জোয়ান অব আর্ক
—————————
১৪১২ সালের ৬ জুলাই থেকে ১৪৩১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত মাত্র উনিশ বছরের জীবন মেয়েটির। দুনিয়া কাঁপানো যুদ্ধ করে বিদায় নিয়েছিলেন এই বীরকন্যা। তাঁর মৃত্যুকে নিয়ে রচিত হয়েছে অগনিত গান,কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র।  বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের স্মৃতির মণিকোঠায় তিনি বেঁচে থাকবেন তার দেশভক্তি ও অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে।

ফ্রান্সের মিউজ নদীর তীরে দঁরেমি গ্রামে জোয়ান অব আর্ক-এর জন্ম হয়েছিল এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে। লেখাপড়া জানতেন না। জোয়ান যখন জন্মেছিলেন ফ্রান্স তখন পরাধীন ; ইংরেজদের দখলে। ১৩ বছর বয়েসে একদিন ভেড়ার  পাল চড়াতে গিয়ে হঠাৎ দৈববাণী শুনলেন,  তুমিই ফ্রান্সকে মুক্তি দিতে পারবে। ফ্রান্সের হয়ে যুদ্ধ কর। জোয়ান বিস্মিত হয়ে গেলেন! ফ্রান্সের সম্রাট  ৭ম চার্লস তখন লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন। বহু চেষ্টায় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সহায়তায় জোয়ান দেখা করলেন সম্রাট চার্লসের সঙ্গে। প্রথমে চার্লস নারী বলে তাঁকে গুরুত্ব দেননি। পরে ধর্ম যাজকদের পরামর্শে তাঁকে সেনাবাহিনীতে নিলেন। জোয়ান নাইটদের মত  পুরুষের ছদ্মবেশে যোদ্ধার সাজে সজ্জিত হলেন। এরপর জোয়ান সাদা পোশাক,  সাদা ঘোড়া, পঞ্চক্রুশধারী তরবারি হাতে ৪০০০হাজার সৈন্য নিয়ে ফ্রান্সের অবরুদ্ধ নগরী অরলেয়াঁরে ১৪২৯ সালের ২৮ এপ্রিল প্রবেশ করলেন। এবং প্রবল বীরত্ত্বে অরলেয়াঁরকে মুক্ত করলেন। এরপর  একের পর এক নগরীকে তিনি ইংরেজদের হাত থেকে দুর্দান্ত প্রতাপে সেনাবাহিনীর সাহায্যে মুক্ত করে ফ্রান্সকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে দিলেন। সম্রাট চার্লসকে তার সিংহাসনে ফিরিয়ে আনলেন।
এই সময় প্যারিসের কাছে এক যুদ্ধে বার্গেডিয়ানরা তাঁকে আটক করে ইংরেজদের হাতে তুলে দিল। বার্গেনডিয়া হল ফ্রান্সের একটি জায়গার নাম। সেখানকার শাসনকর্তা ডিউক ছিলেন ইংরেজের বন্ধু। সে বিশ্বাসঘাতকতা করে জোয়ানকে ইংরেজের হাতে  তুলে দেয়। ইংরেজ এ সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। তাদের মূল শত্রু  জোয়ানকে হাতে পেয়ে এবার বিচারের নামে প্রহসন শুরু করল। এই কাজে ইন্ধন দিলেন দেশের ধর্ম যাজকরা। তাঁরা বলল, জোয়ান যা করেছে তা ধর্ম বিরোধী। পুরুষ সেজে যুদ্ধ করে ধর্মের অবমাননা করেছে। ও ডাইনি। বিচারে রায় দেওয়া হল জোয়ানকে পুড়িয়ে মারার। এরপর জোয়ানকে একটি পিলারের সঙ্গে বাঁধা হল।  এইসময় জোয়ান একটা ক্রুশ চাইলেন। একজন এসে জোয়ানের গলায় একটি ক্রুশ ঝুলিয়ে দিল। অবশেষে জোয়ানকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হল। এরপরই জোয়ানের সেই পুড়ে যাওয়া দেহের ছাই ফ্রান্সের শ্যেন নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু তিনি শতশত নারীর প্রেরণাদায়ী হয়ে মানুষের
মনে এখনও অমর হয়ে আছেন।