“রিজিয়ার ফলশ্রুতি” -দেশ দখল– সফল ঔপনিবেশকতা
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

রিজিয়া কি দারুন ফল দেয়, সেই মর্ম আলেকজান্ডার বোঝেনি,চেংগিস খান বোঝেনি, তাই তাদের বিজিত সাম্রাজ্য টেকেনি বেশিদিন।

এটা বুঝেছিলেন এক মহা ঔপনিবেশিক যে, “মানুষ কে সমস্ত দিক দিয়ে পরিবর্তন না করলে সেই মানুষ গুলোকে চিরকাল দাস করে রাখা যায় না”। তিনি আরো বুঝেছিলেন যে, মানুষ কে ভীত খরগোশ না বানালে তারা একদিন না একদিন ফনা তোলে আর সাম্রাজ্য থাকে না। এর বড়ো উদাহরন সারা বিশ্বের বিজীত বহু দেশ, যে দেশের মানুষ জন তাদের দেশ ই শধু খোয়ায় নি, খুইয়েছে তাদের মাতৃভুমি আর পিতৃ পুরুষের সংষ্কার, জীবন যাত্রা, উপাসনা পদ্ধতি, নাম,পদবী, ভাষা, খাদ্যাভাষ, পোশাক আসাক সব কিছু। আর শিখিয়েছে তাদের মাতৃ পিতৃ সংষ্কার কে চরম ঘৃনা করতে, আর প্রতিজ্ঞা করতে যে, কি ভাবে সেই মাতৃ পিতৃ বংশ জনিত সব কিছু রক্ত দিয়ে লেপে দেওয়া যায়। সারা বিশ্বে আজ চলছে সেই রক্ত দিয়ে মাত্- পিতৃ পুরুষের ঋন কে আস্বীকার করার এক ‘মারন যজ্ঞ’।

সংক্ষেপে রিজিয়া কি??? যে দেশ বা জাতিকে দখল করতে হবে, সেই দেশে নানা ছদ্ববেশে নিজের লোক ঢোকাও। সেই ছদ্ব বেশীরা ভালো মানুষের চরম উদাহরন হবে। তারা স্থানীয় মানুষের সংগে মিলে মিশে সব খবর সরবরাহ করবে। সেই মানুষ দেশের লোক গুলোর সংগে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করবে। তারাই সেই দেশীয় মানুষের মধ্য থেকে বেছে বেছে কিছু লোভী মানুষকে উৎকোচ দিয়ে বশীভুত করবে (বিভীষন বানাবে), যাদের দিয়ে পরবর্তি কাজ গুলো, অর্থ্যাত দেশ দখল চলা কালীন এবং তার পরবর্তি পরিবর্তন করা, মস্তিষ্ক ধোলাই এর কাজ করবে।

এরপর, মাঝে মাঝে কিছু সজ্জিত সৈন্যরা সেই দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়বে শুধু মাত্র লুট পাট এবং নানা সহিংস ধংস লীলা চালানোর জন্য। এই ধংস এমন হবে যে সাধারন মানুষ ভয়ে ভীত হয়ে একেবারে খরগোশ হবে যাদের আর প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করার মানসিকতা থাকবে না। এই দস্যু বৃত্তি, লুট পাট শুধু মাত্র সম্পত্তি লাভ নয়, ভবিষ্যত পরিকল্পনার অঙ্গ। এতে কি হয়, সার্বিক আক্রমনে দেশের মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে না এবং পরে এদের যা বলা হয় তাই করে। আগ্রাসীদের খাদ্যাভাস থেকে শুরু করে,তাদের ভাষা, পোশাক (ময়ুর পুচ্ছ) পরিচ্ছদ এমনকি উপাসনা পদ্ধতি প্রথমে অনুকরন এবং পরে অনুসরন করাতে কোনো অসুবিধা না হয়। সামান্য ধমক দিলেই সুড় সুড় করে যা বলা হয় তাই করে।

এই রিজিয়া ভারতে শুরু হয়েছে সেই ৭১২ সাল থেকে। এখনো সমানে চলছে। তান্ডব লীলা চলেছে, সেই সংগে চলেছে নানা আছিলা করে সার্বিক পরিবর্তন (সুফী, দরবেশ এনে  এবং পরিশেষে তরবারির ডগা গলায় ঠেকিয়ে)।

১৯৪৬ সালের আগষ্ট মাসে কলকাতায়  ৫০০০ হাজার মানুষকে মেরে যে ‘রিজিয়া’ করা হয়েছিলো তার ফল ‘লেজ গোটানো হিন্দু গুলোকে রাজি করিয়ে ভারতের এক তৃতীয়াংশ পুর্ন ভাবে দখল করা। আমাদের দেশেকে তিন ভাগ করা।

ভারতের অভ্যন্তরে সেই সময় থেকে এবং গত ৭০ বছরে নানা আছিলায় “ভালো মানুষ” দের ঢোকানো হয়েছে। হাজারে হাজারে দেশীয় বিভীষন তৈরী করা হয়েছে। আজ, কে যে দেশকে ভালো বাসে , আর কে যে ‘পেট্রো ডলার আর রাজনৈতিক ক্ষমতা, ফিল্মী দুনিয়ার সম্রাট  থাকতে চান বা মিডিয়া ব্যারন হতে চান, ফাউন্ডেশন তৈরী করে মুখ্য মন্ত্রী হতে চান বা পোশাক আসাক নকল করে রিজিয়া কর্মীদের প্রেমিক সাজতে চান তা বোঝা মুশকিল।

ভারতে “রিজিয়া” প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শক্ত ভিতের ওপর । পশ্চিমবংগে এর প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে প্রথমে ৩৪ বছরে আর গত ৭ বছরে সেই প্রতিষ্ঠিত ‘রিজিয়া’ শক্ত পোক্ত হয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এবারে পাশের দেশে শুরু হয়েছে বিভীষিকা, যা হতে যাচ্ছে তার নমুনা স্থাপন করা।

বাংলাদেশে এবং ভারতে হিন্দুরা ভয় পেতে শুরু করেছে, এটাই এক চরম সফলতা। এটাই চাই।

জিন্না এটা খুব ভালোই জানতো ।তাই বলেছিলো—“হুনসে লিয়া পাকিস্তান লড়কে লেংগে হিন্দুস্থান”, সেই ভবিষ্যত বানী সম্বল করে ওরা এগুচ্ছে, সেই আগত মহাভারতের দ্বিতীয় পর্বে কে জিতবে, কে হারবে, কে বাচবে, কে মারা যাবে, আর তা দেখার জন্য কে থাকবে সেটাই এক বড়ো প্রশ্ন।।