Courtesy Facebook friend সুপ্রিয় ব্যানার্জী |
এই কলকাতা শহরে দুইশত বছরের কিছু আগে মহরমের শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য।


 বৃটিশ আইনজীবী উইলিয়াম হিকির “স্মৃতিকথা” থেকে এর বর্ণনা পাওয়া যায়। অষ্টাদশ শতকের শেষের (১৮০০ সালের কিছু আগের) দিকের কাহিনী। সেই বছর লখনৌ এর থেকে নবাব সাদাৎ আলি কলকাতায় এসেছিলেন। সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে মহরম পালনের উৎসাহ খুব বেড়ে গেছিল নবাবকে কাছে পেয়ে। শহরের রাজপথে তারা ভাঙ খেয়ে অস্ত্র হাতে উন্মত্তের মত আচরণ করতে থাকে।


 ভারতের রাজধানী হওয়ার সুবাদে সুপ্রিম কোর্ট তখন কলকাতায় ছিল। কোর্টের মধ্যে বিচারপতি রবার্ট চেম্বার্স ও হাইড কাজকর্ম শুরু করেছেন সবে। তখনি বাইরে বিরাট হল্লা। কাড়া-নাকাড়ার শব্দ ও মিছিলের চিৎকারে কাজকর্ম শিকেয় উঠেছিল। বিচারপতি রবার্ট সশস্ত্র মিছিলকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে উন্মত্ত জনতা কনস্টেবলদের ধরে বেদম প্রহার করে ও আদালতের ন্যয়দন্ডটি খোয়া যায়। 
ততক্ষণ মহরমের মিছিল থেকে  হাজার হাজার লোক এসে দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিয়েছে। কোর্টের সামনে যত বেয়ারা ও পিওন ছিল তাদের আক্রমণ করে। আশেপাশের সব পালকি ভাঙচুর করে। আদালত লক্ষ্য করে ইঁট ছুঁড়তে থাকে। এইভাবে বহুক্ষণ চলার পর মারমুখী জনতা তলোয়ার নিয়ে আদালতে প্রবেশ করে ও প্রহরীদের আক্রমণ করে। 

 
নিশ্চিত প্রাণ হারাতে হবে বুঝে শেষ চেষ্টা হিসাবে আদালতের কিছু ইংরেজ কর্মী হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তাই নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করে মুসলিম জনতাকে। ইতিমধ্যে সেনা ছাউনি থেকে কিছু সৈন্য এসে তাদের সাথে যোগ দিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। 

 ছত্রভঙ্গ মুসলিমরা আদালত ছেড়ে ছোটো ছোটো দলে বিভক্ত হয়ে আশেপাশের দিকে নজর দেয়। তারা রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ করে। বাইরের ফটকটি ভেঙে ফেলে। জানালার কাচ, বাতি.. কিছুই রক্ষা পায়নি। উইলিয়াম হিকির তিনশ’ টাকা ( মনে রাখবেন, সেই সময়ের তিনশ’ টাকা) দামের পালকিটাও ভেঙে চুরমার করেছিল মুসলিম জনতা। 
ভারতের তৎকালীন রাজধানী কলকাতায় মুসলিমদের এই তান্ডবের পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে প্রচন্ড প্রতিক্রিয়া হয়। মহরমের মিছিলকে নিষিদ্ধ করা হয় কলকাতায়।
“কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত”, পৃষ্ঠা ৭১
বিনয় ঘোষ
বাক্ সাহিত্য, কলিকাতা ৯
১৯৭৫