বাংলাদেশে প্রচুর আদিবাসী হিন্দু আছে। হাজং, মুনিপুরী, বর্মণ, রাজবংশী, ত্রিপুরা এবং অন্যান্য।
এদেরকে বাঙালি হিন্দুরা কতটুকু হিন্দু বলে স্বীকৃতি দেয়? এদেরকে কতটুকু আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে? এদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক কেন হয় না? কেন এদেরকে পূজোর অনুষ্ঠানে বাইরের লোক হিসেবে গন্য করা হয়? কেন তাদের বিপদে আপদে বাঙালি হিন্দুরা চোখ বন্ধ করে রাখেন?কেন এদের শিক্ষা স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেন না? হিন্দুরা কি জাতপাতের আবর্তেই আটকে থাকবে চিরকাল?

আমার পোস্টে আমার একজন আদিবাসী বন্ধু Bipul Hajong মন্তব্য করেছেন, “এই দেশে সংখ্যালঘু বলতে বাঙালী হিন্দু বোঝায়। এদের দালাল ঐক্য পরিষদ ৫০টি সংসদীয় আসন দাবি করেছে। এই দেশের ২৩লক্ষ সনাতন ধর্মাবলম্বী আদিবাসী, দের লক্ষ এনিমিস্ট আদিবাসী ও ৫ লক্ষ চা-বাগানীদের জন্য এরা কিছু দাবি করে নাই। বরং এদের উপর ভর করে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় দাবি করেছে এই দালাল ঐক্য পরিষদ। এই দেশে ৫% আদিবাসী কোটার সুবিধাভোগী খ্রিস্টান (সারেতিন লক্ষ) ও বৌদ্ধ (সারে ছয় লক্ষ) আদিবাসী। কারণ এই দুই ধর্মীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষার হার প্রায় শতভাগ। এদের সাথে প্রতিযোগিতায় হিন্দু আদিবাসীরা টিকতে পারে না। অথচ এই দালাল ঐক্য পরিষদ এই বিষয়ে টু শব্দও করে না। এরা যে কতবড় কীট তা যে ভালোভাবে জানে না, তারা এদের ভদ্রলোকই মনে হবে।  উপমহাদেশের সবচেয়ে বাজে মানসিকতার মানুষ এই ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুরা।”
বিপুল হাজং আরো মন্তব্য করেছেন, ” দিয়া আরেফিন এটিই সত্য। খ্রীস্টান ও বৌদ্ধ আদিবাসীদের যতগুলি প্রতিষ্ঠীন আছে তা বাঙালী জনগোষ্ঠীর চেয়ে অনেক অনেক বেশী। আর খ্রীস্টান আদিবাসীরা নিজেদের মধ্যে শিক্ষার হার ১০০% দাবি করে, আর বৌদ্ধ আদিবাসীরা ৯৮%। অথচ হিন্দু আদিবাসীদের শিক্ষার হার সংখ্যায় বেশী হলেও দেশের সাধারণ শিক্ষার হারের চেয়ে অর্ধেকেরও নিচে। এটাই বাস্তবতা। একজন খ্রীস্টান ছাত্র লেখাপড়া করে প্রাইমারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুবিধার মাধ্যমে এবং অবশ্যই একজন বাঙালী ছেলের চেয়ে অনেক অনেক সুবিধার মধ্যে। অথচ হিন্দু আদিবাসী ছাত্রের লেথাপড়া করার সুযোগ বাঙালীর চেয়ে অনেক কম। সুতরাং কোটা ব্যবস্থায় নীতিমালা হওয়া প্রয়োজন। নইলে আদিবাসী কোটার আসল উদ্দেশ্য সুযোগের সমতা সম্ভব নয়। কোটা সুবিধায় চাকরি হলে খ্রীস্টান আদিবাসী ৪জন, বৌদ্ধ ৫জন অথচ হিন্দু আদিবাসী ১জন বা অনেক ক্ষেত্রে শূণ্য থেকে যায়। এইবার বোঝেন অবস্থাটা।”
কী জবাব দেবেন এই প্রশ্নসমূহের? আর কত চালাবেন জাতের নামে বজ্জাতি?

বাংলাদেশে বহু আদিবাসী নিঃচিহ্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী আদিবাসীরা।
হিন্দুদের উচিত নিজেদের নোংরা পায়ের দিকে তাকানো।