আধুনিক প্রযুক্তি এবং সৌদি রহস্যের নতুন অধ্যায়

আকাশ পথের ব্যবহার , মাইক্রোওয়েভ এর প্রযুক্তি এবং কিছু অদম্য মানুষের চেষ্টা আর বিজ্ঞানের সামগ্রিক ব্যবহার এই  বজ্রআঁটুনির দেশটিকে আর বন্ধ ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখতে পারছে না। তবে এর মাধ্যমে এক নতুন রহস্য এনে দিচ্ছে।  আসুন এর উপর আজ একটু বিস্তারিত জানি। পেরুর নাজাকা লাইন এর মতোই রহস্যের সন্ধান পেয়েছে মানুষ। কি সেই রহস্য ? বলছি , তার আগে একটু অল্প করে ওই পেরুর নাজকা লাইনের  বিষয়ে বলা দরকার।
দক্ষিণ পেরুর ( প্রথম ছয়টি  ছবি দ্রষ্টব্য ) পাথুরে মরুভুমি এবং প্রায়  জনমানবহীন এই অঞ্চলে কিছু অদ্ভুত জ্যামিতিক চিহ্নের সন্ধান পাওয়া যায় যেমন সরলরেখা , ত্রিভুজ , চতুর্ভুজ ,সার্কেল ইত্যাদি  ,এমন কি কিছু প্রাণীর প্রতিকৃতি যার মধ্যে হামিং বার্ড , বানর এবং মাকড়সার ছবি ও পাওয়া যায়। এই জায়গাটার নাম নাসাকা বা নাজাকা। প্রায় ৮০০ সরল রেখা , ৭০ টি প্রাণীর ছবি , ৩০০ র মতো জ্যামিতিক ছবি , বিবিধ গাছের আকৃতি। এর মধ্যে জ্যামিতিক প্রতিকৃতির সরলরেখাগুলো প্রায় ৩০ মাইল ছড়ানো। মজার কথা হলো ,আপনি মাটিতে দাঁড়িয়ে ওই নকশাগুলো একটা ও দেখতে পাবেন না । এর সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৩০ এ , মানুষের বিমান ব্যবহার এর পরবর্তীতে নজরে আসে।

একই বৈশিষ্ট দেখা যায় , ১৯২০ সালে , ব্রিটিশ রয়েল এয়ারফোর্সের পাইলট এই  ধরণের কাজের সন্ধান পান জর্ডন আর সৌদি আরবের ভূমিতে। এবার স্যাটেলাইট ম্যাপিং ব্যবহার করা হয়। পাওয়া  হাজার এই ধরণের নকশা। এর সন্ধান এর কৃতিত্ব ডেভিড কেনেডির ( চার নম্বর ছবি ) , প্রফেসর  প্রাচীন ইতিহাস ,ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।

তার গবেষণার থেকে  জানতে পারি ,এই কাজগুলোর বয়েস অন্ততঃ দু হাজার বা তার বেশি বছর আগের। মজার কথা হলো উনিই ওই বিমানে মানে ১৯২০ র ওই প্লেনটি তে যাত্রী ছিলেন ,সেই অল্প বয়েসেই এই বিষয়টা তার আগ্রহের কারণ হয়ে ওঠে। বস্তুতঃ উনি রোমান পুরাকীর্তির বিশেষজ্ঞ হলেও এর উপর কাজ করছেন অনেক দিন। এই কাজে তিনি সাহায্য নিয়েছেন  বিমানের থেকে নেওয়া ছবি আর গুগল আর্থ এর।

মূলতঃ পাওয়া গিয়েছে সেই একই জ্যামিতিক সব চিহ্নের খোঁজ আর পাওয়া গিয়েছে চাকার নানান মাপের আকৃতির খোঁজ ,অনেক ক্ষেত্রে এক সাথে অনেক গুলো আবার অনেক ক্ষেত্রে  আলাদা আলাদা করে পাওয়া যায় এর অস্তিত্ব। সেই একই বৈশিষ্ট , আপনি মাটিতে দাঁড়িয়ে এর খোঁজ পাবেন না অথচ কয়েকশো ফুট উপরে বা তার উপরে আকাশ থেকে এর সন্ধান পাবেন। আরো মজার হলো এর আসে পাশের জায়গা দিয়ে চলাচল করেছে মানুষ হাজার বছর ধরে কিন্তু বুঝতে ও পারে নি ফলে এর ধ্বংস করা ও হয়ে ওঠেনি অথবা অকারণে ক্ষতি ও হয় নি। এর উপর দেওয়া ছবিগুলো নেওয়া হয়েছে ডেভিড কেনেডি এবং তার ছাত্রদের ফ্লিকার এর সাইট থেকে।

এই চাকার কাজগুলোর এক  গুচ্ছ পাওয়া যায় আজরাক নামের এক মরুদ্যানের পাশে।  জর্ডনের ভূমির ক্ষেত্রে আর সৌদির ক্ষেত্রে এই নকশা একটু আলাদা। সৌদির গুলোর সাথে পাওয়া যায় চতুর্ভুজ এবং আরো মজার হলো ওই অঞ্চলে সূর্য উদয় আর অস্তের হিসাবে যেন ওই নকশা সাজানো।  এর অনেকগুলোই কিন্তু ৯০০০ বছরের পুরোনো বলা হচ্ছে।

একদল বলছে , প্রাচীন ধর্মীয় অর্চনার জন্য মানুষ ওই নকশা ব্যবহার করতো। কিন্তু প্রশ্ন হলো ওই মরু অঞ্চলেই বা কেন ? আর নির্দিষ্ট কারণ নেই কেন ? বিজ্ঞান এখনো এর জবাব পায় নি। আমি আশাবাদী আমরা ওটার রহস্য খুঁজে বের করবো খুব তাড়াতাড়ি।

সবাইকে ধন্যবাদ ! 

তথ্যসূত্র :
১. http://www.nationalgeographic.com/archaeology-and-history/archaeology/nasca-lines/
২. https://www.livescience.com/12864-google-earth-saudi-archaeology-tombs.html
৩. ডাউন লোড করে দেখে নিন : http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1367912015001297