ইসলামিক অপবিজ্ঞানঃ

অমুসলিম ফরাসী ডাক্তার মরিস বুকাইলি ও কানাডিয়ান ভ্রূণতত্ত্ববিদ কিথ মুর সমগ্র।

Spread the love

ইসলামিক অপবিজ্ঞানঃ অমুসলিম ফরাসী ডাক্তার মরিস বুকাইলি ও কানাডিয়ান ভ্রূণতত্ত্ববিদ কিথ মুর সমগ্র। ইসলামিক অপবিজ্ঞানঃ অমুসলিম ফরাসী ডাক্তার মরিস বুকাইলী ও কানাডিয়ান ভ্রূণতত্ত্ববিদ কিথ মুর সমগ্র

প্রশ্নঃ মরিস বুকাইলী কে ছিলেন?

উত্তরঃ একজন ফরাসী ডাক্তার যিনি সৌদি রাজপরিবারের চিকিৎসক ছিলেন এবং তাদের বরাদ্দকৃত অর্থে Bible, The Quran And Science নামক একটি অবৈজ্ঞানিক উদ্ভট গ্রন্থ লিখে মুসলিম জগতে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলেন। কোরান থেকেই নাকি বিজ্ঞান এসেছে – এমন হাস্যকর বক্তব্যই ছিল এই গ্রন্থের উপজীব্য।

প্রশ্নঃ মরিস বুকাইলি একজন সার্জন ছিলেন – মুসলিমদের এমন দাবী কী সঠিক ? চিকিৎসাবিজ্ঞানে মরিস বুকাইলির অবদান কী ?

উত্তরঃ একদমই মিথ্যে কথা। তিনি সার্জন ছিলেন না বরং ছিলেন মেডিসিনের ডাক্তার। তিনি স্পেশালিস্ট হয়েছিলেন কিনা এই ব্যাপারটি সন্দেহজনক কেননা তার শুধু ব্যাচেলর ডিগ্রিই ছিল, স্পেশালাইজড কোন ডিগ্রি ছিল না। আর, তিনি ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যাচেলর করেন  যে সময় ফ্রান্স ছিলো জার্মানির দখলে। যুদ্ধের সময় শত্রু জার্মানি অধিকৃত একটি দেশে কতটুকু পড়াশোনা হতে পারে, সেটি সুস্পষ্ট অনুমেয়। আসুন প্রমাণ দেখি –

Bucaille practiced medicine from 1945–82 and was a specialist in gastroenterology.

সূত্রঃ  এখানে..

কিংবা

At the outset of WWII, Bucaille was heading to Paris to enroll as a medical student in ‘l’Ecole de Medicine’ (School of Medicine) at the University of Paris. As the war ended in 1945 Maurice had completed his academic studies to join the University clinic as a junior gastroenterologist.

সূত্রঃ এখানে.. 

চিকিৎসাবিজ্ঞানে মরিস বুকাইলীর অবদান শূন্য। তিনি গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি নিয়ে কোন গবেষণা করেননি, কোন মেডিকেল থিওরী দেননি কিংবা কোন ঔষধ বা চিকিৎসাপ্রণালীও আবিষ্কার করেননি।

ফরাসী ডাক্তার মরিস বুকাইলি
ফরাসী ডাক্তার মরিস বুকাইলি

প্রশ্নঃ কিভাবে মরিস বুকাইলি সৌদি রাজপরিবারের চিকিৎসক হলেন ?

উত্তরঃ যুদ্ধের সময় পাস করা সাধারণ ডাক্তার মরিস বুকাইলী ছিলেন অত্যন্ত চালাক। তিনি জানতেন কোরান তথা ধর্মের প্রতি অন্ধ ইসলামিক রাষ্ট্রের মানুষের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে কোরানকে ব্যবহার করতে হবে এবং সেটিই তিনি করেছিলেন। মরিস বুকাইলী ১৯৭৪ সালে মিসরে যেয়ে কোরানের একটি আয়াতকে কেন্দ্র করে একটি রিসার্চ করার প্রস্তাব দেন যার মাধ্যমে মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক তৈরি হয়। সেই আনোয়ার সাদাতই তাকে সৌদি বাদশার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সৌদি বাদশা মরিস বুকাইলীকেই রাজপরিবারের চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেন।

He made his first visit to Egypt in summer of 1974 to propose a research project prompted by a verse in the Qur’an. His acquaintance with the Sadats had proven to be quite useful in his scientific endeavor. It was President Sadat who introduced him to King Faisal of Saudi Arabia to intermittently visit the monarch for treatment till the king’s assassination on the 25th of March 1975.

উল্লেখ্য, মরিস বুকাইলী আরবী শেখা শুরু করেন ১৯৬৯ সালে এবং ৩ বছর সময়ে নিয়ে ১৯৭২ সালে আরবীতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন বলে দাবি করা হয় –
By the fall of 1969 Bucaille had enrolled to study Arabic at the University of Sorbonne’s Ecole des Langues Orientales (School of Oriental Languages). At the end of 1972 his Arabic had surprisingly become impeccable.

সূত্রঃ এখানে 

প্রশ্নঃ কত সালে মরিস বুকাইলী ‘কোরান, বাইবেল ও বিজ্ঞান’ নামের বইটি লেখেন?

উত্তরঃ ১৯৭৬ সালে – Bucaille’s knowledge of Arabic had added up to his earlier studies thus assisting in the completion of his groundbreaking comparative study ‘The Bible, the Qur’an and Science’ in 1976.

১৯৭৬-১৯৭২ = ৪ বছর! মাত্র ৪ বছরে তিনি কোরান নিয়ে এতো বড় জ্ঞানী হয়ে গেলেন? লক্ষ্যণীয়, এটি আসলে ৪ বছরও নয়। কারণ, ১৯৭৪ সালের তিনি মিসর/আরবে প্রথম যান। ২ কিংবা ৪ বছরের এই সামান্য সময়ে তিনি আরবী ও আরব সম্পর্কে সব জেনে ফেললেন? ‘জ্ঞান’ ব্যাপারটি কী এতো সস্তা যে এতো অল্প সময়ে সম্যকভাবে অর্জিত হতে পারে?

প্রশ্নঃ মরিস বুকাইলীর ঐ কোরান বাইবেল বিজ্ঞান নামক বইটি ছাড়া মুসলিমেরা আর কোন বইয়ের নাম কখনো করেছে কী?

উত্তরঃ না। কারণ অধিকাংশ মুসলিমেরা একদমই বই পড়ে না আর তার বাকি বইগুলোর মধ্যে ১টি ছিলো মমি নিয়ে, ১টি ছিলো মুসা আর ফারাও নিয়ে আর ২টি ছিলো মানুষের উৎপত্তি নিয়ে। ফলে, এসব বই নিয়ে মুসলিমরা কখনোই আগ্রহ বোধ করেনি।

সূত্রঃ এখানে

প্রশ্নঃ মরিস বুকাইলী কী মুসলিম হয়েছিলেন ?

উত্তরঃ না। মরিস বুকাইলী মুসলিম হননি। তার নাম মরিস বুকাইলীই আছে। ধর্মান্তরিত হলে তার ইসলামিক নাম থাকতো যা নেই। এছাড়া তার কণ্ঠ সংবলিত কোন ভাষণ কিংবা তার ১টি বইয়েও এমন কোন বক্তব্য নেই যে তিনি মুসলিম হয়েছেন। ইউটিউবে কিছু ভিডিও আছে যে মরিস বুকাইলী নাকি মুসলিম হয়েছেন। অথচ এসব ভিডিও প্লে করলে দেখা যায় – কিছু গান ভেসে আসছে, সেখানে বুকাইলীর কোন ভয়েস বা ভিডিও নেই। যেমনঃ

সূত্রঃ  এখানে..  

এখন কেউ যদি উইন্ডোজ মুভি মেকার দিয়ে মরিস বুকাইলির ছবি, কিছু টেক্সট আর আরবী গান জয়েন করে দাবি করেন মরিস বুকাইলী মুসলিম হয়েছিলেন, সেটি হাস্যকর নয় কী?

প্রশ্নঃ তাহলে মরিস বুকাইলী ইসলামের পক্ষে কোরান বাইবেল বিজ্ঞান বইটি কেন লিখলেন?

উত্তরঃ এটা কমন সেন্সের ব্যাপার যে মিসর ও সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠিত হতে, রাজাবাদশা ও প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে এবং নিজেও আরবদের বিশাল ধনভাণ্ডার থেকে কিছু অর্থ খসিয়ে নিতে মরিস বুকাইলী এই বজ্জাতিটা করেছিলেন। বুকাইলী যদি অন্তর থেকেই ইসলামের প্রতি ভক্ত হতেন তবে তখনি ইসলাম গ্রহণ করে নিজের মুসলিম নাম রেখে পৃথিবীকে সেটি জানিয়ে দিতেন। কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিলো অর্থসংশ্লিষ্ট। ফলে সৌদি রাজপরিবার থেকে ব্যাপক টাকা লুটেছেন ঠিকই কিন্তু তিনি মুসলিম হননি।

উল্লেখ্য, মরিস বুকাইলীর গ্রন্থটির বক্তব্য নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে অনেক হাসাহাসি হয়েছিলো।

আসুন দেখি –

According to Sameer Rahim, a literary critic, writing in The Daily Telegraph, some of Bucaille’s “assertions have been ridiculed by scientists and sophisticated theologians”

সূত্রঃ  এখানে 

প্রশ্নঃ বুকাইলিজম কী ?

উত্তরঃ বুকাইলিজমকে ইসলামী মৌলবাদের একটি বর্ধনশীল শাখা হিশেবে গণ্য করা হয় যেই মতবাদের মূলকথা হলো কোরান বিগ ব্যাং থিওরী, মহাশূন্য ভ্রমণসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মূলে যেখানে ১২০০ আয়াতেরও বেশি আয়াতকে আধুনিক বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। এই মতবাদের অনুসারীদের দাবি যে এই সকল আয়াতের কারণে পৃথিবীতে বহু অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।

আরব বিশ্বে এই মতবাদ ইসলামী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পড়ানো হয় এবং অন্তত একটি সাপ্তাহিক টেলিভিশন প্রোগ্রামে দেখানো হয়। এই মতবাদের পেছনে টাকা ঢালেন ওসামা বিন লাদেনের ভাবগুরু তথা আল কায়েদার কট্টর সমর্থক ইয়েমেনী সন্ত্রাসী শেখ আব্দুল মাজিদ জিন্দানী যাকে US Dept. of the Treasury – ‘Specially Designated Global Terrorist’ হিশেবে অভিহিত করে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বুকাইলিজমকে মূলধারার স্কলারগণ “disdained by most mainstream scholars” অর্থাৎ অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সূত্রঃ এখানে 

প্রশ্নঃ বুকাইলিজম মতবাদধারীদের গ্রন্থে যে অমুসলিম বিজ্ঞানীদের নামে ইসলামের পক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য দেখতে পাওয়া যায়, সেগুলো কী আসলেই তাদের বক্তব্য?

উত্তরঃ Tom Armstrong, William Hay, Alfred Kroner, and Allison (Pete) Palmer নামক বিজ্ঞানিগণ বলেন – তাদেরকে ধোঁকা দিয়ে শেখ আব্দুল মাজিদ জিন্দানী ও কনফারেন্স আহবায়কেরা কিছু ভিডিও করেন যেখানে তাদের বক্তব্যকে বিকৃত করে, অপপ্রচার ও অপব্যাখ্যার মাধ্যমে কোরানের পক্ষে ব্যাখ্যা করার অপচেষ্টা করা হয়। তাদের ইন্টারভিউয়ের ৪টি ভিডিও প্রমাণ পাঠকদের জন্য দেওয়া হল যেখানে তারা সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন কোরান বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভুল নয়।

সূত্রঃ

ক) http://dawahganda.blogspot.com/2013/01/western-scientists-testify-to-qurans.html
খ) https://www.youtube.com/user/ThisIsTheTruthUncut

উল্লেখ্য, ৮০ এর দশকে সৌদি সরকারের সঙ্গে সখ্য করে শেখ আব্দুল মাজিদ জিন্দানী বিভিন্ন কনফারেন্স আয়োজন করেন যেখানে এসকল অমুসলিম বিজ্ঞানীদের আনা হতো। তাদের পুরো খরচটাই মেটানোর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন দামী উপহার ও রাজকীয় অভ্যর্থনা-আপ্যায়নের মাধ্যমে তুষ্ট রাখা হতো –

Several non-Muslim scientists spoke of questionable practices used by Bucailleists to cultivate scientists and coax statements from them, including lavish entertaining, untrue promises to be “completely neutral,” and hard sell interviews by Sheikh Abdul Majeed Zindani.

The commission drew the scientists to its conferences with first-class plane tickets for them and their wives, rooms at the best hotels, $1,000 honoraria, and banquets with Muslim leaders — such as a palace dinner in Islamabad with Pakistani President Mohammed Zia ul-Haq shortly before he was killed in a plane crash. Ahmed also gave at least one scientist a crystal clock.

অর্থাৎ কোরানের মাহাত্ম্য তুলে ধরতে বুকাইলিবাদের প্রধান আর্থিক পৃষ্ঠপোষক শেখ আব্দুল মাজিদ জিন্দানী একটি কমিশন তৈরি করেন যেখানে মুস্তফা আব্দুল বাসিত আহমেদকে প্রতি মাসে ৩০০০ ডলার দেওয়া হয়। তার দায়িত্ব ছিলো কোরানের মাহাত্ম্য প্রচার করে আমেরিকা ও কানাডার বিজ্ঞানীদের নিজেদের দলে ভেড়ানো ও তাদের কাছ থেকে ইসলামের পক্ষে যায় এমন বক্তব্য সংগ্রহ করা। অনেক বিজ্ঞানীকে তুষ্ট করতে তাদের স্ত্রীসহ ফার্স্ট ক্লাস এয়ার টিকেট, সেরা হোটেলের রুম, ১০০০ ডলার সম্মানী এবং বড় বড় ভোজসভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৯৮৭ সালে বুকাইলিবাদের ১ম সম্মেলন হয় পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এবং সেখানকার প্রাসাদে রাজকীয় আতিথেয়তা ও আপ্যায়নের মাধ্যমে সেসব বিজ্ঞানীদের পাকিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থী সামরিক শাসক মোহাম্মদ জিয়াউল হকের সঙ্গে এক টেবিলে মহাভোজ দেওয়া হয়। প্রত্যেকটি বিজ্ঞানীকে সবচেয়ে কম হলেও অন্তত ১টি করে ক্রিস্টালের ঘড়ি দিয়ে তুষ্ট করা হয়।

আরো দেখুন –

Scientists complained of having fallen into a “trap” in interviews, or of “mutual manipulation” by the scientists and fundamentalists. Even the man who had been the Bucailleists most enthusiastic supporter, embryologist Keith L. Moore who had an edition of his textbook financed by Bucailleists and co-written with Sheikh Abdul Majeed Zindani, declined to be interviewed and told the newspaper, “it’s been 10 or 11 years since I was involved in the Quran.”

অর্থাৎ, এসব বিজ্ঞানীদের বিপুল অর্থ ও উপহার দিয়ে কিনে এবং প্রেসিডেন্ট ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে এক টেবিলে আপ্যায়িত করে এদের ঈমান কিনে নেওয়া হয়। এই বিজ্ঞানিগণ পরবর্তীতে অভিযোগ তোলেন যে তারা ফাঁদে পড়েছিলেন কিংবা মুসলিম উগ্রবাদীদের দ্বারা জীবন নাশ হওয়ার ভয়ে তাদের একটি মধ্যবর্তী চুক্তিতে আসতে হয়েছিল।

এমনকী ভ্রূণতত্ত্ববিদ কিথ মুর, যিনি একদা তার গ্রন্থে কোরানের মাহাত্ম্য তুলে ধরেছিলেন, তিনি পরবর্তীতে ভ্রূণতত্ত্বে আসলেই কোরানের মাহাত্ম্য আছে কিনা এ ব্যাপারে কোন ইন্টারভিউ দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পত্রিকায় বলেন –

‘প্রায় ১০-১১ বছর হয়ে গেছে, আমি কোরানের ব্যাপারে জড়িত ছিলাম’ অর্থাৎ, এখন আর তিনি এই ব্যাপারে কিছুই বলতে চান না।

প্রশ্নঃ কেন কিথ মুর এখন কিছু বলতে চান না ?

উত্তরঃ কারণ, সেসময় অপরিচিত কিথ মুরের অর্থবিত্ত ও পরিচিতি দরকার ছিল, তিনি ব্যাপক অর্থ ও উপহার পেয়ে কোরানের পক্ষে কয়েক লাইন লিখে দিয়েছিলেন। এখন তার অর্থবিত্ত ও পরিচিতি হয়ে গেছে, তাই এখন তিনি আর এই ব্যাপারে কথা বলতে চান না এবং ‘১০-১১ বছর আগের কথা’ বলে ব্যাপারটিকে এড়িয়ে যাওয়াকেই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেন।

সূত্রঃ এখানে

বলা বাহুল্য, মরিস বুকাইলিকে যেভাবে সৌদি রাজপরিবারের চিকিৎসক হিশেবে বিপুল অর্থ দিয়ে পোষা হয়, কিথ মুরকেও সেই একইভাবে ১৯৮০ সালে সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে এসে কোরানের সাথে বিজ্ঞানের যোগসূত্র স্থাপনের জন্য কাজ করতে বলা হয়। বিপুল অর্থ পেয়ে ও মুসলিম উগ্রবাদীদের খেপিয়ে জীবন বিপন্ন হতে পারে এই আশংকায় কিথ মুর কোরানের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বলে থাকতেই পারেন কিন্তু পরবর্তীতে কোরানের মাহাত্ম্য নিয়ে কথা বলতেই অস্বীকৃতি জানান। আসুন দেখি – 

In 1980 Dr. Moore was invited to Saudi Arabia to lecture on anatomy and embryology at King Abdulaziz University. While he was there, Moore was approached by the Embryology Committee of King Abdulaziz University for his assistance in interpreting certain verses in the Qur’an and some sayings in the Hadiths which referred to human reproduction and embryological development.

কোরানের মাহাত্ম্য সম্পর্কে কিথ মুরের বক্তব্যকে চরমভাবে ব্যঙ্গ করে ম্যাগাজিন নেচার কর্তৃক স্বীকৃত Pharyngula নামক শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা তথা নামকরা জীববিজ্ঞানী পি জে মেয়ার্স বলেন –

My particular field of developmental biology has been particularly afflicted with this nonsense, thanks to one man, Dr. Keith L. Moore, of the University of Toronto. He’s the author or co-author on several widely used textbooks in anatomy and embryology — and they are good and useful books! — but he’s also an idiot. He has published ridiculous claims that the Qur’an contains inexplicably detailed descriptions of the stages of human development, implying some sort of divine source of information.
For instance, the old book claims that at one point the embryo looks like a piece of chewed gum, or mudghah, and Moore announces, “by golly, it does, sorta”, throwing away all the knowledge we have about the structure and appearance of the actual embryo, which is not a chewed lump

সূত্রঃ এখানে 

অর্থাৎ, “যেমন ধরুন, কোরানে লেখা আছে ভ্রূণ দেখতে মুদগাহ বা চুইংগামের মতো। ব্যাস, মুর আধুনিক বিজ্ঞান ভ্রূণের গঠন ও রূপ সম্পর্কে যা বলে তা এক নিমিষে ছুঁড়ে ফেলে ঘোষণা করে দেবেন – হ্যা, এইতো, ও খোঁদা, কোরানে এমনটিই আছে, কোরান মহান” !

প্রশ্নঃ কিথ মুর যদি কোরানকেই সত্য মনে করতেন, তাহলে কী ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হতেন না ?

উত্তরঃ অবশ্যই হতেন। কিন্তু কিথ মুর কখনো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেননি, খ্রিষ্ট ধর্মকেই বজায় রেখেছেন। তাই তিনি তার ভাষণে বলেছেন – “…As a Non-Muslim for me to tell people…” অর্থাৎ তিনি মুসলিম নন। তার মানে কোরানের মাহাত্ম্য প্রচারের পেছনে বিপুল অর্থ ও পরিচিতি-প্রসিদ্ধি লাভ একটি কারণ হতে পারে নতুবা কারণ হতে পারে ইসলামিক জঙ্গি দ্বারা নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশংকার বিষয়টি। 

সূত্রঃ এখানে

কিথ মুর তার আরেকটি ভাষণে বলেন, “Dr. Persaud এর মতো আমিও বলছি, আমরা আরবী জানি না। ধর্মীয় বিজ্ঞরা আমাদের কোরান অনুবাদ করে শুনিয়েছেন যার প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের ব্যাখ্যা দিয়েছি। আমরা বলছি না যে কোরানে যা লেখা আছে, সেগুলো নির্ভুল”

“As Dr. Persaud said, we don’t read Arabic. The Scholars translated for us. We simply give our interpretations. We are not saying they are accurate.”

সূত্রঃ এখানে

প্রশ্নঃ বুকাইলির গ্রন্থ সম্পর্কে বিজ্ঞজনদের মতামত কী ?

উত্তরঃ নেতিবাচক।

বুকাইলিজমের অনুসারীরা বলেন, মানবদেহে নাকি কোরান কথিত ৩৬০টি জয়েন্ট আছে (যা ভুল)। ২০৬টি হাড় থেকে কিভাবে ৩৬০ জয়েন্ট হতে পারে – এটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। কেননা জয়েন্ট অর্থ হাড়ের সংযোগস্থল। সেক্ষেত্রে, আমরা যদি ৩টি হাড়কে একত্র করি, তবে সর্বোচ্চ ৩টি জয়েন্ট পাওয়া যাবে যা একটি ত্রিভুজ ফর্ম করবে। যদি ৪টি হাড়কে এক্ত্র করি, তবে সর্বোচ্চ ৪টি জয়েন্ট পাওয়া যাবে এবং এভাবে চলতে থাকবে। অর্থাৎ  তাত্ত্বিকভাবে ২০৬টি হাড়ের জন্য সর্বোচ্চ ২০৬টি জয়েন্ট পাওয়া যাবে কিন্তু এই হাড়ের বিভিন্ন গঠনের কারণে, ওভারল্যাপের কারণে জয়েন্ট সংখ্যা আরো কমতে পারে কিন্তু কখনোই বাড়বে না। ফলে, কোরানের ৩৬০ জয়েন্টের গল্প সম্পূর্ণই ভুল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গামাল সুলতান বলেন, কোরান বা সুন্নাহ থেকে পাওয়া কোন কিছু দিয়ে বিজ্ঞানকে প্রমাণ করার চেষ্টা ‘বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি’ কে দূষিত করে। যেমন কোরানে এমন এমন জিনিশকে জয়েন্ট হিশেবে গণ্য করে ৩৬০টি জয়েন্টের কথা বলা আছে অথচ এগুলোকে একজন অর্থোপেডিক ডাক্তার জয়েন্ট হিশেবে গণ্য করবেন না।

বুকাইলিজমের অনুসারীরা এটাও মানেন যে কোরান অনুযায়ী ভূত্বককে নাকি ৭টি খণ্ডে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানের অধিকাংশ ভূতত্ত্ববিদ ভূত্বক (tectonic plates) কে ১৫টি প্রধান জোনে বিভক্ত করেছেন, অর্থাৎ কোরান সঠিক নয়।

সূত্রঃ এখানে

বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান (হার্ডকভার) ড. মরিস বুকাইলি
বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান (হার্ডকভার) ড. মরিস বুকাইলি

পাকিস্তানের তাত্ত্বিক পদার্থবিদ পারভেজ হুদভয় বুকাইলির গ্রন্থ নিয়ে বলেন – কোয়ান্টাম মেকানিক্স, মলিকিউলার জেনেটিক্স ইত্যাদির আবিষ্কার অন্যদের দ্বারা (অমুসলিম) হয়। অ্যান্টিবায়োটিক, এসপিরিন, স্টিম ইঞ্জিন, বিদ্যুৎ, এয়ারক্রাফট, কম্পিউটার কেন মুসলিমদের দ্বারা আবিষ্কৃত হলো না, এব্যাপারে তাদের থেকে কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না এবং এব্যাপারে কোন ভবিষ্যৎবাণীও আসেনি (কোরান থেকে) বরং এসব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করাটাই অপরাধের বলে গণ্য করা হয়।

সূত্রঃ এখানে

ইতিহাসবিদ মাইকেল কুক বলেন

The historian, Michael Cook, suggests that proof of divine origin by prediction of scientific fact carries “a certain risk: science may move on, leaving scripture stranded with some latter-day equivalent of the long-discredited phlogiston theory of combustion. Not surprisingly, the more sophisticated [Quranic] commentators do not engage in this activity …”

সূত্রঃ Cook, Michael, The Koran: A Very Short Introduction, Oxford University Press, (2000), p.30

বুকাইলির গ্রন্থে কতিপয় বৈজ্ঞানিক বিষয়কে কোরান থেকে এসেছে বলে মিথ্যে দাবি করা হয়েছে। বাস্তবে এগুলো এসেছে হিব্রু বাইবেল থেকে, এমনকী বিজ্ঞানী নয় এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে যারা নিজেদের আল্লাহর লোক বলে দাবী করেননি। কোরান থেকেই কসমোলজির জ্ঞান এসেছে এই নিয়ে বুকাইলির গ্রন্থের দাবীকে চ্যালেঞ্জ করে রিচার্ড ক্যারিয়ার প্রমাণ করেছেন – কসমোলজি নিয়ে কোরান সম্পূর্ণ ভুল। তুর্কী পদার্থবিদ ট্যানার এডিস বুকাইলির গ্রন্থে উল্লেখিত অপব্যাখ্যাগুলোকে তুচ্ছ প্রাকৃতিক বিষয়ের অস্পষ্ট, অতিরঞ্জিত ও খামখেয়ালি বর্ণনা – “vague descriptions of natural phenomena” employing “stretched or arbitrary” interpretations হিশেবে অভিহিত করেছেন। শুধু তাই নয়,  expanding universe, parallel universes, and cosmic structural hierarchies সম্পর্কে বুকাইলির গ্রন্থে উল্লেখিত কোরানিক আয়াতের দাবিকে তিনি blatantly wrong বা নির্লজ্জ মিথ্যে বলে অভিহিত করেছেন।

সূত্রঃ

https://infidels.org/kiosk/article/predicting-modern-science-epicurus-vs-mohammed-362.htm
https://infidels.org/library/modern/richard_carrier/islam.html
http://edis.sites.truman.edu/quran-science-scientific-miracles-from-the-7th-centuryhttps://www.amazon.com/Ghost-Universe-Light-Modern-Science/dp/1573929778

সিদ্ধান্তঃ আর্থিক লোভ এবং লেখক/ডাক্তার/ভ্রূণবিদ হিশেবে আন্তর্জাতিক পরিচয়, স্বীকৃতি, প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যেই মরিস বুকাইলি এবং কিথ মুরদের এই তথাকথিত ইসলাম বন্দনা। যখন সব কিছু হাসিল হয়ে গেছে তখন আর তাদের ইসলাম বন্দনায় পাওয়া যায়নি, তারা চুপটি করে সরে পড়েছেন এবং এসব নিয়ে কোন মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন কিংবা মুসলিম ও পশ্চিমা – উভয়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছেন।

কিন্তু এদেরকে লোভে ফেলে ও ভয় দেখিয়ে ফায়দা লুটেছে ইসলামী মৌলবাদীরা। এক ওসামা বিন লাদেনের দ্বারা তৈরি হয়েছে আল কায়েদা নামক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আর তারই কার্যত ভাবগুরু শেখ আব্দুল মাজিদ জিন্দানী দ্বারা বিকশিত হয়েছে ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক সন্ত্রাস – মরিস বুকাইলির বুকাইলিজম কিংবা কিথ মুরদের মিথ্যাচারমূলক অপবিজ্ঞানের প্রচার ও প্রসার। সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা ইসলামের সাথে বিজ্ঞানের তথাকথিত যোগসূত্র রচনার অপচেষ্টা – আধুনিক সভ্যতার তথা আধুনিক পৃথিবীর কলঙ্কজনক ইতিহাস।

সকলকে ধন্যবাদ।