স্পেন থেকে কাতালানরা স্বাধীনতা চায়-

পৃথিবীর যুক্তরাজ্য ব্যবস্থার কোন দেশ ভাঙ্গনের শিকার হলে সেটা মানব সভ্যতার বড় ধরণের একটি পরাজয়। জাতি পরিচয়, ভাষা বা ধর্ম পরিচয়ে বিভেদ প্রমাণ করে মানব সভ্যতা এখনো আধাসভ্যই থেকে গেছে। মানুষের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় তার শরীরে মননে। এই শরীরিক পরিচয়ে পৃথিবী খন্ডিত হতে থাকলে মানব সভ্যতা আরো যুদ্ধ, আরো রক্ত আরো ধ্বংসই ডেকে আনবে। পৃথিবীতে এখনো যতগুলো বৃহৎ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বহু জাতিগোষ্ঠি, ভাষা ও ধর্ম সম্প্রদায় একটি দেশে বসবাস করছে তা আগামী পৃথিবীর কসমোপলিট্রন সমাজেরই ক্ষুদ্র আভাস মাত্র। মানব সভ্যতার মুক্তি বহু জাতিতত্ত্বে। বিভক্তিতে নয়।

মনে করুন ঢাকা বাংলাদেশ থেকে স্বাধীন হয়ে গেলো। তো ঢাকার ভবিষ্যত কি? একটি পতাকা আর জাতির পিতা দিয়ে ঢাকা কি তার চারপাশ ঘিরে থাকা বাংলাদেশ থেকে সহায়তা ছাড়া বাঁচতে পারবে? ঢাকাকে তার আশেপাশের এলাকার তাঁবেদারী করে চলা ছাড়া উপায় থাকবে না।

রাজনীতিবিদরা যখন বিশেষ পরিচয়ে বাকীদের বঞ্চিত করে, ঠকায়, বিকাশে বাধাগ্রস্ত করে তখনই যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় বিচ্ছিন্নতাবাদের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিশ্বরাজনীতির দাবার ছকে শত্রুকে দুর্বল করতেও ভাঙ্গনের চেষ্টা আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসেই রয়েছে।

আহমদ ছফা কোলকাতার চিন্তা পত্রিকার সাংবাদিককে বলেছিলেন, আপনারা (পশ্চিমবঙ্গ) পরাধীন, আপনাদের উচিত ভারতের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়া্ই করা। আপনারা স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করলে আমরা বাংলাদেশীরা আপনাদের সহায়তা করব।

মানব সভ্যতার সমাধানই যেখানে কসমোপলিট্রন সমাজ ব্যবস্থা সেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টির ইন্দন বুদ্ধিভিত্তিক দৈনতা মাত্র…।