চীনের পর শ্রীলংকা জঙ্গিবাদের ফ্যাক্টরিকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। লংকান সরকার ২০০ ধর্মীয় নেতাসহ ৬০০ বিদেশীকে বহিষ্কার করেছে যাদের সকলেই মুসলিম। শ্রীলংকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্যাজিরা অ্যাবেওয়ার্দেনা বলেন, ‘২১ এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলার পর উদ্ভুত পরিস্থিতির বিবেচনায় আমরা আমাদের ভিসা দেওয়ার পদ্ধতি পর্যালোচনা করে দেখছি। ধর্মপ্রচারকদেরকে ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে বিধিনিষেধগুলো আরো কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।

এর মানে হচ্ছে দাড়িঅলা জোব্বাঅলা দেখলেই শ্রীলংকা আর ভিসা দিবে না! এর মাধ্যমে নিশ্চিত হলো শ্রীলংকায় তাবলিগ জামাত ঢুকতে পারবে না। ওয়াজ করতে বিদেশী মুফতি মাওলানাকে লংকান মুসলিমরা ডেকে আনতে পারবে না। কয়েকদিন আগেই শ্রীলংকায় জাকির নায়েকের পিস টিভিকে ব্লক করা হয়েছে। লংকান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টত বলে দিয়েছেন তাদের ভালো মানসিকতাকে মুসলমানরা জাস্ট ব্যবহার করেছে। ইসলামের প্রতি উদার মানবিকতা প্রদর্শনই যে লংকানদের কাল হয়েছে সেটা লংকান এই মন্ত্রী প্রকাশ করেন এভাবে- ‘আমাদের দেশে এমন অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা বিদেশ থেকে ধর্মপ্রচারক এনে থাকে। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা ছিলো না। কিন্তু সম্প্রতি তাদের কেউ কেউ সমস্যা তৈরি করছে। ফলে আমরা এবার তাদের প্রতি আরো বেশি মনোযোগ দিবো’।

অর্থাৎ কঠোর নজরদারীর মধ্যে তাদের রাখা হবে। নি:সন্দেহে এটা ‘ইসলামোফোবিয়া’ তাই না? মুসলিমদের মধ্যে কে জিহাদী সন্ত্রাসী তা যেহেতু উপর থেকে দেখে বুঝা যাবে না তাই মুসলিম আইডেন্টি‌টি পেলেই বাড়তি মনোযোগ তথাকথিত ইসলামোফোবিয়ার সংজ্ঞার মধ্যে পড়ছে! শ্রীলংকা জানিয়েছে, জিহাদী বইপত্রের খুঁজে তারা ঘরে ঘরে তল্লাসী চালাচ্ছে। এর মানে হচ্ছে মুসলিমদের বাড়িঘরে নিরাপত্তা বাহিনী চিরুনী অভিযান চালিয়েছে। এই কাজটা ভারতে হলে অরুন্ধতিরা কাগজে লিখে ভারতকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানিয়ে দিতো। লংকান লিবারালরা এ বিষয়ে ধারণা করা যায় সরকারের অভিযানে একমত হয়েছে কারণ এখন পর্যন্ত সেরকম কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়ার খবর জানা নেই। ইসলামে উদারপন্থি কট্টরপন্থি বলতে দুইরকম কোন ধারা নেই। সুফিবাদীরাই হচ্ছে ভারতবর্ষের আদি জিহাদী। ইসলাম ধর্ম থেকেই যে জঙ্গিবাদ, ইসলামিক বইপত্রই যে জঙ্গিবাদের একাডেমিক উৎস এটা চীনের পর শ্রীলংকা দ্বিতীয় দেশ যারা কার্যক্রম দ্বারা প্রমাণ করেছে তারা উৎসটাকে ধরতে পেরেছে। শ্রীলংকা মনে করছে ক্যান্সারের সূচনাকালে ধরা পড়ায় এটাকে মূলসমেত উৎপাটন করলেই এই ভয়াবহ ভাইরাস থেকে মুক্তি মিলবে। একটু অসতর্ক করলেই ক্যান্সার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে।

বাংলাদেশের মুফতি মাওলানাদের ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ওয়াজ করতে ভিসা দেয়া হয়। এই মাওলানারা বাংলাদেশে বসে জিহাদের ওয়াজ করে, হিন্দুসহ সমস্ত অমুসলিমদের নিয়ে নোংরা ভাষায় কটুক্তি করে। গুলশান হামলার পর আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, তারিক মুনোয়ার- এই দুইজন মুফতিকে দায়ী করা হয়েছিলো যুবক সমাজকে জিহাদী জঙ্গিবাদে অনুপ্রাণিত করার। সেই তাদেরকেই ওয়াজ করতে পশ্চিমবঙ্গ ভিসা দেয় কিভাবে? কোন ভরসায় তাবলিক জামাতকে এলাউ করা হয়? বাংলাদেশে অবাধে বিচরণ করে বেড়ায় জিহাদী মাওলানা মুফতিরা। তাদের ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করার ক্ষমতা সরকারের নেই। তাবলিক জামাতের আওতায় সৌদি, ইরানী, সুদানী, কাতার, পাকিস্তান থেকে বড় বড় জিহাদী তাত্ত্বিক ধর্মীয় নেতারা বাংলাদেশে এসে জিহাদের তালিম দিয়ে যায়। শ্রীলংকা সেই তালিম দেয়ার সুযোগটাই বন্ধ করে দিয়েছে।

আমার বন্ধুদের মধ্যে যারা ধার্মীক তাদের অনেকে পীরের মুরিদ। এই পীর বাবাজিরা আবার ভারতের নাগরিক। ইনাদের দরবার শরীফ একেকটা বিশাল জায়গা নিয়ে অবস্থিত। এসব দরবার শরীফ অঘোষিতভাবে স্বায়ত্তশাসিত যেখানে নিয়ন্ত্রণ সরকার বা প্রশাসনের নেই। কোন দরবার শরীফকে পুলিশ সার্চ করতে পারবে না ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের কারণে। সম্প্রতি আইএস তাদের ঘোষণায় ভারতে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ভিসা সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে। এই হামলা স্থানীয় ইসলামিক শক্তি ছাড়া সম্ভব নয়। ভারতে এরকম কোন মাদ্রাসা মসজিদে সন্দেহবশত পুলিশ তল্লাসি চালালে ভারত জুড়ে লিবারাল সেক্যুলারদের তোপের মুখে সরকার পিছিয়ে আসবে। ভারতের দেওবন্ধ হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান মাদ্রাসা যেখানে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার জন্য অন্য দেশের মুসলমানরা পড়তে আসে। ( বাই দ্য ওয়ে, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় মাদ্রাসাটা কিনা একটা ‘হিন্দু রাষ্ট্রে’!) তো এই দেওবন্ধে ভারত সরকার কতখানি প্রভাব খাটাতে পারে? দেওবন্ধে জঙ্গিবাদের একাডেমিক পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিদেশী ও ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে কতজন জঙ্গি মানসিকতা নিয়ে সেখানে বেড়ে উঠছে সেটি ভারত সরকার কি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম? শ্রীলংকাতে গির্জায় হামলাকারীরা ভারত এসেছিলো প্রশিক্ষণ নিতে- তার মানে কি নরেন্দ মোদী নেতৃত্বে আরএসএস তাদের জঙ্গি টেনিং দিয়ে পাঠিয়েছিলো গির্জাতে হামলা করতে? শ্রীলংকান জঙ্গিরা ভারতে যে স্থানে গিয়েই জঙ্গি ট্রেনিং নিক- সেটা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিলো। মাদ্রাসা ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলি কার্যত নিষিদ্ধ স্থান। বাংলাদেশ সরকার কি হাটহাজারী মাদ্রাসায় কোন প্রকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? আমরা জানিই না সেখানে আসলে কি ঘটে। ভারতে এরকম ইসলামিক প্রতিষ্ঠান হাতে গোণা দুই-একটি নয়। আসল কথা হচ্ছে শ্রীলংকার হামলাকে কোনমতে ভারতীয় রাজনীতি দিয়ে যুক্ত করতে পারলে ইসলামের জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গটা আড়াল হয়ে যায়। ভারত শ্রীলংকায় নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে এই হামলা চালিয়েছে। এরকম মাথামোটা কুযুক্তি সাদরে গ্রহণ করেছে মানুষ। আইএস হচ্ছে ইহুদীদের দল, এরকম প্রচারণা মুসলমান কোন রকম তথ্যপ্রমাণ যুক্তি ছাড়াই লুফে নিয়েছে কারণ এতে তাদের ধর্মের সন্ত্রাসী আলামত আড়াল হয়ে যায়।

Copy and paste from Susupto Pathok