নববর্ষ ঠিক কবে? ১৪ না ১৫ ই এপ্রিল?
পুঞ্জিকা মতে বাংলা নববর্ষ শুরু  ১৫ ই এপ্রিল থেকে!
বাংলাদেশে ১৪০২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত নববর্ষ  লোকনাথ পঞ্জিকা মতে ১৫ এপ্রিল ছিল!  কিন্তু  রাষ্ট্রপতি এরশাদ
১৯৮৭ সালে  পহেলা বৈশাখ পরিবর্তন করে ১৪ ই  এপ্রিল নির্ধারণ করে দেন  যাতে, ‘ হিন্দু ক্যালেন্ডারের ‘  এর সাথে না মেলে! 
আর তাই পহেলা বৈশাখকে রাষ্ট্রীয়ভাবেই একদিন আগে করার নিয়ম চালু হয়!

যদিও উনার উদ্দ্যেশ্য কি ছিলো তা সুস্পষ্ট নয়! তবে ধরে নিচ্ছি মতপার্থক্য এড়াতে এবং একে সার্বজনীন উৎসবের রুপ দিতেই এই পরিবর্তন!

তারপর ও পহেলা বৈশাখ কে হিন্দুয়ানী ট্যাগ দেয়া থামানো যায়নি!
হিন্দুদের নিয়ে এতই যদি সমস্যা,  তাহলে দেখুন তো আমরা কি পুরোপুরিভাবে হালাল হতে পারবো হিন্দুদের কাছ থেকে??
এই যেমন–

  হিন্দু নরসুন্দর চুল দাড়ি কাটলে ছাটলেও সমস্যা নাই!  
হিন্দু স্বর্ণকারের  বানানো অলংকার দিয়ে বিয়ে শাদি অঙ্গসজ্জা করলে ও  সমস্যা নাই!
  হিন্দু কৃষকের ক্ষেতের ফসল  শাকসবজি, হিন্দু জেলেদের ধরা  মাছ খেতেও সমস্যা নাই!

আছে হিন্দু গোসাই, গয়াল দুধ ওয়ালা,  মিষ্টি ওয়ালা আহা জিভে জল আসে ক্যারে?

আছে  হিন্দু ডাক্তার,  হিন্দু  কবিরাজ! আছে শিক্ষক প্রফেসর! 
সাহিত্যিক ও বাদ যাবে কেনো? রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র?  আরো আছে অগণিত! 

কিডনি লিভার খারাপ হলে বা হার্ট সার্জারি করতে রেন্ডিয়ার হাসপাতাল সেরা! আই পি এল বাদ দিমু?

রেন্ডিয়ার চাউল ডাউল আমদানি করা ৭ দিন বন্ধ থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয়  দ্রব্যমূল্য আসমানে উঠবে!

ভাইরে পদ্মা মেঘনা যমুনার পানি ভারতের ভিতর থাইক্যা আসার আগে সেই পানিতে ডান্ডির দল সকাল বিকাল স্নান করে! সেই অঙ্গ ধোয়া পানি এই ভাটির দেশে আসে!  আর আমরা তা ব্যবহার করি!

এখন এই পানি কি হালাল?

আছে বাংলা সাত বারের নাম — রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি,  শুক্র, শনি — প্রত্যেকটাই দেবতা এবং ঋষি মুনিদের নাম!
আছে বাংলা বারো মাসের নাম— বৈশাখ জৈষ্ঠ্য থেকে আশ্বিন কার্তিক — দেবতাদের নাম! বলা হয় বারো মাসে তেরো পুজো!  কি জঘন্য কি জঘন্য! 
গ্রহ নক্ষত্র গুলোও এরা দখল করে রেখেছে — বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল , বৃহস্পতি, শনি…… আর সূর্য তো স্বয়ং এদের দেবতা!

কি গলায় দম আটকাই গেছে?

দাঁড়ান একটু দম নেন… ইতিহাস থেকে…. পবিত্র কুরআন শরীফ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন বাবু গিরীশ চন্দ্র সেন!
এখন কি বাংলায় কুরআন শরীফ পড়া জায়েজ হবে??
….
দূর ব্যাটা…..  ধর্ম দিয়ে কি দুনিয়া চলে? দুনিয়া চলে মানুষ দিয়ে! মানুষ না থাকলে ধর্ম পালন করতো কে?

ইদানীং আবার শুনতাছি ইলিশ চিংড়ি আর পান্তাভাত হিন্দু কোটায় খেলতেছে,  ঈমান নিয়া টানতেছে! :/

আমরা হিন্দু না মুসলিম এর থাইক্যাও বড় পরিচয় আমরা মানুষ! 
এলা পেট ভইরা মিষ্টি খা! আর টিভির রিমোট টা দে….
আই পি এল দেখুম! :/