Home Bangla Blog শুধু মাদ্রাসাতে কেন শিশু বালিকা-বালক ধর্ষণ শিকার হয়??

শুধু মাদ্রাসাতে কেন শিশু বালিকা-বালক ধর্ষণ শিকার হয়??

215

আগেই বলে রাখি যদি পোষক ধর্ষণে কারণ হত তবে আমেরিকা ইউরোপ হত ধর্ষণ স্বর্গভূমি। ছেলে শিশু কেন বলৎকারে শিকার হয়। এখানেও কি পোষকা দায়ী??/

নিশ্চয় খেয়াল করেছেন, মাদ্রাসার হুজুরদের পাশাপাশি স্কুল কলেজের হুজুর টাইপ শিক্ষকরাও শিশু-বালিকা ছাত্রীদের ধর্ষণের রেকর্ড করছে। নামাজী আল্লাওয়ালা লোকগুলো কেন ধর্ষণ ও শিশুকামীতায় লিপ্ত হচ্ছে এই প্রশ্ন আমাদের সকলের। যদি বলি ইসলাম এই ধর্ষণকে একদমই লঘু তুচ্ছ বলে বিবেচনা করে বলেই এইসব হুজুর লোকজন ধষর্ণ করতে পিছপা হয় না- তাহলে কি বিশ্বাস হবে? বিশ্বাসের দরকার নেই, তারচেয়ে বরং আসুন, ইসলাম থেকে আপনাদের দেখাই কেমন করে একজন ধর্ষককে তার অপরাধ গোপন করতে নির্দেশ দেয়।

সহি হাদিস বলছে,  নবী মুহাম্মদ বলেছেন, তোমরা ব্যভিচার থেকে দূরে থাকো যা আল্লহ তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এরপরও যে শয়তানের কবলে পড়ে তা করে ফেলে সে যেন তা লুকিয়ে রাখে (হাকিম ৪/২৭২)।

অর্থ্যাৎ কেউ ধর্ষণ করে তা লুকিয়ে ফেলবে! আবার বলছে শয়তানের কবলে পড়ে ধর্ষণ করা হয়। খেয়াল করুন, কিছুদিন আগে মাদ্রাসার এক সিরিয়াল রেপিস্ট হুজুর দাবী করেছিলো তাকে দিয়ে শয়তান ধর্ষণ করিয়েছে। অপরদিকে আরেক মাদ্রাসার লম্পট হুজুর ছাত্রীকে ধর্ষণ করে কুরআন ছুইয়ে শপথ করাতো সে যেন কাউকে ধর্ষণের কথা না জানায়। এখানে হাদিসের সেই ধর্ষণ গোপনের আদেশ কি অনুপ্রলিত করেনি? সবচেয়ে বড় কথা কথিত আল্লার নবী কেন ধর্ষণের মত অপরাধকে গোপন করতে নির্দেশ দিবেন? আপনাদের আরো একটি তথ্য দেই যদি আপনাদের জানা না থাকে, ইসলামে ধর্ষণের কোন সংজ্ঞাই নেই! ইসলাম এটাকে বলে ‘জেনা’! প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষ যদি পরস্পর সম্মতিতে বিবাহ বহির্ভূত সেক্স করে সেটা ইসলামের চোখে বিরাট অপরাধ যার জন্য উভয়কে পাথর ছুড়ে হত্যা করতে হবে। এই সজ্ঞাতেই যদি কেউ কোন নারীকে ধর্ষণ করে সেটাও ইসলামের চোখে ‘জেনা’! মজাটা দেখুন, ইসলাম একদিকে বাড়ির দাসী ও যুদ্ধ থেকে পাওয়া কাফের নারীদের অবাধ সেক্স করার অনুমতি দিয়েছে অথচ অপরদিকে দুজন নারী পুরুষ পরস্পরকে ভালোবেসে সেক্স করলে সেটা মহা অপরাধ। তাদেরকে পাথর ছুড়ে হত্যা করতে হবে! দাসী আর যুদ্ধবন্দিনীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেক্স করাটা আবার আল্লাপাক হালাল করে দিয়েছেন!

দুধের শিশুগুলোকে কিছু বাবা-মা হিজাব পরিয়ে রাখে। একই সমাজে এই শিশুদের ধর্ষণ করছে কিছু জানোয়ার। এই যে মানসিকতা তা কি করে সামাজিক বৈধতা পায় তার সুলুক সন্ধান আজ জরুরী। একজন মানুষের বিকৃত যৌন চাহিদা অনেক সময় একটা বিরাট জনগোষ্ঠির উপর গিয়ে পড়তে পারে যদি লোকটি কোন ধর্মগুরু হয়ে থাকে। আমরা ইসলামে দেখি নবী মুহাম্মদ হামাগুড়ি দিচ্ছিল এমন একটি শিশুকে দেখে তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রসন করেছিলেন! ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, নবী তাকে (উম্ আল-ফজলকে) দেখেন যখন সে তার সামনে হামাগুড়ি দিচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘যদি সে বড় হয় এবং আমি তখনও বেঁচে থাকি, আমি তাকে বিয়ে করব’। কিন্তু সে বড় হওয়ার আগেই নবী ইন্তেকাল করেন এবং সুফিয়ান বিন আল-আসওয়াদ বিন আব্দুল আসাদ আল-মাখজুমির সাথে তার বিয়ে হয় এবং সুফিয়ানের ঔরসে তার রিজক ও লুবাবা নাম্নী দু’টি সন্তান জন্মে (ইবনে ইসহাকের সিরাত, সিরাতুননবী)। [Suhayli, ii. 79: In the riwaya of Yunus I. I. recorded that the apostle saw her (Ummu’lFadl) when she was a baby crawling before him and said, ‘If she grows up and I am still alive I will marry her.’ But he died before she grew up and Sufyan b. al-Aswad b. ‘Abdu’l-Asad al-Makhzumi married her and she bore him Rizq and Lubab… (Ibn Ishaq, The Life of Muhammad: A Translation of Ishaq’s Sirat Rasul Allah, Translated by A. Guillaume, Oxford University Press, Oxford, England, (Re-issued in Karachi, Pakistan, 1967, 13th impression, 1998) 1955, p. 311.]

হযরত আয়েশাকে বিয়ের ঘটনাটার কথা ভাবুন। পরিস্কার করে সহি বুখারীতে বর্ণনা এসেছে, হিশামের পিতা হতে বর্ণিত, নবী মদীনা চলে যাওয়ার তিন বছর পুর্বে খাদিজা ইন্তেকাল করেন। সেখানে বছর দুই কাটানোর পর তিনি আয়েশাকে বিয়ে করেন, আয়েশা তখন ছয় বছরের বালিকা মাত্র, এবং আয়েশার বয়স যখন নয় বছর তখন তিনি বিয়েকে পূর্ণাঙ্গ করেন (সহি বুখারিঃ ভলিউম-৫, বুক নং-৫৮, হাদিস নং-২৩৬ঃ)।

এবার একটু মেলানো চেষ্টা করুন। বিগত বিশ বছরে দেশে ইসলামের ব্যাপক চর্চা হয়েছে। বাসের ড্রাইভার হেল্পারদের মধ্যে এখন উচ্চস্বরে ওয়াজের ক্যাসেট বাজানোর হিড়িক যেমন বেড়েছে তেমনি চলন্ত বাসে তাদের দ্বারা ধর্ষণ হত্যাও বেড়ে গেছে। দেশের বাম্পার ইসলামের ফলনের সঙ্গে ধর্ষণের মহামারী লাগার যে কি সম্পর্ক লেখায় তা দলিল সহ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এবার নিজ বুদ্ধিতে বুঝার চেষ্টা করুন, কেন একজন ইসলামিক মাউন্ডের ধর্ষক ‘জেনা’ যেনোও এই অপরাধ করতে পিছ পা হয় না। প্রথমত, ঘটনা গোপন করে তাকে আল্লার কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে ধর্ষণকে লঘু করে ফেলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আল্লার খুন ধর্ষণ হত্যার মত অপরাধকে গৌণ্য করেছেন তার সঙ্গে শিরক করাকে। যেমন একজন লোক মূর্তি পুজা করলো তার কোনদিন ক্ষমা নেই। কিন্তু ধর্ষক খুনি হত্যাকারী মুসলমান হলে তাকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবে। সেই সঙ্গে লোকটিকে বলা হয়েছে এসব করছে সে শয়তানের কারসাজিতে পড়ে! এই বিশ্বাস একজন ধর্ষককে মাইন্ড সেট হতে কি সহায়তা করে না?

%d bloggers like this: