আকবর দ্যা গ্রেট (প্রকৃত ইতিহাস) : [ষষ্ঠ পর্ব]
(শেয়ার অবশ্যই করবেন)
পূর্বের পর…
নবী মোহাম্মদের অনুসারী নৃশংস খুনি জেহাদি আকবরঃ
…অজ্ঞান অবচেতন হেমুকে দয়ালু আকবরের সামনে আনা হয়।…বৈরাম খান আকবরকে আদেশ দেন তার শীরচ্ছেদ করার জন্য যাতে করে সে “গাজী” উপাধি লাভ করেন।…( মৌলবাদী মুসলিমদের জন্য “গাজী” হচ্ছে খুবই সম্মানজনক উপাধি যা শুধুমাত্র কাফির বা অমুসলিমদের হত্যার মাধ্যমেই প্রাপ্ত হয় এবং একজন গাজীর সর্বোচ্চ বেহেস্ত ও সবার সেরা ৭২ হুর সুন্দরী নসীব হয়।)
…তাই আল্লাহ্‌কে খুশী করার জন্য এবং শান্তির প্রতীক মুহাম্মদ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আকবর অজ্ঞান অবচেতন হেমুর শীরচ্ছেদ করেন এবং গাজী উপাধি পান।…তার সৈন্যদল তাকে অনুসরণ করে হেমুর দেহটাকে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলে এবং তার মস্তক কাবুলে পাঠানো হয় আর তার দেহ দিল্লীর গেটে ঝুলিয়ে রাখা হয় আকবরের দয়াশীলতার নমুনা হিসেবে।
…ঠিক তার পর পরই তার সৈনিকরা দিল্লীতে প্রবেশ করে।…পরে যুদ্ধের বিজয়কে উদযাপন করার জন্য তাদের পরিবারের পুরনো প্রথানুযায়ী আকবরের দ্বারা বন্দি হেমুর সেনাদের কাটা মুন্ডু/মস্তক দিয়ে একটি স্তম্ভ নির্মান করা হয়।
…তাদের এই ISIS জিহাদি মার্কা হত্যাকাণ্ড উদযাপনে বাড়তি রঙ দেবার জন্য হেমুর অসহায় বৃদ্ধ বাবাকেও হত্যা করা হয়।…তাহলে দিল্লির নারীদের কি অবস্থা হয়েছিল সেটা বলার প্রয়োজন নেই।…আকবর ইতিমধ্যেই যুদ্ধ জয়ের গণিমতের মাল দিল্লির হিন্দু নারীদের নিয়ে তার বিশাল হারেম খানার পরিকল্পনা করে ফেলেছিল!
…আবুল ফজলের ভাষ্যনুযায়ী, কাবুলের বিখ্যাত ‘রিজভি সাইদ’ পরিবারের সন্তান ঘায়ুর বেগ কাবুলি-এর পুত্র ছিলেন বিদ্রোহী মহাবত খান ওরফে খান জামান।…যিনি পরিবার সহ ১৫৮৫ এর জুলাই মাসে ভারতে আসে।…খান জামান তার সেনাধ্যক্ষ জীবন শুরু করেন শেহজাদা সেলিমের নিজস্ব বাহিনীতে।
…তার বিদ্রোহকে কে প্রতিহত করার জন্য তার বিশস্ত্ব মুহাম্মদ মিরককে বন্দী করা হয় এবং তাকে হাতীর সমুখে আনা হয়।…হাতীটি তাকে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।…এই ভাবে পাঁচ দিন চলতে থাকে এবং তার পরে তাকে হত্যা করা হয়।…আবুল ফজল এই কথাগুলো খুবই গর্ব করে বর্ণনা করেছে।…তার ভাষায় বিন্দু মাত্র নিন্দার কোন ছিটেফোঁটা ছিল না।
…১৫৬৮ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারি ৭০ হাজার মুঘল সৈন্য নিয়ে চিত্তোড় দুর্গ দখল করার পরে আকবরের হুকুমে ব্যাপক ধ্বংস যজ্ঞ চালানো হয়।…সেখানে প্রায় ৩০,০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়।…১৫,০০০ রাজপুত রমণী নিজেদের সতীত্ব বাঁচাতে, নিজেদের যৌন দাসী হবার হাত থেকে বাঁচাতে ‘জহর ব্রত’ পালন করে আগুনে ঝাঁপ দেন।
…প্রায় ৮,০০০ হিন্দু নারী শিশুকে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়।…মুসলিম সৈন্যরা সোয়াব বা পুণ্য আদায়ের জন্যে হিন্দু নারীর মৃতদেহগুলিকেই ধর্ষণ করছিল ২ দিন ধরে।…ঠিক যেমন ১৯৪৬ এ বাংলাদেশের নোয়াখালীর হিন্দু গণহত্যার পর করা হয়েছিল বামপন্থী প্রজা কৃষক পার্টির নেতা ডায়রার পীর গোলাম সারোয়ার আর তার মুসলিম বাহিনী দ্বারা।
…আকবর অত্যাচার ও হত্যা করার নতুন কৌশল আবিষ্কার করেন, ঠিক যেন আজকের ইসলামিক জেহাদি ISIS রা করে।…মুজাফফার শাহ্‌কে হাতি দিয়ে পিষ্ট করে হত্যা করা হয়।…হামহাবনের জিহ্বা কেটে ফেলা হয়।…মাসুদ হুসেইনের চোখ সেলাই করে বন্ধ করে দেয়া হয় এবং তার ৩০০ জন সমর্থককে আকবরের সামনে আনা হয়, তারপরে তাদের মুখের উপর গাধা, ভেড়া ও কুকুরের চামড়া দিয়ে ঢেকে দিয়ে তাদের জবাই করে হত্যা করা হয়।

(চলবে)

( – Writankar Das – )