রথযাত্রায় মাইক ব্যবহার করা যাবে না। দুর্গা পুজার দশমীতেও প্রশাসন থেকে সাউন্ড সিস্টেম না বাজানোর নির্দেশ বেশ কয়েক বছর ধরে চলে আসছে। মসজিদের মাইকের বিরুদ্ধে কথা বললে মন্দিরের মাইকের বিরুদ্ধেও কথা বলা উচিত। কিন্তু মসজিদের মাইকের গলার আওয়াজ বাড়িয়ে দিয়ে মন্দিরের মাইক নামিয়ে ফেললে পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলে। একই যাত্রায় পৃথক ফল তো কোন গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য হতে পারে না। অগ্যাতা তাই মন্দিরের মাইকের হয়ে কথা বলতে হয়। রথযাত্রায় মাইকের ব্যবহার বন্ধ হওয়া নিয়ে কথা বলতে হয়। যে দেশে গভীর রাতে সেহরি খাওয়ার নাম করে মসজিদের মাইকে হাম-নাদ গেয়ে মানুষের ঘুমের বারোটা বাজানো হয়, ওয়াজ মাহফিলের মাইকের জ্বালায় হাসপাতালের অসুস্থ রোগীও রেহাই পায় না সেদেশে রথযাত্রার কয়েক ঘন্টার মাইক বন্ধ রাখতে চাওয়ার হেতু কি? অবশ্যই শব্দ দূষণ রোধ করার কোন আন্দোলন এই মুহূর্তে শুরু হলে আমি দ্বিধাহীনভাবে তাতে সম্মতি জানাবো। মসজিদ, মন্দিরসহ যে কোন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নাম করে রাস্তা দখল করে উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কিন্তু কেবলমাত্র গায়ের জোরে, সংখ্যার জোরে বিশেষ কোন জাতিগত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উৎসব পার্বনের উপর হস্তক্ষেপ সাম্প্রদায়িক মানসিকতাই ফুটিয়ে তোলে। হেফাজত ইসলামসহ বাড়বাড়ন্ত ইসলামিস্টদের চোখে যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবের জাঁকজামকতা ফুটে না উঠে- সেই ভয়েতেই যে প্রশাসনের এই নির্দেশ সেটা সবার কাছেই পরিস্কার…।

২.
প্রিয় দেশপ্রেমিকরা, ইন্ডিয়া হেরে গেলে জিতে যাওয়া বাংলাদেশীরা, সেভ গাজা প্রজন্ম আর রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য চোখের পানি ফেলা দেশবাসী, রাঙ্গামাটির লংগদুর সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী আগুনে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যাওয়া বাড়ির সংখ্যা ১৮৩টি। আংশিক পুড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাওয়া বাড়ির সংখ্যা ৮৬টি। সর্বমোট ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ২৬৯টি (লিংক কমেন্টে বক্সে)। সরকারী কোন ত্রাণ এখনো লংগদুতে পৌঁছায়নি। সীমাহীন দুর্ভিক্ষ চলছে বলা চলে। কেবল মাত্র শহরে থাকা আদিবাসীদের ত্রাণ সহায়তা ছাড়া আর কিছু সেখানে পৌঁছায়নি। বিএনপির নেতাদের পিটিয়ে খেদিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারের কোন মন্ত্রীর খবর নেই। কেউ মাটি কাটছে। কেউ নায়িকাকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলছে। ফোন করছে খেলোয়ারদের। পাহাড়িরা তো বাঙালী নয়। মুসলমান নয়। তাই এতবড় ঘটনা ঘটার পর কোন শিল্পি গান বাধেনি। সবাই ক্রিকেট নিয়ে গান বাধে। রমজান নিয়ে গান রিলিজ দেয়। এই হচ্ছে দেশপ্রেম। এর নাম হচ্ছে আপনাদের দেশপ্রেম?

৩.
আপনার কেউ লন্ডন, প্যারিস হামলার সময় মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদের গলার আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন? দেশে লাগাতার সাম্প্রদায়িক হামলার সময়, এমন কি লংগদুর হামলার সময় এই মাওলানা কি বয়ান দিয়েছিল জাতিগত আর ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করতে? করেনি। কারণ ইসলামে অমুসলিমদের জন্য দোয়া করা নিষিদ্ধ। এ কারণেই লন্ডনের আগের হামলাগুলোর সময় এই লোক কোন কথা বলেনি। কিন্তু সম্প্রতি লন্ডনের মসজিদের সামনে হামলার পর পরই গলা ফাটাতে শুরু করেছে। এই মাওলানা গতকাল বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, “নিরীহ মুসল্লিদের সন্ত্রাসী হামলার টার্গেট বানানোর মতো নিন্দনীয় আর কিছু নেই।…ইসলামের বাতিঘর পবিত্র মসজিদে শান্তির চর্চা হয়, সহিষ্ণুতা ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব গঠনের আসল কেন্দ্র হলো মসজিদ। এ মসজিদকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসবাদের ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক”।

মসজিদে কিভাবে “অসাম্প্রদায়িক চর্চা” হয় সেটা এই তাকিয়াবাজ মাওলানা প্রমাণ করে দেখাতে পারবে? চ্যালেঞ্জ রইল…।

লেখক,
শুদিপ্ত পাঠক