পৃথেবীতে প্রথার অন্ধ থাবাই বার,বার সভ্যতার অগ্রগতি ব্যাহত। ধর্মের সতীদাহ প্রথা আইন করে বাতিল করা হয়েছে কিন্তু ইসলাম ধর্মে দাস প্রথা কোন কুরানিক নির্দেশেই বাতিল করা হয়নি। যুদ্ধবন্দিনী নারীদের সঙ্গে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেক্স করা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। এই আইন কুরআনে অন্য কোন আয়াত দ্বারা বাতিল করা হয়নি। এমনকি কোথাও বলা হয়নি এটি কেবলমাত্র যুদ্ধের ময়দানের জন্য প্রজয্য…।

মনে করুন কোন ইসলামী শাসনে থাকা দেশ আমেরিকা কিংবা ইউরোপের কোন দেশ দখল করে নিলো, সেক্ষেত্রে তারা ইসলামী ফয়সালা শত্রুদেশের উপর কার্যকর করতে চাইলে কি করবে? তাদের সমস্ত সম্পদ গণিমত করে জব্দ করে নিবে।

তাদের নারীরাও অন্যান্য সম্পদের মত গণিমতের মাল হবে। এই জ্যন্ত মাল মুসলিম বাহিনী নিজেদের জন্য দাসী করে নিতে পারবে। একইসঙ্গে পরাজিতদের দাস-দাসী করে বিক্রি করতে পারবে। এই ফয়সালা কুরআনের। পৃথিবীর সমস্ত বিশ্বাসী মুসলমানই মনে করেন তাদের কুরআনের নির্দেশ সর্বকালের জন্য প্রজয্য…।

 

দাস প্রথা ইসলাম নিষিদ্ধ করেনি। পৃথিবী থেকে দাস প্রথা আইন করে বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে আইএস নিয়ন্ত্রিত সিরিয়াতে গণিমতের মাল হিসেবে নারীদের হাটে তুলে কেনাবেচা করা হচ্ছে। এদের খদ্দর আরবের বিশিষ্ট ধন কুবেররা। আফ্রিকার বেকো হারামও গণিমতের মাল করে খ্রিস্টান নারীদের নিলামে বিক্রি করে।

 দাস-প্রথা
দাস-প্রথা

এসবই ইসলামের ফয়সালা। কুরআন ভিন্ন কোন সুরা নাযিল করে এই আদিম বর্বর প্রথা বাতিল করেনি। এসব কারণেই আইএস বা বেকো হারামের গণিমতের মাল হিসেবে নারীদের সঙ্গে অবাধে সেক্স করা বা তাদের নিলামে বিক্রি করা ইসলাম মতে কোন অপরাধ নয়। কিন্তু হিন্দুদের সতীদাহ কিন্তু আইন করে বাতিল করা হয়েছে।

এটি করতে গেলে আজকের যুগে একজন হিন্দুকে হত্যা মামলায় পড়তে হবে। এছাড়াও সতীদাহ যখন বাতিল করা হয়েছিল তখন ধর্মীয় রেফারেন্স দেখিয়েই সেটাকে বাতিল করা হয়েছিল। বহু শাস্ত্র মত থেকে দেখানো গেছে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর সহমরণ শ্রেষ্ঠ হলেও কেউ চাইলে জপতপ করে জীবন কাটিয়ে দিতে পারবে।

 

অর্থ্যাৎ সহমরণ ছাড়াও একজন হিন্দু নারী নানা আচার পালন করে বেঁচে থাকতে পারবে। হিন্দু শাস্ত্রে এই বিধান না থাকলে আজতক সতীদাহ আ্ইন করে বাতিল করা সম্ভব হতো কিনা সন্দেহ। সে যুগে ইংরেজও হিন্দুদের ধর্মীয় বিধিতে হস্তক্ষেপ করত চায়নি। তাই সতীদাহ বিরোধীরা শাস্ত্র দিয়ে শাস্ত্রকে মেরেছিলেন। বিধবা বিবাহর ক্ষেত্রেও একই কৌশল অবলম্বণ করা হয়েছিল। বিদ্যাসাগর দেখিয়েছিলেন শাস্ত্র নারীদের বৈধব্যকে শ্রেষ্ঠ বললেও বিকল্প উপায়ে তাদের বিয়ে করার অনুমতিও দিয়েছে…।

অনেকে যুক্তি দেয়ার চেষ্টা করেন ইসলাম দাস প্রথা বাতিল করেনি কারণ সে যুগে দাসদের বহুল ব্যবহার চাইলেই ইসলাম চট করে বাতিল করতে পারত না। এ কারণে ইসলাম দাস প্রথাকে বাতিল না করে দাসদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করার মত সংস্কার করে গেছে। একদমই খোড়া যুক্তি! ইসলাম সন্তান পালক নেয়ার মত মানবিক প্রথাকে বাতিল করে দিয়েছে কোন রকম জনমতের তোয়াক্কা না করেই।

ণিমতের মাল
ণিমতের মাল

সবচেয়ে বড় কথা আরবরা মদে আসক্ত ছিল। তাদের এই প্রিয় পাণীয়ও ছিল সে যুগের একটা বাস্তবতা। কিন্তু ইসলাম মদকে হারাম করে দিয়েছে। পালক পুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করা হালাল করেছে যা কিনা সে যুগেও তুমুল শোরগোল তৈরি করেছিল। অথচ মানব ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্ন দাস প্রথাকে বাতিল করেনি! উল্টো প্রফেট মুহাম্মদ আরব পৌত্তলিকদের, ইহুদীদের স্বাধীন মানুষ থেকে দাস বানিয়ে বাজারে বিক্রি করেছেন।

 

তাদের গণিমতের মাল করে নিজেদের মধ্যে বন্টন করেছেন। এইসব গণিমতের মালের মধ্যে নারীরা হতো যৌনদাসী। ইসলামী খিলাফত যখন আরব থেকে ছড়িয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে তার সাম্রাজ্য বৃদ্ধি করেছিল, পৃথিবীর কোটি কোটি নিরপরাধ মানুষ ইসলামী শাসনের কবলে পড়ে দাস জীবন কাটাতে বাধ্য হয়েছিল। খোদ ভারতবর্ষ থেকে কোটি কোটি নারী-শিশু দাস হিসেবে আরব দেশে চালান হয়েছিল হযরত ওমরের শাসন থেকে শুরু করে সুলতান মাহমুদ পর্যন্ত।

আজকের যুগে দাস প্রথা উঠে গেছে তাই ইসলামেও দাস প্রথা বিলুপ্ত- এরকম গা বাঁচানো দাবী করলে কিন্তু কুরআনের শত শত আইন আজকের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় নিষিদ্ধ বলতে হবে। যেমন পুরুষের একত্রে একাধিক স্ত্রী রাখার কুরআনের আদেশ বাতিল বলে গণ্য করতে হবে কারণ এরকম অসভ্যতা আজকের যুগে আইন করে বাতিল করা হয়েছে। পৃথিবীতে যেহেতু ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কাজেই নারীর পর্দার নামে তাকে ঘরে বন্দি করে রাখার ইসলামী বিধানও বাতিল বলে ধরতে হবে।

প্রথা
প্রথা

এরকম শত শত নিয়মকে বর্তমান কালের বিবেচনায় বাতিল করতে হবে। পারবেন সেসব মেনে নিতে? পৃথিবীতে সতীদাহ প্রথা ফিরে আসার আর কোন সুযোগ নেই। এটা শাস্ত্রকে রেফারেন্স দেখিয়েই বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু পৃথিবীতে আবার দাস প্রথা ফিরে এলে ইসলাম মতে দাসদের সঙ্গে অবাধে সেক্স করা যাবে।

নিজের জাতির বাইরের কাউকে জোর করে দাস বানানো যাবে। বিক্রি করা যাবে মানুষকে অবাধে। এর কোনটাই ইসলাম মতে অন্যায় নয়। সত্যি বলতে কি, পৃথিবীতে দাস প্রথাকে ফিরিয়ে আনার একমাত্র সোর্স আজকের দিনে ইসলাম। যেহেতু ইসলামী খিলাফত ধারণা আজো মুসলমানদের চিন্তা ও বিশ্বাসে অটল রয়ে গেছে। অমুসলিমদের দাস বানিয়ে তাদের দেশে ইসলামী শাসন কায়েম করা ইসলামী খিলাফতের অংশ। কাজেই দাস প্রথা ফিরে আসার অতি সামান্য সম্ভাবন থেকে থাকলেও সেটা ইসলামের হাত ধরেই আসতে পারে।

খ্রিস্টান চার্চ মধ্যযুগে ব্রুনোকে পুড়িয়ে মারার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। স্বীকার করে নিয়েছে আধুনিক বিজ্ঞানকে। হিন্দুদের মধ্যে আজো ব্যক্তি জীবনে জাতপাত আর শ্রেণী বিভাজন জঘন্ন আকারে থেকে গেছে। তাই হিন্দু ধর্ম রাষ্ট্রীয় নয় ব্যক্তি জীবনের জন্য ক্ষতিকারক। যদিও আজকের যুগে একজন হিন্দু তার ধর্মীয় সমাজকে অগ্রাহ্য করতে সমর্থ।

চাইলেই সে ধর্মের বিধি নিষেধ লঙ্ঘন করতে পারে। কারণ হিন্দুদের ধর্মীয় রাষ্ট্রের কোন ধারণা নেই। যেটা আছে, রাষ্ট্র পরিচালনা নির্দশনা। তাই হিন্দু বিধানগুলি মন্দিরের চার দেয়ালের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে খবরদারী করতে পারে না।

 

ইসলাম যেহেতু একটা রাজনীতি। এর উদ্দেশ্য নিজস্ব আইনে শাসন করা। তাই পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মাচরণ ব্যক্তি পরিবার ও নির্দিষ্ট কমিউনিটির জন্য ক্ষতিকর হলেও আরব মতন দর্শন সমগ্র মানব সভ্যতার জন্য ক্ষতিকারক। ইসলাম ফের পৃথিবীতে দাস প্রথাকে নতুন করে ফিরিয়ে আনতে পারে যা প্রতিওমান আই, এস, এস কর্ম কাণ্ডে।

আরো পড়ুন…