এক টুকরো গো মাংসের জন্য মনুষ্যত্বের ত্যাগ! এই হল ঈদ উল মাজদা বা বকরি ঈদের খুশির আনন্দ। যা এক পাশবিক আনন্দ আর মানুষকে  সন্ত্রস্ত করার মহোৎসব। আসল আনন্দটা হল দলবদ্ধভাবে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে গরু কেটে হিন্দুদের আত্ম মর্যাদায আঘাত করা ।
ভারতে প্রথম সরকারীভাবে দেশের গো -সম্পদ রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেন রবীন্দ্রনাথ । তিনি তখন ইংলন্ডে , সেই সময় ভারতে বৃটিশ শাসনের সদর দপ্তর ছিল   ” ইন্ডিয়া অফিস ”  তার প্রধান সচিব ছিলেন স্যামুয়েল মন্টেগু । ১৯২০ সালের ১৭ জুন রবীন্দ্রনাথ দুটি দাবী পএ নিয়ে তাঁর দেখা করেন । প্রথম দাবীটি ছিল জালিওয়ান বাগের গণহত্যা নিয়ে জেনারেল ডায়ারের ভূমিকা । রবীন্দ্রনাথ দৃঢ়তার সংগে মন্টেগুকে বলেন , ডায়ারের শাস্তির চাইতেও বড়ো হল তার এই দুস্কৃতি , সভ্য সমাজ বিগর্হিত দূর্নীতি , ইংরেজ সমাজ দ্বারাই নিন্দিত হোক , তাঁর মতে ,  “ভারতের শাসন ব্যবস্হা যেন এক যন্ত্রের দ্বারা নিষ্পেষিত হচ্ছে । তাঁর দ্বিতীয় দাবিটি ছিল ভারতের ” গো সম্পদের ক্ষতি ” গো হত্যা ও বিদেশে গরু চালানের জন্য ভারতবাসীর মনে বিপুল ক্ষোভ ছিল তুলে ধরেন তার দাবী পত্রে।  বিশেষতঃ পশ্চিম ভারত, মধ্য ও উত্তর ভারতে যে বিপুল সংখ্যাক গরু বিদেশে পাচার হচ্ছিল তার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ জানান। বিশেষত কাঠিয়াওয়ারের রাজন্যবর্গের ঘোর আপওি সত্বেও সেই অঞ্চলের গোরু মোষ বিদেশে এমনকি সুদূর ব্রাজিল দেশে চালান দেবার ঘটনা রবীন্দ্রনাথের কানে আসে। রবীন্দ্রনাথ দৃষ্টান্তস্বরূপ উল্লেখ করে ছিলেন , সেই সময় কাঠিয়াওয়ারে দুধের অভাবে যখন হাজার হাজার শিশু মারা যাচ্ছে, সেখানে ব্রিটিশ সরকার কোন ব্যবস্থাই গ্রহন করছে না “। আজ স্বাধীনতার সত্তর বছর পরও ভারতে গো হত্যা ও গরু পাচার সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। আজ সেই গো হত্যার খুশির উৎসব। লক্ষ লক্ষ গরুর রক্তে ভেসে যাবে শহর গ্রামের পথ ঘাট। লুঙ্গি, সুরমা, আতর, আর গো রক্তের বীভৎস গন্ধে মাতবে হাজার হাজার মানুষ কেরালা থেকে বাংলা। বাঙালী সেকুলারপন্হীদের কাছেও এটা এক পবিত্র উৎসব , প্রেমের উৎসব, খুশির উৎসব । মোবারকের উৎসব । এই পৈশাচিক আনন্দের দিনে যদি সব শ্রেণীর মানুষ রবীন্দ্রনাথের এই প্রতিবাদের ভাষাটা একটু বুঝবার চেষ্টা করি তাহলে সাদা পোশাক পরে এই বর্বর উল্লাস কিছুটা হলেও কমবে। একবার ভেবে দেখবেন ! 
নীচে চিত্রদ্বয় —
প্রথমটি রবীন্দ্রনাথের গো সেবা ও হলকর্ষণ উৎসব,
দ্বিতীয়টি কমিউনিস্ট সেকুদের  গো ভক্ষান করে জিহাদি মুসলমানদের খুশী করার পার্টি এজেন্ডা।।