কর্মসূত্রে তিনমাস একটানা অসমে থাকার সুযোগ হয়েছিলো,ধুবরী,বঙ্গাইগাঁও,কোকরাঝাড়,চিরাং,
দরং,লোয়ার আসামের এই জেলাগুলোতো প্রায় হাতের তালুর মতোই চেনা আমার। সময়টা 2014, কেন্দ্রে সবেমাত্র সরকার বদলেছে,অসমে তখনও কংগ্রেসের সরকার। নর্থ ইস্ট মানে বোরো,আলফা, মাইসো,ইত্যাদি জঙ্গিদের স্বর্গরাজ্য এবং এখানকার লোকেরা নাকি বাঙ্গালী বিদ্বেষী, এটাই জেনেছি ছোট থেকে! খানিকটা সংকোচ মনে নিয়েই পা রাখলাম সাত বোনের রাজ্যে। কাজ শুরু হলো, কিন্তু যত দিন কাটতে লাগলো আমার উত্তর-পূর্ব সম্পর্কে ধারণা গুলো যেন সব ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে থাকলো, আমি বুঝতে পারলাম সরকার এবং মিডিয়া এক ভয়ঙ্কর সত্যকে লুকিয়ে রেখেছে বাকি দেশ থেকে,”বোরো” বলতে জঙ্গী ছাড়া যাদের ভাবতাম না, জানলাম তারা গোড়া হিন্দু, কার্ভি, রাজবংশী, অহম, সকলেই হিন্দু এবং ধর্মকে নিয়ে গর্ব করা হিন্দু! এক স্থানীয় অসমীয়া বিয়েতে গিয়েছিলাম,অনেক খুঁজেও বাঙালি হিন্দুর নিয়মকানুনের সাথে কোন পার্থক্য পেলামনা, আরোও জানলাম বাঙালি হিন্দুর সাথে তাদের কোনদিন বিরোধ ছিলোনা, আজও নেই, আসলে ঘটনা হলো ভারত বাংলাদেশ বর্ডারের বেশিরভাগটাই অসম,মেঘালয়ে,ত্রিপুরার সাথে, যার প্রায় সবটাই উন্মুক্ত ছিলো, প্রতিদিন কয়েকশ নতুন মুসলিম এপারে আসতো এবং বসতি স্থাপন করত, সাদাসিধা ভূমিপুত্রগুলো বারণ করেনি কোনোদিন, তারা সবাইকে আপন করে নিয়েছিলো, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মুসলিম জনসংখ্যা, তৈরি হয়ে একের পর এক মসজিদ, রাস্তায় ঝুলতে থাকে গরুর মৃত শরীর ,প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা উত্তরপূর্ব দাড়ি আর বোরখায় ঢাকা পড়তে থাকে, ধীরে ধীরে মন্দিরগুলিকে অপবিত্র করা শুরু হয়ে, নজর পড়তে থাকে হিন্দু নারীদের উপর, কংগ্রেসের প্রশাসন ভুমিপুত্রদের কোন অভিযোগে পাত্তা দেয়না, তারা সরাসরি মুসলিমদের পক্ষই নেয়, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তৈরি হয় বিভিন্ন প্রতিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী, যাদের আলফা, বোরো ইত্যাদি নামে সরকার এবং মিডিয়া দেখিয়েছিলো, শুনলে অবাক হবেন অনেক বাঙালি হিন্দুদের এগুলিতে যোগদান স্বাভাবিক ঘটনা ছিলো!
                 কিন্তু মুসলিমরা বুদ্ধি করে রটানো শুরু করে বিদ্বেষ টা বাঙ্গালীর বিরুদ্ধে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয়, যেহেতু তাদের ভাষা বাংলা, সরকারের সাহায্যে কিছুটা সফলও হয় তারা।
                 অসমিয়াদের মধ্যেও এই কনফিউশন মুসলিমরা সৃষ্টি করতে পেরেছিলো, তবে তা সাময়িক, ধীরে ধীরে তারা বাঙালি হিন্দু এবং বাংলায় কথা বলা মুসলিমকে আলাদা করার পদ্ধতি বার করে ফেলে। আমি নিজে প্রচুর বার তাদের এই ডিটেক্টর পদ্ধতির সম্মুখীন হয়েছি, কোনো জায়গায় বাংলায় কথা শুনলে একটু সংকোচ নিয়ে পুরো নাম জানতে চাইত তারা, হিন্দু পদবি সোনার পর সব স্বাভাবিক, যেন আমি ওদের ঘরের ছেলে, পরের দিকে আর পুরো নাম বলতামনা শুধু পদবি বলতাম, আর ওরা হাসতো, হাসার মানে আমি পদ্ধতিটা জানি!
                   ধীরে ধীরে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির সরকার বদলায়, বিজেপি ক্ষমতায় আসে, 4 বছর আগে যে উত্তরপূর্বতে প্রতিদিন গড়ে 5 জন  নিরাপত্তারক্ষী মারা যেতেন আজ 4 বছরে সেই সংখ্যা শুন্য তে এসে দাঁড়িয়েছে, কারণ সরকার ভুমিপুত্রদের অসুবিধা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে! নাম সোনা যায়না সেই সশস্ত্র গোষ্টিগুলোরও!
                তাই যারা বাংলায় কথা বলা বাংলাদেশি মুসলিমদের সামনে রেখে অসমের বাঙালী বিদ্বেষের গল্প শোনানোর চেষ্টা করছেন তাদের বলুন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার দিন চলে গেছে, অসমে পাড়ায় পাড়ায় হিন্দু ঐক্য মঞ্চ তৈরি হয়েছে, যাতে যোগদানকারী হিসাবে বাঙ্গালী হিন্দুর  হার সবথেকে বেশি!