যশোর রোড আবার ফিরে আসবে। যে অন্ধকারকে ডেকে আনা হচ্ছে তাতে কাটাতারের ওপারের যশোর রোডটা দ্রুত স্পষ্টতর দেখাচ্ছে…। 

যুদ্ধে ছিন্ন ঘর-বাড়ি-দেশ 

মাথার ভেতর বোমারু বিমান 

এই কালোরাত কবে হবে শেষ?”

অ্যালেন গিন্সবার্গের কবিতা থেকে মৌসুমী ভৌমিকের বাংলায় অনূদিত উপরের চারটি বাক্যই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা বোঝার জন্য যথেষ্ট। বলছিলাম বহু বছরের পুরনো গাছের সারিময় যশোর রোডের কথা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক নীরব সাক্ষী হয়ে আছে যেন এই যশোর রোড ও এর গাছগুলো। 

 

সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফালানীর লাশের ছবি দেখে আসিফ নজরুলের এখনো কান্না পায়। কয়েক লক্ষ নারীকে পাইকারী হারে যারা গণধর্ষণ করেছিলো, তাদের সহযোগীদের এই আসিফ নজরুলই নির্দোষ প্রমাণ করতে চেয়েছিলো। 

আল বদরদের বিচারটা বিতর্কিত করতে চেয়েছিলো। ফালানী কোন বিষয় না, এরকম অল্প বয়েসী গরীব বালিকারা আসিফ নজরুলদের ঘরে কুলুর বলদের মত খাটে। বয়েসের চেয়ে ভারি কাজ করে অল্প বয়েসে বুড়িয়ে যায়। 

কখনো কখনো গিন্নির গরম খুনতির ছ্যাকা জরায়ুতে খেয়ে সংবাদ শিরোনাম হয়। নয়ত সৌদি শেখদের হাতে চালান হয়ে যৌনদাসী হয়। 

সৌদি ভাইয়াদের যৌন দাসী সংগ্রহ নিয়ে আসিফ নজরুলদের কোনদিনই মাথা ব্যথা নেই। হাজার হাজার নারী সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে পেটে বাচ্চা নিয়ে দেশে ফিরেছে। 

এসব নিয়ে তারা কোনদিন একটা শব্দ করে না। তার বদলে ভারতের টিভি চ্যানেল দেখে এদেশের মেয়েদের চরিত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটাও ভারতীয়দের একটা চক্রান্ত…।

হিন্দু পরিচয়ে হোক বা হিন্দু নামেই হোক, কোলকাতার ‘দাদাবাবুদের’ এই রকম ইঙ্গিতপূর্ণ সম্ভাষণ করে তাদের কষে লাঠি দিয়ে পিটাতে চাইলে বুঝতে হবে তার মধ্যে বড় ধরণের ঘাপলা আছে। 

বাংলাদেশের হিন্দুদের অব্যাহত দেশত্যাগ এক নিয়তি। ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে যেহেতু বাংলাদেশ ত্যাগ করতে হয়েছিলো ১৯৪৭ সালে তাই তাদের দুই পাড়েই আত্মীয়স্বজনের বসবাস। 

আসিফ নজরুলদের ‘দাদাবাবুদের ধুতে ধরে টানার’ খায়েশ খুবই স্বাভাবিক কিন্তু একজন নিরুশ্বরবাদী ব্যক্তিও কেবলমাত্র হিন্দু নামের কারণে এক সময় দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারে। 

সামান্য বাংলিশে কমেন্ট করলে যদি লাঠি দিয়ে পিটাতে ইচ্ছা জাগে তাহলে শেষতক ইন্ডিয়াতে আশ্রয় মিলবে কি? সোশাল মিডিয়ার যুগে তো কিছুই গোপন থাকে না। মাইলস ব্যান্ডের শাফিন হামিমদের ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে ইন্ডিয়াকে ‘রেন্ডিয়া’ ডাকা কোলকাতার রূপম ইসলাম সহজভাবে নেয়নি। 

মাইলসের কোলকাতায় গানের আমন্ত্রণ বাতিল হয়ে যায় রূপমের বিরোধীতার কারণে। 

ঋতিক ঘটকরা ঘাড় ধাক্কা খেয়ে অপদস্ত হয়ে দেশ ছাড়েও একাত্তরে কোলকাতার রাস্তায় বাক্স হাতে পূর্ববঙ্গে জন্য টাকা তুলেছিলেন। 

ঋতিকদের দ্বিতীয় তৃতীয় জেনারেশদের সরাসরি পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যোগ নেই। নোয়াখালী দাঙ্গা বাধিয়ে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে গৃহহীন করে, দেশছাড়া করে, ৬৫ সালে শত্রু বলে চিহিৃত করে দেশ ছাড়া করার পরও ৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত ‘বাঙালদের’ ঐতিহাসিক অবদান একমাত্র গাদ্দার ছাড়া আর কে ভুলতে পারবে না। 

বাংলাদেশের সব হিন্দুদের এক সময় ভারতে আশ্রয় নিতে হবে। তারপর ফান্ডামেন্টালিস্টদের শাসনে মুসলমানরা আশ্রয় নিবে। 

যশোর রোড আবার ফিরে আসবে। যে অন্ধকারকে ডেকে আনা হচ্ছে তাতে কাটাতারের ওপারের যশোর রোডটা দ্রুত স্পষ্টতর দেখাচ্ছে…।

এমন হিন্দু পাওয়া যাবে না যার কোন আত্মীয় সাম্প্রদায়িক কারণে দেশছাড়েনি। পিনিক ভটভট চ্যাটেরজির কোন জ্ঞাতিগুষ্ঠি কি তার শ্বশুড়ের ধর্মের কারণে দেশ ছাড়েনি? 

অতি উৎসাহি হিন্দুদের হাতের লাঠিটা যেটা আপনাদের মুসলমান ভাইদের খুশি করতে খাড়া করে রাখছেন কোলকাতার ‘দাদাবাবুদের পিঠে মারতে’ সময় সুযোগ মত আসিফ নজরুলরাই সেটা আপনাদের পশ্চাদেশ দিয়ে ভরে দিবে! আমার কথা পরে মিলিয়ে নিয়েন…।

আরো দেখুন….