“ভারতবর্ষ” বনাম “মোঘলীস্তান/আরবীস্তান/তুর্কিস্তান”
স্বধর্মে নিধনং শ্রেয় পরধর্ম ভায়াবহ”

ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

*******(বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- আমার এই লেখাটি তাদের জন্য উৎসর্গীত, যারা এটিকে মন দিয়ে পড়বেন এবং অনুধাবন করে সেই মতো নিজের কর্ম পন্থা ঠিক করবেন।

যারা লাইক করবেন, কমেন্ট করবেন= দারুন, আসাধারন, সাবাশ, বাহ, আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন , নিজের বাচ্চাদের ‘সনাতনী শিক্ষা এবং জীবন শৈলী শেখানো তো দুরের কথা, নিজেরাই “পশ্চীমী ভোগবাদে এবং দানবীয় শক্তির মদতদাতাদের সাহায্যকারী’ তাদের জন্য একেবারেই নয়। ) ************

আমরা যে ভুখন্ড টিকে ভারতবর্ষ বলে মান্যতা দেই, ‘ভারত মাতা’ বলে মাতৃজ্ঞানে সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি, এমনকি পুজাও করি, সেই ভারতবর্ষ অনেকের কাছে শুধু মাত্র একটি বসবাস করার জায়গা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু সেই দেশ টি ঠিক তাই নয়।

আসমুদ্র হিমাচল’ ব্যাপি বিস্তৃত এই দেশ জন্ম দিয়েছিলো একটি সভ্যতা, সংষ্কৃতি একটি জীবন ধারন প্রনালী। যারা সেই জীবন দর্শন প্রনালী (মানুষের সংবিধান) এই ভুখন্ডে বসবাস কারী দের বলেছিলেন তাদের বলা হয় ‘আপ্ত্যজ্ঞানী-মুনি ঋষি’। যারা সেই ‘জীবন দর্শন’ নিজেদের পাথেয় করে নিয়েছিলো তাদের বলা হয় ‘সনাতনী’। ওই মুনি ঋষিরা যা বলে গেছেন,লিখে রেখে গেছেন, সেই হচ্ছে বেদ, উপনিষদ ইত্যাদি। এই জীবন দর্শন কেন্দ্রিক যে সভ্যতা,সংষ্কৃতি গড়ে ওঠে তা অতীব প্রাচীন (প্রায় ৮০০০-১০০০০ বছরের পুরানো) এবং নাম “বৈদিক সভ্যতা’ ( বেদ ভিত্তিক সভ্যতা)। হিন্দু নাম অনেক পরে এসেছে এবং সেই নাম দেওয়া পারসীক দের ( বর্তমান ইরান)। তাই আমরা যতোটা না ‘হিন্দু’ তার চেয়েও বেশী ‘সনাতনী বা বৈদিক’।

সেই ‘বৈদিক দর্শনে’  অন্যকে কষ্ট দেওয়া , সে যে প্রকারে বা যে কারনেই হোক না কেনো, মনুষ্যত্ব বিরোধী হিসাবে পরিগনিত ছিলো। তাই সনাতনীরা কোনোদিন (মানব ইতিহাসে কোথাও কেউ পাবেন না) অন্য দেশ দখল করেনি। অন্যের দ্রব্য জোর করে লুট করে নিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়নি। সনাতনীদের ওই মুনি ঋষিরা বলেছিলেন তোমরা ‘ অমৃতের পুত্র (অমৃতষ্য পুত্রা= অমৃতের অধিকারী, বিষ পান করো না= জেনে শুনে বিষ করেছি প্রান)। তারা বলেছিলেন, ‘সব প্রানীর মধ্যেই চৈতন্য হিসাবে ঈশ্বর বাস করেন (স্বর্বম খল্লিদং ব্রহ্ম= সব কিছুর মধ্যেই ব্রহ্ম আছেন) ,তাই কোন কিছু, যার প্রান আছে তাকে আঘাত করো না –কায়,মন ,বাক্যে= শারীরিক ভাবে, মানসিক ভাবে এবং কু কথা বলে। কি করে এই বৈদিক জীবন শৈলী নিজের জীবনে অধিগত করা যায় এবং সেই মতো চলা যায় তার পদ্ধতিও বলেছিলেন ‘ঋষি পতঞ্জলী’ তার “যোগ শাস্ত্রে’র প্রথম শ্লোকে- “যোগশ্চিত্ত বৃত্তি নিরোধ”— যোগ অর্থ্যাত ঈশ্বর বা বিশ্ব চৈতেন্যের সংগে যুক্ত হওয়া। এই যুক্ত হতে হলে, মানুষের চিত্তে যে বৃত্তিগুলো আছে ( কামনা, বাসনা, লোভ, মোহ, হিংসা, দ্বেষ ইত্যাদি) তাদের নিজের বুদ্ধিমত্তার দ্বারা নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। সেই সাধনাই ‘যোগ সাধনা” –‘ঈশ্বর সাধনা’।

যে দর্শন এই কথা বলেছে, যারা সেই দর্শন মেনে চলে ,তারা কি করে অন্যকে পীড়ন করতে পারে??? পারে না ।তাই ‘সনাতনী’ রা কোনোদিক যুদ্ধ নামক খেলায় পারদর্শী ছিলো না। অন্যরা যখন, সনাতনীদের মারতে শুরু করলো, ‘মানবতা বিরোধী দানবেরা’ যখন ১২ ফুট লম্বা বর্শা নিয়ে, সুসজ্জতি অবস্থায় ঘোড়ার পিঠে চড়ে ,খোলা তলোয়ার হাতে বেরিয়ে পড়লো সুদুর গ্রীস থেকে, আরব দেশ থেকে,তুর্কিস্তান থেকে, মঙ্গোলিয়া থেকে, তখন ‘সনাতনী’রা হয়ে গেলো দিশেহারা।

‘খোলা তলোয়ার ধারী’রা সেই পুন্য ভুমি ভারতবর্ষে ‘মৌরুষী পাট্টা’ নিয়ে বসে গেলো। এক ভীন দেশী সংষ্কৃতি, অন্যের দ্রব্য লুট পাট করা যাদের ‘নিত্য খেলা’, জীবন ধারনের উপায়, তারা এসে দখল নিলো ‘সনাতনী’ দের ভারত বর্ষের।একে একে ভারত বর্ষ হলো ৪ টুকরো= আজকের আফগানিস্তান, পাকিস্তান ( বৈদিক সভ্যতার উৎপত্তিস্থল, লালন পালনের কেন্দ্রভুমি= সরস্বতী- সিন্ধু নদী কেন্দ্রিক সভ্যতা), বাংলাদেশ এবং মধ্যে পড়ে থাকা খন্ডিত, দুই হাত কাটা “ভারত মাতা”। সেই ভারত মাতার মাথা (কাশ্মীর=এক সময়ের সাধনা এবং শিক্ষার কেন্দ্রস্থল) কেটে নেবার চেষ্টা আজ চলছে।

দানবীয় শক্তির সংগে পাল্লা দিয়ে বাচতে , সাময়িক হলেও দানবীয় মনোভাব এবং সেই কু কর্ম করতে হয়। শ্রীকৃষ্ণ সেই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ দানবীয় শক্তির প্রান ভোমরা। সনাতনীরা যতোদিন সেই প্রানভোমরার অস্ত্বিত্ব গুড়িয়ে না দিতে পারবে ততোদিন ওরা শান্তিতে থাকতে দেবে না। “শান্তি শান্তি শান্তি হি” অধরাই থেকে যাবে।

“শক হুন দলের মতো দানবীয় শক্তি একদেহে লীন হয়ে গেছে। হয়নি শুধু ‘পাঠান মোগলের অধঃস্তন’ কিছু মানুষ। তাদের যোগ্য সংগত দিচ্ছে ‘মঙ্গোলীয় দানবদের অধঃস্তন চৈনিক ড্রাগন”।

আমার পুর্ন বিশ্বাস,একদিন এই সনাতনীদের অধঃস্তন শিক্ষিত সন্তানেরা ( সংখ্যায় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন = ৪০ কোটি, সমগ্র উত্তর আমেরিকা, ল্যাতিন আমেরিকা এবং দক্ষিন আমেরিকার মোট লোক সংখ্যার চেয়েও বেশী) তাদের হৃত মর্য্যাদা, আত্ম সম্মান, নিজ সংষ্কৃতি, সভ্যতা পুনঃস্থাপনের দ্বায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিয়ে নেবে। সেদিন এই দানবী শক্তি এক ফুৎকারে উড়ে যাবে।

মারা মারি করে, অসভ্যতা করে, গালা গাল দিয়ে কিছু হয় না। ওস্তাদের মার “ বুদ্ধি দিয়ে”। সেই বুদ্ধি যাদের নেই তারা শেষ হবে। যদি এই শিক্ষিত “সনাতনী” দের সেই বোধোদয় না হয় তো ‘সনাতনী’ বলে আর কিছু থাকবে না। ভারত মাতা বলেও কিছু থাকবে না, হয়ে যাবে “মোগলীস্তান/আরবী স্তান/ বা তুর্কিস্তান। আর যদি ‘সনাতনী’ রা (বর্তমান শিক্ষিত যুব/যুবতী রা) রুখে দাঁড়ায় তবে “ভারত মাতা” বেচে থাকবে। “মারতে হবে না, হাঙ্গামা করতে হবে না, হিংসা করতে হবে না, শুধু একটু ফোঁস করতে হবে” তা হলেই হবে। সনাতনীরা এই ফোঁস করতেই ভুলে গেছে। ‘পশ্চিমী ভোগবাদ’ আর আরবী/তূর্কি ‘তান্ডব বাদ’ এই দুই জাঁতা কলে পিষে মরার চেয়েও ‘বাপের ব্যাটা হয়ে বেঁচে থাকা বা মরে যাওয়া অনেক ভালো।

“স্বধর্ম নিধনং শ্রেয় পরধর্ম ভায়াবহ”