ন্যায়দর্শন চর্চা: ন্যায়দর্শন মহর্ষি গৌতম (গোতম বা অক্ষপাদ) এর প্রবর্তক।  ন্যায়দর্শন হচ্ছে ভারতীয় ষড়দর্শনের অন্যতম। মহর্ষি গৌতম (গোতম বা অক্ষপাদ) এর প্রবর্তক এবং তাঁরই ন্যায়সূত্রের ওপর এ দর্শন প্রতিষ্ঠিত। জীবের ক্ষলাভের হেতু তত্ত্বজ্ঞান অর্জিত হয় যে তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, তার অন্যতম মননের (অন্য দুটি শ্রবণ ও নিদিধ্যাসন) সাধনই হলো ন্যায়দর্শন। আত্মতত্ত্ব শ্রবণের পর যুক্তির দ্বারা তার স্বরূপ সম্পর্কে যে আলোচনা করা হয় তার প্রধান উপায় ন্যায়।

বাৎস্যায়নের মতে বিভিন্ন প্রমাণের সাহায্যে কোন বিষয়ের স্বরূপ বিবেচনা করাই হলো ন্যায়। প্রতিজ্ঞা, হেতু, উদাহরণ, উপনয় ও নিগমন এই পাঁচটির সমন্বয়ে গঠিত অনুমান হচ্ছে ন্যায়দর্শনের মূল সূত্র। এর নামান্তর অন্বীক্ষা (অনু-ঈক্ষা), অর্থাৎ প্রত্যক্ষ ও আগম প্রমাণের দ্বারা যে বিষয়কে পূর্বে জানা হয়েছে তাকেই আবার পরে (অনু) পরীক্ষা করা (ঈক্ষা)। এ থেকে ন্যায়শাস্ত্রের অপর নাম হয়েছে আন্বীক্ষিকী। একে তর্কবিদ্যাও বলা হয়।
ন্যায়দর্শনের প্রাচীনতম গ্রন্থ ন্যায়সূত্র (খ্রি ২০০-৪৫০)। এতে ৫২৮টি সূত্রে অতি সংক্ষেপে আত্মতত্ত্ব ব্যাখ্যাত হয়েছে; ফলে অনেক সময় তার প্রকৃত তাৎপর্য নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে বিষয়বস্ত্তকে সহজবোধ্য করার জন্য এই সূত্রগ্রন্থের অনেক টীকা-টিপ্পনী রচিত হয় এবং সেসবের মাধ্যমে ন্যায়দর্শনের বিস্তৃতি ঘটে।

এর প্রথম বিস্তৃত ব্যাখ্যা হলো বাৎস্যায়নের ভাষ্য। এরপর উদ্দ্যোতকর (ন্যায়বার্তিক, ৬ষ্ঠ-৭ম খ্রি),  বাচস্পতি মিশ্র (তাৎপর্যটীকা, ৯ম খ্রি), উদয়নাচার্য (তাৎপর্যপরিশুদ্ধি, ১০ম খ্রি), জয়ন্ত ভট্ট (ন্যায়মঞ্জরী), বিশ্বনাথ (ন্যায়সূত্রবৃত্তি, ১৭শ খ্রি), রাধামোহন গোস্বামী (ন্যায়সূত্রবিবরণ, ১৮শ খ্রি) প্রমুখ এর টীকা রচনা করে আলোচ্য বিষয়কে আরও সহজবোধ্য করে তোলেন।

ন্যায়মতে ষোলোটি পদার্থের তত্ত্বজ্ঞান থেকে নিঃশ্রেয়স লাভ হয়। সেগুলি হলো: প্রমাণ, প্রমেয়, সংশয়, প্রয়োজন, দৃষ্টান্ত, সিদ্ধান্ত, অবয়ব, তর্ক, নির্ণয়, বাদ, জল্প, বিতন্ডা, হেত্বাভাস, ছল, জাতি ও নিগ্রহস্থান। যে মিথ্যাজ্ঞান এই সংসার ও সর্বদুঃখের কারণ, তত্ত্বজ্ঞান তাকে বিনষ্ট করে।

মিথ্যাজ্ঞানের নাশে দোষ (রাগ, দ্বেষ ইত্যাদি) নষ্ট হয়, দোষের নাশে প্রবৃত্তি (ধর্ম, অধর্ম ইত্যাদি) নষ্ট হয়, প্রবৃত্তি নষ্ট হলে আর জন্ম হয় না এবং জন্মের নিবৃত্তিতে দুঃখেরও আত্যন্তিক নিবৃত্তি ঘটে। ন্যায়দর্শন হচ্ছে বস্ত্তবাদী; তা বাহ্য জগতের বাস্তব সত্তা স্বীকার করে। মহর্ষি গৌতম ঈশ্বর মানতেন কি-না বলা কঠিন, তবে তাঁর পরবর্তী সমর্থকরা ঈশ্বর মেনেছেন।

ন্যায়মতে প্রমাণ চারটি প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান ও শব্দ। এই প্রমাণের ওপর সমধিক গুরুত্ব আরোপের ফলে পরবর্তীকালে নব্যনায়ের উদ্ভব হয়। নব্যন্যায়ের প্রবর্তক  গঙ্গেশোপাধ্যায় (১২শ খ্রি)। তিনি গৌতম ন্যায়সূত্রের প্রমাণকান্ডের ওপর ভিত্তি করে তত্ত্বচিন্তামণি নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন।

গ্রন্থটি চার খন্ডে বিভক্ত: প্রত্যক্ষচিন্তামণি, অনুমানচিন্তামণি, উপমানচিন্তামণি ও শব্দচিন্তামণি। এর ওপর পরবর্তীকালে অনেকে ভাষ্য রচনা করেন, যেমন: বর্ধমান (পুত্র), পক্ষধর মিশ্র (১৫শ শতক),  রঘুনাথ শিরোমণি (১৫-১৬শ শতক),  মথুরানাথ তর্কবাগীশ (১৬শ শতক),  জগদীশ তর্কালঙ্কার (১৬শ-১৭শ শতক), গদাধর ভট্টাচার্য (১৬০৪-১৭০৯) প্রমুখ।
ন্যায়দর্শন মহর্ষি গৌতম
ন্যায়দর্শন মহর্ষি গৌতম

"use strict"; var adace_load_60fd7b8d2c61f = function(){ var viewport = $(window).width(); var tabletStart = 601; var landscapeStart = 801; var tabletEnd = 961; var content = '%3Cdiv%20class%3D%22adace_adsense_60fd7b8d2c240%22%3E%3Cscript%20async%20src%3D%22%2F%2Fpagead2.googlesyndication.com%2Fpagead%2Fjs%2Fadsbygoogle.js%22%3E%3C%2Fscript%3E%0A%09%09%3Cins%20class%3D%22adsbygoogle%22%0A%09%09style%3D%22display%3Ablock%3B%22%0A%09%09data-ad-client%3D%22%20%20%20%20%20%20%20%20%20%28adsbygoogle%20%3D%20window.adsbygoogle%20%7C%7C%20%5B%5D%29.push%28%7B%7D%29%3B%20%22%0A%09%09data-ad-slot%3D%229569053436%22%0A%09%09data-ad-format%3D%22auto%22%0A%09%09%3E%3C%2Fins%3E%0A%09%09%3Cscript%3E%28adsbygoogle%20%3D%20window.adsbygoogle%20%7C%7C%20%5B%5D%29.push%28%7B%7D%29%3B%3C%2Fscript%3E%3C%2Fdiv%3E'; var unpack = true; if(viewport=tabletStart && viewport=landscapeStart && viewport=tabletStart && viewport=tabletEnd){ if ($wrapper.hasClass('.adace-hide-on-desktop')){ $wrapper.remove(); } } if(unpack) { $self.replaceWith(decodeURIComponent(content)); } } if($wrapper.css('visibility') === 'visible' ) { adace_load_60fd7b8d2c61f(); } else { //fire when visible. var refreshIntervalId = setInterval(function(){ if($wrapper.css('visibility') === 'visible' ) { adace_load_60fd7b8d2c61f(); clearInterval(refreshIntervalId); } }, 999); }

})(jQuery);

"use strict"; var adace_load_60fd7b8d2c697 = function(){ var viewport = $(window).width(); var tabletStart = 601; var landscapeStart = 801; var tabletEnd = 961; var content = '%3Cdiv%20class%3D%22adace_adsense_60fd7b8d2c67d%22%3E%3Cscript%20async%20src%3D%22%2F%2Fpagead2.googlesyndication.com%2Fpagead%2Fjs%2Fadsbygoogle.js%22%3E%3C%2Fscript%3E%0A%09%09%3Cins%20class%3D%22adsbygoogle%22%0A%09%09style%3D%22display%3Ablock%3B%22%0A%09%09data-ad-client%3D%22%20%20%20%20%20%20%20%20%20%28adsbygoogle%20%3D%20window.adsbygoogle%20%7C%7C%20%5B%5D%29.push%28%7B%7D%29%3B%20%22%0A%09%09data-ad-slot%3D%229569053436%22%0A%09%09data-ad-format%3D%22auto%22%0A%09%09%3E%3C%2Fins%3E%0A%09%09%3Cscript%3E%28adsbygoogle%20%3D%20window.adsbygoogle%20%7C%7C%20%5B%5D%29.push%28%7B%7D%29%3B%3C%2Fscript%3E%3C%2Fdiv%3E'; var unpack = true; if(viewport=tabletStart && viewport=landscapeStart && viewport=tabletStart && viewport=tabletEnd){ if ($wrapper.hasClass('.adace-hide-on-desktop')){ $wrapper.remove(); } } if(unpack) { $self.replaceWith(decodeURIComponent(content)); } } if($wrapper.css('visibility') === 'visible' ) { adace_load_60fd7b8d2c697(); } else { //fire when visible. var refreshIntervalId = setInterval(function(){ if($wrapper.css('visibility') === 'visible' ) { adace_load_60fd7b8d2c697(); clearInterval(refreshIntervalId); } }, 999); }

})(jQuery);