“নোট বন্ধী ,মোদীজী, মোদি বিরোধী এবং আমাদের দেশ”
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

********(এই লেখাটি আমি এক বছর আগে, নোট বাতিলের পরে লিখেছিলাম। আজ আবার পোষ্ট করলাম। ভালো করে পড়ে দেখুন। ) **********

আনন্দ বাজার, বর্তমান এই দুটি কাগজ এবং এ বি পি আনন্দ, এই রকম কিছু মিডিয়া প্রচার করছে, নোট বাতিল করে দিয়ে মোদিজী ভারত কে একেবারে সর্ব নাশের দোর গোড়ায় নিয়ে গেছেন।

২০০০ সালে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য আমার মোদিজীর সংগে দেখা হয়েছিলো ত্রিনিদাদে “বিশ্ব হিন্দু সম্মেলন”এ। সরসংঘ চালক কে এস সুদর্শনজী এবং অশোক্ কুমার সিংঘল জীর সংগে মোদিজী ও গিয়েছিলেন সেই মহা সম্মেলনে। আমার দ্বায়িত্ব ছিলো “ব্যবস্থাপক কমিটি’ র সহ প্রধান হিসাবে। ওই ১০ মিনিটে আমি মোদিজীর মধ্যে দেখতে পেয়েছিলাম এক নির্ভীক, নিঃস্বার্থ, দেশভক্ত কে। তিনি তখন ছিলেন একজন উচ্চ পদের  স্বয়ং সেবক মাত্র। প্রধানমন্ত্রী তো দুরের কথা মুখ্যমন্ত্রী ও ছিলেন না। আর এখন এটা আমি রাজ্য সভার সদস্য পদ পাবার লোভেও লিখছি না, কারন আমি ভালো করেই জানি এই লেখা তার অবধি পৌছবে না।

২০১৪ সালে মোদীজী প্রাধান মন্ত্রী হবার পর আমি নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম এই কথা ভেবে যে, আমার দেশ অনেক দিন বাদে একজন সুযোগ্য নেতা পেয়েছে। সেই নিশ্চিন্তিতার পরিনতি আমার রাজনিতী ছেড়ে সামাজিক কাজে মনোনিবেশ করা। ছোট ভাবে দেশের মানুষের সেবা করা।

বিগত লোকসভা ভোটের মাস ৪ চারেক আগে আমি শিকাগো থেকে কলকাতা আসছিলাম। “ইকোনমিষ্ট” ম্যগাজিনে চোখ বুলিয়ে দুটো প্রবন্ধ পড়েছিলাম। প্রথম প্রবন্ধে বলা হয়েছিলো মোদিজী র থেকেও রাহুল গান্ধী যোগ্যতম ব্যাক্তি প্রধান মন্ত্রী হবার। হেসে ছিলাম। পরের প্রবন্ধে ‘নিউইয়র্ক টাইমসে” লেখেন এক প্রতিবেদকের লেখা পড়েছিলাম। মুল বক্তব্য “কি ভাবে মোদিজী কে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা তৈরী যদি উনি প্রধান মন্ত্রী হন”। সেদিন আমি ওই লেখা টাকে কল্পনা প্রসুত বলে ঊড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ আর দিচ্ছি না।

ফোর্ড ফাঊন্ডেশান, রকফেলার ফাঊন্ডেশান, ভ্যাটিকান, সৌদি, পাকিস্তান, চীন, সি আই এ, এরা কেঊ চায় না, ভারত মাথা তুলে দাড়াক। ভারতে কোনো দৃঢ় চেতা, দেশ ভক্ত নেতা, দেশের হাল ধরুন। এরা বহু আগে থেকেই সব পরিকল্পনা করে রাখে। কি হলে কি করা হবে। আজ বুঝতে পারছি, “নিউইর্ক টাইমের” প্রতিবেদক কেনো লিখেছিলেন।

আমাদের দেশের ৯০% মিডিয়া (খবরের কাগজ এবং টিভী চ্যানেল) আজ বিদেশীদের কাছে বিক্রী হয়ে বসে আছে। ফোর্ড ফাউন্ডেশেনের টাকায় বহু নাম করা সাংবাদিক দেশ বিরোধিতা করে চলেছে, এমন কি একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও ক্ষমতায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরো কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী এই ভারত বিরোধি, বর্তমান মোদি বিরোধি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে অঙ্গাওঙ্গি ভাবে যুক্ত। এ ছাড়া, এম এল এ, এম পি থেকে শুরু করে বহু দলের নেতা মন্ত্রী নিয়মিত বিদেশী অর্থ পকেটে পুরে দেশ বিরোধি কাজে লিপ্ত। এরা পাকিস্তানে গিয়ে মিটিং ও করেন। ফিল্মী দুনিয়াতেও এই দেশ বিরোধি অভিনেতা, পরিচালক আছেন। সঙ্গীত জগতে, সবে সত্তরোর্ধ , একদা হিন্দু ধর্ম পরিবর্তন কারী একদা এম পি ও আছেন। বুকার পুরষ্কার প্রাপ্ত লেখিকা, ছন্দহীন কবিতা লিখে, শিবের মাথায় কন্ডোম পরানো এবং সেই সম গোত্রীয় কবিও আছেন। ভারত আজ দেশ বিরোধি মানুষে চয়লাপ হয়ে গেছে। পেত্রো ডলারের ক্ষমতা অনেক।। 

ভ্যাটিকান খুব চতুরতার সংগে এমন একজনকে একটি পরিবারের মাথায় বসিয়ে রেখেছে, যে বিগত প্রায় পঞ্চাশ দশক ধরে ভারতের ভাগ্য নির্ধারন করেছে। তার ফলশ্রুতি, বোফর্স এবং হেলিকপ্টার স্ক্যাম,যার জন্য প্রকারান্তরে দেশের তৎকালীন বায়ু সেনা প্রধানকেও ফাসানো হয়েছে। (আমি ফাসানো বললাম এই কারনে, সর্বাধিনায়ক বা নায়িকারা কিছু সিদ্ধান্ত নিলে বা বললে সেটাকে না করতে পারার মতো ক্ষমতা খুব কম মানুষের আছে। সর্বশেষে ফেসে যায় ওই বায়ূ সেনা প্রধান বা অন্য কেউ, কিন্তু যারা তার ভাগ পেলো তাদের কিছু হয় না।)

ফোর্ড ফাঊন্ডেশানের কাজ ধীরে কিন্তু চ  তুরতার সংগে কিছু এন জি ও প্রধান, কিছু লেখাপড়া জানা সুশীল মানুষকে, ম্যগাসেসে বা ঐ ধরনের পুরষ্কার দিয়ে বিখ্যাত করে দেওয়া। তার পর সেই মানুষগুলোকে নিজ দেশের সর্বনাশের কাজে লাগানো। সেই সংগে কিছু কিছু ভালো মানুষ বা উপযুক্ত মানুষকেও ওই সব পুরষ্কার দেওয়া হয় শুধু মাত্র ঐ পুরষ্কারের মর্য্যদা রাখার জন্য। নোবেল শান্তি পুরষ্কারের ও ওই একঈ উদ্দেশ্য। ফোর্ড ফাউন্ডেশান এর পোষা অনেক বুদ্ধিজীবীকে আজ জে এন ইউ তে বসিয়ে রেখে দেশে বিগত ৫০ বছরে অসংখ্য দেশ বিরোধি যুবক যুবতী কে তৈরী করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার সংখ্যা আজ আর জানার উপায় ও নেই। এই পরিকল্পনার কথা সব লিখলে একটি উপন্যাস হয়ে যাবে। এর মুখ্য মাথা সি আই এ, যা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কে হবে সেটাও ঠিক করে দেয়।।

দেশে পেট্রো ডলার আসছে হুড় হুড় করে বিভিন্ন মাধ্যমে। তা দিয়েও সেই টিভী চ্যানেল, খবরের কাগজ কিনে নেওয়া হচ্ছে। দেশ বিরোধী শক্তি গুলোকে বিভিন্ন ভাবে উস্কানী দেওয়া হচ্ছে। সেটাকে রাজ নৈতিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য মুখ্য মন্ত্রী ও বানানো হচ্ছে। আর সেই সব মুখ্য মন্ত্রী যাকে তাকে রাজ্য সভায় পাঠাচ্ছে। আর কেউ কেউ সেই সদস্য পদ পাবার জন্য ৫৯ বছর বয়ষি (মাত্র এক বছর আছে রিটায়ার্ড করার) দেশ ভক্ত
  হিন্দুদের হয়ে লেখার জন্য সাঙ্গবাদিক  কে  চাকুরী থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন।

অন্য দিকটাও দেখুন। এই বিদেশী টাকা (সোজা পথে,বাকা পথে, জাল নো ট ছাপিয়ে, সাধারন মানুষের কষ্ট করে জমানো টাকা একটী লোভী মানুষকে দিয়ে সংগ্রহ করিয়ে তাকে ফাসিয়ে, আর কিছু কিছু অতি লোভী সাকরেদকে ফাসিয়ে বেশ কিছু রাজনীতিবিদ মুখ্য মন্ত্রীর গদি আকড়া বসে আছেন আর এই দেশ বিরোধী কাজ করে যাচ্ছেন।)। সেই পেট্রো ডলার  আসার রাস্তা বন্ধ করতে গিয়েই মোদিজী খারাপ হয়ে গেছেন।

সাধারন মানুষের অবশ্যই কষ্ট হচ্ছে। বয়ষ্কদের মধ্যে কেউ মারাও গেছেন। সাধারন মানুষের জন্য মায়া কান্না করা রাজনীতিকরা দেশের মানুষকে না খেপিয়ে যদি ওই সব ব্যাংকের সামনে গিয়ে তাদের সাহায্য করতেন তাহলে কি খুব অসুবিধা হতো????? না , হোর্ডিং টানিয়ে, হিল্লি দিল্লি করে, মিটিং করে ,রাস্তায় হেটে মোদিজীর মুন্ড পাত করা হচ্ছে। সাধারন মানুষ সেই প্রচারে বিভ্রান্ত তো হবেন ই। আর বিভ্রান্ত না করে তো ক্ষমতায় থাকা যায় না।

আমার কাছে কাজ করে ৪ টি পরিবারের প্রধান। তাদের মাইনে মাসের প্রথমে দিতে হয়েছে। নোট বাতিলে আমার ও খুব অসুবিধা হয়েছে ওদের মাইনে দিতে। এক সংগে পারিনি। ২০০০ করে তিন চার খেপে দিয়েছি। ওরা কিছু বলেনি। সারা দিন সাধারন মানুষ আমার কাছে আসেন। তারা প্রথমে কম আসছিলেন ,এখন আবার স্বাভাবিক হচ্ছে। আমি গ্রামে থাকি। সেখানের মানুষ মেনে নিচ্ছেন। মানতে পারছেন না বাই পাসের ধারে কোটি টাকার ফ্লাটের মালিক(শুধু রাজ্য সভার সদস্য হবার জন্য) আর বেওসাদার রা, জালি কারবারের হোতা রা। আর তাদের টাকায় যারা রাজনীতি করছেন তারা।

মোদিজীকে সরালে আর কারো ক্ষতি হবে না। ক্ষতি হবে দেশার আপামর সাধারন মানুষের। মোদিজী র ও কোনো ক্ষতি হবে না। দেশ চলে যাবে আবার সেই ভ্যাটীকান্,ফোর্ড ফাইন্ডেশান, জামাতি দের সাহায্যকারিদের হাতে। লাভ হবে পাকিস্তানের আই সি এস এর, চিনের। আর লাভ হবে যারা ওই সাধারন মানুষ কে ভুল বুঝিয়ে, তাদের মাথায় কাঠাল ভেংগে আজ প্রায় ৭০ বছর খাচ্ছেন তাদের আর তাদের মুরুব্বিদের।

আমার ছোট বেলায় আমি বেশ কিছু রাজনীতিক, সাংবাদিক (তখন টি ভি ছিলো না), লেখক, বুদ্ধিজীবি ইত্যাদিকে দেখেছি, তাদের কথা শুনেছি বা তাদের লেখা পড়েছি। এরা কেউই দেশ বিরোধীতাকে মুল্ধন করে ,তাদের কাজ করে যান নি( দেশ ভাগের দুই কান্ডারীকে বাদ দিয়ে)। দেশ বিরোধি কাজের উত্থান ষাটের দশকে  বাম পন্থার হাত ধরে। তার পর দিল্লীর যে এন ইউ এবং পরবর্তি কালে যাদবপুর ইউনিভার্সিটি থেকে অনেক জল বয়ে গেছে। হাজার হাজার দেশ বিরোধি শিক্ষিত যুবক যুবতী তৈরী হয়ে গেছে, দেশের প্রাচীন সংষ্কৃতিতে এক আমুল পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং তারা তাদের শেখানো কাজ করে চলেছে।

আমি সাধারনের দলে। ৫২ বছর আগে বাস পরিষ্কার করে পেট চালিয়েছি। আজ আর সেটা তো করতে হবে না। বড়ো জোর আমা্র নামে একটি মিথ্যা কেস দেবে (২৪ কেজি গাঁজা বা সাজানো মেয়েছেলে ঘটিত বা “সুপারী”ব্যবস্থা করবে।) তা আমার ছেলে মেয়ে বাবাকে হারালে কষ্ট পাবে কিন্ত আমার মতো রাস্তায় যাবে না। মিসেস দেবনাথ তার ৫৫ বছরের সংগীকে হারাবেন। তা যাবার সময় তো হয়েই গেলো। ওকে তা বলে বুঝিয়েছি । একা তো একদিন থাকতেই হবে। উনি সেটা বুঝেছেন। আমি কারো চাকরি করি না, কোনো দলের কাছে মাথা বিক্রি করিনি। আমার লেখা কি করে আটকাবেন ???