আম্বাবীয়ার জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী…………………………………..।।।

Spread the love

হেমচন্দ্র: ইতিহাসের পাতায়
গোপালপুর উপজেলার হেমনগর রাজবাড়ি উল্লেখযোগ্য। হেমনগর রাজবাড়ির রাজা
ছিলেন
রাজা হেমচন্দ্র। বিখ্যাত আম্বাবীয়ার জমিদার বংশের কালীচন্দ্র চৌধুরীর
পুত্র
হেমচন্দ্র চৌধুরী। জন্ম ১৮৩৩ সালে। তার নামেই এলাকাটির নাম হয়েছে
হেমনগর।
তিনি পুখুরিয়া পরগণার একআনি অংশের জমিদার ছিলেন।
হেমবাবু প্রজাকল্যাণে রাস্তাঘাট,
পুকুর ইত্যাদি
নির্মাণ করেন। পারিবারিকমন্ডলে হেমনগর হিতৈষী নামে পত্রিকা প্রকাশ
করেন।
তাঁর বাড়িতেই বর্তমানে হেমনগর কলেজ স্থাপিত। তিনি শিক্ষা প্রসারের
জন্য
হেমনগরে তাঁর মায়ের নামে শাশীমুখী উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
এছাড়া
তিনি গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গৃহ নির্মাণ কল্পে জমিদানসহ পিংনা
ইংরেজি
উচ্চ বিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল স্কুল
, গোপালপুর বালিকা বিদ্যালয় এবং বরিশাল মুক ও বধির বিদ্যালয়ে
উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দান করেছিলেন।
প্রজাদের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা
করে হেমনগরে স্থাপন করেন হরদূর্গা
দাতব্য চিকিৎসালয়। ম্যালেরিয়ার
স্বর্গরাজ্য বলে কথিত এ অঞ্চলে বিংশ শতকের
প্রথমার্ধে হেমবাবু
ডাকঘর মারফত মাসিক ১৫ পাউন্ড কুননিল ঔষধ বিতরণ
করতো। এছাড়া পিংনা দাতব্য চিকিৎসালয়
, ময়মনসিংহ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নির্মাণে, ময়মনসিংহ পুরাতন হাসপাতালের সৌধ
নির্মাণে অনেক অর্থ দান করেছেন।
তৎকালে দুর্গম চট্টগ্রামের চন্দ্রনাথ
পাহাড়ে তীর্থযাত্রীদের জন্য লোহার
সেতু স্থাপনের জন্য সিংহভাগ অর্থ তিনিই
প্রদান করেছেন। কবি ও গীতিকার
হিসেবে হেমবাবুর তৎকালে সুনাম ছিলো।
তাঁর কয়েকটি কবিতার বইও প্রকাশিত
হয়েছিলো। হেমচন্দ্র চৌধুরীর বাড়িতে
নাট্যশালাও ছিলো। তবে হেমবাবুর
প্রজানিপীড়নের চিত্র পাওয়া যায়। ১৯১৫
সালে মৃত্যুবরণ করেন।