নিষিদ্ধ হোক বোরকা, বোরকা পরার স্বাস্থ্যগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কুপ্রভাব’ – ১ম পর্ব

Spread the love

♨🚫 এক্সক্লুসিভঃ ‘নিষিদ্ধ হোক বোরকা, বোরকা পরার স্বাস্থ্যগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কুপ্রভাব’ – ১ম পর্ব 🚫♨

লেখকঃ 💙💚 মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী 💚💙

ফেসবুক আইডিঃ https://www.facebook.com/mushfiqueimtiaz

♨ ভূমিকাঃ

সাধারণ মানুষের ধর্মভীরুতার অসৎ সুযোগ নিয়ে ও ধর্মান্ধ শাসকগোষ্ঠীর প্রশ্রয়ে বাংলাদেশে নীরবে বোরকা বিপ্লব ঘটে গেছে। বাংলাদেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপট তথা দেশীয় সংস্কৃতির বিচারে এই বিপ্লব চরমভাবে আশঙ্কাজনক ও নেতিবাচক। এটা গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অভিজাত বিদ্যাপীঠ থেকে শুরু করে অজপাড়াগাঁয়ের সর্বত্র চোখে পড়ছে। তবে ইতিবাচকভাবে ২০১০ সালে বোরকার বিপক্ষে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের বিচার বিভাগ তৎপর হয়ে ওঠে।

২০১০ সালে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায় দেন –

কোন ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা যাবে না। যার কারণ হিশেবে উল্লেখ করা হয় –

“১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের চার মূলনীতির অন্যতম হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। এটি পঞ্চম সংশোধনী রায়ের মাধ্যমে পুনঃস্থাপিত হয়েছে। কাজেই কোনো ব্যক্তিকে কোনোভাবেই ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা যাবে না। এটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী”

এর আগে একই বছরের ২২ আগস্ট স্যুয়োমটো ক্ষমতাবলে স্বপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্ট  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশের কোনো দপ্তরে নারীদের বোরকা পরতে বাধ্য না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি মেয়েদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত না রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই রায়ের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন ব্যক্তিকে ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা যাবে না বলে এক সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোরকা বা ধর্মীয় পোশাক পড়তে বাধ্য করা ‘অসদাচরণ‘ বলে গণ্য করা হবে।

সূত্রঃ

ক) http://archive.prothom-alo.com/detail/news/98732

খ) http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2010-08-23/news/88711

গ) http://www.bbc.com/bengali/news/2010/08/100825_tbbdburqa

♨ যেসকল দেশে বোরকা নিষিদ্ধ কিংবা দণ্ডনীয় অপরাধঃ

বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোরকা পড়তে বাধ্য করা যাবে না – এমন আইন থাকলেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বোরকাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আসুন দেখে নেই –

🎲 ইউরোপঃ ফ্রান্স, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি, ইতালি, লাটভিয়া, নরওয়ে, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড। মাল্টা ও ইংল্যান্ডের অধিকাংশ জনগণ বোরকার বিপক্ষে কিন্তু কোন সরকারী নিষেধাজ্ঞা এখন পর্যন্ত নেই।

🎲 আফ্রিকাঃ ক্যামেরুন, চাদ, কঙ্গো রিপাবলিক, গ্যাবন, মরক্কোতে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ

🎲 এশিয়াঃ সিরিয়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ, তাজিকিস্তানে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রচলনে বিশেষ আইন যা বোরকার বিপক্ষে যায়

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Burqa#Around_the_world

♨ বোরকার সংজ্ঞাঃ

ইসলামী পরিভাষায়, বোরকা হলো নারীকূলের ইজ্জত ও সম্মান রক্ষার জন্য পাবলিক প্লেসে অবশ্য পরিধেয় এমন একটি পোশাক যার তিনটি অংশ রয়েছে –

❎ ক) জিবাবঃ একধরনের ঢিলে বডি কভার, যা শরীর সম্পূর্ণরূপে ঢেকে রাখে ।
❎ খ) হিজাবঃ একধরনের হেড কভারিং, যা মাথার চারপাশ ঢেকে রাখে ।
❎ গ) নিকাবঃ একধরনের ফেসিয়াল কভারিং, অর্থাৎ মুখমণ্ডলী ঢেকে রাখে ।

সূত্রঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Burqa

👉 সুরা আল আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে বোরকার স্বপক্ষে বলা হয়েছে –

O Prophet! Tell thy wives and daughters, and the believing women, that they should cast their outer garments over their persons (when abroad): that is most convenient, that they should be known (as such) and not molested

সূত্রঃ http://quranx.com/33.59

👉 সুরা আন নূরের ৩১ নং আয়াতে বলা হয়েছে –

And say to the believing women that they should lower their gaze and guard their modesty; that they should not display their beauty and ornaments except what (must ordinarily) appear thereof; that they should draw their veils over their bosoms and not display their beauty except to their husbands, their fathers, their husband’s fathers, their sons, their husbands’ sons, their brothers or their brothers’ sons, or their sisters’ sons, or their women, or the slaves whom their right hands possess, or male servants free of physical needs, or small children who have no sense of the shame of sex; and that they should not strike their feet in order to draw attention to their hidden ornaments. And O ye Believers! turn ye all together towards Allah, that ye may attain Bliss.

সূত্রঃ http://quranx.com/24.31

কোরান শরীফে যাই বলা থাকুক না কেন, বোরকা পরা সুনিশ্চিতভাবেই শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষতির কারণ এবং নারী স্বাধীনতার চরম পরিপন্থী। চলুন দেখে নেওয়া যাক, বোরকা কিভাবে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষতি করে।

আজ ১ম পর্বে বোরকা পরিধানের শুধুমাত্র ‘হাড়’ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যগত ক্ষতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

📛 প্রশ্নঃ মানবদেহে ভিটামিন ডি এর কাজ কী?

✅ উত্তরঃ ভিটামিন ডি একটি ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন। রোদে চলাফেরা বা রোদ পোহানোর সময় সূর্যালোকের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি মানবত্বকে একটি বিক্রিয়া সিরিজের মাধ্যমে ভিটামিন ডি তৈরি করে। অধিকাংশ ন্যাচারাল ফুড ও ফর্টিফায়েড খাদ্যেই ভিটামিন ডি খুবই নগণ্য পরিমাণে রয়েছে যার কারণে প্রতিদিন রোদে অন্তত ১৫মিনিট থেকে ভিটামিন ডি এর দৈনিক চাহিদা পূরণ করা অত্যন্ত জরুরী।

মানবদেহে ভিটামিন ডি এর কাজ হলো ক্যালসিয়ামের শোষণে সাহায্য করে রক্তে ক্যালসিয়াম লেভেল সমুন্নত রাখা যেই ক্যালসিয়াম মানবদেহের হাড় তৈরি এবং সেগুলোকে সুসংহত ও সুদৃঢ় করতে প্রধান ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি’র অভাবে হাড় দুর্বল, ভঙ্গুর ও বিকলাঙ্গ প্রকৃতির হয় যা থেকে বড়দের অস্টিওম্যালাশিয়া (Osteomalacia) ও ছোটদের রিকেটস (Rickets) হয়। এছাড়া হাড়ের ফ্র্যাকচার (Bone Fracture) ও অস্টিওপরোসিস (Osteoporosis) প্রতিরোধেও ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া হার্টের অসুখ (Cardiovascular Disease), টাইপ-১ ডায়াবেটিস (Insulin Dependent Type I Diabetes Mellitus), মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (Multiple Sclerosis), রিউমাটয়েড আর্থরাইটিস (Rheumatoid Arthritis), মাংসপেশীর দুর্বলতা (Myopathy), সেইজ্যুর (Seizure), ক্রনস ডিজিজ (Crohn’s Disease) ও লম্বা না হওয়ার (Short Stature) সঙ্গে ভিটামিন-ডি স্বল্পতার সংশ্লিষ্টতা আছে। এমনকী স্তন ক্যান্সারসহ কতিপয় ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি স্বল্পতা রিস্ক ফ্যাক্টর হিশেবে কাজ করে।

♨ স্বাস্থ্যগত ক্ষতি:

📛 প্রশ্নঃ বাচ্চা মেয়েদের রিকেটস ও প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালাশিয়া, ব্যাক পেইন এবং অস্টিওপরোসিসে বোরকা কেন অন্যতম প্রধান কারণ?

উত্তরঃ

✅ ১) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুষ্টিবিদ অ্যাডেল ডেভিস তার Let’s Get Well গ্রন্থের ২৫৬ পৃষ্ঠায় বলেন –

Osteomalacia this disease its name literally means bad bones… results primarily from a severe vitamin-D deficiency. Arabian and Indian women who keep themselves havily veiled frequently develop such painful backs that they can scarcely rise, and they suffer multiple spontaneous fractures and have extremely rarefied bone, all of which clears up dramatically when vitamin D is given them.”

সূত্রঃ https://www.amazon.com/Lets-Well-Signet-Adelle-Davis/dp/0451154630

অর্থাৎ, আরবীয় ও ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে যারা বোরকা পরিহিতা বা নিজেদেরকে বেশ করে আবৃত করে রাখেন, তাদের তীব্র কোমর ব্যথা এবং হাড়ের স্বতঃস্ফূর্ত ফ্র্যাকচারের প্রবণতা অত্যন্ত বেশি ।

✅ ২) অ্যাডেল ডেভিস তার আরেকটি গ্রন্থ Let’s Eat Right to Keep Fit এর ১৪০ পৃষ্ঠায় বলেন –

Sir Robert McCarrison, the great English physician, wrote of osteomalacia in India among the Mohammedan women observing the custom of purdah. These women veil their faces at adolescence and rarely go outside their homes.”

সূত্রঃ https://www.amazon.com/Lets-Eat-Right-Keep-Signet/dp/0451155505

অর্থাৎ ভারতের পর্দানশীল মুসলিম নারীদের মধ্যে অস্টিওম্যালাশিয়ার হার বেশি ।

✅ ৩) নামকরা চিকিৎসক ওপি কাপুর তার Deficient sunlight in the aetiology of oseromalacia in muslim women গ্রন্থে বলেন –

In most of the Sunni Muslim women (who form majority of the muslims), in spite of high intake of calcium, osteomalacia is often seen. There are two reasons for this:

1. Use of burkha which prevent sunlight reaching the skin.
2. Living indoors- most of the muslim women specially those staying in the muslim localities, do not move out of the house and thus are not exposed to the sun and often develop osteomalacia.

সূত্রঃ http://www.islam-watch.org/index.php?option=com_content&view=article&id=62:veiling-of-muslim-women-vitamin-d&catid=81:acharya&Itemid=58

বিস্তারিতঃ https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3772916

✅ ৪) ইউরোপ-আমেরিকা-কানাডার মত শীতপ্রধান দেশগুলোতে মুসলিম ইমিগ্র্যান্টের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, শীতপ্রধান দেশগুলোতে সূর্যালোকের ইনটেনসিটি বা প্রাবল্য কম বলে সেই সকল দেশে সূর্যালোকে বেশিক্ষণ থাকার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। এজন্যই ‘সান বাথ’ –সেসব দেশে একটি কমন ট্র্যাডিশনে পরিণত হয়েছে । এমন দেশগুলোতে মুসলিম নারীরা বোরকা পরে থাকলে তাদের সমূহ স্বাস্থ্যগত ক্ষতি । আয়ারল্যান্ডে বোরকা পরিহিতা মুসলিম নারীদের প্রসঙ্গে ডাঃ মিরিয়াম ক্যাসি বলেন-

In Ireland, which is experiencing a large influx of muslim immigrants at the moment, women wearing the burqa, doctors are warning, ‘are at increased risk of pelvic fractures during childbirth because of vitamin D deficiency due to a lack of sunlight. “And babies born to women with vitamin D deficiency are also more prone to seizures in their first week of life,” according to Dr Miriam Casey, expert in Medicine for the Elderly at the Osteoporosis Unit in St James’s hospital in Dublin. The burqa – an all-enveloping outer garment, does not allow enough sunlight through to give women sufficient vitamin D, she warns.

সূত্রঃ http://www.digitaljournal.com/article/272307#ixzz1Rv2oEH00

✅ ৫) ইমিগ্র্যান্ট মুসলিম নারীদের মধ্যে যে ভিটামিন ডি-র চরম অভাবজনিত সমস্যা বিরাজমান সে সম্পর্কে বিস্তারিত –

There concern arises when these women migrate to countries with lower amounts of sunlight throughout the year compared to their previous home country. Skin tone is darkest at the equator in response to the sunlight.Darker skin blocks out significantly more UV radiation and hence decreases Vitamin D production by an enormous amount (people with dark skin pigmentation may need 20 – 30 times as much exposure to sunlight). All these factors combined with the heavily covering Islamic dress create serious potential health concerns for Islamic migrants in countries away from the equator such as Canada, the United States, Europe and Australia.

সূত্রঃ

ক) Hagenau, T., et al., Global vitamin D levels in relation to age, gender, skin pigmentation and latitude: an ecologic meta-regression analysis. Osteoporosis International, 2009. 20(1): p. 133-140.

খ) Hanley, D.A. and K.S. Davison, Vitamin D Insufficiency in North America. The Journal of Nutrition, 2005. 135(2): p. 332-337

✅ ৬) সর্বাধিক আরব-আমেরিকান জনগোষ্ঠীপূর্ণ এলাকা মিশিগানের ডিয়ারবর্নে চালানো একটি সার্ভে থেকে দেখা যায় –

A study was undertaken in Dearborn, Michigan, the most-concentrated Arab-American settlement in the United States to assess the relationship between Vitamin D levels and Islamic dress choice in migrant Arab-American Muslim women. The average vitamin D level was found to be 4 ng/ml in veiled women who undertook no vitamin D supplementation and 7 ng/ml in women who wore the same style veil but chose to take supplements. The threshold for rickets and osteomalacia risk is 8 ng/ml and below; clinical deficiency is considered as anything below 16 ng/ml

সূত্রঃ Heaney, PR. Functional indices of vitamin D status and ramifications of vitamin D deficiency. American Journal of Clinical Nutrition 2004; 80 : S1706 – S1709

অর্থাৎ রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাশিয়ার ঝুঁকি মুসলিম নারী ও শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ।

✅ ৭) আশ্চর্যজনকভাবে, পৃথিবীর সবচেয়ে সূর্যালোক প্রবণ অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে রিকেটস ও অস্টিওম্যালাশিয়ার হার খুব বেশি, এর পেছনে কারণ বোরকা পরা। বিশিষ্ট চিকিৎসক ও গবেষক মাইকেল হোলিকের Resurrection of vitamin D deficiency and rickets শীর্ষক রিপোর্ট বলে-

Remarkably, in the sunniest areas of the world, rickets is a major health problem. Because of the practice of purdah or wearing a burka, avoidance of exposure of any skin to sunlight, and the fact that few foods are fortified with vitamin D, upward of 35–80% of children in Saudi Arabia

সূত্রঃ http://www.jci.org/articles/view/29449/version/1

✅ ৮) সৌদি আরবে বোরকা এবং হিজাব বাধ্যতামূলক, সেখানে কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে কতিপয় নারীর ওপর চালানো সার্ভে রিপোর্টে দেখা যায় –

A study performed by doctors at King Fahd University Hospital in Saudi Arabia, showed that out of all 52 women tested, all had seriously deficient levels of Vitamin D and were at risk of many serious health problems, despite living in one of the sunniest places on the planet.

সূত্রঃ Elsammak, M.Y., et al., Vitamin D deficiency in Saudi Arabs. Hormone and Metabolic Research, 2010. 42(5): p. 364-368.

✅ ৯) মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি দেশ জর্ডানে চালানো সার্ভেতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৮৮.৩ % হিজাবী ও বোরকা পরিহিতা মহিলা ভিটামিন ডি ডেফিসিয়েন্সিতে ভুগছেন । অথচ, সূর্যালোকে অবস্থান করার কারণে মাত্র ১৮.২ % পুরুষের ভিটামিন ডি’র অভাবজনিত সমস্যা রয়েছে ।

In a study undertaken in Jordan, 83.3% of women wearing the most covering style of Islamic dresses were found to be deficient in summer time. This is rather striking when compared to the fact only 18.2% of Jordanian men studied were found to be deficient.

সূত্রঃ Mishal, A.A., Effects of Different Dress Styles on Vitamin D Levels in Healthy Young Jordanian Women. Osteoporosis International, 2001. 12(11): p. 931-935

✅ ১০) মুসলিম নারীদের মধ্যে বোন টার্ন ওভারের সমস্যা অনেক বেশি । অস্ট্রেলিয়ার মেডিক্যাল জার্নালে একটি ক্রস সেকশনাল স্টাডির রিপোর্ট দেখি চলুন –

Eighty-nine (75%) were veiled and 50 (42%) stated that they were exposed to more than 60 minutes of sunlight per week.

1. Eighty-one women (68.1%) showed evidence of “severe” vitamin D deficiency
2. Fifty-five (46.2%) Muslim women were found to have elevated urinary DPYD excretion rates.
3. Hyperparathyroidism occurred in 46 (38.6%) women.

সূত্রঃ http://www.mja.com.au/public/issues/177_03_050802/dia10809_fm.html

✅ ১১) অস্টিওপরোসিসের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে – মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তিকালের পর নারীর দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন এবং মধ্যবয়সী পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে যাওয়া । অতিরিক্ত সময় শুয়ে থাকা, রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস, ক্রনিক কিডনী ডিজিজ, হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম এবং ভিটামিন ডি জনিত অভাব, এই রোগের অন্যতম কারণ । বোরকা পরিধানের কারণে শরীর পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায়না আর বোরকা পরে কাজকর্ম, শারীরিক ব্যায়াম, খেলাধুলা করাও অসুবিধাজনক । তাই বোরকা পরিহিতা নারীদের মধ্যে অস্টিওপরোসিস হওয়ার প্রবণতা বেশি ।

সূত্রঃ

ক) http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmedhealth/PMH0001400
খ) http://www.webmd.com/osteoporosis/guide/vitamin-d-for-osteoporosis

✅ ১২) যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইল পত্রিকার রিপোর্ট দেখি চলুন –

People may be at risk if they are South Asian, African or African-Caribbean and have low exposure to sunlight, for example if they observe Hijab or do not spend much time outside.

দক্ষিণ এশিয়ান, আফ্রিকান এবং ক্যারিবিয়ান আফ্রিকান মুসলিম নারীদের জন্য সূর্যালোক অপরিহার্য, কেননা তাদের মধ্যে সূর্যালোক এক্সপোজারে অনীহা রয়েছে এবং তারা বোরকা-হিজাব পরিধান করে ।

সূত্রঃ http://www.dailymail.co.uk/news/article-469196/Women-hijabs-need-sunlight-risk-illness.html

✅ ১৩) স্তন্যপান সকল শিশুর জন্য অপরিহার্য এবং সেই সকল শিশুর শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি যাদের মায়ের শরীরে ভিটামিন ডি কম পরিমাণে রয়েছে। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়ামের আন্ত্রিক শোষণ ও হাড় কর্তৃক শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বোরকা পরিহিতা নারীদের এবং তাদের শিশুদের হাড়ের বিকাশ ও গড়ন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে হয়না এবং পরবর্তীতে তারা হাড়জনিত সমস্যায় ভোগে ।

Breastfeeding is recommended for all babies; however, a baby may be at risk if breast-fed and the mother has a low vitamin D level herself.
vitamin D helps calcium get absorbed from the intestine and pushes the calcium into the bone.

এক্ষেত্রে জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম বিবিসি ও রয়টার্সের রিপোর্টঃ

ক) Rickets upsurge among UK Asians
খ) Middle Eastern women may have vitamin D deficiency

সূত্রঃ

ক) http://news.bbc.co.uk/2/hi/health/1154211.stm
খ) http://www.reuters.com/article/2007/06/25/us-middle-deficiency-idUSHAR56610220070625

♨ কতিপয় প্রশ্নঃ

মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক দেশগুলোতে এবং প্রবাসী মুসলিমদের মধ্যে বোরকা নিয়ে কিছু চরম ভুল ধারণা মাথায় ঢোকানো হয়েছে। এই মিথ্যেগুলো মুসলিম বিশ্বে এমন গণহারে প্রচার করা হয়েছে যে চিকিৎসাবিজ্ঞান এ বিষয়ে কি বলে তা যাচাই না করেই মুসলিমেরা এই মিথ্যেগুলোকে ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেয় । আসুন দেখি বোরকা এবং তার সাথে সম্পর্কিত কিছু বিষয়ে মুসলিম বিশ্বে প্রচলিত মিথ্যেগুলো নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান কি বলে –

📛 প্রচলিত মিথ্যেঃ পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর চাহিদা অনেক কম ।

✅ বৈজ্ঞানিক সত্যঃ একেবারেই মিথ্যে কথা । বরং নারীদের শরীরে ভিটামিন ডি এর চাহিদা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি কেননা,গর্ভকালীন সময়ে বিশেষ করে শিশুর হাড় তৈরী হওয়ার সময়ে ভিটামিন ডি (ও ক্যালসিয়াম) মায়ের শরীর থেকে খরচ হয়ে যায় ফলে, সেই ভিটামিন ডি স্বল্পতা পূরণ করতে সূর্যালোকে বেশ কিছু সময়ের জন্য অবস্থান খুবই জরুরী ।

লিংকঃ

http://www.cnn.com/2010/HEALTH/04/30/vitamin.d.pregnancy/index.html

📛 প্রচলিত মিথ্যেঃ অতিরিক্ত ভিটামিন ডি নারীদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বোরকা পরিধানের ফলে নারী-শরীর সূর্যের আলো থেকে রক্ষা পায় যেটি তাদের শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি উৎপাদন রোধ করে।

✅ বৈজ্ঞানিক সত্যঃ অতিরিক্ত যে কোন কিছুই ক্ষতিকর, তবে বোরকা পরিধান, গর্ভবতী হওয়া ও অন্যান্য কারণে নারীর শরীরে এমনিতেই ভিটামিন ডি’র চরম অভাব, তাই সেখানে সূর্যালোকে একটানা অনেকক্ষণ থাকলেও হাইপারভিটামিনোসিস ডি হওয়ার সম্ভাবনা নেই । এটি ঘটে শুধুমাত্র সিনথেটিক ভিটামিন ডি অর্থাৎ ক্যাপসুল বা ইঞ্জেকশন ফর্মে অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে।

Note: Hypervitaminosis D symptoms appear several months after excessive doses of vitamin D are administered

লিংকঃ

ক) http://en.wikipedia.org/wiki/Hypervitaminosis_D
খ) https://www.sciencedirect.com/topics/biochemistry-genetics-and-molecular-biology/hypervitaminosis-d

☑ সিদ্ধান্তঃ অতএব, বোরকা পরিধান একজন নারীর হাড়ের সুষ্ঠু গঠনের ক্ষেত্রে চরম অন্তরায়। তাই নিজেদের স্বার্থেই সকল নারীদের উচিত বোরকাকে বর্জন করা। আগামী পর্বে ব্রেস্ট ক্যান্সারসহ শরীরের হাড়তন্ত্র ব্যতীত অন্যান্য তন্ত্রের অসুখে বোরকার ক্ষতিকারক ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

লেখাটি ভাল লাগলে লাইক দিন, শেয়ার করুন। আপনাদের সুচিন্তিত মন্তব্য একান্ত প্রত্যাশিত। ♥️✌️♥️

https://durmor.com/wp-admin/post.php?post=1762&action=edit

https://durmor.com/wp-admin/post.php?post=1764&action=edit