ইজরাইল কি ফিলিস্তিনে দখলদার? তাহলে নবাব সিরাজদৌলার পরাজয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যায় কি করে?… দাঁড়ান বুঝিয়ে বলছি। ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনে ভারতের স্বাধীনতা হরণ হয়নি, কারণ তারা এদেশেই থেকে গিয়েছিলো। এখানেই তাদের বংশধররা বসবাস করত। তাই ইংরেজ আগমণের পূর্বে ভারত কখনই পরাধীন হয়নি… ইতিহাসের এরকম বিশ্লেষণ যারা করেন তারাই আবার অস্ট্রিলিয়ার আদিবাসী মাওরি এবং আমেরিকার আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের নির্মূল করে ঐ দুটো দেশ দখল করার জন্য ইংরেজদের দায়ী করেন! অথচ ইংরেজরা সে দেশেই থেকে গিয়েছিলো, সেখানেই তাদের বংশধররা বেড়ে উঠেছে, এমনকি আমেরিকার স্বাধীনতার জন্য, পূর্ব পুরুষ ইংলেন্ডের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হতে তারাই মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো…। …এ কারণেই আমাদের বিবেচনা যে পক্ষাপাতে দুষ্ট তাতে কোন সন্দেহ নেই।

ইহুদীরা এতটাই খারাপ যে তারা ফিলিস্তিনি মুসলমানদের পাখির মত গুলি করে মারে! তো ইজরাইল রাষ্ট্রে যে ১৮% মুসলমানদের বসবাস ইজরাইল কেন তাদের উপর প্রতিশোধ নেয় না? ঘুড়ির মধ্যে আগুন দিয়ে ফসলের ক্ষেত জ্বালিয়ে দেয়া, ইজরাইল সৈন্যদের উপর পেট্রলবোমা ছুড়ে মারার ফল কেমন হতে পারে বলে মনে হয় আপনাদের যাদের ৯০ দশকে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পর তার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের হিন্দু মন্দির আর বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন? যারা বার্মাতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিশোধ তুলেন রামুর বৌদ্ধদের উপর তারা কি কখনো ভাবেন ইজরাইল তার রাষ্ট্রে মুসলিম নাগরিকদের কেন আঁচড়টি দেয় না?

ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে ইহুদীদের অংশিদার অস্বীকারের মধ্যে উপরে ইতিহাস বিশ্লেষণের মতই স্ববিরোধীতায় আমরা সবাই লিপ্ত। আমরা কেউ শান্তি চাই না যদিও মুখে তা বলি। শান্তি চাইলে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূমিটির উপর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় মিথলজির সম্মলিত উত্তরাধীকারকে স্বীকার করতাম। রোমান সৈন্যরা যখন ইহুদীদের পবিত্র সোলাইমানের মন্দির পুড়িয়ে দিয়েছিলো তখন এখানে কোন মুসলমানের চিহৃ ছিলো না। অর্থ্যাৎ ফিলিস্তিনিরা তখন মুসলমান হয়নি। ইসলামের নবীর তখন জন্মই হয়নি। ফিলিস্তিনিরা যদি মুসলিম না হয়ে পৃথিবীর অন্য যে কোন ধর্মের অনুসারী হতো তাহলে ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ হয়ে বা একই দেশে সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করতে পারত।

অর্থ্যাৎ ধর্মীয় ফ্যাক্ট! ফিলিস্তিনি ইজরাইল সমস্যায় ধর্মীয় সেন্টমেন্ট নেই- এটি বলার মত শক্তিশালী কোন কারণ কেউ দেখাতে পারবে না। বাইতুল মোকাদ্দেস ইহুদীরা তৈরি করেছিলো। এই ভূমি থেকে রোমান, মুসলিম শাসনে তারা বিড়াড়িত হয়েছিলো। এখান থেকেই তারা পৃথিবীর সব মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের চরম ইহুদী নিধনের পর তারা ঘুরে দাঁড়ায়। তারা জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে বিশ্বের সমস্ত ইহুদীদের জন্য পূর্ব পুরুষদের ভূমিতে নতুন প্রজন্মের কাছে ‘অস্তিত্ব’ গড়ে তুলে। এটি ইহুদীদের জন্য ভাল হয়নি। এই রাষ্ট্রটিকে রক্ষা করতে গিয়ে তাদের বিশ্বের কাছে নিন্দিত হতে হয়েছে। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তারা যখন কঠর হবে তখন সেটিই বড় করে সবার সামনে চলে আসবে। সেটাই ঘটছে…।

ফিলিস্তিনীরা যদি নিজের জন্য সত্যিই শান্তি ও স্বাধীন একটি রাষ্ট্র চায় তাহলে প্রথমেই তাদের ইজরাইল রাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে। আন্তর্জাতিক বামাতী বুদ্ধিজীবীদের উশকানিতে কান না দিয়ে তাদের অবশ্যই জাতীয়তাবাদী আন্দোলন করতে হবে। ইজরাইল সীমান্তে পেট্রলবোমা মেরে তারপরই নফল নামাজ পড়ে সেজদায় গিয়ে ইজরাইল সৈনিকের গুলি খেয়ে মরলে বিশ্ব ঘৃণাবাদী ধর্মীয় আন্দোলন চাঙ্গা হয়, হামাসের মত সন্ত্রাসী দলগুলোর তাতে অনেক লাভ হলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্ন সুদূরে অস্ত যায়…। ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে অবশ্যই তাদের স্বাধিকার আন্দোলন থেকে সচেতনভাবে দূরে রাখতে হবে। মুসলমানদের সর্বনাশী ইহুদী ঘৃণা পরিত্যাগ করে প্রতিবেশী মনোবভাব না আনলে গুলতি দিয়ে ফাইট করতে করতে তাদের জাদুঘরে চলে যেতে হবে…।