‘রোহিঙ্গা’ বনাম ‘হিন্দু দাস রোমা জিপসী’
‘মানবাধিকারের প্রহসন’-
দেশের “ভিতরে বাহিরে অন্তরে অন্তরে” হিন্দুরা বেশ ভালোই আছে।

ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

‘রোহিঙ্গা’ দের নিয়ে বর্তমানে সারা পৃথিবী সরগরম। মায়ানমার সরকারকে তুলোধনা করছে ‘রাষ্ট্র সঙ্ঘ’ থেকে শুরু করে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, এবং নানা মানবাধিকার রক্ষার সংস্থা। সমস্যা তো একটা আছেই। অনেক সাধারন মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। শুধু মানুষ কেনো, যে কোনো প্রানীর কষ্ট পাওয়া অতীব দুঃখের। এই সব ঘটনা ‘আর্থ- সামাজিক- রাজনৈতিক-ধর্মীয়’ ব্যাপার। আমার মতো অর্বাচীনের এর মধ্যে নাক না গলানোই সমীচিন।

রোহিঙ্গাদের সংগে যা হচ্ছে , তাকে বলা হচ্ছে ‘Ethnic cleansing’, ‘Genocide’ , মারাত্মক সব ব্যাপার। এই সব মোটেই হওয়া উচিত নয়।

তা এই সব অমানবিক কাজ কি মানুষ আজ থেকে, ১৯৭২ সাল থেকে বা ২০১২ সাল থেকে শুরু করেছে। এই সব অমানবিক কাজ কি শুধু এই ‘রোহিঙ্গা’ দের ওপরে ঘটেছে বা ঘটে চলেছে ???

আর যেখানে যেখানে এই সব নারকীয় ঘটনা ঘটেছে, ঘটানো হয়েছে সে গুলোর কথা কে বলবে??? না, তাদের কথা বলার কেউ নেই। তারা মুখ বুজে ১০০০-১৫০০ বছর ধরে সহ্য করে চলেছে। সহ্য করতে না পেরে অনেকে আগুনে ঝাপ দিয়েছে, বিষ পান করে নিজেদের মৃত্যু কে কাছে টেনে নিয়েছে। আজো ১২ মিলিয়ন (এক কোটি কুড়ি লক্ষ) মানুষ, সহায় সম্বলহীন, কোনো দেশের নাগরিকত্ত্ব হীন, ঘারবাড়ি হীন হয়ে পৃথিবীর নানা দেশে, বিশেষ করে ইউরোপে এবং রাষ্ট্র সঙ্ঘের দোড় গোড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। হ্যা আমি সেই “রোমা জিপসী’ দের কথা বলছি, যাদের এই ভারত ভুমি থেকে প্রায় ১০০০ বছর আগে ‘দাস’ এবং যৌন দাসী বানিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো ( আমার লেখা হিন্দু দাস দের কাহিনী-পড়ুন। আমার লেখা ‘হিন্দু রাজাদের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম’ বই এর ৪ র্থ অধ্যায়, পি ডি এফ করা চলছে। ওয়েব সাইট চালু হবে দিন সাতেকের মধ্যে। সেখানে পড়ুন)।

রোমা রা রামের ভক্ত তাই বলে ‘রোমা’। আরবী/তুর্কি খলিফারা ওদের ধরে নিয়ে গিয়েছিলো “উম্মা’ র বিভিন্ন রাজ্যে। খ্রীষ্টান ইউরোপের সংগে “ জিহাদ বনাম ক্রুসেড’ এ জিহাদ পরাজিত হলে ভারত থেকে নিয়ে যাওয়া এই ‘দাস দাসী’ গুলোকে পুর্ব ইউরোপে ফেলে পালিয়ে চলে আসে। সেই থেকে তারা ঘরহীন, নাগরিকত্ত্ব বিহীন। সারা পৃথিবীতে আজ তারা ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপে তারা ব্রাত্য, নোংরা ক্রিমিনাল বলে খ্যাত। সামান্য নাচ গান করে জীবিকা চালায় (আমি ইউরোপ থাকাকালীন নিজে ৭ দিন ‘রোমানিয়া’ তে থেকে তাদের খবর সংগ্রহ করেছি)।

‘রোমা’দের নিয়ে কান্না কাটি করার কেউ নেই। কারন ??? বোধহয় লেখিকা তসলিমা নাসরিন ঠিক কথাই বলেছেন- ‘রোহিঙ্গারা এক বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায় তাই ওদের নিয়ে এতো মাথা ব্যাথা’। রোমারা অন্য সম্প্রদায়ের থেকে উদ্ভুত। রোহিঙ্গারা এক সময় মায়ানমারের (আরাকানের) এক উপজাতি ছিলো।তাদের ছিলো নিজস্ব সংষ্কৃতি,ধর্ম। আরবী ব্যাবসাদার রা এসে নানা কৌশল করে তাদের সেই “আদি সংষ্কৃতি” পালটে দিয়েছে, যেমন হয়েছে ইন্দোনেশিয়াতে। রোমা’দেরও আজ আর ‘সনাতনী সংষ্কৃতি’ নেই, সব শেষ। ‘শান্তির ধর্ম’ আর খ্রীষ্টান মিলে সব ভাগাভাগি করে নিয়েছে।

অতি সম্প্রতি ‘ইয়েজেদী’ দের ওপরে কি ঘটে গেলো ??? কই কারো মখে একটু টু শব্দ অবধি শোনা গেলো না। রাষ্ট্র সঙ্ঘের প্রধান মুখে কুলুপ এটে বসে রইলেন। আমেরিকার দ্বারা তৈরী ওয়াহাবি শান্তির দুতেরা করেছিলো বলে সেই ঘটনা ওই “ এথনিক ক্লিঞ্জিং’ বা ‘ গনহত্যা’ র তকমা থেকে বেচে গেলো নাকি???

ভারত নামে দেশ টাকে দুই ভাগ করে, তার এক তৃতীয়াংশ শান্তির দুতেদের দিয়ে, এই ভারত ভুমিতে ‘অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে’ সেই ১৯৪৬ সাল থেকে ‘ভারতের আদিবাসিন্দা’দের ওপরে যে ক্রমাগত অত্যাচার, তাদের ধর্মীয় পরিবর্তন, লুট পাঠ, ধর্ষন ইত্যাদি চালানো হচ্ছে, তাদের ঘর ছাড়া করা “চলছে চলবে’, তার জন্য কে শোরগোল তুলতে পারে???

আগামী ‘নোবেল শান্তি’ পুরষ্কারের সাম্ভাব্য তালিকায় যার নাম দ্বিতীয় স্থানে আছে , পুরষ্কার টা তিনিই পাবেন। তার পিতা একসময় এই দেশ ভাগের মুখ্য দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সেই ‘হবু নোবেল শান্তির দুত’ তার রাজত্বে ‘সনাতনী’ দের ওপরে যে অন্যায়, অত্যচার আজো চলছে সে বিষয়ে প্রায় উদাসীন। ভোট টা নিতে হয়, সনাতনীদের দেশের সাহায্য ছাড়া ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন, তাই যা একটু মুখের কথা বলতে হয়, তাই করা বা বলা। সনাতনীদের দেশের কাছে কোনো কৃতজ্ঞতা বোধ (দেশ স্বাধীন করার জন্য ভারতীয় সৈন্য দের বলিদান ভাবুন) তো ওই দেশের কারো নেইই। আজ সেই দেশে বেচে থাকা কিছু (৪ কোটি থেকে নেমে আসা ৮০ লাখে)—- সংখ্যাগুরু??? না সংখ্যা লঘু জানি না—মানুষ আজ কেমন আছে তার সত্য খবর কি সেই দেশের রাজা প্রজা কেউ রাখে ?? মোটেই না। বরং ভারত থেকে এক রাজ্য সভার সদস্যা কে নিমন্ত্রন করে নিয়ে, দুদিন  ‘পাঁচ তারা’র হোটেলে রেখে, তার মুখ দিয়ে বলানো হয়, “ওখানে হিন্দুরা ভালো আছে” তা বেশ বেশ।।

দেশের “ভিতরে বাহিরে অন্তরে অন্তরে” হিন্দুরা বেশ ভালোই আছে।

রোমারা(হিন্দু দাসেরা), ১০০০ বছর ধরে আগুনে ঝাপ দিয়ে-বিষ পান করে মরা হিন্দু নারীরা, ইয়েজেদিরা, আজকের বাংলাদেশী হিন্দুরা, কাশ্মীরের হিন্দু পন্ডিতেরা এরা কি মানুষ ই নয়??? এদের কি কোনো ‘মানবাধিকার নেই’??? এদের নিয়ে এই প্রহসন কেনো ?????