উধোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে :
———————————–
আমেরিকার যে কোনো একজন নাগরিক অন্য দেশে খুন হলে পরে, এফ বি আই কি সেই আমেরিকার নাগরিকের হত্যা রহস্যের তদন্ত করতে সেই দেশে আসে বা তদন্ত করতে সেই দেশের সরকারের কাছে আবেদন করে ? আমেরিকার গণতন্ত্রকে কে বিশ্ব মাথায় তুলে নাচে ! বলুন না পাঠক, আসে যে কোনো মার্কিন নাগরিকের হত্যার রহস্য তদন্ত করতে ? এখানেই অনেক সত্য লুকিয়ে আছে । পাঠক, অভিজিৎদা এমনই একজন স্টলওয়ার্ট ছিলেন, যার আমেরিকার সরকারের কাছে মূল্য ছিল । নিছক অনুমান ভাববেন না,  এটা এক সত্য যে অভিজিৎদার মতামতের মূল্য মার্কিন সরকারের কাছে কিছুটা হলেও গণ্য ছিল ।

অভিজিৎদা অসাম্প্রদায়িকতার মেকি চাদরে মোড়া বাংলাদেশের সরকারের প্রকৃত সাম্প্রদায়িক রূপটা জানতেন, কেননা শতকরা ৯০% মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ তার জন্মের কয়েক বছর পর থেকেই ইসলামিস্ট আদর্শে হাঁটা শুরু করেছিল এবং বর্তমানেও হাঁটছে, আর ধর্মীয় রাজনীতির যাঁতাকলে পিষছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ! এই সত্য নিয়ে অভিজিৎদা যদি মার্কিন সরকারকে কোনো রকমে তার একান্ত মতবাদ জানাতো, আর তা যদি মার্কিন সরকারকে বিরূপ করতো বাংলাদেশের প্রতি, তাহলে বাংলাদেশের গদিতে আসীন সরকারের বিপদ হলেও হতে পারতো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার । না, না চমকাবেন না, বঙ্গবন্ধুর খুনে মার্কিন সরকারের কোনো ভূমিকা নেই, এই বুলি কপচিয়ে আমাকে চুপ করানো যাবেনা ।

২০১৫ র বাংলাদেশ রাজনীতির উত্তাল দিনে অভিজিৎদা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তার একান্ত মতবাদ, কিছুতেই মার্কিন সরকারের কাছে যাতে প্রকাশ করতে না পারে, সেই আশংকা থেকেই কি, বাংলাদেশের মাটিতে অভিজিৎদা পরিকল্পিত খুনের বলি হলেন ?