Thursday, July 29, 2021
Home Bangla Blog ফুলন দেবী"দস্যু রানী" নামেই তিনি বেশি পরিচিত।

ফুলন দেবী"দস্যু রানী" নামেই তিনি বেশি পরিচিত।

স্মরণ করি
========
ফুলন দেবী (জন্ম :- ১০ই  আগস্ট ১৯৬৩ – মৃত্যু :- ২৫শে জুলাই ২০০১) একজন ভারতীয় ডাকাত এবং পরে একজন রাজনীতিবিদ। “দস্যু রানী” নামেই তিনি বেশি পরিচিত। ভারতের নিচু বর্ণ হিসেবে পরিচিত মাল্লা বর্ণের এক পরিবারে ১৯৬৩ সালে জন্ম নেন ফুলন। তিনি একাধিক বার পুরুষ নিষ্ঠুরতার বলি হয়েছিলেন। পুলিশের নিকট থেকেও তিনি ন্যায় পান নাই যার জন্য তিনি বাধ্য হয়ে ডাকাত জীবন গ্রহণ করেছিলেন। উত্তর প্রদেশের বেহমাই গাও নামক স্থানের কয়েকজন ঠাকুর সম্প্রদায়ের জমিদার ফুলন দেবীকে ২৩দিন যাবৎ ধর্ষন করে। ১৯৮১ সনে সেই গ্রামের ২২জন ঠাকুরকে ডাকাত হত্যা করেছিল। হত্যার জন্য ফুলন দেবীকে অভিযুক্ত করা হয়। বেশীরভাগ অপরাধ তিনি নির্যাতিত মহিলা ও বিশেষকরে নিম্ন শ্রেনীর মহিলাকে ন্যায় প্রদানের জন্য সংঘঠিত করেছিলেন। ২০বছরের কম বয়সের এক নিম্ন শ্রেনীর প্রায় নিরক্ষর কিশোরী সমগ্র ভারতে আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি আত্ম-সমর্পন করেন ও ভারতীয় রাজনীতিতে যোগদান করেন।
.
উত্তর প্রদেশের জালৌন জেলার অন্তর্গত ঘোড়া কা পুরয়া নামক স্থানে এক মাল্লা সম্প্রদায়ে ফুলন দেবী জন্মগ্রহন করেন। মাল্লা সম্প্রদায়কে নিম্ন বর্ন হিসেবে গণ্য করা হয়। মাল্লা সম্প্রদায় লোকের পেশা হচ্ছে নৌকা চালানো বা এককথায় মাঝি । ফুলনের পিতার এক একর জমি জুড়ে নিমের বাগান ছিল। তাঁর পিতার আশা ছিল যে এই মূল্যবান গাছ বিক্রয় করে ২কন্যার বিয়ের যৌতুক দিবেন। ফুলনের মাত্র ১১বৎসর বয়সে তাঁর ঠাকুরদার মৃত্যু হয় ও তাঁর পিতার বড়ভাই (জেঠা) ছলনায় পৈতৃক সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী নিজেকে ঘোষনা করেন। তাঁর জেঠার মায়াদিন নামক এক পুত্র ছিল। মায়াদিন বাগানের গাছগুলি কেটে বিক্রি করা আরম্ভ করে। ফুলন এর ঘোর বিরোধ করে। মায়াদিনকে চোর বলে নিন্দা করা হয় ও ফুলন এবং তাঁর পিতা সেই মাটিতে উপস্থিত থেকে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করেন। হিংসার আশ্রয় নিয়েও মায়াদিন ফুলনের কোন ক্ষতি করতে পারেন নাই। অবশেষে মায়াদিন, পুট্টিলাল নামক এক ৩০বৎসরের ব্যক্তির সহিত ফুলনের বিবাহের আয়োজন করে। সেই সময়ে ফুলনের বয়স ছিল মাত্র ১১বৎসর।
ফুলনের সঙ্গে তাঁর স্বামী বলপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন ও শারীরিক অত্যাচার করিত। অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে ফুলন নিজ পিতার গৃহে ফিরে যান যদিও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে পুনরায় স্বামীর গৃহে দিয়ে আসেন। অবশেষে তাঁর স্বামীর-কার্য কালাপের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি স্থায়ীভাবে নিজ পিতৃগৃহে ফিরে আসেন। ভারতীয় গ্রাম্য সমাজে স্বামীর ঘড় ছেড়ে আসা নারীদের কূ-নজরে দেখা হয়। ফুলনেও সমাজের চরিত্রে একজন অসৎ নারীর চরিত্রে পরীনত হন। ফুলনে ন্যায়ালয়ে নায়াদিনের বিরুদ্ধে পিতার সম্পত্তি অবৈধ ভাবে দখল করার অভিযোগ দেন। কিন্তু তিনি আইন যুদ্ধে পরাজিত হন।
১৯৭৯ সনে মায়াদিন চুরির অভিযোগে ফুলনকে গ্রেপ্তার করান। ফুলনের তিনদিন কারাবাস হয়। কারাবাসে তিনি আইনরক্ষকের হাতে ধর্ষনের শিকার হন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁকে পরিবার ও গ্রাম থেকে বর্জন করা হয়।
.
ডাকাতের দল ফুলন দেবীকে অপহরন করেন; অন্য এক প্রবাদ মতে তিনি স্বেচ্ছায় ডাকাতের দলে যোগদান করে। সেই ডাকাতের দলনেতা গুজ্জর সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন নাম- বাবু গুজ্জর। বাবু গুজ্জর ছিল নিষ্ঠুর ও কামুক স্বভাবের লোক। বাবু গুজ্জরের কামুক দৃষ্টি ফুলনের দেহের উপর পরে কিন্তু দ্বিতীয় দলনেতা বিক্রমের জন্য ফুলন, বাবু গুজ্জরের কামনরা শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পায়। একদিন রাত্রে দলনেতা বাবু গুজ্জর ফুলনকে ধর্ষণ করার প্রচেষ্টা করে । প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্রম মাল্লা বাবু গুজ্জরকে হত্যা করে ও নিজের দলের নেতা হয়। ফুলন তাঁর সন্মান রক্ষা করা বিক্রম মাল্লার প্রতি প্রেমে পতিত হন। অবশেষে বিক্রম তাঁকে বিবাহ করে ও পত্নীর মর্যদা দেন। ডাকাত দলটি ফুলনের প্রথম স্বামী পুট্টিলাল বাস করা গ্রামে লুন্ঠন করে। ফুলন পুট্টিলালকে টেনে নিয়ে এসে জনসমক্ষে শাস্তি দেয় ও খচ্চরের পিঠে উল্টা করে বসিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে এসে বন্দুক দিয়ে প্রহার করে । প্রায় মৃত অবস্থায় পুট্টিলালকে ছেড়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় কম বয়সের বালিকা মেয়ে বিবাহ করা পুরুষদের জন্য সাবধানবাণী স্বরুপ একটি পত্র রেখে যায়।
ফুলন দেবী বিক্রম মাল্লা থেকে বন্দুক চলানো প্রশিক্ষন নিয়েছিল ও উত্তর প্রদেশ ও মধ্য প্রদেশ বসবাসকারী উচ্চ বর্নের লোকদের গ্রামে লুন্ঠন, ভূস্বামীদের অপহরন, রেল ডাকাতি ইত্যাদি বিভিন্ন অভিযান চালিয়েছিল। প্রত্যেকবার অপরাধ করার পর ফুলন দুর্গাদেবীর মন্দির দর্শন করিতেন ও তাঁর প্রান রক্ষার জন্য দেবীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেন।. চম্বল উপত্যকায় এই ডাকাতের দল আত্মগোপন অবস্থাণ ছিল।
২০০১ সনের ২৫ জুলাই তারিখে নতুন দিল্লীতে ফুলন দেবীকে হত্যা করা হয়। তাঁর দেহরক্ষীও আহত হয়। সেই সময়ে তিনি সংসদ থেকে বের হয়ে আসছিলেন।

RELATED ARTICLES

আফগানিস্তান: আমেরিকা চিরকাল আফগানদের পাহারা দিবে কেন?

আফগানিস্তান: আমেরিকা চিরকাল আফগানদের পাহারা দিবে কেন? আমেরিকা কি আফগানদের বিপদে ফেলে চলে গেছে? 8 ই মে আফগানিস্তানের একটি স্কুলের বাইরে বোমা বিস্ফোরণের পরেও...

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার।

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার। আজকের দিনে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া হিন্দু তরুন তরুনীরা তাদের নিজ ধর্ম, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বিষয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে চরম...

সতীদাহ কি হিন্দু ধর্মের প্রথা, বাল্য বিবাহ ও রাত্রীকালীন বিবাহের উৎপত্তির কারণ কি?

সতীদাহ কি হিন্দু ধর্মের প্রথা ? এবং বাল্য বিবাহ ও রাত্রীকালীন বিবাহের উৎপত্তির কারণ কি? ধর্মীয় বিষয় নিয়ে চুলকানো মুসলমানদের স্বভাব| এই চুলকাতে গিয়ে মুসলমানরা নানা...

Most Popular

আফগানিস্তান: আমেরিকা চিরকাল আফগানদের পাহারা দিবে কেন?

আফগানিস্তান: আমেরিকা চিরকাল আফগানদের পাহারা দিবে কেন? আমেরিকা কি আফগানদের বিপদে ফেলে চলে গেছে? 8 ই মে আফগানিস্তানের একটি স্কুলের বাইরে বোমা বিস্ফোরণের পরেও...

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার।

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার। আজকের দিনে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া হিন্দু তরুন তরুনীরা তাদের নিজ ধর্ম, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বিষয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে চরম...

সতীদাহ কি হিন্দু ধর্মের প্রথা, বাল্য বিবাহ ও রাত্রীকালীন বিবাহের উৎপত্তির কারণ কি?

সতীদাহ কি হিন্দু ধর্মের প্রথা ? এবং বাল্য বিবাহ ও রাত্রীকালীন বিবাহের উৎপত্তির কারণ কি? ধর্মীয় বিষয় নিয়ে চুলকানো মুসলমানদের স্বভাব| এই চুলকাতে গিয়ে মুসলমানরা নানা...

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি।-দুর্মর

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি, ভরাডুবি ঘটতে চলেছে মমতা ব্যানার্জির..... আজ থেকে দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০১৯ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের...

Recent Comments

%d bloggers like this: