ভুভুজেলা বাঁশিকে ব্যান করা ঠিক হয় নাই কারণ ভুভুজেলা বাঁশির কোন দোষ নাই! এক সঙ্গে হাজার মানুষ ভুভুজেলা বাজালে মানুষ তো বিরক্ত হবেই। তাই ভুভুজেলাকে ব্যান না করে মানুষকে বুঝাতে হবে, আসুন, সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকবে তখন কেবল ভুভুজেলা বাজাবেন…!

তাছাড়া হুট করে ভুভুজেলা নিষিদ্ধ করলে উগ্র ভুভুজেলা বাদকরা আরো বেশি করে উগ্র হয়ে যাবে। তখন তারা আপনার কানের পর্দা বরাবর ভুভুজেলা বাজাতে শুরু করবে। তাই তাদের আদর দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে ভুভুজেলা সম্পর্কে বুঝাতে হবে। তাদের বলতে হবে, শোন, ভুভুজেলা বাজাতে হয় নিশিরাতে। কিছু বিপদগামী ভুভুজেলা বাদক তোমাদের মানুষের কানের সামনে ভুভুজেলা বাজানোর কথা বলেছে যা সহি ভুভুজেলা আইনে নেই…।

আমার কাছে এখন ইসলামী সন্ত্রাসের সমাধান এরকমই লাগছে। ভুভুজেলা সমস্যা করছে আমরা মানছি কিন্তু ব্যান করতে চাচ্ছি না। তারপর এমন পরামর্শ দিচ্ছি যেটা রীতিমত হাস্যকর।

যদি বলি মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করা উচিত তাহলে সবাই একমত হবেন। কিন্তু যদি বলি কুরআন শিক্ষা চর্চা ব্যান করা উচিত’ তখনই সবাই নড়েচড়ে বসবেন। কিন্তু মাদ্রাসায় তো কুরআন চর্চাই হয়। ‘ইসলাম ধর্মটাই ব্যান করে দেয়া উচিত’ এই কথাটাকে অনেকে উগ্রতার গন্ধ পান। কেউ আবার এটাকে বাস্তবতাবহির্ভুত বলে মনে করেন। তাহলে উপায় কি? এর জবাবে তারা বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা তুলে দিতে হবে। ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করতে হবে। সেক্যুলার শিক্ষায় মুসলমানদের আনতে হবে।… যদি মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করা লাগে তাহলে তো কুরআন শিক্ষাই বন্ধ করা হলো। ওয়াজ বন্ধ করা মানে তো ইসলাম প্রচার বন্ধ করে দেয়া। কার্যত তো সেটা ইসলাম ব্যান করার পর্যায়ে চলে গেলো…।

৫ বছর আগে প্রথম যে দেশটি বোরখা নিষিদ্ধ করেছিলো তখন তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিলো লিবারালদের তরফ থেকে। এটাকে তখন ‘ইসলামোফোবিয়া’ হিসেবে দেখা হয়েছিলো। আশ্চর্য যে নিরাপত্তাজনিত কারণে এখন একের পর এক দেশ যখন মুসলিমদের মুখ ঢেকে রাখা ধর্মীয় পর্দা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে তখন আগের সেই ‘ইসলামোফোবিয়া’ চিৎকার চিকন সুরে নেমে এসেছে। মুসলিম নারীদের বোরখা পোশাকটা তৈরি হয়েছিলো কুরআন হাদিসের নির্দেশ মোতাবেক। এটি মুসলমান নারীদের ইসলামের নির্দেশ। সেই নির্দেশ এখন সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে বাঁচার জন্য নিষিদ্ধ করা লাগছে। সম্ভবত পোল্যান্ড কুরআন বিতরণ প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরকম আরো দু-একটি ইউরোপীয়ান দেশ থাকতে পারে। এটা তো ইসলাম ব্যানের সমতুল্য। তাহলে আমরা মানতে পারছি না কেন?

এই বিতর্ক শুরু হলে যেটা সামনে আসে কেবল ইসলাম ধর্মকে টার্গেট করা হচ্ছে কেন? হিন্দু খ্রিস্টান ইহুদী ধর্মে কি খারাপ কিছু নেই। আমার যৎসামান্য লেখাপড়ায় জানি এমন কোন ধর্ম পাইনি যেখানে খারাপ কিছু নেই। হিন্দুরা এখনো সমানতালে কুসংস্কারকে তাদের জীবনের অংশ করে রাখছে। তাদের তথাকখিত উদারমনারা এখনো বিয়ে করে বামুন ডেকে ‘শুভ দিন’ ধার্য করে। তারপর জাতপাতকে মনেপ্রাণে আজো চর্চা করে চলেছে। আগেও একটা কথা বলেছি, আবারো বলি, হিন্দুদের বাড়িতে গিয়ে কিছু খেতে আমার আজো অস্বস্তি লাগে এই ভেবে যে, এই পরিবার কি আমার চায়ের কাপকে বিশেষ যত্ন নিয়ে পরিস্কার বা শুদ্ধাভিযান চালাবে? প্রত্যেক ধর্ম বিশ্বাসী হিন্দুই মনে করে সে ‘হিন্দু মানুষ’। মানে সে বিশেষ কিছু এখানে। এরকম সাম্প্রদায়িকতা বিশ্বে খুবই কম আছে। তবে হিন্দুরা কোন হিন্দুকে ত্যাগ করতে খুব ভালোবাসে। এতে তারা বাধা দেয় না। বরং ত্যাগ করে বা বের করে দিয়ে উল্লাস করে। এটা মন্দের ভালো। এই যে হিন্দুরা কুসংস্কারমগ্ন তাতে আমার কি? আমার ছোয়ায় তাদের সমস্যা হলে সেটা তাদের সমস্যা। এই পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু হিন্দুরা যদি এমনটা করত যে, তারা যেটা মানে না সেটা তারা জোর করে সবাইকে মানাবে- তাহলে কি হিন্দু ধর্ম আজকের বিশ্বে অনালোচিত থাকত? উদাহরণ দেই, মদ ইসলামে নিষিদ্ধ। মুসলমানের জন্য মদ খাওয়া হারাম। ব্যস, এটুকু থাকলেই ইসলাম আজকের যুগে এসে কোন আলোচনা সমালোচনায় থাকত না। মুসলমানরা মদ নিয়ে শুচিবাতিকতাও অন্যদের সমস্যা করত না। কিন্তু এখানেই ইসলাম ধর্ম অন্য ধর্ম থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছে। ইসলাম বলে, যদি তোমার সামর্থ থাকে তাহলে মদের দোকান বন্ধ করে দিবে। কারণ ইসলাম এসেছে পৃথিবীতে শাসন করতে। আল্লাহ ও নবী যা হারাম করেছেন তা কার্যকর করতে। ইসলাম মূর্তি পুজা বিরোধী ধর্ম। কাজেই এই ধর্মে মূর্তি পুজা বিরোধী কথাবার্তা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এই পর্যন্ত থেমে থাকলে আজকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কথা বলতে আসত না কেউ। কিন্তু ইসলাম বলে পৃথিবীতে কোন কুফরির চিহৃ রাখা যাবে না। যত মূর্তি আছে সব ভেঙ্গে ফেলতে হবে। ইসলাম গায়ের জোর খাটাতে বলে। ইসলাম রাষ্ট্র তৈরি করতে বলে। ধর্মরাষ্ট্র ইসলামের মূল চরিত্র। আর ইসলাম এখনো পৃথিবীতে সক্রিয় একটি ধর্ম- কাজেই ইসলাম নিয়েই কথা বেশি হবে। আর নাস্তিকরা ইসলাম নিয়েই বেশি লিখবে- এটাই স্বাভাবিক।

ইসলাম ব্যান হবে। বোরখা নিষিদ্ধ ইসলামের ছোট পর্যায়ে ব্যানের একটি উদাহরণ। কুরআর বিনিময় ব্যান ইসলামের ছোট পর্যায়ের ব্যান। এগুলো ঘটবে দ্রুত এবং ‘ইসলামোফোবিয়া’ কথাটা হাস্যকর হয়ে উঠবে। কারণ হচ্ছে, মুসলিম দেশগুলি আজো তাদের ইসলামিক শিক্ষাক্রমে কোটি কোটি ডলার ঢালছে। তাদের জাতীয় জীবনে ও সামাজিক জীবনে প্রবলভাবে রাজনৈতিক ইসলাম সক্রিয়। এসব কারণে তথাকথিত অমুসলিম রাষ্ট্রে গিয়েও মুসলমান তার রাজনৈতিক ইসলাম সক্রিয় রেখে চলে। এটি তো তার শিক্ষা থেকে প্রাপ্ত। আর এই চেতনার মুসলমানরা অমুসলিম দেশে হুমকি হয়ে উঠলে তারা ইসলামকে নানাভাবেই ব্যান করবে। খোদ বাংলাদেশ সরকার ইসলামিক শিক্ষায় এমন সব কার্যক্রম হাতে নিয়েছে যেখান থেকে প্রতি বছর শত শত মৌলবাদী মুসলমান বের হয়ে আসবে। এরাই বিভিন্ন দেশে যাবে। সঙ্গে থাকবে তাদের মুসলিম জাতীয়তাবাদ। ফলশ্রুতিতে অমুসলিমরা বাধ্য হবে ইসলামকে যেকোন দৃষ্টিকোণ থেকেই ব্যান করতে। আস্তে আস্তে আর তখন ‘ইসলাম ব্যান’ আপনাদের কাছে অস্বাভাবিক লাগবে না।