#হালাল_ঝটকা_এবং_কী_করিতে_হইবে

পর্ব এক

অতঃপর ৩৭০ ধারা উঠিয়ে আবার প্রমাণ করিল যে ফেসবুকীয় জনতার স্মৃতি বড় স্বল্পস্থায়ী এবং আমি নিশ্চিত, আজ , রবিবার, অধিকাংশ বাঙালি যখন তার অতিপ্রিয় কচি পাঁঠার ঝোলে চুমুক দেবেন, তখন জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে তাহাদের কষ্টার্জিত উপার্জনের একটা অংশ জিহাদিদের একাউন্টে ট্রান্সফার করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে ডোডো পাখির ন্যায় বিলুপ্ত হইয়া যায়, তাহা সুনিশ্চিত করিবেন। কারণ তাহাদের অতিপ্রিয় কচি পাঁঠাটি অবশ্যই কোনো হালাল সার্টিফায়েড দোকান হইতে ক্রীত।

এবার একটা ছোট্ট হিসাব করুন। পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ টি বিধানসভা, ৩৪৩ টি ব্লক, ৭৭ হাজার গ্রাম।

প্রতিটি ব্লকে যদি গড়ে ১০ টি হালাল মাংসের দোকান থাকে, এবং তাদের বার্ষিক টার্ন ওভার, খুব কম হলেও ২ লাখ হয়, তাহলে হালাল ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে আরবরা হিন্দু বাঙালির পকেট থেকে কত ছিনিয়ে নিচ্ছে বছরে? ৩৪৩*১০*২০০০০০।

প্রায় ৭০ কোটি টাকা।

শুধু বাংলায় এই চিত্র হলে সারা ভারতে কত? মনে রাখবেন এইটা একটা মিনিমাম স্ট্যাট, আসল অঙ্ক এর চেয়ে অনেক বেশি। কী সুন্দরভাবে আমাদের টাকা আমাদের সন্তানদের হালাল করার জন্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তাই না?!😊

প্রতিকার কী?

কোনো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে হাতে এবং ভাতে, দুইভাবেই কী উপায়ে মারতে হয়, তা ১২৫ বছর আগে এক কায়স্থ বাঙালি, কৃষ্ণধন ঘোষের বড় ছেলে লিখে গিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে জগৎ তাকে চিনেছিল ঋষি অরবিন্দ নামে। রমেশচন্দ্র মজুমদার আগেই দেখিয়ে দিয়েছেন, সহিংস বিপ্লব এবং অহিংস অসহযোগ আন্দোলন, দুটিরই প্রবর্তক ওই বঙ্গসন্তানই, গুজরাটের কোনো কুসংস্কারগ্রস্ত বিকৃতমনা চতুর চুতিয়া নন।😊

অতএব প্রতিকারের উপায় ওই কায়স্থ সন্তানের বলে যাওয়া পথ একটু ঘষে মেজে অনুসরণ করা।

আমাদের স্ট্রংহোল্ড কী? সোশ্যাল মিডিয়া। কোন সোশ্যাল মিডিয়া খবর ছড়াতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে? হোয়্যাটসেপ। আজ্ঞে ঠিকই বলেছি, ফেসবুক নয় , হোয়্যাটসেপ। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় প্রায় ২০০০০ হোয়্যাটসেপ গ্ৰুপ হিন্দুত্ববাদীদের দখলে ছিল, খবরেই প্রকাশ।

অতএব যা কর্তব্য

১/ হালাল শান্তিবাদীরা তৈরি করে , তাই বর্জন করুন , এসব লিখলে অধিকাংশ মধ্যবিত্ত ই আমাদের খেদিয়ে দেবে। নিশ্চিন্তে থাকুন। সনাতন ধর্ম কোনো অর্গানাইজড রিলিজিয়ন নয়, এটি একটি সংস্কৃতি। এটি কাউকে ঘেন্না করতে শেখায় না। হিন্দুত্ব এবং হিন্দু আলাদা, সাভারকর আগেই বলে গেছেন।

তাহলে?

একটি ছোট্ট মেসেজ তৈরি করতে হবে, হালাল মাংসের অপকারিতা নিয়ে। এক্ষেত্রে আমার যতদূর মনে পড়ে, অগ্রজ animitra chakraborty কর্তৃক সম্পাদিত বঙ্গদেশ পত্রিকায়, হালাল মাংসের অস্বাস্থ্যকর প্রভাব নিয়ে একটি অসাধারণ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল, লেখক এক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। সেটি একটু কাটছাট করে নিলেই চলবে। আমাদের ২০ হাজার হোয়্যাটসেপ গ্ৰুপের মধ্যে প্রতিটি গ্ৰুপের অন্তত ২ জন সদস্যের কাছেও যদি মেসেজটি পৌঁছায়, তাহলেই কাজ হবে।

মধ্যবিত্ত বাঙালি ধর্ম নিয়ে মাথা না ঘামালেও ছেলে বা মেয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে অতি অবশ্যই মাথা ঘামাবে। 😉

এবং যেদিন দেখবেন, কোনো ইংরাজি মিডিয়াম স্কুল পড়ুয়ার মা অন্য ছাত্রের মাকে বলছেন, ছেলেকে হালাল মিট খাওয়াস না, শরীর খারাপ করবে, সেদিনই জানবেন, আমরা লক্ষ্যে পৌঁছনোর এক ধাপ অতিক্রম করেছি।

২/ এলাকাভিত্তিক ঝটকা মাংসের একটি লাস্ট তৈরি করা। আমি আমার বিধানসভা এলাকায় অন্তত তিনটি দোকান চিহ্নিত করেছি যারা ঝটকা মাংস বিক্রি করে। আপনারাও করুন।ঠিকঠাক কাজ হলে, দেড় মাসের বেশি সময় লাগবে না, সবকটি এলাকায় ঝটকা মাংসের দোকানের তালিকা তৈরি করতে।

৩/ একটি অ্যাপ তৈরি করা যেখানে সার্চ করলে কাছাকাছি এলাকার ঝটকা মাংসের দোকান কোথায়, তা দেখিয়ে দেবে। এবং একই সঙ্গে সেই এপ এ , দোকান থেকে বাড়ি অব্দি মাংস প্যাকেটে করে পৌঁছে দেবার ও বন্দোবস্ত থাকবে। এর ফলে কিছু হিন্দু ছেলের কাজের যোগান যেমন হবে তেমনই ঝটকা মাংসের ব্যবসা বাড়বে, আরো বেশি লোক উৎসাহিত হবে।

এবং নিশ্চিত থাকুন, বহুজাতিক কোম্পানি যেদিন দেখবে এই ঝটকা মাংসের লাভজনক ব্যবসা একটি গোষ্ঠী ছিনিয়ে নিচ্ছে, তারাও এই লাইনে ঝাঁপাবে। এবং জোম্যাটোর চোদ্দ পুরুষ সেদিন বাপ বাপ বলে নিজেদের এপে ঝটকা মাংসের অপশন রাখবে।

দুই বছর এই পরিকল্পনা অনুযায়ী চলুন, বাংলার আদ্দেক এলাকা থেকে আমরা হালাল সাম্রাজ্যবাদ মুছে দেবো। দেবই।

এরপরেও কিছু কাজ বাকি থাকে। সেকথা পরের পর্বে।

আমাদের টাকা আমাদের সন্তানদের শত্রুদের হাতে তুলে দেবেন না।

#Down_Down_Arab_Imperialism