Friday, September 17, 2021
Home Bangla Blog আরো একবার প্রমাণ হলো বাংলার নিজস্ব্ যা তার সবই ‘হিন্দুয়ানী’!

আরো একবার প্রমাণ হলো বাংলার নিজস্ব্ যা তার সবই ‘হিন্দুয়ানী’!

আরো একবার প্রমাণ হলো বাংলার নিজস্ব্ যা তার সবই ‘হিন্দুয়ানী’! মার্জনা করবেন বন্ধুরা, আপনারা সবাই বুকে হাত দিয়ে বলুন ‘অনিক সরকার’ নাম শুনে আপনাদেরও প্রথমে কোন হিন্দুর নাম মনে হয়নি?

বাঙালীদের কিন্তু নাম শুনলেই বুঝা যায় সে বাঙালী। তার পদবী আর নাম শুনে বলা যায় মানুষটি কোন অঞ্চলের। কিন্তু মুসলমানদের কাছে সবটাই হিন্দুয়ানী। ভারতের জাতি কেন্দ্রিক যত রাজ্য আছে সবার ধর্ম হিন্দু হলেও তাদের নাম শুনেই বলা যায় লোকটি জাতিতে কি। বাঙালী, গুজরাটি, পাঠান, পাঞ্জাবী, মালোয়… এই জাতিগুলোর ধর্ম হিন্দু হওয়ার পরও জাতিতে ভিন্ন হওয়াতে তাদের নাম পদবী আলাদা হয়ে গেছে। তাই আমরা যাকে ‘হিন্দু নাম’, ‘হিন্দু পদবী’ ‘হিন্দু কালচার’ বলি সেটা আসলে আমাদের নিজস্ব তৈরি করা দুষিত এক সাম্প্রদায়িক ভেদ চিন্তা থেকে সৃষ্ট।

এক সময় বাঙালী মুসলমানদের নাম শুনেও বলা যেতো লোকটি জাতিতে বাঙালী। একটা প্রমাণ দেখাই, সাহিত্যিক মীর মোশাররফ হোসেন তার আত্মজীবনীতে বলছেন তার সময়কাল হতে মাত্র ৬০ বছর আগে, মানে এখন সেটা দুইশো বছর হবে, তখন বাঙালী মুসলমানদের নামগুলো রাখা হত বাংলাতে। তাদের জীবনের হাসিকান্না পোশাক পরিচ্ছেদ সবই ছিলো বাংলা ও বাঙালীর যেমন হয়ে থাকে। মোশাররফ হোসেন যেটাকে ‘হিন্দুয়ানী’ বলে ঘৃণা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি সেই সময়ের কথা বলিতেছি। পঠন পরিচ্ছেদ হিন্দুয়ানী, চালচলন হিন্দুয়ানী, রাগ ক্রোধ হিন্দুয়ানী, কান্নাকাটি হিন্দুয়ানী, মুসলমানদের নামও হিন্দুয়ানী। যথা- সামসুদ্দিন- সতীশ, নাজমুলহক- নাজু, বোরহান- বীরু, লতিফ- লতু, মশাররফ- মশা, দায়েম- ডাশ, মেহেদি- মাছি, ফজলুল করিম- ফড়িং এই প্রকার নামে ডাকা হয়।’ (মশাররফ রচনা সম্ভার পৃষ্ঠা-২৫০)।

বাঙালী মুসলমানদের নাম আরবিতে রাখা ও সমস্ত বাঙালীত্ব (যেটাকে হিন্দুয়ানী বলা হয়) মুছে ফেলতে তিতুমীর সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন। সৌদি আরব থেকে হজ শেষে দেশে ফিরে তিতুমীর মুসলমানদের হিন্দুদের থেকে পৃথক হওয়ার জন্য কঠরভাবে নির্দেশ দেন। সেই ধারাতে মাত্র দুশো বছরের মধ্যে বাঙালী মুসলমান বাংলা ও বাঙালীর নিজস্ব সব কিছুকে আজ ‘হিন্দুয়ানী’ জুজু দেখছে। এই যে ‘অনিক সরকার’ নাম শুনেই খোদ একজন ব্রাহ্মণ থেকে নওমুসলিম হওয়া লোক তাকে হিন্দু বলে ঠাওরিয়েছে এটা তো তার দোষ না। এই যে বাংলা ভাষার জন্য জীবন দেয়ার জন্য একক কৃতিত্ব নেয়া বাঙালী মুসলমান তাদের নামটাই রাখে আরবীতে! কেন? ঐ হিন্দু আর হিন্দুয়ানী থেকে নিজেদের দূরে রাখা। গোলাম মুহাম্মদ সরওয়ার, তালুকদার, জাকির… এরকম নাম শুনলে লোকটি মুসলমান ছাড়া আর কোন হদিস পাওয়া যায় না। যারা বাংলাদেশকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের কেন্দ্র ও নিজেদের বাঙালী জাতির অস্তিত্ব বলে মনে করেন তারা নিজেরাই সন্তানের নাম রাখেন আরবীতে। তবু কেউ কেউ যখন সন্তানের নাম বাংলায় রাখেন তখন এরাই সেটাকে হিন্দু বলে অনুমান করে বসে থাকে!

RELATED ARTICLES

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন!

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন! সবচেয়ে বড় কথা হল আইএসআইয়ের এই সম্পূর্ণ...

আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।

শরণার্থী : আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে ইসলামী মৌলবাদিদের জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।নিউজিল্যান্ড ইসলামী জিহাদিদের ছুরি হামলা, হামলাকারী একজন শ্রীলংকান মুসলিম শরণার্থী। অন্য দিকে জার্মানিতে...

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে।

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে। কেরালার হিন্দুদের কাছ থেকে ভারতের অনেক কিছু শেখার আছে। কাশ্মীরি...

Most Popular

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন!

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন! সবচেয়ে বড় কথা হল আইএসআইয়ের এই সম্পূর্ণ...

আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।

শরণার্থী : আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোতে ইসলামী মৌলবাদিদের জিহাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠছে।নিউজিল্যান্ড ইসলামী জিহাদিদের ছুরি হামলা, হামলাকারী একজন শ্রীলংকান মুসলিম শরণার্থী। অন্য দিকে জার্মানিতে...

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে।

কেরালা ভারতে অশান্তির নীরব রাজধানী হয়ে উঠছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেরালা পরবর্তী কাশ্মীর হয়ে যাবে। কেরালার হিন্দুদের কাছ থেকে ভারতের অনেক কিছু শেখার আছে। কাশ্মীরি...

মন্দির-মসজিদ সহাবস্থান যতগুলি ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বিজ্ঞাপন দেখেন তার সবগুলিই মন্দির আগে প্রতিষ্ঠা হয়েছে তারপর মসজিদ।

মন্দির-মসজিদ সহাবস্থান যতগুলি ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বিজ্ঞাপন দেখেন তার সবগুলিই মন্দির আগে প্রতিষ্ঠা হয়েছে তারপর মসজিদ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে একজন মুসলিম যুবক চন্দ্রনাথ ধামে...

Recent Comments

%d bloggers like this: