ভারতে নাগরিত্ব বিলঃ একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদক্ষেপ।
ভারত বিভাগ যারা করেছিল তাদেরকে ইতিহাসের তিন চক্রান্তকারী হিসেবেই অনেকের মত আমিও মনে করি। গান্ধী, জিন্নাহ আর নেহেরু এই তিন লন্ডনের ব্যারিষ্টার মিলে খাবলে ধরেছিল ভারতকে। ক্ষমতা চাই তাদের। 
ভারতের স্বাধীনতার দাবীকে এরা নিজেদের স্বার্থে বিসর্জণ দিয়ে ভারতের ভিতর স্থায়ী সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে যান। জিন্নাহ মুসলমানের জন্য পাকিস্তান চাইলেন। ছুরি চালিয়ে কেটে নিয়ে আলাদা হয়ে গেলেন তিনি তার তৌহিদী জনতাকে নিয়ে।


প্রথম মহাযুদ্ধের পর ভারতের মুসলমানেরা দলে দলে আফগানিস্তানে হিজরত করেছিলেন। তারা বিশ্বাস করতেন মুসলমান অন্য কোন ধর্মীয় জাতি দ্বারা শাসিত হতে পারেনা। যেহেতু ভারতে অমুসলিমরা সংখ্যা গরিষ্ঠ, তাই তারা মুসলমান শাসিত আফগানিস্তানের দিকে ছুটেছিলেন।
তবে ভারতে যে মুসলমানরা রয়ে গেলেন তারা দারুল হারাব হওয়া সত্বেও সাধারনভাবে ভারত ভাগের সময় পাকিস্তানে বা আফগানিস্তানে হিজরত করলেন না।

এর কারন জিন্নাহর সেই অভয় বানী ” যদি কোন মুসলমানের গায়ে ভারতে কেউ হাত দেয় তবে তাদেরকে বলতে চাই পাকিস্তানে যে হিন্দুরা আমাদের জিম্মায় আছে তাদের উপর এর পালটা নেয়া হবে।” আমি জিন্নাহকে পছন্দ করি এই কারনে যে এই তিন কুচক্রীর মাঝে জিন্নাহ স্পষ্ট ভাবে তার মনের কথা গুলি বলে দিতে পারতেন, যার ক্ষমতা ছিলনা নেহেরু এবং গান্ধীর। 

জিন্নাহ ডাইরেক্ট একশনের কথা যখন উল্লেখ করেছিলেন তখন পরিষ্কার বলে দিয়েছিলেন ” আমি এমন কিছু ঘটাব,যা কেউ কল্পনাও করতে পারবেনা। আমার কথা মেনে নাও। পাকিস্তান দাও; নইলে প্রস্তুত হও সেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির জন্য।” এরপর জিন্নাহ আর সরোয়ার্দী ঘটান গ্রেট ক্যালকাটা রায়ট।
মুসলমানরা যখন তাদের জন্য দারুল ইসলামের লক্ষ্য সমুন্নত রেখে পাকিস্তান করলেন, তখন মানবিকভাবেই প্রয়োজন ছিল অমুসলিমদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য এমন একটি রাষ্ট্রীয় দর্শণ গ্রহন করা যাতে দারুল ইসলাম থেকে বিতাড়িত অমুসলিমরা “রাষ্ট্রবিহীন” না হয়ে পড়ে। 
ভারতের প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল বিতাড়িত অমুসলিমদের আশ্রয় দেয়া। কিন্তু ভারতের নেতৃত্ব সে পথে হাটেনি। কংগ্রেস ইসলামী খেলাফতের সাথে যে সখ্যতা গড়ে তুলেছিল খেলাফত আন্দোলনের সময় সেটাকে কেবল বহালই রাখেনি, সেটিকে পূজি করে তারা মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক সৃষ্টি করে। পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত অমুসলিমরা ভারতে গিয়ে যেখানে নাগরিকত্ব পায়না সেখানে পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মুসলিমরা অতি সহজেই নাগরিকত্ব লাভ করতে থাকে। 
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বহু মুসলিম ভারতে গিয়ে নাগরিকত্ব গ্রহন করে বহাল তবিয়তে আছেন। পশ্চিম বঙ্গের একজন মন্ত্রী ৭১ সনের ডিসেম্বরে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রান বাচাতে চলে গিয়েছিলেন। তার পিতা ছিলেন রাজাকার। মুক্তিযোদ্ধারা মমতার মন্ত্রী সভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এই মন্ত্রীর বাবাকে হত্যা করেছিল; আর তার ছেলে ভারতে পালিয়ে কেবল নাগরিক নয় –আজ মন্ত্রী!! 
 লজ্জা লাগেনা পশ্চিম বঙ্গের মানুষের?? অথচ বাংলাদেশ  থেকে যাওয়া অমুসলিমরা কেবল পালাচ্ছে -এক রাজ্য ছেড়ে আরেক রাজ্যে। কেউ কেউ সুন্দরবনের ভিতর বাচার জন্য গ্রাম গড়েছিল; কিন্তু তাদেরকে জ্যোতি বসু নৃশংশ ভাবে হত্যা করে সাগরে ভাসিয়েছিলেন। মরিচঝাপির গনহত্যা নিয়ে ভারতের কোন কবি সাহিত্যিক রাজনৈতিক  দল কথা বলেনি। হারিয়ে গেছে সেই গনহত্যার ইতিহাস। পশ্চিম বঙ্গের সেকুলার সম্প্রদায় এভাবেই পুর্বপাকিস্তান আর বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অমুসলিমদের প্রতি তাদের অবজ্ঞা প্রদর্শণ করেছিল। 

  মোদী সরকার এবার নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।অমুসলিম শরনার্থীদের নাগরিকত্ব দেবার যে নৈতিক দায়িত্ব এতোকাল ভারতের সুবিধাবাদী ও সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক সুবিধা আদায়কারীরা ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, মোদী সরকার সেই মানবিকতা বঞ্চিত “রাষ্ট্র বিহীন ভাসমান” মানুষক কুকুর বেড়ালের মত ছন্নছাড়া জীবন থেকে উদ্ধার করবেন।
এই বিল লোক সভায় পাশ হয়েছে। আগামীতে রাজ্য সভায় এ বিল পাশ করলে তবেই  ঠিকানা বিহীন এই কয়েক কোটি অমুসলিম একটি রাষ্ট্রের নাগরিক হবেন। 

  কিন্তু ইতিমধ্যে এই বিলের তীব্র বিরোধীতা করে চলেছে কংরেস। তাদের মাথা খারাপ হবারই কথা, কারণ তাদের  ভোট ব্যাঙ্কে প্রচুর  পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মাসল্ম্যান আছে। আমরা জানি বাংলাভাই সহ বাংলাদেশে যে জঙ্গীরা ততপরতা যারা চালায় , তাদের মুল কন্ট্রোলটা ভারতের পশ্চিম বংগ, আর ঝাড়খন্ডে। এছাড়াও সারা দেশেই তারা ততপর আছে। আর সেই ভয়ানক সন জঙ্গীদের সাথে সখ্যতা রেখে চলেন মমতা বন্দোপাধ্যায় বা তার মত মুখোশ ধারী অতি সেকুলাররা। 
মমতা তো এই বিলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন। কোথায় এখন বাংলার সেই শ্রীজাত কবি? লজ্জা করেনা মিয়া?? সাহিত্যিক বা কবি হলেই যে প্রকৃত মানুষ হয়না তার নিদর্শন পশ্চিম বঙ্গে ভুরি ভুরি।
   আইনী লড়াই করবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন কেউ কেউ। কিসের আইনী লড়াই? কোন আইন বলেছে যে বহিরাগত সকল সম্প্রদায়কে সাম্প্রদায়িকভাবে বিভক্ত ভারতে একই ধারায় ফেলতে হবে। 
এদের সকলের সমান অধীকার থাকতে পারেনা। অ্যামেরিকায় আসা illegal রা  কি legal citizen এর সমান অধীকার পাবে সাংবিধানিক ভাবে? কক্ষনই না। “All citizens will be equally treated without discrimination” -এটাই গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নিয়ম। রাষ্ট্র কাকে নাগরিকত্ব দেবে বা দেবেনা সেটা রাষ্ট্রের অধীকার। রাষ্ট্র যদি বলত তারা মুসলমানদের নাগরিকত্ব দেবেনা তবে সেটা discrimination  হত। 
কিন্তু বিলে সেটা বলা হয়নি। তাই চক্রান্তকারীদের খপ্পরে পড়ে কেউ ওদের সাথে সুর মেলাবেন না। এ বিল পাশ হবেই এবং সেটাই হবে ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রথম সোপান।