Thursday, July 29, 2021
Home Bangla Blog মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় ভয়টা হচ্ছে এইসব সাইকোপ্যাথিদের কোটি কোটি অন্ধ অনুসারীতে...

মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় ভয়টা হচ্ছে এইসব সাইকোপ্যাথিদের কোটি কোটি অন্ধ অনুসারীতে পৃথিবী ভরপুর হয়ে আছে…।

ভারতের ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার লক্ষ লক্ষ ভক্ত গোটা পাঞ্জাব রাজ্যকে যুদ্ধ পরিস্থিতি করে তুলেছে। দিল্লিতে রেড এলার্ট জারি হয়েছে। সারা বিশ্বের রাম রহিমের ৫ কোটি ভক্ত বা অনুসারী আছে। এই ৫ কোটি মানুষ তাদের ধর্মগুরুর জন্য গোটা পৃথিবীকে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। কিংবা নিজেরাই আগুনে ঝাপিয়ে আত্মাহুতি দিতে পারে। রাম রহিম ধর্ষণ করাকে যদি বলে এটা কেবল মাত্র তার জন্য বৈধ করা হয়েছে তাহলে তার কোটি কোটি অনুসারী বিনা বাক্যে সেটাকেই মেনে নিবে। তাদের গুরুর ধর্ষণের অধিকারের জন্য পৃথিবীকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খার করে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। শুধুমাত্র পাঞ্জাবে তার ৫ লক্ষ ভক্ত-অনুসারীদের তান্ডবে ভারতের ইতিহাসে একটা মামলার রায়ের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মুখে পড়ল। কি এমন জাদুরকাঠি আছে এইসব ধর্মগুরু, অবতার, নবী, পীরদের হাতে যাতে তারা মানুষকে ভেড়ার পালে পরিণত করে ফেলে? হত্যা, ধর্ষণ, নিপীড়ণকারী এইসব মহাপুরুষদের কোন কাজই কেন তাদের ভক্তদের বিবেক যুক্তিতে বাধে না?

প্রথম কথা হচ্ছে এই সমাজের একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষও ‘নবীতে’ “অবতারে’ বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করে নবী, অবতার, পীর, সাধুদের সঙ্গে আল্লাহ ভগবানের সরাসরি একটা যোগাযোগ আছে। তবে কেউ একজন এসে নিজেকে নবী বলে দাবী করলে সেটা হয়ত এক কথাতে বিশ্বাস করে নিবে না। অলৌকিক বিষয়ে বিশ্বাস আছে তবে কেউ সেরকম দাবী করলেই সেটা সব মানুষ মেনে নিবে না। এখানেই আসল পয়েন্টটা খেয়াল করতে হবে। একবার যদি আপনি কাউকে বিশ্বাস করে ফেলেন তার সঙ্গে আকাশের হট কানেকশন আছে- ব্যস, তাহলেই চলবে। যেহেতু পৃথিবীতে আধ্যাত্বিক শক্তিধারী নবী, বাবাজি, মাতাজি, পীর-আউলিয়াতে আপনার বিশ্বাস আগেই ছিলো- যুক্তিহীন এই বিশ্বাস যখন বিশেষ একজন ব্যক্তির উপর গিয়ে পড়বে, সে তখন আপনাকে দিয়ে মানুষ হত্যা পর্যন্ত করাতে পারবে। নিজের শিশু কন্যাকে তার বিছানায় অবলীলায় পাঠিয়ে দিবেন। আপনার সয়-সম্পত্তি তার পথে ব্যয় করে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে পড়লেও কখনো আপনার ভক্তি এতটুকু কমবে না।

একজন নবী, অবতার, পীর, সাধুর প্রথম পুঁজি হচ্ছে সমাজে এইসব হাজার হাজার বছর ধরে চলা অতিপ্রাকৃত ব্যাপারে মানুষের বিশ্বাস আর আস্থা। তাকে শুধু যেটা করতে হবে আপনার আস্থাটা আদায় করে নেয়া নিজের উপর। এইসব মানুষ অসম্ভব একটা ক্ষমতার অধিকারী হয়ে থাকে। জন্মগত এই ক্ষমতাটা রাজনীতিবিদদেরও থাকে। তাদের একটা ভাষণে মানুষ খইয়ের মত ফুটে। নিজের জীবনের মায়া ভুলে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আপনি ইচ্ছা করলেই সেরকম করে কখনই মানুষকে জাগাতে পারবেন না। কথায়, ব্যক্তিত্বে, দৃঢ়তায়, অসীম ধর্য আর শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবার মানুষিকতায় তারা হ্যামিলনের বংশি বাদকের মত সম্বহোন করে ফেলতে পারে। হিটলার তার একটি উদারহণ। মধ্যযুগের এইসব ক্ষমতাধররা ছিলো একেক জন ধর্মীয় নেতা। প্রকৃতপক্ষে এরা একেকজন সাইকোপ্যাথ। নিজেদের ধর্মমতকে প্রতিষ্ঠা করতে এরা তাদের অনুসারীদের দিয়ে অবিশ্বাসীদের হত্যা, তাদের নারীদের ধর্ষণ, দাসে পরিণত করা থেকে হেন কিছু নেই বাদ দেয়নি। মোটেই আশ্চর্যের কিছু নেই যে সেসব কুকীর্তিগুলো তাদের আজকের যুগের ভক্তদের মনেও কোন প্রশ্ন কিংবা সন্দেহ আনে না। বরং এইসব কুকীর্তিগুলোর পক্ষে তারা নিজ দায়িত্বে একটি করে যুক্তি তৈরি করে। এখানেও সেই একই কারণ। যেহেতু তারাও নবী, পীর, অবতারে সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বাসী, তারা মনে করে তাদের মহাপুরুষের সঙ্গেই যেহেতু বিশ্বের সত্য ঈশ্বরের যোগাযোগ ছিলো বা কাছের মানুষ ছিলো কাজেই তিনি কোন অন্যায় করতে পারেন না। তিনি কোন পাপ কাজ করতে পারেন না। ভারতের গুরমিত রাম রহিমের ভক্তদের মনে ঠিক এটাই কাজ করছে। তারা গোটা ভারতকেই আগুনে জ্বালিয়ে দিতে পারে আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে। মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় ভয়টা হচ্ছে এইসব সাইকোপ্যাথিদের কোটি কোটি অন্ধ অনুসারীতে পৃথিবী ভরপুর হয়ে আছে…।

RELATED ARTICLES

আফগানিস্তান: আমেরিকা চিরকাল আফগানদের পাহারা দিবে কেন?

আফগানিস্তান: আমেরিকা চিরকাল আফগানদের পাহারা দিবে কেন? আমেরিকা কি আফগানদের বিপদে ফেলে চলে গেছে? 8 ই মে আফগানিস্তানের একটি স্কুলের বাইরে বোমা বিস্ফোরণের পরেও...

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার।

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার। আজকের দিনে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া হিন্দু তরুন তরুনীরা তাদের নিজ ধর্ম, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বিষয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে চরম...

সতীদাহ কি হিন্দু ধর্মের প্রথা, বাল্য বিবাহ ও রাত্রীকালীন বিবাহের উৎপত্তির কারণ কি?

সতীদাহ কি হিন্দু ধর্মের প্রথা ? এবং বাল্য বিবাহ ও রাত্রীকালীন বিবাহের উৎপত্তির কারণ কি? ধর্মীয় বিষয় নিয়ে চুলকানো মুসলমানদের স্বভাব| এই চুলকাতে গিয়ে মুসলমানরা নানা...

Most Popular

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার।

বৈদিক সভ্যতা! মানব সভ্যতার অহংকার। আজকের দিনে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া হিন্দু তরুন তরুনীরা তাদের নিজ ধর্ম, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বিষয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে চরম...

বেদে স্পষ্ট করে গো হত্যা নিষেধ আছে-দুর্মর

বেদে স্পষ্ট করে গো হত্যা নিষেধ আছে। অপপ্রচার এর জবাব গো হত্যা এরজবাব। অনেক বিধর্মী এবং অপপ্রচার কারী রা বেদে গো হত্যা এর কথা...

পুষ্যমিত্র শুঙ্গ: ভারতে বৈদিক ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা। বৌদ্ধধর্মের শাসন সমাপ্তি করেছিল মৌর্য সাম্রাজ্যের সাথে!

পুষ্যমিত্র শুঙ্গ: ভারতে বৈদিক ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা। বৌদ্ধধর্মের শাসন সমাপ্তি করেছিল মৌর্য সাম্রাজ্যের সাথে! ভারতবর্ষে অনেক মহান রাজা রয়েছেন। হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ এবং ঐতিহাসিক সাহিত্য...

অনাদি হিন্দু জাতি কী? হিন্দু জতি সুদূর অতীত থেকেই অস্তিত্বশীল, কখনও কৃত্রিম সত্তা ছিল না।

অনাদি হিন্দু জাতি কী? হিন্দু জতি সুদূর অতীত থেকেই অস্তিত্বশীল, কখনও কৃত্রিম সত্তা ছিল না। আজকাল হিন্দু ও জাতীয়তাবাদের মতো শব্দগুলি শোনা যাচ্ছে এবং...

ভারতীয় সভ্যতার এমন শক্তি আছে যা ভােগবাদী দুনিয়াকে সঠিক পথের সন্ধান দিতে পারে।

ভারতীয় সভ্যতার এমন শক্তি আছে যা ভােগবাদী দুনিয়াকে সঠিক পথের সন্ধান দিতে পারে। প্রথমদিকে নানাভাবে অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করতে হবে। প্রয়ােজনে শক্তি প্রয়ােগ...

আমাদের সুপ্রাচীন সভ্যতার গৌরবময় মহান ঐতিহ্য জানতে হবে, সময় এসেছে ভুল সংশােধনের।

সুপ্রাচীন সভ্যতা: আমাদের সুপ্রাচীন সভ্যতার গৌরবময় মহান ঐতিহ্য জানতে হবে, সময় এসেছে ভুল সংশােধনের। যে কেউ খোলা চোখে তাকালে আধুনিক বিশ্বের চতুর্দিকে নানা ধরনের পরস্পর...

আর্যরা বহিরাগত নয়: আর্য দ্রাবিড় এক জনজাতি, ‘আর্যরা বহিরাগত’ এই তত্ত্বের উদ্ভাবনের কারণ কি?

আর্যরা বহিরাগত নয়: আর্য দ্রাবিড় এক জনজাতি, 'আর্যরা বহিরাগত' এই তত্ত্বের উদ্ভাবনের কারণ? আর্যরা বহিরাগত নয়: আর্য দ্রাবিড় এক জনজাতি, "আর্যরা বহিরাগত আক্রমণকারী- একটি...
%d bloggers like this: