কমরেড : কাশ্মীরের জন্য কাঁদেন আর প্রিয়া সাহাদের জন্য কাঁদেন না ?
————————————————————————————
৩৭০ রদের জন্য কমরেডরা রাস্তায় নামবেন, কাশ্মীরের জন্য তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একি রাজনৈতিক অনাচার, এতো গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে ! তা বলি সেকুলাঙ্গার ভাইজানেরা, বইনেরা, আম্মিরা এবং আব্বারা, ভারতের স্বাধীনতা উত্তর যে ইসলামী বাঁদরামি কাশ্মীরে হয়ে এসেছে, তার জন্য কতবার চোখের জল ফেলেছেন ?

কতবার রাস্তায় নেমেছেন ? নাকি সেই বাঁদরামিগুলো কাশ্মীরের সংখ্যাগুরুদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লড়াই ছিল আর তাই সমর্থন করেছেন ? গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করতে গেলে কাশ্মীরের ভূমিপুত্র পন্ডিতদের হত্যা করে, ধর্ষণ করে, একটা জনগোষ্ঠীকে নিজভূমে পরবাসী করতে হয় নাকি ? আদতে মোটেই তা নয়, ভারতের রাজনীতির মসনদে টিঁকে থাকতে গেলে সংখ্যালঘু বিশেষ জনগোষ্ঠীকে তোষণ করে, তাদের ভোট আদায় করতে হয়। নির্লজ্জ্ব, সেকুলাঙ্গারের দল, তোমাদের বলি, তাহলে কান খুলে শোনো :
বাংলাদেশের অসহায় অবরুদ্ধ হিন্দুর করুণ অবস্থা বর্ণনা করে বাংলাদেশের বিখ্যাত লেখক ও মানবাধিকার সংগঠন Amity for Peace-এর Chief Executive সালাম আজাদ বলেছিলেন : “বাংলাদেশের হিন্দু, যারা জনসংখ্যার ১০ শতাংশ তাদের সামনে তিনটি পথ খােলা আছে। ইসলামে ধর্মান্তর, দেশত্যাগ অথবা আত্মহত্যা। (Hindus in Bangladesh, who comprise about 10% of the population are now left with three options. They can embrace Islam, leave the country or commit suicide-(The Statesman 10.2.2002)। আজ থেকে প্রায় ষাট-সত্তর বছর আগে প্রয়াত সমাজতন্ত্রী নেতা ও সাংসদ অধ্যাপক সমর গুহ পাকিস্তানে ইসলামি শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে বলেছিলেন : “…স্বভাবতই সংখ্যালঘু অ-মুসলমানরা স্বেচ্ছায় বাধ্য হয়েই ইসলামের আদর্শকেই গ্রহণ করবে … কালক্রমে হয় নিশ্চিহ্ন হওয়া অথবা ইসলাম গ্রহণ করা ব্যতীত অমুসলমানদের গত্যন্তর নেই। (….Obviously the non-muslim minorities of Pakistan, whether willingly or perforce are bound to accept Islam’s ideology as their own …. the fate of the non-Muslims await either elimination from Pakistan or gradual absorption in its body politic.)” |
পাঠক, আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন :হিন্দুর এই দুর্দশার জন্য কে দায়ী ? দায়ী হলো ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিজাতিতত্ত্বের ভাওঁতায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে ভারত-পাকিস্তান হওয়া, অর্থাৎ মেইন কালপ্রিট ‘দেশ বিভাগ’। ‘হাত মে বিড়ি, মু মে পান/লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’ স্লোগান তুলে দেশ বিভাগে সক্রিয় এবং সহিংস অংশগ্রহণকারী মুসলমানদের সব ধরণের সহযােগিতা করেছিল কংগ্রেস আর এই দেশের মাকু কম্যুনিষ্টরা । ১৯৪৭ সালের ১২ই জুন, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সভায় দেশ বিভাগের প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৪ই জুন AICCর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে সেই প্রস্তাব অনুমােদনের জন্য পেশ করা হলে পরে, প্রস্তাবের সমর্থনে গান্ধী বুড়ো প্রায় ৪০ মি. বক্তব্য রেখেছিলো । বলেছিল : “ভারত বিভাগের বিরােধী হয়েও আজ সে AICC-র অধিবেশনে এসেছে ভারত বিভাগ প্রস্তাব গ্রহণের অনুরােধ নিয়ে। অপ্রীতিকর সিদ্ধান্ত কখন কখনও গ্রহণ করতে হয়। (He advised the house to accept the resolution ….. he was one of those who had steadfastly opposed the division of India. Yet he had come before the AICC to urge the acceptance of the resolution on India’s division. Sometimes certain decision, however unpalatable they might be, had to be taken.) । সেই সভায় বিতর্কের শেষে, দেশ বিভাগের প্রস্তাব ১৫৭-২৯ ভােটে গৃহীত হয়। ৩২ জন প্রতিনিধি ভােটদানে বিরত থাকে। ‘৪২ সালে গান্ধী ভারত ছাড়’ (Quit India) আন্দোলনের ডাক দিলে, কমুনিষ্ট পার্টি শ্লোগান তুলেছিল : “আগে দেশ ভাগ হবে, তারপর দেশ স্বাধীন হবে”। পার্টির ইস্তাহারে তারা সগর্বে ঘােষণা করা হয়েছিল : “একমাত্র কমুনিষ্ট পার্টিই মুসলমানের পাকিস্তান দাবিকে সঙ্গত বলে মনে করে ; এবং দাবি আদায়ের জন্য কংগ্রেস-কমুনিষ্ট-মুসলিম লীগের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানায়।” (The Communist Party is the only party that recognises Muslim’s demand for Pakistan as just and calls the league to achieve the fundamental goal of Pakistan through united struggle of the Congress, Muslim League and the Comminists)।
এই সেকুলাঙ্গার গদি লোভী কংগ্রেস কমুনিষ্ট জোট আর ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগের ষড়যন্ত্রে ভারত বিভক্ত হয়েছিল । কট্টর হিন্দুত্ত্ববাদী RSS টাইপ সেইদিন ট্যা ফো করলেও ধোঁপে টেঁকেনি সেই ভারতভাগের প্রতিবাদ । পাঠক, এর ফল কি দাঁড়ালো ? আমি বলি শুনুন : এই দেশভাগের ফলে একমাত্র পঃ পাকিস্তানেই প্রায় ২৫ লক্ষ হিন্দু-শিখ বলি হলো, নারীরা ধর্ষিতা হলো, গনিমতের মালে পরিণত হলো আর পূর্ব পাকিস্তান তার স্বরূপ খুললো ১৯৫০ এ । পূর্ব পাকিস্তানে বিধ্বংসী সন্ত্রাসের পর লক্ষ লক্ষ হিন্দু নর-নারী লাঞ্ছিত উৎপীড়িত ও সর্বস্বান্ত হয়ে পঃ বাংলায় আশ্রয় নিলো । এবাংলায় তখন দাবী উঠলো : যত সংখ্যক হিন্দু পূঃবঙ্গ হতে বিতাড়িত হয়েছে, সেই সংখ্যক মুসলমানকে পূঃবঙ্গে পাঠিয়ে হিন্দু উদ্বাস্তুদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হােক, যেমন হয়েছে পাঞ্জাবে, কিন্তু জহরলাল নেহেরু পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়কে নির্দেশ দিল, পূর্ববঙ্গ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে । ঠিকই বলছি পাঠক, রেফারেন্স মিলিয়ে নেবেন ।
ঐতিহাসিক রমেশ চন্দ্র মজুমদার তাই তার লেখায় বলেছিলেন : “মহাত্মা গান্ধীর জাতীয় আদর্শ ও পণ্ডিত নেহেরুর ভাবােচ্ছাসের যূপকাষ্ঠে যে কোটি কোটি বাঙালীর বলিদান হইয়াছে, বাঙালী যদি কখনও মনুষ্য পদবাচ্য হয় তবে ইহার জবাবদিহি চাহিবে।” আজকের বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বাঙালি হিন্দুর এই দুর্দশার জন্য কে দায়ী, আপনারা কি মনে করেন পাঠক ?
রেফ : রমেশচন্দ্র মজুমদার বাংলাদেশের ইতিহাস, ৪র্থ খণ্ড
Prof . Samar Guha : Non Muslims Behind The Curtain Of East Pakistan
R. C. Majumdar : History Of The Freedom Movement In India