এটি একটি খুবই জনপ্রিয় মিথ্যাচার। একটি গবেষণা পেপার বলছে ২০৫০ সালের পর ইউরোপ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো কান অব্দি দন্ত বিকশিত করে সেই নিউজ প্রচার করছে। ভাবখানা এমন যেন দলে দলে সবাই ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হবে যাবে!

আসল ব্যাপার হচ্ছে ইউরোপে অভিবাসী মুসলিমরা ব্যাপক হারে সন্তান পয়দা করে ইউরোপীয়ানদের সংখ্যালঘু বানিয়ে দিবে। ইউরোপীয়ান নারীদের জন্মদানের হার যেখানে ১.৪, সেখানে মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে সেটা বেড়ে ৩.৪!

 

অনেকের ধারণা মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষাদীক্ষার হার কম বলে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে তারা অজ্ঞ হয়। এটি একটি খুবই জনপ্রিয় মিথ্যাচার। আমাদের উপমহাদেশের প্রায় সব জাতি এবং সম্প্রদায়ই অশিক্ষা-কুশিক্ষায় পিছিয়ে আছে। কিন্তু অধিক সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে কেবল মুসলিম সম্প্রদায় সবার আগে পৌঁছে গেছে।

ইউরোপ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে।
ইউরোপ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাবে। এটি একটি খুবই জনপ্রিয় মিথ্যাচার

আরো দেখা গেছে ভারতবর্ষের বহু স্থানে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকার কাজ করতে গিয়ে ইসলামপন্থিদের বাধার মুখে পড়েছে। মুসলিমদের শিক্ষা সংস্কৃতির দৈনতা আছে সত্য কিন্তু শিক্ষিত মুসলিম স্কলার, আলেম ওলামাদের ১০-১২টি করে সন্তান নেয়ার কারণটি এক্ষেত্রে জানতে হবে। আসল সত্য হচ্ছে এই অধিক সংখ্যক জন্মদানের নেপথ্য কারণটি একটি সচেতন ধর্মীয় লক্ষে পৌঁছানোর মিশন।

 

ইউরোপ আমেরিকাতে অভিবাসী মুসলিমদের অধিকার হারে সন্তান জন্মদানের পিছনে সেখানকার মসজিদ কেন্দ্রিক কমিউনিটি একটি বড় ভূমিকা রাখে। ইসলামের একটি মিশন আছে নবী মুহাম্মদ দ্বারা স্বীকৃত ‘সংখ্যা দিয়ে অমুসলিমদের পরাজিত করার’। অধিক জন্মদানের নির্দেশ মুসলিমদের হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।

মুসলমানদের জন্মহার বাড়িয়ে সংখ্যার জোরে বিজয়ী হবার কৌশল নিয়েছিলেন ইসলামের নবী। মাকিল ইবনে ইয়াসার বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি নবীকে (দঃ) বলল, একটা উচ্চ বংশের সুন্দরী মেয়ে আছে, কিন্তু সে বন্ধ্যা। আমি কি তাকে বিয়ে করতে পারি? নবী (দঃ) বললেন, না। সে তাঁর কাছে আবার এল। নবী (দঃ) আবার তাকে নিষেধ করলেন।

সে তৃতীয়বার তাঁর কাছে এলে নবী (দঃ) বললেন, সেই মেয়েদের বিয়ে কর যারা প্রেমময়ী এবং উৎপাদনশীল। কারণ আমি তোমাদের দিয়ে সংখ্যায় অন্যদের পরাস্ত করব” (সুনান আবু দাউদ, বই ১১ হাদিস ২০৪৫:)।

 

অর্থ্যাৎ মুসলিমদের অধিক সন্তান নিয়ে সংখ্যা বাড়াতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। সংখ্যা বাড়িয়ে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠের জোরে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রায়’ এই গণতান্ত্রিক অস্ত্রটিকে বিপথে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যেই অধিক সন্তান নেবার তাগিদ দেয়া হয় ইউরোপের মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় নেতারা।

ইউরোপের সমাজ ব্যবস্থায় ইসলামী ভাবধারা প্রতিষ্ঠা করতে, ‘ইউরোপীয়দের গণতান্ত্রিক সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতাকে ব্লাকমেইল করে রেসপেক্ট শরীয়া, রামাদান, পর্দা, হালাল, হারাম ইত্যাদি ইউরোপীয়না সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে এক একটি মুসলিম নারীদের ৭—৮টা করে সন্তান নেয়ার উপদেশ দেয়া হয়। বিগত বিশ-তিরিশ বছরে নিরবে এই কাজটি মুসলিম কমিউনিটিতে ঘটে গেছে।

 

মসজিদ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মহিলাদের তাবলিগ ইসলামী দাওয়াত কার্যক্রমের মাধ্যমে মহিলাদের কেবল হিজাব পরতেই শেখানো হয়নি, অধিক হারে সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে হাদিস একটি বড় ভূমিকা রাখে। তাদের সামনে হাদিস রেখে দেখানো হয় আল্লার নবী বলেছেন, تزوجوا الودود الولود ، فإني مكاثر بكم الأمم يوم القيامة“তোমরা অধিক সন্তানের প্রসবনী ও স্বামীদের অধিক ভালোবাসে এ ধরনের মেয়েদের বিবাহ কর, কারণ, কিয়ামতের দিন আমি আমার উম্মত বেশি হওয়ার কারণে আল্লাহর দরবারে গর্ব করব।”(আবু দাউদ, নাসায়ী। হায়াতুল মুসলিমিন, পৃষ্ঠা-১৮৯)।

 

ইউরোপে মুসলিম আধিক্য জাতীয়তাবাদী ডানপন্থিদের উত্থান ঘটে গেছে। বহু জাতি সম্প্রদায়ের মিশ্র যে সমাজ ব্যবস্থা ইউরোপের গর্ব ছিলো এখন জাতীয়তাবাদীরা সেটাকে আঘাত করতে ইসলাম ও মুসলমানদেরই বড় সমস্যা হিসেবে জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হচ্ছে।

সত্যিকার অর্থেই এটি একটি বড় প্রশ্ন, ইউরোপে মুসলিম সংখ্যা বেড়ে গেলে কি ধরণের বিপদ ঘটতে পারে? যে সম্প্রদায় এখনো তাদের ধর্মকে এতখানি প্রাধান্য দেয় তারা যে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অন্ধকার যুগে পড়ে থাকে তার বড় বিজ্ঞাপন মুসলমানরা। কাজেই মুসলিমরা অথনৈতিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে পড়বে এটি ডানপন্থিরা বলছে না।

তারা জনগণকে দেখাতে সক্ষম হচ্ছে ইসলামের শরীয়া এবং মুসলিমদের অমুসলিম সম্পর্কিত ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অবস্থান। সংখ্যায় তারা অধিক হয়ে পড়লে ইউরোপ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে বা তার সেক্যুলার ব্যক্তি স্বাধীনতার গর্ব হারাতে পারে। এটাই অধিক মুসলিম ভীতি হিসেবে সবচেয়ে কার্যকরভাবে ইউরোপীয়নাদের কাছে প্রচার পাচ্ছে। কারণ তারা সবাই ভুক্তভুগী এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।

 

আজকের যুগে সংখ্যা দিয়ে যুদ্ধ জেতার খোয়াব বোকার স্বর্গে বসেই দেখা সম্ভব। অর্শ্ব আর পদাতিক বাহিনী নিয়ে যু্দ্ধে জেতার দিন অনেক আগেই গত হয়েছে। ১৪০০ বছর আগে মুহাম্মদের সংখ্যা দিয়ে বিজয়ী হবার চিন্তা আজকের যুগে অচল। আফ্রিকার কালো মানুষরা সংখ্যালঘু সাদা ইউরোপীয়দের হাতে শোষিত হয়েছিলো।

যৌগ্যতা মেধা বুদ্ধিই পৃথিবীর ড্রাইভিং সিটে বসার একমাত্র রাস্তা। ভেড়ার পালের মত পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ধর্মীয় সম্প্রদায় হয়ে বড়জোর আবর্জনার মত পরিবেশই দুষিত করতে পারবে। শিক্ষাদীক্ষার অভাব, বিদ্বেষমূলক ধর্মীয় বিশ্বাস মুসলিমদের সারাবিশ্বে অন্যান্য জাতি ও সম্প্রদায়ের কাছে হীন করে রেখেছে।

এরা সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবার যে আগাম উল্লাস করছে তা ধর্মীয় শাসন কায়েম করার তাদের সুপ্ত বসনারই বর্হিপ্রকাশ। এরা নিজেরা ইসলামী শাসনে থাকা সৌদি আরব ইরান আফগানিস্থানে যাবার বদলে আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যক্তি স্বাধীনতার দেশে যেতে ইচ্ছুক- অথচ সেখানেই গোপনে ইসলামী শাসনের স্বপ্ন দেখে চলেছে।

 

এটাকেই বোধহয় বলে ভন্ডামী। শরীয়ার হাত থেকে পালিয়ে গণতান্ত্রিক শাসনে গিয়ে সমস্ত ব্যক্তি স্বাধীনতাকে ভোগ করে সেখানেই ফের শরীয়া চাওয়াকে ঠিক ভন্ডামী শব্দটি দিয়েও এদের সত্যিকার পরিচয় ফুটে উঠে না।

 

আরো পড়ুন…