"পরমাত্মা, জীবাত্মা, উর্ধোগতি, অধোগতি এবং জন্মান্তরের রহস্য"

Spread the love

“পরমাত্মা, জীবাত্মা, উর্ধোগতি, অধোগতি এবং জন্মান্তরের রহস্য”
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

জীবাত্মার কামনা বাসনার মুল উৎস শরীর, যা আসে এই মহা বিশ্বে  প্রকৃতি দত্ত যে গুন আছে- সত্ব, রঃজ, তম। ক্ষিতি (মৃত্তিকা=কঠিন পদার্থ), অব (জল), তেজ (অগ্নি), মরুত (পবন) ব্যোম (মহাবিশ্বে বিদ্যমান নানা শক্তি, তেজষ্কিয় পদার্থ,কনা, রশ্মি) এই পঞ্চ ভুত দিয়েই তৈরী শরীর। একে বলে ‘ক্ষর’ পুরুষ, যা শরীরের মৃত্যুর সংগে সংগে সেই পঞ্চ ভুতেই লয় বা শেষ হয়ে যায়।।

পরমাত্মা ‘অক্ষর পুরুষ’। এর ক্ষয় নেই। অক্ষর পুরুষ শরীরের মধ্যে চৈতন্য রুপে অধিষ্টান।

গুনাবলীর তারতম্য অনুসারে প্রানী কর্ম করে, তার ফল ভোগ করে জীবাত্মা।  অশুভ গুনাবলী ( রঃজ , তমো, রজস্তম , রঃজ এবং তম গুনের মিশ্রন) প্রানীকে অসৎ কর্মে লিপ্ত করে। প্রানী (মানুষ) সেই অসৎ কর্মের প্রভাবে পুনঃ পুনঃ জন্ম নেয় কামনা বাসনা চরিতার্থ করতে। অদম্য কামনা বাসনা একজন্মে পুরন সম্ভব নয় তাই বার বার আসা।  এই অশুভ গুনাবলীর  জন্য মানুষের (জীবাত্মা)  নিম্নগতি হয়। এই নিম্নগতি মানুষকে জন্মান্তরে মনুষ্ব্যেতর (নিম্ন প্রানী ) জীবন দেয়। শরীরের মধ্যে বদ্ধ আত্মা ( চৈতন্য) আর পরমাত্মায় লীন (মুক্ত) হতে পারে না। জন্ম জন্মান্তরের দুঃসহ যন্ত্রনা দায়ক চক্রে আবদ্ধ হয়ে এই সংসারে ঘুরে মরে।

সাধনার দ্বারা এই জন্মেই রঃজ, তম, রজোস্তম গুনের উপরে ওঠা যায়। সাধনার অগ্রগতি বা পরিসমাপ্তি সত্ব গুন লাভ। ধীরে ধীরে সত্বগুন জাগরিত করে অসৎ থেকে সৎ হবার রাস্তা অর্জন করে নিতে হয়। সত্বগুন মানুষকে দৈবত্ব দেয়। দেবতা হলে তবেই জীবাত্মা থেকে চৈতন্যরুপী ‘বদ্ধ আত্মা’ মুক্ত হতে পারে। মুক্ত আত্মা পরমাত্মায় (বিশ্ব চৈতন্য) লীন হয়ে যায়। সহজে আর পুনর্জন্ম হয় না। সেটাকেই বলে মুক্তি।

মুক্ত আত্মার আর জন্ম হয় না সেটা ঠিক নয়। বিশ্বে বিদ্যমান প্রকৃতি সদাই চৈতন্য রুপী কনাকে (পরমাত্মার অংশ যা কনা রুপ্র বিদ্যমান) আকর্ষিত করে। সেই আকর্ষনে বাধা পড়ে গেলেই আবার জন্ম হয়। আবার শুরু হয় এক কোষী প্রানী থেকে মানুষ ( ৮৪ লক্ষবার জন্ম নেবার পর) হবার প্রক্রিয়া, তারপর মানুষ থেকে দেবতা হবার সাধনা (উর্ধোগতি) বা মানুষ থেকে নিম্ন প্রানী হবার প্রক্রিয়া (নিম্নগতি=অধোগতি)।

এটাই জন্ম, সংসার জীবন, মানুষ, নিম্ন প্রানী, মৃত্যু এই সবের মুল রহস্য।

**************(আমি যা বুঝি তাই লিখলাম। পন্ডিতেরা আরো বিশদ ব্যাখ্যা করতে পারেন বা করবেন। আমি কিন্তু পন্ডিত নই। নেহাত এক ছা পোষা মানুষ। তাই ভুল লিখে থাকলে মানবেন না।) ***************