কমিউনিস্টরা তাদের বিরুদ্ধ মত কখনোই সহ্য করে না। সে উত্তর কোরিয়া হোক বা চীন, কোথাও না।

Spread the love
কমিউনিজম সম্পর্কে যত খারাপই বলা হোক না কেন তা যথেষ্ট নয়। কমিউনিজম একটা আদর্শ। সেই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার জন্য সব রকম পন্থা কমিউনিস্টরা নিয়ে থাকে। ভারতের মত দেশে যেখানে বহুদলীয় শাসন চলে, সেখানে তারা গণতন্ত্রের অংশীদার হয়ে সমাজের ভিত থেকে আদর্শ প্রচার করে থাকে।

ক্ষমতায় থেকে তারা শিক্ষা বিভাগে নিজেদের লোক ঢুকিয়ে আদর্শ প্রচার করে। ভারতেও ইরফান হাবিব, রোমিলা থাপারের মত কমিউনিস্টদের ঢুকিয়ে ভারতের ৫/৭ হাজার বছরের ইতিহাসকে ভুলিয়ে ইসলামী আদর্শকে মহান করে তুলে ধরে। হিন্দুত্বের সব কিছুই খারাপ- এটাই তাদের আদর্শ। ভারতের যে সব অঞ্চলে গণতন্ত্রের বদলে ইসলামী মতাদর্শ প্রবল, সেখানে তারা ইসলামী মৌলবাদের সাথে মিশে গিয়ে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ করে সরাসরি, যেমন- কাশ্মীর, কেরল। হিন্দুপ্রধান অঞ্চলে নাস্তিক হয়ে গিয়ে প্রতি পথে হিন্দুত্বকে আঘাত করে। যতদিন তারা পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল ততদিন পাঠ্যপুস্তকে তিতুমীর, সিরাজদের মহান বানিয়ে তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামী সাজিয়েছে। বিপ্লবীদের বানিয়েছে সন্ত্রাসবাদী। ভারতের ইতিহাসকে বিকৃত রূপে তুলে ধরেছে। মোগল পাঠানদের মহান বানিয়েছে। পাঠ্যপুস্তকে কোথাও ‘হিন্দু’ শব্দটি রাখেনি। কোথাও বলেছে বৈদিক ধর্ম, কোথাও ব্রাহ্মণ্য ধর্ম, কোথাও আর্য কোথাও বা অন্য কিছু। ইসলাম থাকলেও, বৌদ্ধ থাকলেও, জৈন থাকলেও হিন্দুর কোনো আস্তিত্ব নেই। এজন্যই হিন্দুদের মধ্যে নিজেদের ধর্ম সম্পর্কে লজ্জাবোধ এসেছে।
   বর্তমানে নির্বাচনী রাজনীতিতে অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়ায় তারা তৃণমূল ইত্যাদি মেধাহীন অন্তঃসারহীন দলের মধ্যে পরগাছার মত ঢুকে ইসলামী মৌলবাদকে সঙ্গে নিয়ে তাদের চিন্তাধারাকে প্রচার করছে। এর সাথে চলছে দেশের আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে প্রকাশ্যে দেশদ্রোহীতা। ভারতকে পাকিস্তানি বাংলাদেশি মুসলমানদের নিরাপদ কর্মস্থল বানাতে দেশ জুড়ে এরাই তান্ডব চালাচ্ছে। এদের যে কয়টি ঘাঁটি অবশিষ্ট আছে, সেই JNU, যাদবপুর বিশ্ববাদ্যালয়ের আর্টস বিভাগে এরা জমিদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এরাই অখন্ড ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে, এরা মণিপুরকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পথে নামে। এরা কাশ্মীরে  শরিয়ত আইন প্রতিষ্ঠার জন্য গুলি খেয়ে মরা বুরহান ওয়ানিকে হিরো বানায়। ভারতীয় গণতন্ত্রের মন্দির সংসদ ভবনে হামলার কারিগর আফজল গুরুকে গুরুর আসনে বসিয়ে তার মুক্তি চায়। কবির সুমন নামে এক কমিউনিস্ট-ইসলামী মৌলবাদী তার ফাঁসির শোকে হাহাকার করে কবিতা লেখে। বিরুদ্ধ মত কমিউনিস্টরা কখনোই সহ্য করে না। উত্তর কোরিয়া হোক বা চীন, কোথাও না। ভারতেও নিজেদের ঘাঁটিতে তারা সেই একতন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন দেশজুড়ে জাতীয়তাবাদের ঝড়ে তারা দিশাহারা হয়ে জাতীয়পতাকা হাতে নিয়ে গণতন্ত্রের মুখোশ পরেছে। আক্রমণ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে আহতের অভিনয় করে সহমর্মিতা আদায়ের চেষ্টা করছে। এদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সবকটা প্রচারমাধ্যমে এদের লোক বসে আছে। যেমন আনন্দবাজারের সাংবাদিকদের মধ্যে যাদবপুরের কমিউনিস্ট প্রচুর। তাদের কাজে লাগিয়ে এরা জনসহানুভুতি জাগাতে চাইছে।

  তবে এসবে কিস্যু হবে না। ভারত জেগেছে। স্বাধীনতার পর প্রথম জেগেছে। দেশদ্রোহী কমিউনিস্ট আর পাকি দালালরা কেউ ছাড় পাবে না। তাদের মতাদর্শ নির্মূল হবেই। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে হিন্দুর সংখ্যার জোরে সাংবিধানিক ভাবে আইন বানিয়েই তাদের চক্রান্তকে প্রতিহত করা হবে। তবে তারা অন্য ভাষায় কথা বলতে চাইলে সেই ভাষাতেই জবাব দেওয়া হবে, যেমনটা মাঝে মাঝে হচ্ছে।
  ভারত চলবে বৈদিক পথে, ঔপনিষদিক আদর্শে, শঙ্করাচার্য শ্রীচৈতন্য তুকারাম বিবেকানন্দ প্রণবানন্দের আদর্শে। ভারত চলবে শিবাজীর পরাক্রমে, আম্বেদকরের বাস্তবতায়, হরিচাঁদ-গুরুচাঁদের সাম্যে, ভারত চলবে নেতাজীর জাতীয়তায়। দেশভাগের কারিগরদের আর মৌলবাদের ধারকদের কোনো স্থান নেই ভারতে। তারা বড়জোর আশ্রিত হয়ে থাকতে পারে। কমিউনিস্ট চীন বা ইসলামিস্ট আরব-পাকিস্তান-বাংলাদেশ বিরোধীদের থাকতেই দেয় না, কিন্তু উদার হিন্দুধর্ম তাদের সেই অধিকারটুকু রাখবে।
   ভারত গগনে পুনঃ উদিবে সুদীপ
   ঐ দেখ প্রভাত উদয়।