ম গ্রন্থ এমন কথা কোথাও লিখা পাই নি আমার স্বল্প জানায়। তবে ক্লাসিফিকেশন করতে গেলে বেদের চারটি অংশের শেষ অংশে অবস্থিত উপনিষদ।
উপনিষদের সার = গীতা।
সুতরাং একথা সন্দেহাতীত ভাবে বোঝা যায় বেদের বিস্তৃতি গীতার তুলনায় কত বেশী ব্যাপক এবং বিস্তৃত। কারন উপনিষদ ছাড়াও ব্রাহ্মণ, সংহিতা, আরণ্যক অংশ বাকি রয়ে গেছে যার সম্পর্কে গীতায় কিছু নেই বলেই গীতার ধ্যানে ষ্পষ্ট করে উল্লেখ করা এই লাইনের মাধ্যমে- সর্বোপনিষদ গাবোদোগ্ধাগোপাল নন্দন। 
আর এত ব্যাপক আর বিস্তৃত যে গ্রন্থ(বেদ) তার চেয়ে অধিক কোন গুরুত্ববহ ধর্মগ্রন্থ আমাদের আছে বলে কোন প্রমাণ মেলে না। সুতরাং কোথাও লিখা না পেলেও বলতে – মেনে নিতে দ্বিধা নেই যে- বেদ ই আমাদের আদি এবং প্রধান ধর্মগ্রন্থ।

তবুও অনেকে কমেন্টে বলার চেষ্টা করবেন – ” দুটিই সমান। এই দুইয়ের মাঝে কোন বিভেদ না করে উভয়কেই এক মনে করা উচিৎ। ভিন্ন ভিন্ন বললে বিভেদ বাড়বে। ”
→ অফিসের বস কে বস হিসেবে মর্যাদা দিলে তাতে বিভেদ বৃদ্ধি পায় কি? নাকি ঐ অফিস টা সুন্দরভাবে তার মর্যাদা ধরে রেখে কাজ করে যাবার প্রয়োজনীয় দৃঢ় কাঠামো পায়? আর যদি সবাই নিজেকে বস মনে করে তবে অফিসের শৃঙখলা + কার্যকারিতা শিকেয় উঠবে। সেটাই আমাদের ধর্মের বর্তমান পরিস্থিতি।

গীতা বর্তমানে বহুল প্রচলিত, বেদের কিছু অংশের নির্যাস এখানে আছে বলেই তা এত প্রচার পেয়েছে। সমগ্র বেদ ই যদি প্রচারিত হত তবে সনাতন ধর্মের অবস্থা কোন পর্যায়ে থাকত তা ভাববার চেষ্টা করুন।
গীতায় বৈদিক নির্যাস থাকলেও বিভিন্ন মত পথের নিজস্ব গীতার ভাষ্য আমাদের মাঝে কেবল বিভেদ ই বাড়িয়ে চলছে। আসুন গীতার প্রকৃত সত্য জানার চেষ্টা করি। শুধু এক রাইটারের গীতা ভাষ্য নয়, একাধিক রাইটারের ভাষ্য পড়ি। তাতে কিছুটা হলেও গীতার প্রকৃত উদ্দেশ্য হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হব সকলে।

বৈষ্ণব মতকে অবজ্ঞা বা ছোট করতে পোস্ট নয়, বৈষ্ণব রা মিথ্যাচার না করে সত্য প্রচার করুক সেটাই প্রত্যাশা। সনাতন ধর্মের মহিমা ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বব্যাপী।
ধন্যবাদ,  ভালো থাকুন। নমস্কার।